সম্ভাব্যভাবে বাসযোগ্য বিশ্বের খোঁজে একটি মাইলফলক

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অন্য এক নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলে থাকা একটি শিলাময় গ্রহের বায়ুমণ্ডল আছে, এমন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ তারা পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। LHS 1140 b নামের এই গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় 48 আলোকবর্ষ দূরে একটি ছোট লাল বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে, এবং গবেষকদের দাবি, তারা গ্রহটি থেকে বেরিয়ে আসা হিলিয়াম শনাক্ত করেছেন। এই সংকেত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ইঙ্গিত দেয় যে সক্রিয় ছোট নক্ষত্রগুলোর আশপাশে থাকা গ্রহগুলোর যে চ্যালেঞ্জ থাকে, তা সত্ত্বেও এই জগৎ বিলিয়ন বছর ধরে একটি গ্যাসীয় আবরণ ধরে রাখতে পেরেছে।

বায়ুমণ্ডল বাসযোগ্যতার কেন্দ্রে থাকে বলেই এই ফলটি উল্লেখযোগ্য। তারা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাপ পুনর্বণ্টন করতে পারে, কিছুটা হলেও পৃষ্ঠকে তীব্র বিকিরণ থেকে রক্ষা করতে পারে, এবং জলীয় বাষ্প ও অন্যান্য সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ অণু টিকে থাকার জন্য একটি মাধ্যম সরবরাহ করতে পারে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে জানেন যে অনেক এক্সোপ্ল্যানেট তথাকথিত বাসযোগ্য অঞ্চলে রয়েছে, যেখানে তাত্ত্বিকভাবে তরল পানি থাকতে পারে। কিন্তু সেই অঞ্চলের কোনো শিলাময় বিশ্ব সত্যিই বায়ুমণ্ডল ধরে রেখেছে তা দেখানো অনেক কঠিন ছিল।

প্রদত্ত উৎস অনুযায়ী, এই ফলাফল 16 জুলাই Science-এ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটিতে এই শনাক্তকরণকে অন্য এক নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলে প্রদক্ষিণকারী একটি শিলাময় গ্রহের চারপাশে বায়ুমণ্ডলের প্রথম প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর মানে এই নয় যে LHS 1140 b নিশ্চিতভাবে বাসযোগ্য, কিংবা সেখানে প্রাণ আছে। তবে এর অর্থ হলো দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠ-বাসযোগ্যতার জন্য প্রয়োজনীয় প্রধান পূর্বশর্তগুলোর একটি সেখানে থাকতে পারে।

LHS 1140 b কেন গুরুত্বপূর্ণ

LHS 1140 b-কে একটি সুপার-আর্থ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যার ভর পৃথিবীর ভরের প্রায় 5.6 গুণ। এটি আমাদের গ্রহের চেয়ে বড়, তবে নেপচুনের মতো গ্যাস জায়ান্টদের তুলনায় এখনো অনেক ছোট। এই জগৎ পৃথিবীর তুলনায় অর্ধেকেরও কম সূর্যালোক পায়। উৎসে উদ্ধৃত পূর্ববর্তী হিসাব অনুযায়ী, এর তাপমাত্রা ছিল প্রায় মাইনাস 53 ডিগ্রি ফারেনহাইট, বা মাইনাস 47 ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে এতে বায়ুমণ্ডল যে উষ্ণায়ন ঘটাতে পারে তা ধরা হয়নি।

এই সংমিশ্রণটি গ্রহটিকে আকর্ষণীয় করে তোলে। সঠিক বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থায় তরল পানির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে এমন একটি পরিসরের মধ্যে এটি রয়েছে, যদিও এর কাঁচা সমতাবস্থার তাপমাত্রা ঠান্ডা মনে হয়। অন্যভাবে বললে, LHS 1140 b আকর্ষণীয় নয় কারণ এটি স্পষ্টতই পৃথিবীর মতো। এটি আকর্ষণীয় কারণ এটি এক সংকীর্ণ কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে সমৃদ্ধ মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকতে পারে: শিলাময়, এক্সোপ্ল্যানেটের মানদণ্ডে নাতিশীতোষ্ণ, এবং এখন মনে হচ্ছে বায়ুশূন্যও নয়।

দূরে উজ্জ্বল সূর্যসহ একটি গ্রহের চিত্র
একটি ভিনগ্রহী নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণরত দুটি শিলাময় এক্সোপ্ল্যানেটের চিত্রায়ন। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখনই LHS 1140 b থেকে পালিয়ে যাওয়া হিলিয়াম শনাক্ত করেছেন, যা অন্য এক নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলে থাকা একটি শিলাময় জগতের চারপাশে বায়ুমণ্ডলের প্রথম প্রমাণ। (ছবির কৃতিত্ব: Melissa Weiss/CfA)

এক্সোপ্ল্যানেট গবেষকদের কাছে এটি একটি বড় পার্থক্য। লাল বামন নক্ষত্রের চারপাশে পাওয়া অনেক শিলাময় গ্রহ বিশেষ করে তাদের প্রারম্ভিক ইতিহাসে তীব্র নাক্ষত্রিক ক্রিয়াকলাপের সম্মুখীন হয়। এমন ক্রিয়াকলাপ বায়ুমণ্ডল সরিয়ে দিতে পারে। যদি LHS 1140 b তার বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পেরে থাকে, তবে এটি বায়ুমণ্ডল টিকে থাকা, গ্রহের বিবর্তন, এবং বাসযোগ্য বিশ্বের আবাস হিসেবে লাল-বামন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা নিয়ে মডেলগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকেস হয়ে ওঠে।

হিলিয়ামের সংকেত কী বোঝায়

উৎসপাঠ্যে বলা হয়েছে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গ্রহটি থেকে বেরিয়ে আসা হিলিয়াম শনাক্ত করেছেন। এ ধরনের পর্যবেক্ষণ বায়ুমণ্ডলের পূর্ণ উপাদান-তালিকা দেয় না, এবং এটি সরাসরি জানায় না পৃষ্ঠে মহাসাগর, মেঘ, বা শ্বাসযোগ্য মিশ্রণ আছে কি না। তবে এটি একটি ভৌতভাবে অর্থবহ ইঙ্গিত দেয় যে একটি গ্যাসীয় বাইরের স্তর রয়েছে এবং তা গ্রহের চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করছে।

এই প্রেক্ষিতে হিলিয়াম কাজে লাগে, কারণ পালিয়ে যাওয়া গ্যাসকে কোনো নক্ষত্রের বিপরীতে স্থির বায়ুমণ্ডলের তুলনায় শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। গবেষকেরা যদি ট্রানজিটের সময় গ্রহটিকে ধরতে পারেন এবং হিলিয়াম-সঙ্কেত শনাক্ত করতে পারেন, তাহলে তারা প্রমাণ পান যে গ্রহের ওপরে বস্তু বিদ্যমান, কেবল পরোক্ষ মডেলিং থেকে অনুমান করা নয়। ফলে এই ফলাফলটি এটিকে একটি স্থায়ী বায়ুমণ্ডল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পক্ষে জোরালো সমর্থন দেয়।

এই পার্থক্য এক্সোপ্ল্যানেট বিজ্ঞানের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেত্রটি এখন গ্রহ গোনা থেকে তাদের বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ের দিকে এগোচ্ছে। কোন জগত শিলাময়, কোনগুলোর বায়ুমণ্ডল আছে, সেই বায়ুমণ্ডলগুলো কীভাবে আচরণ করে, এবং কোন লক্ষ্যগুলো বড় টেলিস্কোপের সীমিত পর্যবেক্ষণ সময় পাওয়ার যোগ্য - এসব জানতে গবেষকেরা ক্রমেই আগ্রহী। LHS 1140 b-তে একটি আশাব্যঞ্জক শনাক্তকরণ সঙ্গে সঙ্গে এর বৈজ্ঞানিক অগ্রাধিকার বাড়িয়ে দেয়।

এটি সতর্ক পদক্ষেপ, জীবনের ঘোষণা নয়

এই আবিষ্কারটি অতিরিক্তভাবে ব্যাখ্যা করা সহজ, তাই সতর্কতা জরুরি। একটি বায়ুমণ্ডল থাকলেই অনুকূল পৃষ্ঠপরিবেশ প্রমাণ হয় না। শুক্রের বায়ুমণ্ডল ঘন, তবু সেটি অত্যন্ত প্রতিকূল। মঙ্গলেরও বায়ুমণ্ডল আছে, কিন্তু তা পাতলা ও শীতল। একই নীতি এক্সোপ্ল্যানেটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য: গ্যাসের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের জানায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আছে, কিন্তু জীবনের সম্পূর্ণ রেসিপি প্রস্তুত আছে তা নয়।

গভীর মহাকাশে পেছনে জ্বলতে থাকা সূর্যসহ একটি গ্রহের চিত্র
NASA কনসেপ্ট আর্ট LHS 1140 b-কে একটি শিলাময় সুপার-আর্থ হিসেবে দেখায়, যা আমাদের গ্রহের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহের ধরন।

বায়ুমণ্ডল কতটা পুরু, কোন অণুগুলো এতে প্রাধান্য পায়, এবং সময়ের সঙ্গে আতিথ্যকারী নক্ষত্র তার রসায়নকে কতটা প্রভাবিত করে - এসব নিয়েও খোলা প্রশ্ন রয়েছে। লাল বামনগুলো গ্যালাক্সিতে সাধারণ হওয়ায় বাসযোগ্য-অঞ্চল অনুসন্ধানের জন্য তারা আকর্ষণীয় লক্ষ্য, কিন্তু তারা কঠিন প্রতিবেশী হতে পারে। তাদের বিকিরণ ও ফ্লেয়ারের ইতিহাস গ্রহীয় বায়ুমণ্ডলকে এমনভাবে বদলে দিতে পারে, যা পৃথিবীর সঙ্গে সহজ তুলনাকে জটিল করে তোলে।

তবু এই ফল তত্ত্ব ও পর্যবেক্ষণের মধ্যে ব্যবধান কমায়। বহু বছর ধরে, পরিমাপযোগ্য বায়ুমণ্ডলযুক্ত কোনো শিলাময় বাসযোগ্য-অঞ্চল গ্রহের ধারণা মূলত ভবিষ্যৎ যন্ত্রপাতির লক্ষ্য ছিল। এখন LHS 1140 b সেই প্রচেষ্টার জন্য বাস্তব-জগতের একটি পরীক্ষাগার বলে মনে হচ্ছে।

এরপর কী

এই শনাক্তকরণের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ফল সম্ভবত আরও নজরদারি। গবেষকেরা ফলটি নিশ্চিত করতে, বায়ুমণ্ডলীয় চিত্র আরও স্পষ্ট করতে, এবং অতিরিক্ত গ্যাস শনাক্ত করা যায় কি না তা নির্ধারণ করতে অনুসরণী পর্যবেক্ষণ চাইবেন। প্রতিটি নতুন পরিমাপ LHS 1140 b-কে একটি কৌতূহলজনক প্রার্থী থেকে তুলনামূলক এক্সোপ্ল্যানেটোলজির জন্য একটি মানদণ্ড বিশ্বে পরিণত করতে সাহায্য করবে।

বৃহত্তর প্রভাবটি কৌশলগত। বাসযোগ্য গ্রহের খোঁজ শুধু নক্ষত্র থেকে সঠিক কক্ষীয় দূরত্ব খোঁজা নয়। বরং এমন গ্রহ খোঁজা, যেগুলো ভূতাত্ত্বিক সময়জুড়ে জটিল জলবায়ু আচরণ ধরে রাখতে যথেষ্ট উদ্বায়ী উপাদান ধরে রেখেছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অর্থে অন্তত এমন একটি জগৎ কাছাকাছি আছে, এই প্রমাণ সেই অনুসন্ধানকে আরও বাস্তব রূপ দেয়।

এখনকার জন্য LHS 1140 b-কে একটি সীমান্ত-ধরনের আবিষ্কার হিসেবে বোঝাই সবচেয়ে ভালো। এটি দ্বিতীয় পৃথিবীর ঘোষণা নয়। বরং এটি ইঙ্গিত দেয় যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অবশেষে গ্রহবিজ্ঞানের সবচেয়ে কঠিন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি বাস্তব তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছেন: বাসযোগ্য অঞ্চলের শিলাময় জগৎ কি যথেষ্ট সময় ধরে বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে, যাতে তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে?

  • LHS 1140 b গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় 48 আলোকবর্ষ দূরে একটি শীতল লাল বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে।
  • হিলিয়াম শনাক্তকরণকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে যে একটি শিলাময় বাসযোগ্য-অঞ্চল এক্সোপ্ল্যানেটের বায়ুমণ্ডল আছে।
  • এই ফলাফল ভবিষ্যতের বায়ুমণ্ডলীয় অনুসরণী গবেষণার জন্য LHS 1140 b-কে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত লক্ষ্য করতে পারে।

এই নিবন্ধটি Live Science-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on livescience.com