সাপ্লাই চেইনের টানাপোড়েন এখন সরাসরি এয়ারলাইন বহরকে আঘাত করছে
এয়ারলাইন শিল্পের দীর্ঘদিনের সরবরাহ-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো এখন আর শুধু অসুবিধা নয়, সরাসরি কার্যক্ষমতার সীমাবদ্ধতা হয়ে উঠেছে। United Airlines-এর CEO স্কট কিরবি বলেছেন, চলমান ইঞ্জিন-সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে ৯০০ পর্যন্ত বিমান স্থগিত রয়েছে। এই সংখ্যা দেখায়, উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের bottleneck কীভাবে বৈশ্বিক বিমান চলাচলকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।
সমস্যাটি এক ধরনের বিমান বা এক জন বাহকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রদত্ত সূত্রপাঠ্য অনুযায়ী, এই ঘাটতি CFM, Pratt & Whitney, এবং Rolls-Royce-এর নির্ভরযোগ্যতা ও সরবরাহ সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। এই তিন ইঞ্জিন নির্মাতা শিল্পের বহু গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বিমান কর্মসূচিকে শক্তি জোগায়। ফলে এই বিঘ্ন narrowbody ও widebody বহর, সেবার অপেক্ষায় থাকা পুরনো বিমান, এবং ইঞ্জিন না থাকায় ডেলিভারি না হওয়া নতুন জেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে।
সমস্যা কেন আরও খারাপ হচ্ছে
কিরবির সতর্কবার্তা ছিল স্পষ্ট: পর্যাপ্ত ইঞ্জিন নেই, এবং তিনি মনে করেন না এই অবস্থা কয়েক বছরের মধ্যে ঠিক হবে। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিমান চলাচল উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ, এবং প্রতিস্থাপন চক্রের খুবই টাইট এক শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরশীল। ইঞ্জিনের অভাব হলে, বিমানের বাকি অংশ উড়তে প্রস্তুত থাকলেও সেটি মাটিতে পড়ে থাকতে পারে।
সূত্রপাঠ্য বাজারে একটি সমষ্টিগত প্রভাবের কথা বলছে। পুরনো বিমান চালু রাখতে নতুন বিমান থেকে ইঞ্জিন খুলে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্বল্পমেয়াদি সময়সূচি-ক্ষমতা বজায় থাকতে পারে, কিন্তু এর ফলে নতুন airframes স্থগিত হয়ে যায়, যেগুলো বেশি জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও কম পরিচালন ব্যয় দিতে পারত।
একই সময়ে, ইঞ্জিন না থাকলে Airbus এবং Boeing বিমান সংস্থাগুলোর চাহিদামতো হারে প্রতিস্থাপন বিমান সরবরাহ করতে পারে না। ফলে ক্যারিয়ারগুলো একদিকে ব্যয়বহুল পুরনো বহর, অন্যদিকে একই ঘাটতির কারণে দেরিতে পৌঁছানো নতুন বহরের মধ্যে আটকে যায়।
জ্বালানির দাম আরও চাপ বাড়াচ্ছে
ইঞ্জিন-সমস্যা আরেকটি খরচ-ধাক্কার সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে: বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম। প্রবন্ধটি বর্তমান এয়ারলাইন চাপকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে সম্পর্কিত উচ্চ জ্বালানি খরচের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিমান সংস্থাগুলোর জন্য এর মানে, অদক্ষতাকে সামাল দেওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে। স্থগিত বিমান নমনীয়তা কমায়, আর চালু থাকা পুরনো বিমান বেশি জ্বালানি খরচ করতে পারে।
এমন পরিবেশে, কমে যাওয়া ইঞ্জিন-ক্ষমতা শুধু রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা নয়। এটি একটি আর্থিক গুণক হয়ে ওঠে। ক্যারিয়ারদের হাতে কম দক্ষ বিমান থাকে, সক্ষমতা ঘুরিয়ে আনার বিকল্প কমে যায়, এবং খরচ যাত্রীদের ওপর চাপানোর কারণ বেড়ে যায়।
যাত্রীদের কেন গুরুত্ব দেওয়া উচিত
সবচেয়ে স্পষ্ট ভোক্তা-প্রভাব হলো মূল্য। সূত্রপাঠ্য অনুযায়ী, উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের জবাবে বিমানভাড়া ইতিমধ্যেই শিল্পের বড় প্রতিক্রিয়া হয়ে উঠেছে, এবং নির্বাহীরা মনে করেন না যে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হলেও টিকিটের দাম দ্রুত আগের পর্যায়ে ফিরবে। ইঞ্জিন-ঘাটতি যদি উপলব্ধ বিমানের সরবরাহকে আরও সীমিত করে, তাহলে শুধু প্রতিযোগিতা ভাড়া কমাতে পারবে না।
আরও আছে নেটওয়ার্ক প্রভাব। অনেক বিমান মাটিতে বসে থাকলে সময়সূচির স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। বাধা থেকে সেরে ওঠা, প্রান্তিক রুট ধরে রাখা, বা মৌসুমি চাহিদার ওঠানামায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বিমান সংস্থার অতিরিক্ত সক্ষমতা কমে যায়। যাত্রীরা স্থগিত বিমান না দেখলেও, বাতিল ফ্লাইট, সীমিত আসনপ্রাপ্যতা, এবং ধারাবাহিকভাবে বেশি ভাড়ার মাধ্যমে এর প্রভাব টের পেতে পারেন।
এটি কাঠামোগত সমস্যা, সাময়িক বিঘ্ন নয়
কিরবির অনুমান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে সময়সীমা উল্লেখ আছে। তিনি এটিকে স্বল্পমেয়াদি যন্ত্রাংশ-সংকট হিসেবে বর্ণনা করেননি। তিনি বলেছেন, শিল্পকে এই সমস্যা বহু বছর ভুগতে হতে পারে। অর্থাৎ এটি কেবল একটি বিলম্বিত চালান বা একটি বিচ্ছিন্ন মেরামত অভিযান নয়, বরং বিমান সংস্থার চাহিদা ও ইঞ্জিন ইকোসিস্টেমের সক্ষমতার মধ্যে বৃহত্তর অসামঞ্জস্য।
বিমান শিল্প ইতিমধ্যেই সাপ্লাই চেইনের ভঙ্গুরতা, শ্রম-সীমাবদ্ধতা, এবং উৎপাদন ঘাটতি নিয়ে বছরের পর বছর লড়ছে। এখন ইঞ্জিনের প্রাপ্যতা সেই চাপগুলো কীভাবে বৃদ্ধির ওপর কাঠামোগত সীমা তৈরি করে, তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণগুলোর একটি বলে মনে হচ্ছে।
শিল্পের জন্য বড় সংকেত
বিমান নির্মাতা, সরবরাহকারী, এবং এয়ারলাইনগুলোর জন্য শত শত বিমানের স্থগিত হওয়া একটি সতর্কবার্তা যে বহর-সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতম কড়াই পুরো ব্যবস্থার অর্থনীতি নির্ধারণ করতে পারে। ইঞ্জিন ছাড়া বিমান সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন করতে পারে না। নির্মাতারাও ইঞ্জিন ছাড়া ডেলিভারি সম্পন্ন করতে পারে না। বিমান যদি পরিষেবায় না আসে, তাহলে যাত্রীরাও বর্ধিত সক্ষমতার সুবিধা পাবে না।
ফল হলো ব্যয়বহুল এক চক্র: বিমান মজুত করা, যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়া, প্রতিস্থাপন পিছিয়ে দেওয়া, জ্বালানির জন্য বেশি খরচ করা, আর তা পুষিয়ে নিতে ভাড়া বাড়ানো। ইঞ্জিন সরবরাহ ও নির্ভরযোগ্যতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত, এই চক্র বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের অন্যতম নির্ধারক সীমাবদ্ধতা হয়ে থাকবে।
এই নিবন্ধটি Jalopnik-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on jalopnik.com








