একটি প্রাচীন মানব বংশ এখনও জীবিত ডিএনএ দিয়ে মানচিত্রায়িত হতে পারে

আধুনিক মানুষ হয়তো দীর্ঘদিন বিলুপ্ত একটি মানব বংশের কাছ থেকে গবেষকদের আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি উদ্ধারযোগ্য জিনগত উপাদান বহন করছে। প্রদত্ত উৎসপাঠ অনুযায়ী, একটি নতুন বিশ্লেষণী পদ্ধতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তথাকথিত এক অদৃশ্য পূর্বপুরুষের প্রায় পুরো জিনোম আজ জীবিত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা খণ্ডাংশে এখনও সংরক্ষিত আছে। কোনও একক ব্যক্তির কাছে পুরো কপির কাছাকাছি কিছু নেই, কিন্তু সম্মিলিতভাবে ওই অংশগুলো প্রায় পুরো জিনোম জুড়ে বিস্তৃত বলে মনে হচ্ছে।

মানব বিবর্তন গবেষণায় অদৃশ্য বংশধারার ধারণা নতুন নয়। বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই দেখিয়েছেন যে Homo sapiens, Neanderthals এবং Denisovans-এর সঙ্গে আন্তঃপ্রজনন করেছিল, এবং সেই ফলাফল আধুনিক জিনোম ও জীবাশ্ম থেকে উদ্ধার করা প্রাচীন ডিএনএর তুলনার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছিল। নতুন ফলাফল ক্ষেত্রটিকে আরও কঠিন এক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে: এমন মানবগোষ্ঠী থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া উপাদান শনাক্ত করা, যাদের জন্য কোনও জীবাশ্ম ডিএনএ অনুক্রমই হয়তো নেই। যদি সেটি টিকে যায়, তবে তা গবেষকদের জন্য প্রাচীন জনসংখ্যার ইতিহাস পুনর্গঠনের পদ্ধতি প্রসারিত করতে পারে, বিশেষত সেইসব বংশের ক্ষেত্রে যারা উত্তরসূরি রেখে গেছে, কিন্তু অ্যাক্সেসযোগ্য জিনগত অবশেষ নয়।

উৎসপাঠ জানায়, প্রত্যেক জীবিত মানুষের মধ্যে এই অদৃশ্য পূর্বপুরুষের 0.5 শতাংশ থেকে 1 শতাংশ ডিএনএ রয়েছে। এককভাবে দেখলে এই অংশ খুব বড় শোনায় না, কিন্তু বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব আসে এর বণ্টন থেকে। ভিন্ন ভিন্ন মানুষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন খণ্ড রয়েছে, এবং বলা হয়েছে, সেগুলো জিনোম জুড়ে মোটামুটি সমানভাবে ছড়িয়ে আছে। তাই গবেষকদের যুক্তি হলো, অনেক আধুনিক মানুষের মধ্যে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এই খণ্ডগুলো একত্র করলে এই হারিয়ে যাওয়া বংশের প্রায় সম্পূর্ণ জিনোম পুনর্গঠন করা সম্ভব হতে পারে।

মানব জিনতত্ত্বে এক গণনাগত পরিবর্তন

উৎসে বর্ণিত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি জিনোমের অংশগুলোর জন্য পরিবারবৃক্ষের মতো সম্পর্ক তৈরি করার একটি পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে। কম্পিউটেশনাল অগ্রগতির কারণে এ ধরনের অনুমান কেবল সাম্প্রতিককালেই বেশি সম্ভব হয়েছে। হাড় বা দাঁত থেকে পাওয়া কোনো প্রাচীন রেফারেন্স অনুক্রমের ওপর নির্ভর করার বদলে, এই পদ্ধতি জীবিত মানুষের জিনোম থেকেই অস্বাভাবিক বংশানুক্রমিক ধরণ শনাক্ত করতে চেষ্টা করে।

উৎসপাঠে গবেষক দল বলেছে, আধুনিক জিনোম একা ব্যবহার করেই তারা Neanderthal এবং Denisovan ডিএনএ সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বাস্তবতার একটি যাচাই দেয়। কোনও মডেল যদি জীবাশ্ম ডিএনএকে প্রধান নির্দেশিকা হিসেবে না পেয়েও পরিচিত প্রাচীন অবদান পুনরায় আবিষ্কার করতে পারে, তাহলে একই পদ্ধতি এমন অতিরিক্ত বংশধারার দিকেও ইঙ্গিত করতে পারে, যা প্রাচীন ডিএনএ রেকর্ডে অন্যথায় অদৃশ্য।

এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত কৌতূহল নয়। গত দুই দশকে প্রাচীন ডিএনএ গবেষণা মানব উৎসের কাহিনী বদলে দিয়েছে, কিন্তু এটি এখনও সংরক্ষণগত সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ। ডিএনএ ক্ষয় হয়, জীবাশ্ম বিরল, এবং বিশ্বের অনেক অঞ্চল রেকর্ডে কম প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে। জীবিত জনসংখ্যা থেকে পুরোনো মিশ্রণের ঘটনা শনাক্ত করতে পারে এমন একটি পদ্ধতি সেইসব সময় ও স্থানের জন্য প্রমাণের নতুন পথ খুলে দিতে পারে, যেখানে সরাসরি জিনগত জীবাশ্ম অনুপস্থিত।

এই অদৃশ্য পূর্বপুরুষকে কী অনন্য করে

উৎসপাঠ নতুনভাবে শনাক্ত হওয়া এই অদৃশ্য পূর্বপুরুষের সঙ্গে Neanderthals ও Denisovans থেকে সম্মিলিতভাবে যা সংরক্ষিত আছে তার তুলনা করেছে। এই পরিচিত ক্ষেত্রে, তাদের জিনোমের কেবল কিছু অংশ জীবিত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে আছে, এবং মানব জিনোমের দীর্ঘ অংশে সেই উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া উপাদান খুব কম বা নেই বললেই চলে। তার তুলনায়, এই অদৃশ্য পূর্বপুরুষের অবদান প্রায় সব জিনোমিক অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে।

এই পার্থক্য আলাদা জনসংখ্যাগত ইতিহাসের ইঙ্গিত দিতে পারে। উৎসে উদ্ধৃত গবেষকরা একটি ব্যাখ্যা হিসেবে জনসংখ্যার আকারের কথা বলেছেন। Neanderthals এবং Denisovans-এর জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যা ক্ষতিকর মিউটেশন জমা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়েছিল। দীর্ঘ সময়ে প্রাকৃতিক নির্বাচন পরবর্তী মানব জনসংখ্যা থেকে তাদের ডিএনএর আরও বেশি অংশ সরিয়ে দিতে পারত। অদৃশ্য বংশটি সম্ভবত ভিন্ন জনতাত্ত্বিক পথ অনুসরণ করেছিল, ফলে আধুনিক জিনোমে ভিন্ন ধরণের রক্ষণাবেক্ষণ-প্যাটার্ন তৈরি হয়েছে।

প্রদত্ত লেখার সীমার মধ্যেও এটি একটি আকর্ষণীয় সম্ভাবনা। এটি ইঙ্গিত দেয় যে সব আন্তঃপ্রজনন ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি জিনগত ফল সমান ছিল না। কিছু প্রাচীন বংশ এমন খণ্ড দিয়েছে যা বেশি হারিয়ে গেছে, আবার অন্যরা হয়তো আরও বিস্তৃত ও স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি admixture-কে শুধু একটি দ্বৈত ঘটনা হিসেবে নয়, বরং নির্বাচন, জনতত্ত্ব, এবং জনসংখ্যার মধ্যে সামঞ্জস্য দ্বারা গঠিত একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বুঝতে সাহায্য করে।

কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ

যদি কোনো বিলুপ্ত মানব বংশের প্রায় পুরো জিনোম জীবিত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা অংশগুলো থেকে পুনর্গঠন করা যায়, তবে তার তাৎপর্য এক পূর্বপুরুষ জনসংখ্যার অনেক বাইরে যাবে। এর মানে হবে মানব জিনোম গভীর বিবর্তনগত ইতিহাসের একটি বিতরণকৃত আর্কাইভ হিসেবে কাজ করছে। বিরল প্রাচীন অবশেষের ওপর নির্ভর করার বদলে, বিজ্ঞানীরা জীবিত ডিএনএ ব্যবহার করে এমন বংশধারার তথ্য উদ্ধার করতে পারবেন, যা অন্যথায় দৃষ্টির বাইরে চলে গেছে।

এতে Homo sapiens এবং একে অপরের সঙ্গে কতগুলো মানবগোষ্ঠী মিশেছিল, সেই বিতর্ক আরও স্পষ্ট হবে। মানব বিবর্তনের জনপ্রিয় গল্প প্রায়ই কয়েকটি নামকৃত শাখায় সরলীকৃত হয়, কিন্তু জিনগত প্রমাণ ক্রমাগত অনেক বেশি জটিল ছবির দিকেই ইঙ্গিত করছে। আন্তঃপ্রজনন মানব ইতিহাসের একটি পুনরাবৃত্ত বৈশিষ্ট্য বলে মনে হচ্ছে, বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম নয়। অতিরিক্ত গোপন অবদান উন্মোচনকারী পদ্ধতি মানব পরিবারবৃক্ষকে গোছানো শাখার সেটের বদলে বারবার সংযোগ ও জিনপ্রবাহযুক্ত একটি নেটওয়ার্কের মতো দেখাতে পারে।

এই কাজটি শুধু বংশপরিচয়ের জন্য নয়, জীববিজ্ঞানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রাচীন ডিএনএ অংশ কখনও কখনও বর্তমানের বৈশিষ্ট্য, রোগপ্রবণতা, বা অভিযোজনকে প্রভাবিত করে। উৎসপাঠ এই অদৃশ্য বংশ থেকে নির্দিষ্ট কোনো জৈবিক প্রভাবের দাবি করে না, এবং তেমন কোনো অনুমান এখানে দেওয়া প্রমাণের বাইরে যাবে। কিন্তু যদি গবেষকরা এই বংশের জিনোমের আরও বেশি অংশ শনাক্ত করতে এবং পরে পুনর্গঠন করতে পারেন, তাহলে তারা প্রশ্ন করতে পারবেন কিছু টিকে থাকা অংশ প্রতিরোধক্ষমতা, শারীরবৃত্ত, বা পরিবেশগত অভিযোজনে প্রভাব ফেলেছিল কি না।

এখনও গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। লেখাটি স্পষ্ট করে যে দলটি এখনো ছড়িয়ে থাকা খণ্ডাংশ থেকে পুরো জিনোম জোড়া লাগানোর চেষ্টা করেনি। উৎসে অদৃশ্য পূর্বপুরুষের সঙ্গে কোনও নামযুক্ত প্রজাতি পরিচয়ও যুক্ত করা হয়নি, শুধু এই সম্ভাবনা আছে যে Homo heidelbergensis-এর মতো কোনো পরিচিত প্রাচীন মানুষ প্রাসঙ্গিক হতে পারে। এই পর্যায়ে, এই আবিষ্কারকে সেই জনসংখ্যার একটি বড় হারিয়ে যাওয়া পূর্বপুরুষ অবদানের প্রমাণ হিসেবে বোঝাই সবচেয়ে ভালো, চূড়ান্ত প্রতিকৃতি হিসেবে নয়।

তবু এই ফলাফল মনে করিয়ে দেয়, মানব জিনতত্ত্ব কত দ্রুত এগোচ্ছে। একসময় যে ক্ষেত্রটি কয়েকটি জীবাশ্ম আবিষ্কারের ওপর নির্ভর করত, এখন তা বড় আধুনিক ডেটাসেট এবং উন্নত বিশ্লেষণী পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাচীন সম্পর্ক অনুমান করতে আরও সক্ষম। এই পদ্ধতিগুলো যদি আরও পরিণত হতে থাকে, তবে বিলুপ্ত মানুষের বিষয়ে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় আবিষ্কারগুলো হয়তো নতুন করে খনন করা হাড় থেকে নয়, বরং আমাদের ভেতরে ইতিমধ্যেই থাকা লুকোনো ধরণ থেকে আসবে।

এখন মূল দাবি একই সঙ্গে সীমিত এবং গভীর: জীবিত মানুষ সম্মিলিতভাবে এক অজানা প্রাচীন আত্মীয়ের প্রায় পুরো জিনোম সংরক্ষণ করে থাকতে পারে। এর ফলে প্রতিটি সিকোয়েন্স করা জিনোম কেবল বর্তমানের রেকর্ডই নয়, বরং মানব ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়গুলোর এক খণ্ডিত সাক্ষীও হয়ে ওঠে।

এই নিবন্ধটি New Scientist-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on newscientist.com