শরীরের তাপমাত্রায় সূক্ষ্ম কিন্তু স্থির পরিবর্তন
প্রদত্ত উৎস-লেখায় তুলে ধরা ঐতিহাসিক তাপমাত্রা তথ্যের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নারীরা প্রারম্ভিক যৌবন থেকে মধ্যবয়স পর্যন্ত গড়ে সামান্য বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠেন বলে মনে হচ্ছে। পরিবর্তনটি ছোট, কিন্তু যথেষ্ট ধারাবাহিক, তাই গবেষকদের ধারণা এটি ভবিষ্যতে বার্ধক্য, প্রজনন-সংক্রান্ত রূপান্তর এবং সম্ভবত অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার জন্য কার্যকর সূচক চিহ্নিত করতে সাহায্য করতে পারে।
এই গবেষণায় ১৯৯০-এর দশকের একটি প্রকল্পের তথ্য পুনরায় বিশ্লেষণ করা হয়েছিল, যেখানে ১৮ থেকে ৪২ বছর বয়সী ৭৫০ জনেরও বেশি নারী প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখে বা মলদ্বারে তাপমাত্রা মাপতেন। সেই ডেটাসেটে ইতিমধ্যেই ডিম্বস্ফোটনের পর শরীরের তাপমাত্রা বাড়ার সুপরিচিত চক্রাকার ধরণ ধরা পড়েছিল, যা বহু উর্বরতা-ট্র্যাকিং পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়। নতুন অবদানটি মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে বয়সের সঙ্গে তাপমাত্রার পার্থক্য আরও কাছ থেকে দেখার মাধ্যমে এসেছে।
প্রদত্ত উৎস-লেখা অনুযায়ী, ফলাফল ছিল প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের সঙ্গে বছরভিত্তিক ধীর বৃদ্ধি। ৩৫ বছর ও তার বেশি বয়সী নারীরা চক্রের উভয় ভাগেই তরুণ অংশগ্রহণকারীদের তুলনায় গড়ে প্রায় ০.০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ ছিলেন।
এই ফল কেন গুরুত্বপূর্ণ
শরীরের তাপমাত্রা শরীর যে সহজতম শারীরবৃত্তীয় সংকেত তৈরি করে তার একটি, কিন্তু গবেষকরা ক্রমেই সন্দেহ করছেন যে এতে মানক চিকিৎসা ব্যবহারের তুলনায় বেশি তথ্য থাকতে পারে। উৎস-লেখায় গবেষক দলের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তাপমাত্রার ধরণে বিপুল স্বাস্থ্যতথ্য থাকতে পারে এবং ওয়েয়ারেবল ডিভাইস শেষ পর্যন্ত সেই ধরণগুলোকে কার্যকর সূচকে রূপ দিতে সাহায্য করতে পারে।
স্মার্ট রিং, ঘড়ি এবং অন্যান্য যন্ত্রের মাধ্যমে ধারাবাহিক পরিমাপ আরও সাধারণ হয়ে উঠছে বলেই এই সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ। যদি তাপমাত্রা-পরিবর্তন প্রজনন বার্ধক্যকে অর্থপূর্ণভাবে ট্র্যাক করে, তবে প্যাসিভ মনিটরিং ভবিষ্যতে পেরিমেনোপজ, হরমোনগত পরিবর্তন বা প্রত্যাশিত শারীরবৃত্তীয় অবস্থার বাইরে অন্য বিচ্যুতি শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
উৎস-লেখা আরও জানায় যে গবেষকদের আগের কাজ ৪২ থেকে ৫৫ বছর বয়সী নারীদের আঙুলের চামড়ার গড় তাপমাত্রা ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের তুলনায় বেশি পেয়েছিল। তাই নতুন বিশ্লেষণটি নারী বার্ধক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে তাপ-সংকেতকে যুক্ত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণ
এর প্রক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়। প্রদত্ত উৎস-লেখায় বলা হয়েছে, সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হরমোনগত পরিবর্তন, বিশেষ করে প্রজনন বয়সের শেষের দিকে। এটি যুক্তিসঙ্গত, কারণ মাসিক চক্র, ডিম্বস্ফোটন এবং পেরিমেনোপজ সবই এমন হরমোনগত পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত যা দেহের তাপ-নিয়ন্ত্রণকে প্রভাবিত করে।
তবে এই গবেষণা বিষয়টি চূড়ান্তভাবে মীমাংসা করে না। এটি শুধু একটি ধারা শনাক্ত করে এবং পরের দিকে কোথায় দেখতে হবে তা নির্দেশ করে। এই ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়া একক কোনো প্রক্রিয়ার ফল, একাধিক প্রক্রিয়ার সমষ্টি, নাকি ব্যক্তিভেদে অর্থপূর্ণভাবে ভিন্ন একটি তাপমাত্রা-ছাপ, তা এখনও গবেষকদের নির্ধারণ করতে হবে।
এই অনিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পেরিমেনোপজ প্রায়ই হট ফ্লাশ এবং রাতের ঘামের মতো উপসর্গ দিয়ে শুরু হয়, যা এখানে বর্ণিত সূক্ষ্ম দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার তুলনায় অনেক বেশি হঠাৎ তাপ-সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা। দুটির পেছনে একই অন্তর্নিহিত জীববিজ্ঞান কাজ করে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ওয়েয়ারেবলসের সম্ভাব্য ভূমিকা
সবচেয়ে ব্যবহারিক প্রভাবগুলোর একটি পুরোপুরি চিকিৎসাগত নয়, বরং প্রযুক্তিগত। যদি তাপমাত্রা আগে যা ভাবা হত তার চেয়ে সমৃদ্ধ স্বাস্থ্য-সংকেত হয়, তাহলে ওয়েয়ারেবল ডিভাইসগুলো এটিকে ধারাবাহিক ও অনাক্রমণকারীভাবে ট্র্যাক করার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। মাঝে মাঝে ব্যবহৃত থার্মোমিটারের বদলে গবেষকরা বয়স, চক্রের পর্যায়, ঘুম, উপসর্গ এবং স্বাস্থ্যফলের সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘমেয়াদি তাপমাত্রা-ডেটার বড় প্রবাহ নিয়ে কাজ করতে পারেন।
যেসব ক্ষেত্রে জৈবিক রূপান্তর সাধারণ কিন্তু ভালোভাবে মাপা হয় না, সেখানে এটি বিশেষভাবে কাজে লাগবে। পেরিমেনোপজ একটি ভালো উদাহরণ। বহু নারী প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট ক্লিনিকাল চিহ্ন ছাড়াই এটি অনুভব করেন, এবং উপসর্গের ধরণ খুবই ব্যক্তিনির্ভর হতে পারে। একটি যাচাইকৃত তাপমাত্রা-ছাপ রোগ নির্ণয়ের বিকল্প নয়, তবে অতিরিক্ত প্রমাণের একটি স্তর দিতে পারে।
ছোট একটি ফল, বৃহৎ প্রভাব
প্রদত্ত উৎস-লেখায় বর্ণিত তাপমাত্রা বৃদ্ধি সামান্য, এবং গবেষণার অংশগ্রহণকারী ছিল ১৮ থেকে ৪২ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে সীমিত। তাই ফলাফল অতিরঞ্জিত করা উচিত নয়। তবুও, এই অনুসন্ধানটি মূল্যবান, কারণ এটি একটি দৈনন্দিন শারীরবৃত্তীয় পরিমাপকে বার্ধক্য ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে নতুন অনুসন্ধানের পথ করে দিচ্ছে।
মূল অন্তর্দৃষ্টি হলো, নারীরা হঠাৎ করে মধ্যবয়সে উষ্ণ হয়ে যান এমন নয়। বরং প্রজনন বয়সজুড়ে তাপমাত্রা ধীরে, পরিমাপযোগ্য ও পদ্ধতিগতভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। যদি এই ধারা বৃহত্তর ডেটাসেটে নিশ্চিত হয় এবং হরমোনগত বা ক্লিনিকাল পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তা নারীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের আরও ভালো সরঞ্জাম তৈরিতে গবেষকদের সাহায্য করতে পারে।
সে অর্থে, এই গবেষণা একটি দরজা খুলে দেয়, কোনো মামলা চূড়ান্ত করে না। এটি ইঙ্গিত করে যে শরীরের তাপমাত্রা, বিশেষ করে ধারাবাহিকভাবে মাপা হলে, এমন সংকেত ধারণ করতে পারে যা চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনো পুরোপুরি ব্যবহার করেনি। প্রজনন বার্ধক্য গবেষণার জন্য এটিই একটি অর্থপূর্ণ অগ্রগতি।
এই নিবন্ধটি New Scientist-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে লেখা। মূল নিবন্ধ পড়ুন.
Originally published on newscientist.com


