প্যারিসের কাছে পুনরায় আবিষ্কৃত একটি ছোট মাছি আরও বড় একটি বৈজ্ঞানিক সমস্যার স্পষ্ট প্রতীক হয়ে উঠেছে। Pocota personata নামের ভোমরার মতো দেখতে এই পোকাটি ফ্রান্সে প্রায় ১৫০ বছর আগে সর্বশেষ নথিভুক্ত হয়েছিল; ২০২৫ সালে এটি প্যারিস অঞ্চলে আবার দেখা যায়। এর ফিরে আসা একটি মৌলিক কিন্তু কঠিন প্রশ্ন তোলে: পোকাটি কি হারিয়ে গিয়ে আবার ফিরে এসেছে, নাকি এতদিন নজর এড়িয়ে টিকে ছিল?
জীববৈচিত্র্য গবেষকদের কাছে এই অনিশ্চয়তা প্রান্তিক কৌতূহল নয়। জীবজগৎ বোঝার কেন্দ্রে এটি রয়েছে। কোনো প্রজাতি কোথায় আছে, তার জনসংখ্যা কীভাবে বদলাচ্ছে, এমনকি প্রজাতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হয়েছে কি না—এসব না জানলে বিজ্ঞানীরা তাকে কেবল অসম্পূর্ণভাবেই রক্ষা করতে পারেন। Armenia-তে অনুষ্ঠিতব্য UN COP17 জীববৈচিত্র্য সম্মেলনে দেশগুলো প্রকৃতি সংরক্ষণে নিজেদের অঙ্গীকারের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার সময় এই চ্যালেঞ্জটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যা এখনও অজানা, তার পরিসর
গবেষকদের উদ্ধৃত অনুমান দেখায়, তালিকাটি কতটা অসম্পূর্ণ। ২০১১ সালের একটি গবেষণা অনুমান করেছিল, স্থলজ প্রজাতির ৮৬% এবং সামুদ্রিক প্রজাতির ৯১% এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ণিত হয়নি। বিজ্ঞান ইতিমধ্যে যেসব প্রজাতিকে চেনে, তাদের মধ্যেও সংরক্ষণ-সংক্রান্ত জ্ঞান অসমান: ২০২৫ সালে পরিচিত প্রজাতির মাত্র প্রায় ৮% এর বিলুপ্তির ঝুঁকি International Union for Conservation of Nature মূল্যায়ন করেছিল।
এই পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জীববৈচিত্র্য নীতি পরিমাপের ওপর নির্ভর করে। একটি দেশ সামগ্রিকভাবে জীববৈচিত্র্য কমছে জানলেও কোন জনসংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত কমছে, চাপ কোথায় বেশি বা কোনো উদ্যোগ কাজ করেছে কি না—তা নির্ধারণের মতো নির্ভরযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ তার কাছে নাও থাকতে পারে। ভূমি ব্যবহার, আবাসস্থল সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এটি কর্মকর্তা ও গবেষকদের অসম্পূর্ণ ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়।
অনুপস্থিত তথ্য সমানভাবে ছড়িয়ে নেই। বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী ও সহজে দেখা যায় এমন পাখিদের পর্যবেক্ষণ করা তুলনামূলক সহজ। ছোট পোকা, ছত্রাক ও অণুজীব শনাক্ত, আলাদা এবং পর্যবেক্ষণ করা অনেক কঠিন। Borneo-র মতো উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল প্রজাতিতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হলেও সেখানে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। ফলে বিজ্ঞানে যা দৃশ্যমান তার মধ্যে পক্ষপাত তৈরি হয়: ছোট, গোপন, দূরবর্তী বা শনাক্ত করা কঠিন জীব দীর্ঘদিন তথ্যভান্ডারে অনুপস্থিত থাকতে পারে।
ফ্রান্স আরও ব্যবহারযোগ্য রেকর্ড তৈরি করছে
জুনে France’s National Museum of Natural History এবং National Centre for Scientific Research Dynabiod চালু করে। এর উদ্দেশ্য দেশের উদ্ভিদ ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর একটি ডেটাবেস তৈরি করা। লক্ষ্য শুধু তালিকায় নাম যোগ করা নয়; বর্তমান ও ঐতিহাসিক তথ্য একত্র করা, যাতে জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন আরও ভালোভাবে মাপা যায়।
প্রকল্পটির নেতৃত্বদানকারী Rodolphe Rougerie বলেন, জীববৈচিত্র্য কমছে—এই সাধারণ বোঝাপড়া এবং সেই পতনকে পরিমাণে প্রকাশ করার সক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। অতীত ও বর্তমানের পর্যবেক্ষণ-তথ্য প্রায়ই অপর্যাপ্ত, বিশেষ করে কম দৃশ্যমান জীবগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে। একটি জাতীয় ডেটাবেস মাঠের নথি, সংগ্রহ ও গবেষণা প্রকল্পে ছড়িয়ে থাকা পর্যবেক্ষণগুলোকে যুক্ত করতে পারে।

কাজটি শুরু হয় নমুনা সংগ্রহের অনাকর্ষণীয় প্রক্রিয়া দিয়ে। মধ্য প্যারিসের Jardin des Plantes এবং আরও ১৬টি স্থানে গবেষক Fanny Kratz পোকা ধরার জন্য ব্যবহৃত বড় সাদা তাঁবু পরীক্ষা করেন। এরপর রেকর্ডের ঘাটতি পূরণে সহায়তার জন্য DNA ব্যবহার করে নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। প্রক্রিয়াটি ধীর এবং প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। একটি ফাঁদে DNA-র ২৬১টি পর্যন্ত ধরন থাকতে পারে, আর একটি জেনেটিক চিহ্ন যে প্রজাতি এটি তৈরি করেছে সে সম্পর্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণ উত্তর দেয় না।
DNA কেন কঠিন অংশটি দূর করে না
DNA-ভিত্তিক নজরদারি জীববৈচিত্র্য জরিপের পরিধি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন নমুনায় এমন অনেক জীব থাকে যেগুলোকে একে একে শনাক্ত করা কঠিন। কিন্তু এতে সতর্ক ব্যাখ্যার প্রয়োজন শেষ হয় না। গবেষকদের জেনেটিক উপাদানকে রেফারেন্স তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে হয় এবং মনে রাখতে হয় যে কোনো চিহ্ন উপস্থিতি দেখালেও জনসংখ্যার পরিমাণ, আচরণ বা অবস্থার পূর্ণ বিবরণ দেয় না।
তাই জীবনকে তালিকাভুক্ত করা প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক—দুই ধরনের কাজ। এর জন্য বারবার মাঠপর্যায়ের কাজ, শ্রেণিবিন্যাসের দক্ষতা, রেফারেন্স সংগ্রহ, পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ এবং এমন ব্যবস্থা দরকার যা অন্য গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের ব্যবহারের উপযোগী আকারে পর্যবেক্ষণ সংরক্ষণ করতে পারে। ধারাবাহিকতাও দরকার। একবারের জরিপ কোনো স্থানে কী আছে তা দেখাতে পারে; দীর্ঘমেয়াদি নজরদারিই দেখায় সেই চিত্র বদলাচ্ছে কি না।
পুনরাবিষ্কার থেকে ভালো সিদ্ধান্তের পথে
Pocota personata-র পুনরাবির্ভাব মনে করিয়ে দেয়, রেকর্ডে অনুপস্থিতি প্রকৃতিতেও অনুপস্থিত থাকার প্রমাণ নয়। কোনো প্রজাতি বিরল, ঋতুভিত্তিক, শনাক্ত করা কঠিন হওয়া বা সঠিক জায়গায় খোঁজা না হওয়ার কারণে নজর এড়াতে পারে। বিপরীতে, নজরদারির অভাবে কোনো জনসংখ্যা সত্যিই বিপদে আছে—তা বুঝতে দেরি হতে পারে।
এই পার্থক্যের বাস্তব পরিণতি রয়েছে। সংরক্ষণ লক্ষ্য প্রায়ই বিস্তৃত ভাষায় বলা হয়, কিন্তু বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ পরিচালনার মতো বিস্তারিত তথ্য দরকার। আরও পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেস দেখাতে পারে কোথায় জ্ঞান সবচেয়ে দুর্বল এবং কোথায় অতিরিক্ত নমুনা সংগ্রহ সবচেয়ে বেশি কাজে আসবে। ভবিষ্যৎ মূল্যায়নকে অল্প কিছু ভালোভাবে অধ্যয়ন করা প্রজাতি থেকে অনুমানের ওপর নির্ভরশীল হওয়া থেকেও এগুলো দূরে রাখতে পারে।
বিশ্বের প্রজাতিগুলোকে তালিকাভুক্ত করা দ্রুত শেষ হবে না। কাজটি স্বভাবতই ধৈর্যসাপেক্ষ এবং অজানা জগত এখনও বিশাল। তবে Dynabiod-এর মতো প্রকল্প দেখায়, জীববৈচিত্র্য বিজ্ঞান শুধু অস্বাভাবিক জীব আবিষ্কারের বিষয় নয়। মানুষ যে প্রাকৃতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে তা পুনরুদ্ধার হচ্ছে, স্থিতিশীল আছে, নাকি পুরোপুরি বোঝার আগেই হারিয়ে যাচ্ছে—তা জানার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য।
এই নিবন্ধটি Phys.org-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি। মূল নিবন্ধ পড়ুন।
Originally published on phys.org







