সস্তা ড্রোন মানেই সস্তা সক্ষমতা নয়

সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং ছোট মানববিহীন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যখন দ্রুত এগোচ্ছে, তখন এক ধরনের সতর্কবার্তা এড়িয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে: বড় আকারে কেনা আর স্থায়ী যুদ্ধমূল্য কেনা এক জিনিস নয়। Breaking Defense-এ প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী লেখার যুক্তি, পেন্টাগন কম একক মূল্যকে কম কার্যকর খরচের সমার্থক ধরে ভুল করতে পারে, বিশেষ করে এমন ক্ষেত্রে যেখানে প্রতিপক্ষ দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এবং প্রযুক্তিগত চক্রগুলো প্রচলিত ক্রয়-যুক্তির তুলনায় অনেক দ্রুত এগোয়।

যুক্তিটি সহজ, কিন্তু তার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। যদি প্রতিরক্ষা দফতর খুব বড় সংখ্যায় কম দামের ড্রোন কিনে ভবিষ্যতের ব্যবহারের জন্য মজুত করে, তাহলে দৃশ্যমান সাশ্রয় বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হতে পারে, যদি শত্রুর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সেই মজুতের বড় অংশ মোতায়েনের আগেই হাজির হয়। প্রবন্ধে দেওয়া উদাহরণে, প্রতিটি $1,000 দামে 100,000 ড্রোন কেনা প্রথম দেখায় কার্যকর মনে হতে পারে। কিন্তু যদি পরিবর্তনশীল হুমকির কারণে অন্য 70,000 নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার আগে কেবল 30,000 কার্যত ব্যবহারযোগ্য থাকে, তাহলে কার্যকর প্রতিটি ইউনিটের প্রকৃত খরচ দ্রুত বেড়ে যায়।

এটাই মূল দাবি: ড্রোনের অপ্রচলন যখন মজুত খরচ হওয়ার আগেই এসে পড়ে, তখন সামরিক বাহিনী আর ধরে নিতে পারে না যে কম একক খরচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতি ডলারে ভালো মূল্য দেবে।

শিল্পযুগের ক্রয়-যুক্তি দ্রুত উদ্ভাবনী চক্রের মুখোমুখি

মতামতধর্মী লেখাটি সমস্যাটিকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রাখে। শিল্পযুগের বেশিরভাগ সময়ে ব্যাপক উৎপাদন মানিকরণ, বিশেষায়ন, সমন্বয়, এবং সার্টিফিকেশনকে পুরস্কৃত করেছে। একবার টুলিং, প্রক্রিয়া, এবং কর্মীবাহিনী গড়ে উঠলে, আরেকটি ট্যাঙ্ক, ট্রাক, বোমা, বা বিমান প্রতিলিপি করার খরচ কমাতে এই নীতিগুলো সাহায্য করেছে। ফলে একক খরচ দক্ষতার কার্যকর সূচক হয়ে উঠেছিল এবং সামরিক বাহিনীকে প্রমাণিত হার্ডওয়্যার বড় আকারে ব্যবহার করতে সাহায্য করেছিল।

কিন্তু লেখাটির যুক্তি, এই যুক্তি এখন আর যথেষ্ট নয়। উৎপাদন একটি ভিন্ন যুগে প্রবেশ করছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মডেলিং ও সিমুলেশন, এবং এমন টুল দ্বারা গঠিত যা একটি নির্দিষ্ট ডিজাইনের সঙ্গে কম বাঁধা। এমন পরিবেশে, পুনরাবৃত্তির তুলনায় নমনীয়তার মূল্য দ্রুত বাড়তে পারে। হুমকি যদি দ্রুত বদলায়, তবে অভিযোজিত না হওয়া একটি সস্তা ব্যবস্থা কৌশলগতভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে, আর একটু বেশি দামের কিন্তু বিবর্তিত হতে সক্ষম একটি ব্যবস্থা সামগ্রিকভাবে ভালো ফল দিতে পারে।

এই পরিবর্তন বিশেষভাবে ছোট ড্রোনের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। এগুলো সফটওয়্যার, সেন্সর, রেডিও লিঙ্ক, স্বায়ত্তশাসন, এবং পেলোড ইন্টিগ্রেশনের সংযোগস্থলে অবস্থান করে। প্রতিটি স্তরই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার লক্ষ্য হতে পারে। একটি ড্রোনকে অকার্যকর হতে হলে ধ্বংস হওয়া জরুরি নয়। এটিকে জ্যাম করা যেতে পারে, স্পুফ করা যেতে পারে, সহজে শনাক্ত করা যেতে পারে, বা প্রতিরক্ষামূলক পরিবেশের পরিবর্তনে সহজেই হার মানতে পারে।

অপ্রচলন একটি ক্রয়-পরামিতি হয়ে ওঠে

মতামতধর্মী লেখাটির মূল অবদান হলো অপ্রচলনকে দুর্ভাগ্যজনক পরবর্তী চিন্তা নয়, বরং শুরুতেই পরিকল্পনা করার মতো একটি খরচ-শ্রেণি হিসেবে দেখা। প্রচলিত ক্রয়ে প্রায়ই উল্টো ধারণা চলে: বেশি পরিমাণে কিনুন, খরচ কমান, এবং স্কেল-এর ওপর নির্ভর করুন। লেখাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ছোট ড্রোনের ক্ষেত্রে এটি উল্টো ফল দিতে পারে, কারণ বিপুল পরিমাণ মজুত রাখলে বিভাগটি এমন হার্ডওয়্যারে আটকে যেতে পারে যা শারীরিকভাবে ক্ষয় হওয়ার অনেক আগেই কৌশলগতভাবে পুরনো হয়ে যায়।

এতে পেন্টাগন কীভাবে মূল্য ভাববে তা বদলে যায়। প্রাসঙ্গিক মাপকাঠি শুধু এয়ারফ্রেমের খরচ নয়। এটি হলো সময়ের সঙ্গে কার্যকর যুদ্ধক্ষেত্রের প্রভাবের খরচ। কাগজে সস্তা কিন্তু শত্রুর অভিযোজনের ফলে দ্রুত নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া ড্রোন, একটু বেশি দামের কিন্তু বেশি অভিযোজ্য ব্যবস্থার চেয়েও খারাপ হতে পারে। সেই অর্থে, পুরনো ড্রোনে ভরা গুদাম যুদ্ধক্ষমতার ভান্ডার নয়। এটি এমন এক ক্রয়-ধারণার রেকর্ড, যা পরিবর্তনের গতির সামনে টিকে থাকতে পারেনি।

A U.S. Soldier assigned to 3rd Squadron, 2nd Cavalry Regiment reaches for a unmanned aerial system during Project Flytrap at Joint Multinational Readiness Center, Hohenfels Training Area, Hohenfels, Germany, June 19, 2025. Project Flytrap is a series of CUAS training scenarios that test the capabilities of new, lower-cost and portable technology. (U.S. Army photo by Pfc. Brent Lee)
3rd Squadron, 2nd Cavalry Regiment-এ নিযুক্ত একজন মার্কিন সেনা 19 জুন, 2025-এ Germany-র Hohenfels Training Area-র Joint Multinational Readiness Center-এ Project Flytrap চলাকালে একটি মানববিহীন আকাশযানের দিকে হাত বাড়াচ্ছেন। Project Flytrap নতুন, কম দামের এবং বহনযোগ্য প্রযুক্তির সক্ষমতা যাচাই করা CUAS প্রশিক্ষণ পরিস্থিতির একটি সিরিজ। (U.S. Army photo by Pfc. Brent Lee)

এই সতর্কবার্তা রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক অভ্যাসের বিরুদ্ধেও যায়। জরুরি সময়ে পরিমাণের কথা বলা সহজ। বড় সংখ্যা প্রস্তুতি, শিল্পগত গতি, এবং পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু যদি কেনা সিস্টেমগুলো পরিবর্তনের জন্য খুব কম余স্থানে রেখে আজকের হুমকি-চিত্র অনুযায়ী অপ্টিমাইজড হয়, তাহলে পরিমাণ ভঙ্গুরতা আড়াল করতে পারে।

কেবল পরিমাণ নয়, অভিযোজনের পক্ষে যুক্তি

যদিও প্রদত্ত লেখা সম্পূর্ণ যুক্তি নয়, তবু এটি একটি বিস্তৃত ক্রয়নীতির দিকে ইঙ্গিত করে: দ্রুত বদলানো ড্রোন বাজারে পুনরাবৃত্তিই যথেষ্ট নয়। মানববিহীন প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে ব্যবহৃত সিস্টেম, টুল, এবং প্রক্রিয়াগুলোকে দ্রুত পুনর্নকশা ও ধাপে ধাপে হালনাগাদের চক্র সমর্থন করতে হতে পারে। এর অর্থ ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মড্যুলারিটি, এবং এমন উৎপাদন-পদ্ধতির বড় ভূমিকা, যা খরচের শৃঙ্খলা নষ্ট না করে পরিবর্তন শোষণ করতে পারে।

প্রতিরক্ষা ক্রয়ের চ্যালেঞ্জ হলো, স্কেল এবং অভিযোজন ভিন্ন দিকে টানতে পারে। মানিকরণ স্কেল বাড়াতে সাহায্য করে, কিন্তু অতিরিক্ত মানিকরণ নকশাকে জমিয়ে দিতে পারে। সার্টিফিকেশন আস্থা বাড়ায়, কিন্তু দীর্ঘ সার্টিফিকেশন পুনরাবৃত্তির গতি কমাতে পারে। বিশেষায়ন দক্ষতা তৈরি করে, কিন্তু অতিরিক্ত বিশেষায়ন আপগ্রেডকে জটিল করে তোলে। উদীয়মান কাজ হলো এসব শিল্পনীতিকে ত্যাগ করা নয়। বরং এমন এক শ্রেণির ব্যবস্থার জন্য এগুলোকে পুনরায় ভারসাম্য করা, যা দশকের বদলে মাসের মধ্যে পুরনো হয়ে যেতে পারে।

এর মানে এই নয় যে সস্তা ড্রোন খারাপ বিনিয়োগ। এর মানে হলো, ড্রোনের ব্যবহারযোগ্যতা কত দ্রুত ক্ষয় হতে পারে, তা থেকে আলাদা করে তাদের মূল্যায়ন করা উচিত নয়। লেখাটির যুক্তি স্কেলবিরোধী নয়; আত্মতুষ্টিবিরোধী। এটি ক্রয়-পরিকল্পনাকারীদের বলছে, কম দামের ক্রয়মূল্যকেই মূল্য-প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর ভেবে বসা বন্ধ করতে।

এখন কেন গুরুত্বপূর্ণ

মতামতধর্মী লেখাটির জরুরিতা আসে এই কারণে যে ছোট ড্রোন আধুনিক সামরিক পরিকল্পনায় কতটা কেন্দ্রীয় হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতগুলো নজরদারি, লক্ষ্য নির্ধারণ, হামলা, এবং ড্রোন-বিরোধী অভিযানের জন্য কম খরচের, ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে। সেই পরিবেশ দ্রুত কেনা ও বড় পরিমাণে কেনার চাপ তৈরি করে। লেখাটি স্কেলের প্রয়োজন মেনে নেয়, কিন্তু জোর দিয়ে বলে যে দ্রুত অপ্রচলনের পরিকল্পনা ছাড়া স্কেল অপচয়ে পরিণত হতে পারে।

এটি শুধু বাজেটের বিষয় নয়। এটিও প্রস্তুতির বিষয়। যে বাহিনী বিশ্বাস করে তার কাছে বিপুল সংখ্যায় ব্যবহারযোগ্য মানববিহীন ব্যবস্থা আছে, সে খুব দেরিতে বুঝতে পারে যে তার মজুতের বড় অংশ বাস্তবিক অর্থে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। তখন সামরিক বাহিনীর সামনে খারাপ বিকল্প থাকে: হার্ডওয়্যার ফেলে দেওয়া, সেটিকে আপগ্রেড করতে ব্যয় করা, বা যুদ্ধক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে কম মূল্যসম্পন্ন সিস্টেম মোতায়েন করা।

বড় শিক্ষা হলো, ড্রোন ক্রয়কে ঐতিহ্যবাহী স্টকপাইলিংয়ের মতো নয়, বরং একটি পরিচালিত প্রযুক্তি-পাইপলাইন হিসেবে দেখা প্রয়োজন হতে পারে। সমস্যা শুধু দশ-হাজারেরও বেশি ইউনিট কীভাবে তৈরি করা যায় তা নয়। সমস্যা হলো, প্রতিপক্ষ যখন সক্রিয়ভাবে সেগুলোকে পরাস্ত করতে শেখে, তখনও কীভাবে কার্যকর ক্ষমতা বজায় রাখা যায়।

যদি এই ধারণা সঠিক হয়, তবে পেন্টাগনের ড্রোন উদ্যোগ উৎপাদন সংখ্যার চেয়ে অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করবে। এটি নির্ভর করবে ক্রয়ব্যবস্থা বুঝতে পারে কি না যে এই বাজারে সবচেয়ে সস্তা ইউনিটই সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল ক্ষমতা নাও হতে পারে। লুকোনো দাম হলো অপ্রচলন, আর লেখাটি বলছে, গুদাম ভরতে শুরু করার আগেই প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকারীদের এর জন্য বাজেট করতে হবে।

এই নিবন্ধটি Breaking Defense-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধ পড়ুন.

Originally published on breakingdefense.com