একটি টেলিস্কোপ যা পরিবর্তন দেখতে সক্ষম
হাবল স্পেস টেলিস্কোপের পঁয়ত্রিশতম বছরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর একটি হলো, এটি এখন আর কেবল স্ন্যাপশট নেওয়ার যন্ত্র নয়। এটি এখন আগে-পরের জ্যোতির্বিজ্ঞানের যন্ত্র। প্রথমে পরিকল্পিত ১৫ বছরের আয়ুষ্কাল বহু আগেই ছাড়িয়ে টিকে থাকার কারণে, হাবল কয়েক দশক আগে দেখা বস্তুতে ফিরে যেতে পারে এবং এমন পরিবর্তন দেখাতে পারে যা মানুষের কাছে সরাসরি উপলব্ধি করার মতো স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘটছে।
এই প্রেক্ষাপটেই এর সাম্প্রতিক ট্রিফিড নেবুলায় ফেরা, যা প্রায় ৫,০০০ আলোকবর্ষ দূরের একটি তারাগঠনের এলাকা এবং NGC 6514 ও Messier 20 নামেও পরিচিত। হাবল এটিকে প্রথম দেখেছিল ১৯৯৭ সালে। NASA-র টেলিস্কোপের ৩৫তম বছর উদ্যাপনের অংশ হিসেবে করা এই নতুন পুনরায় পর্যবেক্ষণ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের প্রায় তিন দশকের ব্যবধানে তোলা ছবি তুলনা করতে এবং একটি নেবুলায় ঘটে যাওয়া ভৌত পরিবর্তন শনাক্ত করতে সাহায্য করে, যা এখনও নক্ষত্রজন্ম ও প্রবাহের দ্বারা গঠিত হচ্ছে।
ট্রিফিড নেবুলা কেন এত ভালো লক্ষ্য
ট্রিফিড দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি বৈজ্ঞানিকভাবে সমৃদ্ধও। এর নাম এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ তিন খণ্ডে বিভক্ত। এটি অস্বাভাবিক, কারণ একটি এলাকাতেই emission nebula, reflection nebula, এবং dark nebula তিনটিই একসঙ্গে রয়েছে। ফলে একই বৃহৎ কাঠামোর মধ্যে একাধিক ভৌত প্রক্রিয়া দেখা যায়।
এই নেবুলাকে শক্তি জোগায় HD 164492A নামের একটি তরুণ O-টাইপ তারা। প্রদত্ত উৎসপাঠ্য অনুযায়ী, তারাটির ভর সূর্যের চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি। এর তীব্র অতিবেগুনি বিকিরণ অঞ্চলটিকে আলোকিত করে, আর আশপাশের তারাজগতের জনসংখ্যা পরিবেশে আরও শক্তি যোগায়। উৎসপাঠ্য বলছে, ট্রিফিডে ৩,০০০-এরও বেশি তারার একটি ক্লাস্টার রয়েছে।
এটি কোনো শান্ত মেঘ নয়। এটি একটি সক্রিয় তারাগঠন অঞ্চল, যেখানে বিশাল তরুণ তারা এবং তাদের বায়ু আশপাশের গ্যাসকে আকার দেয়। সেই বায়ু নেবুলায় একটি বিশাল বুদবুদ তৈরি করেছে, আর সেই বুদবুদের shock-front কিনারা গ্যাসকে চেপে ধরে আরও তারাগঠন শুরু করতে পারে। ফলে এমন একটি গতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে পরিবর্তন কেবল মহাজাগতিক সময়পরিসরেই নয়, কিছু জায়গায় বছর বা দশকেও দেখা যেতে পারে।
এখন হাবল কী দেখছে
নতুন হাবল ছবিটি ট্রিফিড নেবুলার একটি ছোট অংশে নজর দেয়। উৎসপাঠ্যে কেন্দ্রীয় বৈশিষ্ট্যটিকে এক জোড়া অ্যান্টেনাসহ একটি সি-স্লাগের মতো বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যা দেখায় কেন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক কাঠামো জনমনে এত সহজে গেঁথে যায়। কিন্তু মূল বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো ওই “অ্যান্টেনা”গুলোর একটিতে থাকা Herbig-Haro object।
Herbig-Haro objects হলো উজ্জ্বল nebulosity প্যাচ, যা কাছাকাছি কোনো তরুণ protostar থেকে নির্গত জেট আশপাশের পদার্থে আঘাত করলে তৈরি হয়। এগুলো তারাগঠন সক্রিয়ভাবে ঘটার সবচেয়ে স্পষ্ট দৃশ্যমান চিহ্নগুলোর মধ্যে একটি। জেটের শক্তি ওঠানামা করতে পারে এবং আঘাতপ্রাপ্ত গ্যাস চলতে থাকায় এই কাঠামোগুলো তুলনামূলক স্বল্প সময়ে আকৃতি বদলাতে পারে।
এই কারণেই বারবার ছবি তোলা এত গুরুত্বপূর্ণ। উৎসপাঠ্য বলছে, বছরের পর বছর ধরে পর্যবেক্ষণে হাবল ইতিমধ্যে এই পরিবর্তনের কিছু ধরতে পেরেছে। ছবি তুলনা করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জেটের শক্তি এবং সময়ের সঙ্গে তার বিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারেন। কার্যত, হাবল এক দূরবর্তী তারাগঠন অঞ্চলকে time-lapse পরীক্ষাগারে পরিণত করছে।
পুরোনো হার্ডওয়্যার, বাড়তে থাকা বৈজ্ঞানিক মূল্য
এখানে একটি বিড়ম্বনা আছে। হাবলের চলমান বৈজ্ঞানিক উপযোগিতা তার বয়সেরই ফল। উৎক্ষেপণের সময়, পরিবর্তনশীল নেবুলার দীর্ঘমেয়াদি দৃশ্যমান রেকর্ড তৈরির ক্ষমতা এর প্রধান আকর্ষণ ছিল না। আজ সেই ক্ষমতাই এর সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ শক্তিগুলোর একটি। ১৫ বছর চালু থাকার কথা ছিল এমন একটি মিশন এখন এত ইতিহাস জমিয়েছে যে, এক সময় মূলত স্থির স্বর্গীয় দৃশ্য বলে ভাবা জায়গাগুলোতে দৃশ্যমান বিবর্তন মাপা সম্ভব হয়েছে।
ট্রিফিড পুনরায় দেখা আরও দেখায়, পর্যবেক্ষণাগারের দীর্ঘজীবন কেন গুরুত্বপূর্ণ। নতুন টেলিস্কোপ সংবেদনশীলতা বা তরঙ্গদৈর্ঘ্য কভারেজে পুরোনোগুলোকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন ধরতে হলে কয়েক দশকের আর্কাইভের কোনো বিকল্প নেই। সেই অর্থে, হাবলের আর্কাইভ কেবল অতীত কাজের নথি নয়। এটি নিজেই একটি যন্ত্র।
এটি তারাগঠন সম্পর্কে কী জানায়
তারাগঠনকে প্রায়ই বিস্তৃত ধারণায় ব্যাখ্যা করা হয়: মেঘ ভেঙে পড়ে, protostar জ্বলে ওঠে, জেট বের হয়, বায়ু গহ্বর কেটে দেয়, আর বিকিরণ কাছের গ্যাস বদলে দেয়। ট্রিফিডের পর্যবেক্ষণগুলো এসব ধারণাকে আরও বাস্তব করে তোলে। লুকিয়ে থাকা তরুণ তারাদের জেট কেবল বিদ্যমান নয়; তারা দৃশ্যত আশপাশের নেবুলাকে বদলে দেয়। বিশাল তারাদের বায়ু শুধু তত্ত্বে কাঠামোকে প্রভাবিত করে না; তারা বুদবুদ ও shock front তৈরি করে, যার ফলাফল ছবি তোলা যায়।
ট্রিফিডে একাধিক নেবুলার উপাদান ও সক্রিয় তারাজগতের জনসংখ্যা থাকায়, এটি ওই পারস্পরিক ক্রিয়ার একটি বিশেষভাবে শক্তিশালী জানালা দেয়। দশকের পর দশক পরে একই অঞ্চলে হাবলের ফিরে আসা নেবুলাকে শুধু সুন্দর একটি বস্তু নয়, বরং এমন একটি বিবর্তনশীল ব্যবস্থা বানায় যার গতি ও শক্তিবিন্যাস সরাসরি অধ্যয়ন করা যায়।
এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
নতুন ট্রিফিড ছবিগুলো জ্যোতির্বিজ্ঞানের এক বিরল অর্জন দেখায়: আমাদের সামনে মহাবিশ্বকে বদলাতে দেখা। হাবলের এই পুনরায় পর্যবেক্ষণ দেখায় যে হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূরে হলেও তারাগঠন পরিবেশ মানবিক সময়পরিসরে পরিবর্তিত হতে পারে। এতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা শুধু একটি সুন্দর ছবি পান না। তারা এমন একটি উপায় পান, যার মাধ্যমে জেট, বায়ু, এবং সংকুচিত গ্যাস সময়ের সঙ্গে নক্ষত্রনার্সারিকে কীভাবে বদলায় তা পরীক্ষা করা যায়।
এই নিবন্ধটি Universe Today-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on universetoday.com




