বেশিরভাগ উদ্ভিদজগতের নিচের ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থা
পৃথিবীর সবচেয়ে কম দৃশ্যমান কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক ব্যবস্থাগুলোর একটির প্রায় একটি বৈশ্বিক মানচিত্র তৈরি করেছেন গবেষকেরা: আর্বাসকুলার মাইকোরাইজাল ছত্রাকীয় নেটওয়ার্ক। প্রদত্ত উৎসপাঠ্যে বর্ণিত গবেষণা অনুযায়ী, এই অতিসূক্ষ্ম ভূগর্ভস্থ সুতোগুলো সম্মিলিতভাবে বিশ্বজুড়ে ১১০ কোয়াড্রিলিয়ন কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত, যা দেখানোর চেয়ে বেশি, গ্রহব্যাপী বিস্তারের একটি মাপকাঠি।
এই ছত্রাকগুলো বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতির শিকড়ের সঙ্গে সহাবস্থানমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলে। উদ্ভিদ থেকে কার্বন পাওয়ার বিনিময়ে, তারা ফসফরাস ও নাইট্রোজেনের মতো পুষ্টি উপাদান সরবরাহে সাহায্য করে। উৎসে উদ্ধৃত আগের গবেষণা অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কগুলো প্রতি বছর প্রায় ১ বিলিয়ন টন কার্বন ভূগর্ভে আটকে রাখে। যদি সেই কার্বন সেখানে সঞ্চিত না থাকত, তবে এর অনেকটাই বায়ুমণ্ডলীয় উষ্ণায়নে অবদান রাখত।
অস্তিত্ব জানা থেকে অবস্থান জানা
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই জানতেন যে এই ছত্রাকগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে, কিন্তু নতুন কাজটি তাদের বৈশ্বিক বণ্টন, ভর এবং ঘনত্ব অনুমান করে আরও এগিয়ে গেছে। Society for the Protection of Underground Networks, বা SPUN, নেতৃত্বাধীন এই গবেষণায় সাহিত্য পর্যালোচনা, বৈশ্বিক মাটির নমুনা, মেশিন লার্নিং এবং পরীক্ষাগার পরীক্ষা একত্র করে একটি গ্রহ-স্তরের চিত্র তৈরি করা হয়েছে, যেখানে এই ব্যবস্থাগুলো কোথায় ঘনীভূত এবং কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে তা দেখা যায়।
ধারণা থেকে মানচিত্রে এই রূপান্তর একটি বড় অগ্রগতি। ভূগর্ভস্থ ছত্রাকীয় সহাবস্থান যে সাধারণ, তা জানা এক কথা। কিন্তু কোন ভূদৃশ্যে তা বিশেষভাবে ঘন, মানুষের কার্যকলাপে কোন অঞ্চলগুলো তা পাতলা হয়ে গেছে, আর কোন জায়গায় সুরক্ষা বা পুনরুদ্ধার সবচেয়ে বড় পরিবেশগত লাভ দিতে পারে, তা চিহ্নিত করা আরেক কথা।
মানচিত্র কী ইঙ্গিত দিচ্ছে
প্রদত্ত উৎসপাঠ্যে বলা হয়েছে, এই নেটওয়ার্কগুলো কিছু তৃণভূমিতে বিশেষভাবে ঘন এবং কৃষিজমিতে তা হারিয়ে যাচ্ছে। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একটি অদৃশ্য জৈব অবকাঠামোকে দৃশ্যমান ভূমি-ব্যবহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করে। কৃষির স্পষ্ট উপকারিতা আছে, তবে তা যেভাবে করা হয় তার ওপর নির্ভর করে এটি এমন ভূগর্ভস্থ অংশীদারিত্বকে সরল করে দিতে বা ব্যাহত করতে পারে, যা উদ্ভিদকে পুষ্টি পেতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদি মাটির কার্যকারিতা বজায় রাখে।
এর মানে এই নয় যে সব কৃষিকাজই স্বভাবত ধ্বংসাত্মক। বরং এর মানে হলো, ভূমি-রূপান্তরের ভূগর্ভস্থ ফলাফল রয়েছে, যা সরাসরি দেখা কঠিন হওয়ায় সহজেই উপেক্ষিত হয়। একটি বৈশ্বিক মানচিত্র সেই ক্ষতিগুলোকে কেবল বিমূর্ত বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন করে তোলে।
কার্বন-সংযোগ কেন গুরুত্বপূর্ণ
জলবায়ু ব্যবস্থার জন-আলোচনায় সাধারণত বন, মহাসাগর, নিঃসরণ এবং শক্তি নিয়ে কথা হয়। মাইকোরাইজাল ছত্রাক একই রকম মনোযোগ খুব কমই পায়, যদিও তারা স্থলজ জীবমণ্ডলের বড় অংশ জুড়ে উদ্ভিদ উৎপাদনশীলতা ও কার্বন চক্রে নিবিড়ভাবে জড়িত। যদি এই নেটওয়ার্কগুলো প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কার্বন ধরে রাখতে সাহায্য করে, তবে তারা কোথায় সমৃদ্ধ হচ্ছে আর কোথায় হ্রাস পাচ্ছে তা বোঝা শুধু পরিবেশবিদ্যার জন্য নয়, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা ও ভূমি-ব্যবস্থাপনা নীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
উৎসে গবেষকেরা এই মুহূর্তকে এমন এক সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যখন বিজ্ঞান কেবল ব্যবস্থাটি আছে জানার পর্যায় থেকে বেরিয়ে এসে সেটি কোথায়, কতটা ঘন, এবং কোথায় হারিয়েছে তা বোঝার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটাই এমন একটি ভিত্তিগত তথ্য, যা জৈবিক কৌতূহলকে সংরক্ষণ পরিকল্পনার জন্য পাঠযোগ্য কিছুতে পরিণত করে।
একটি লুকানো অবকাঠামো দৃশ্যমান হচ্ছে
মানুষের কাছে বাস্তুতন্ত্রের যে ছবি থাকে, তা প্রায় পুরোপুরি মাটির ওপরে: গাছ, ঘাস, পোকামাকড়, নদী, বড় প্রাণী। এই কাজটি সেই দৃশ্যমান জগতের নিচে আরেকটি অবকাঠামোর স্তরের দিকে ইঙ্গিত করে, এক ধরনের সংযোগকারী টিস্যু, যা উপরের জগতকে টিকিয়ে রাখে। কারণ এই ছত্রাকগুলো উদ্ভিদের শিকড়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ, বিস্তৃত সম্পর্ক গড়ে তোলে, তাই তারা প্রান্তিক চরিত্র নয়। তারা স্থলজ জীবনের অপারেটিং সিস্টেমের অংশ।
তাদের বৈশ্বিকভাবে মানচিত্রায়নের ব্যবহারিক মূল্য হলো, এটি গবেষকদের সময়ের সঙ্গে ছত্রাকের ঘনত্বকে ভূমি-রূপান্তর, জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু-চাপের সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ দেয়। ভবিষ্যৎ গবেষণায় সংখ্যা আরও পরিশোধিত হলেও মূল নীতি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট: ক্ষুদ্র স্তরে ভূগর্ভে যা ঘটে, তা গ্রহ-ব্যাপী প্রভাব তৈরি করতে পারে।
এ কারণেই এই গবেষণাটি শিরোনাম-ধরানো দূরত্বের অনুমানের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আসল অগ্রগতি এই নয় যে ছত্রাকের সুতোগুলো অকল্পনীয়ভাবে দীর্ঘ। আসল অগ্রগতি হলো, আগে বিচ্ছিন্ন ও লুকানো বলে বিবেচিত এক প্রধান পৃথিবী ব্যবস্থা এখন ভূগোল পেতে শুরু করেছে। কোনো ব্যবস্থা একবার মানচিত্রে ধরা পড়লে, তাকে অনুসরণ করা যায়। আর একবার তাকে অনুসরণ করা গেলে, তাকে উপেক্ষা করা আরও কঠিন হয়ে যায়।
এই নিবন্ধটি Ars Technica-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on arstechnica.com




