ব্যায়ামকে সাধারণত শক্তিশালী হৃদপিণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তবে নতুন গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটি হৃদযন্ত্রের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মাঝারি মাত্রার অ্যারোবিক ব্যায়াম ইঁদুরের হৃদপিণ্ড নিয়ন্ত্রণে যুক্ত স্নায়ুকোষের গঠন পরিবর্তন করেছে।

Autonomic Neuroscience জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা হিসেবে ScienceDaily যে ফলাফলটি জানিয়েছে, তা শারীরিক কর্মকাণ্ডের পরিচিত উপকারিতায় একটি স্নায়ুবৈজ্ঞানিক মাত্রা যোগ করছে। এটি শরীরের বাম ও ডান পাশের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্যও তুলে ধরে। হৃদস্পন্দনের ছন্দের ব্যাধি এবং হৃদপিণ্ডের স্নায়ুকে লক্ষ্য করে তৈরি চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানীদের কাছে এই ফল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

হৃদপিণ্ডের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক

হৃদপিণ্ড শুধু সচেতন প্রচেষ্টা বা হৃদপেশির ওপর নির্ভর করে না। স্বায়ত্তশাসিত স্নায়ুতন্ত্র এর কার্যকলাপ আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এই তন্ত্র ইচ্ছাকৃত নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই হৃদস্পন্দন, শ্বাসপ্রশ্বাস ও হজমের মতো কাজ পরিচালনা করে। শরীরে বেশি অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে, যেমন ব্যায়াম বা চাপপূর্ণ পরিস্থিতিতে, এই তন্ত্রের একটি শাখা হৃদপিণ্ডের কার্যকলাপ বাড়াতে পারে।

নতুন গবেষণার কেন্দ্রে রয়েছে স্টেলেট গ্যাংলিয়া—নিচের ঘাড় ও ওপরের বুকের দুই পাশে অবস্থিত ছোট ছোট স্নায়ুকোষের গুচ্ছ। এই স্নায়ুকেন্দ্রগুলো এমন সংকেত পাঠায়, যা হৃদস্পন্দনের হার এবং হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতার অন্যান্য দিককে প্রভাবিত করে। নিয়মিত, মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম এই কোষগুলোকে কীভাবে প্রভাবিত করে, গবেষকেরা তা পরীক্ষা করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যায়াম স্নায়ুকোষগুলোর শারীরিক পুনর্গঠন করেছে; শুধু স্বল্পমেয়াদে তারা যে সংকেত পাঠায় তা পরিবর্তন করেনি। শরীরের দুই পাশে পরিবর্তন একই রকম ছিল না। বরং বাম ও ডান স্টেলেট গ্যাংলিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

পাশভেদে ভিন্ন ফল

বাম-ডান পার্থক্যই গবেষণাটির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যানাটমির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক এবং গবেষণার প্রধান লেখক ড. অগাস্তো কোপ্পি এই ফলকে হৃদপিণ্ডের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আগে অদৃশ্য থাকা একটি বাম-ডান বিন্যাস হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই অসমতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ হৃদপিণ্ডের স্নায়ুকে জড়িত করা চিকিৎসারও পাশভেদে আলাদা প্রভাব থাকতে পারে। গবেষণাটি কোনো ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠা করে না এবং মানুষে এই স্নায়ুগুলোর পুনর্গঠনের জন্য ব্যায়াম নির্ধারণ করা যায়—এমনও দেখায় না। তবে, স্নায়ুতন্ত্রের এক পাশে করা হস্তক্ষেপ অন্য পাশে করা হস্তক্ষেপের মতো একই ফল নাও দিতে পারে—এর একটি সম্ভাব্য জৈবিক ব্যাখ্যা এটি দেয়।

অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, এনজাইনা, বুকে ব্যথা এবং স্ট্রেস-প্ররোচিত কার্ডিওমায়োপ্যাথি, যাকে কখনও কখনও ব্রোকেন-হার্ট সিনড্রোম বলা হয়, নিয়ে গবেষণায় এই কাজ ভবিষ্যতে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে এগুলো এখনো সম্ভাবনামাত্র। প্রতিবেদন করা পরীক্ষাটি ইঁদুরের ওপর চালানো হয়েছে, এবং মানুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিবর্তন ঘটে কি না তা নির্ধারণে আরও গবেষণা দরকার বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।

গবেষণাটি কী দেখায় এবং কী দেখায় না

নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড হৃদযন্ত্রের সক্ষমতার চেয়ে বেশি কিছু প্রভাবিত করতে পারে—এই ধারণাকে ফলাফলগুলো সমর্থন করে। ব্যায়াম হৃদপিণ্ড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক স্নায়বিক অবকাঠামোকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে এগুলো ইঙ্গিত দেয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: পেশির কর্মক্ষমতা, রক্তনালি ও বিপাকের পরিবর্তন ব্যায়াম-শরীরবিদ্যার সুপরিচিত অংশ। কিন্তু হৃদপিণ্ড-নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুকোষে কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম আলোচনা হয়।

তবু, এই গবেষণাকে এমন প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয় যে কোনো নির্দিষ্ট ব্যায়াম কর্মসূচি মানুষের অ্যারিথমিয়া প্রতিরোধ করে বা হৃদরোগের চিকিৎসা করে। প্রাণী গবেষণা এমন কিছু প্রক্রিয়া প্রকাশ করতে পারে যা মানুষের ক্ষেত্রে পরীক্ষা করা কঠিন। কিন্তু ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে এসব ফল যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনটি মাঝারি মাত্রার অ্যারোবিক ব্যায়াম নিয়ে, শারীরিক কর্মকাণ্ডের সব ধরন, তীব্রতা বা সময়কাল নিয়ে নয়। কোনো চিকিৎসাগত অবস্থার জন্য নির্দিষ্ট ব্যায়াম পদ্ধতি বেছে নেওয়ার ভিত্তি এটি দেয় না। যাদের হৃদরোগের উপসর্গ বা নির্ণীত হৃদ্‌যন্ত্রের রোগ রয়েছে, তাদের এই প্রাথমিক গবেষণা থেকে চিকিৎসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত না নিয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া চালিয়ে যাওয়া উচিত।

এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

ব্যায়াম কীভাবে হৃদপিণ্ডের সঙ্গে পারস্পরিক ক্রিয়া করে, এই গবেষণা তার বৈজ্ঞানিক ধারণাকে আরও বিস্তৃত করে। নিয়মিত কর্মকাণ্ড শুধু অঙ্গটির পাম্প করার ক্ষমতার ওপর কাজ না করে, এর নিয়ন্ত্রণ সার্কিটের অংশ হিসেবে কাজ করা স্নায়ুকেও প্রভাবিত করতে পারে। ভবিষ্যৎ গবেষণায় মানুষে একই ধরনের প্রভাব নিশ্চিত হলে, ব্যায়াম কীভাবে কিছু হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকিতে প্রভাব ফেলে এবং স্নায়ুকে লক্ষ্য করা চিকিৎসার ফল পাশভেদে কেন বদলাতে পারে—তা গবেষকেরা আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন।

এই মুহূর্তে ফলটিকে একটি কার্যপ্রক্রিয়াগত গবেষণা-সূত্র হিসেবে বোঝাই ভালো: মাঝারি ব্যায়াম ইঁদুরের হৃদপিণ্ড-সম্পর্কিত স্নায়ুকোষ বদলেছে এবং তা অসমভাবে ঘটেছে। মানুষের মধ্যে একই বিন্যাস দেখা যায় কি না, এটি কতদিন স্থায়ী হয় এবং পরিমাপযোগ্য সুরক্ষা বা চিকিৎসার ফলাফলে এটি অবদান রাখে কি না—এগুলোই পরবর্তী প্রশ্ন।

এই নিবন্ধটি Science Daily-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে তৈরি। মূল নিবন্ধটি পড়ুন।

Originally published on sciencedaily.com