জিওইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষা আর্কটিক সমুদ্রবরফকে মোটা করতে পারে, কিন্তু জলবায়ুগত মূল্য এখনও অনিশ্চিত
কানাডা ও নরওয়েতে করা মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় দেখা গেছে, আর্কটিক সমুদ্রবরফের ওপর সমুদ্রজল পাম্প করলে বরফ আরও মোটা হতে পারে। কিন্তু গ্রীষ্মকালীন গলন এলে সেই অতিরিক্ত পুরুত্ব বরফকে কতটা সময় ধরে রাখতে পারবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
এই পরীক্ষাগুলো ঠান্ডা অঞ্চলে আগে থেকেই ব্যবহৃত একটি বাস্তব কৌশলকে আবার সামনে এনেছে: বরফে ছিদ্র করে ওপরের পৃষ্ঠে পানি পাম্প করা, যাতে তা জমে আরও মোটা স্তর তৈরি করে। কানাডায় একই ধরনের পদ্ধতি শীতকালীন বরফ-রাস্তাগুলো রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করে। এখন গবেষক ও কোম্পানিগুলো জানতে চায়, 2030-এর দশকের শুরুর দিকেই গ্রীষ্মে পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে এমন সমুদ্রবরফকে সমর্থন করার জন্য এই পদ্ধতি বড় পরিসরে ব্যবহার করা যায় কি না।
এটির ঝুঁকি বৈশ্বিক, কারণ আর্কটিক সমুদ্রবরফ খোলা সমুদ্রের তুলনায় সূর্যালোককে অনেক বেশি কার্যকরভাবে মহাকাশে প্রতিফলিত করে। বরফ সরে গেলে গাঢ় পানি বেশি তাপ শোষণ করে, ফলে উষ্ণায়ন আরও বেড়ে যায়। এই ক্ষতি নির্ভরযোগ্যভাবে ধীর করতে পারে এমন যেকোনো হস্তক্ষেপই গুরুতর মনোযোগ পাবে।
দুটি পরীক্ষায় বরফ মোটা হয়েছে, কিন্তু গ্রীষ্মকালীন ফল ভিন্ন
দেওয়া উৎস-পাঠ্যে উদ্ধৃত উভয় পরীক্ষাই সমুদ্রবরফ মোটা করতে সফল হয়েছিল। মতভেদ শুরু হয় তার পর। কানাডার গবেষকরা জানান, অতিরিক্ত পুরুত্ব গ্রীষ্মের গলনকে ধীর করেছিল, আর নরওয়ের দলটি পায় যে মোটা করা বরফ “পচতে” দেরিতে শুরু করলেও কাছের একটি নিয়ন্ত্রণ স্থানের মতোই একই দিনে তা শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য হয়ে যায়।
নরওয়েতে, ডাচ কোম্পানি Arctic Reflections 2024 সালে স্বালবার্ডের একটি উপসাগরীয় জলাভূমিতে পরীক্ষা চালায়। দলটি প্রায় এক মিটার পুরু বরফে ড্রিল করে, তুষারাবৃত পৃষ্ঠে সমুদ্রজল পাম্প করে এবং কয়েক দিনের মধ্যে জমে যাওয়া একটি বড় কাদামাটির মতো স্তর তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় মোট সমুদ্রবরফের পুরুত্ব 90 সেন্টিমিটার থেকে বেড়ে 1.16 মিটার হয়। তবু জুনজুড়ে ক্যামেরা পর্যবেক্ষণে কাছের অপরিশোধিত বরফের তুলনায় এর টিকে থাকার সময়ে কোনো চূড়ান্ত বৃদ্ধি দেখা যায়নি।
কানাডায়, যুক্তরাজ্যের কোম্পানি Real Ice 2024 সালের ডিসেম্বর থেকে 2025 সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেমব্রিজ বে-এর দক্ষিণে নর্থওয়েস্ট প্যাসেজের আটটি স্থানে পরীক্ষা চালায়। মোট 250,000 বর্গমিটার এলাকায় তুষারস্তরকে পানি দিয়ে ভিজিয়ে জমিয়ে ফেলা হয়, এবং কিছু স্থানে দুবার পুরু করা হয়। উৎস-পাঠ্য অনুযায়ী, গবেষকরা বলেন যে এই হস্তক্ষেপ গ্রীষ্ম এলে গলনকে দেরি করিয়েছিল।
মোটা বরফ সবসময় দীর্ঘস্থায়ী বরফে পরিণত হয় না
এই মিশ্র ফলাফল জলবায়ু হস্তক্ষেপ গবেষণার একটি কেন্দ্রীয় সমস্যাকে তুলে ধরে: কোনো এক পর্যায়ে একটি শারীরিক প্রভাব পাওয়া গেলেও, পরবর্তীতে সেটি সামগ্রিক ব্যবস্থার স্তরে অর্থবহ ফল দেবে, তার নিশ্চয়তা নেই। বরফ শীতকালে মোটা হতে পারে, কিন্তু বসন্ত ও গ্রীষ্মের অবস্থা যদি সেই লাভকে ছাপিয়ে যায়, তবে সেটি প্রায় একই সময়রেখায় হারিয়ে যেতে পারে।
আলফ্রেড ভেগেনার ইনস্টিটিউটের Christian Haas, যিনি নরওয়ের ফলাফল বিশ্লেষণে কাজ করেছিলেন, উৎস নিবন্ধে সরাসরি অনিশ্চয়তাটি এভাবে সংক্ষেপ করেছেন: হ্যাঁ, বরফ মোটা হচ্ছে, কিন্তু এতে শেষ পর্যন্ত তা বিলীন হওয়া সত্যিই উল্লেখযোগ্যভাবে দেরি হয় কি না, সেটি এখনও খোলা প্রশ্ন।
এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জিওইঞ্জিনিয়ারিং প্রস্তাবগুলো কেবল সংকীর্ণ প্রযুক্তিগত অর্থে কাজ করে কি না, তা দিয়ে নয়, বরং প্রাসঙ্গিক মাত্রায় স্থায়ী জলবায়ু সুবিধা দেয় কি না, সেটিও দেখে মূল্যায়ন করা হয়। স্থানীয় বরফের পুরুত্ব বদলানো একটি ট্রায়াল বৈজ্ঞানিকভাবে আকর্ষণীয়। কিন্তু উষ্ণ মৌসুমে সমুদ্রবরফের বিশাল এলাকাগুলোকে নির্ভরযোগ্যভাবে রক্ষা করতে পারে এমন পদ্ধতি অনেক বেশি কঠিন প্রস্তাব।
পরীক্ষা চলছে, কিন্তু প্রমাণের দায় খুব বেশি
দুই দলই তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেখায় যে পরস্পরবিরোধী ফল সত্ত্বেও ধারণাটি বাতিল হয়নি। পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া যুক্তিযুক্ত। আর্কটিক পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল, আর তুষারআচ্ছাদন, সময়, স্থান ও আবহাওয়ার ধরন অনুযায়ী কৌশল ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে। কিন্তু প্রমাণের দায় খুব বেশি, কারণ বিশাল মেরু এলাকাজুড়ে কোনো হস্তক্ষেপ বিস্তৃত করা, তার জলবায়ুগত কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ার আগেই, লজিস্টিকভাবে কঠিন এবং রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হবে।
আরও বড় একটি শাসনসংক্রান্ত সমস্যাও আছে। কোনো অঞ্চলে বরফের অবস্থা বদলানো কৌশল বাস্তুতন্ত্র, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু রাজনীতিকে এমনভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যা কেবল পুরুত্বের মাপে ধরা পড়ে না। প্রদত্ত উৎসটি মূলত মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতার ওপর জোর দিয়েছে, কিন্তু এই পদ্ধতি যদি কখনও পরীক্ষার বাইরে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত বলে মনে হয়, তাহলে নীতিগত আলোচনা অবশ্যই আরও বড় হয়ে উঠবে।
এখন পর্যন্ত প্রধান ফলাফল একই সঙ্গে আশাব্যঞ্জক এবং সীমাবদ্ধ। গবেষকরা দেখিয়েছেন যে পাম্প করা সমুদ্রজল আর্কটিক সমুদ্রবরফের পুরুত্ব বাড়াতে পারে। কিন্তু তারা এখনও ধারাবাহিকভাবে দেখাতে পারেননি যে এটি গ্রীষ্ম পার করে বরফকে এমনভাবে টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট, যাতে আর্কটিক ক্ষয়ের বৃহত্তর প্রবণতা বদলে যায়। তাই এই ধারণা জিওইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচিত অবস্থানেই আছে: গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট সম্ভাবনাময়, কিন্তু নির্ভর করার মতো প্রমাণিত নয়।
এই নিবন্ধটি New Scientist-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on newscientist.com


