ইরান যুদ্ধ বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এল অস্ত্র মজুত

ইরানের সঙ্গে লড়াই ১১তম দিনে ঢোকার পর, ওয়াশিংটনের সামনে তাত্ক্ষণিক সামরিক প্রশ্নটি আর শুধু কী আঘাত করা হবে বা অঞ্চলে থাকা বাহিনীকে কীভাবে রক্ষা করা হবে, তা ছিল না। প্রশ্ন ছিল, অভিযান কীভাবে টিকিয়ে রাখা হবে। জুলাই ২১-এ পেন্টাগনের শীর্ষ নেতারা সেনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির সামনে হাজির হয়ে যুদ্ধ-সম্পর্কিত বিলিয়ন ডলারের অনুরোধ ব্যাখ্যা করার সময় এই বিষয়টি কেন্দ্রে চলে আসে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ব্যবহৃত গোলাবারুদ প্রতিস্থাপনের জন্য বড়সড় জরুরি অর্থও ছিল।

মূল লেখার অনুযায়ী, সংঘাতে খরচ হয়ে যাওয়া আঘাত হানার অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর পুনর্গঠনের জন্য পেন্টাগন বিশেষভাবে $21 বিলিয়ন চাইছে। এই অনুরোধটি গত মাসে হোয়াইট হাউস জমা দেওয়া প্রায় $90 বিলিয়নের বৃহত্তর সম্পূরক প্যাকেজের অংশ। সেই মোট অঙ্কের মধ্যে $67.1 বিলিয়নকে Operation Epic Fury চলাকালীন War Department-এর অপারেশনাল খরচ, যেমন সামরিক জনবল, প্রস্তুতি ব্যয়, গোপন কর্মসূচি এবং ব্যয়িত মজুত পুনর্গঠন, কভার করার জন্য বলা হয়েছে।

এই অনুরোধের পরিমাণ একটি বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে, যেটি নিয়ে প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকারী ও বিশ্লেষকেরা বছরের পর বছর সতর্ক করে আসছেন: উচ্চমাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর তৈরি ব্যয়বহুল, জটিল, এবং বড় সংঘাত শুরু হয়ে দ্রুত সেগুলি খরচ করতে শুরু করলে সেগুলো দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন। বর্তমান শুনানি সেই দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগকে একেবারে জীবন্ত বাজেট ও প্রস্তুতি সমস্যায় পরিণত করেছে।

$21 বিলিয়ন কেন গুরুত্বপূর্ণ

$21 বিলিয়নের এই ব্যয়শিরোনামটি শুধু বড় বলেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি যুদ্ধের গতি ও প্রকৃতি সম্পর্কে কী প্রকাশ করছে, সে কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। মূল লেখায় আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক উভয় ব্যয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। আক্রমণ চালাতে আঘাত হানার গোলাবারুদ ব্যবহার করা হচ্ছে, আর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে বাহিনী ও সম্পদ রক্ষায় খরচ হচ্ছে। আধুনিক যুদ্ধে, শান্তিকালীন কেনাকাটার ব্যবস্থা যা সামলাতে পারে, তার চেয়ে দ্রুত এই মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

এর দুটি কৌশলগত প্রভাব আছে। প্রথমত, অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সরাসরি আর্থিক খরচ বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতের বিকল্পগুলোর ওপর বাধা সৃষ্টি হয়। মজুত খুব কমে গেলে, কংগ্রেস নতুন অর্থ দেবে কি না, তার আগেই সামরিক নেতারা কোন মিশন নেবেন, সে বিষয়ে আরও বাছাইপর্ব করতে বাধ্য হতে পারেন।

মূল লেখায় বলা হয়েছে, উপলব্ধ গোলাবারুদ দিয়ে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে সতর্কসংকেত বাজছে। The Washington Post-এ উদ্ধৃত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক কর্মকর্তা সতর্ক করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসারিত অভিযান কমতে থাকা আকাশ প্রতিরক্ষা ও দূরপাল্লার গোলাবারুদের মজুতের কারণে সীমিত হবে, পাশাপাশি যুদ্ধক্ষতির কারণে আরও সেনা ও বিমান অঞ্চলটিতে দ্রুত পাঠানোর ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা থাকবে।

মজুতের পূর্ণ প্রকাশ্য হিসাব না থাকলেও শুনানি থেকে বার্তাটি পরিষ্কার: পুনরায় সরবরাহ এখন আর পেছনের দিকের লজিস্টিকস বিষয় নয়। এটি এখন একটি কেন্দ্রীয় অপারেশনাল চলক।

বাজেটের চাপ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে

মূল লেখায় বর্ণিত অর্থায়নের চাপ কেবল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিস্থাপনে থেমে নেই। এটি আরও বিস্তৃত সামরিক প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, সংঘাতের জন্য ব্যবহৃত অর্থ ইতিমধ্যেই পুরো বাহিনীতে পরোক্ষ প্রভাব ফেলছে, যার মধ্যে প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মানে হলো যুদ্ধের খরচ শুধু গোলাবারুদের খাতেই নয়, বরং নিয়মিত মহড়া, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রস্তুতির ওপর নির্ভরশীল ইউনিটগুলোর ওপরও পড়ছে, যাতে তারা অন্য জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে।

বাস্তবে এই ধরনের সমঝোতা সময়ের সঙ্গে জমতে থাকে। রক্ষণাবেক্ষণ দেরি হলে এবং প্রশিক্ষণ কমে গেলে, সামরিক বাহিনী স্বল্পমেয়াদি নগদ টিকিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির বিনিময়ে। ফলে বর্তমান অভিযান চালিয়ে যেতে পারে এমন একটি বাহিনী তৈরি হয়, তবে অন্যখাতে সক্ষমতা ক্ষয়ে যায়। সম্পূরক অনুরোধটি পর্যালোচনা করা আইনপ্রণেতাদের কাছে এই গতি ইতিমধ্যেই ছোড়া হয়ে যাওয়া জিনিস প্রতিস্থাপনের প্রশ্নের চেয়েও বড় হয়ে উঠছে। এটি এমন প্রশ্নে রূপ নিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কি তার অন্যান্য থিয়েটারে সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল না করে একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে কি না।

Patriot missiles for Ukraine may be licensed built in the future.
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে খরচ হয়ে যাওয়া Patriot আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের মতো গোলাবারুদ পূরণ করতে পেন্টাগন $21 বিলিয়ন জরুরি তহবিল চাইছে। (DoW) Department of Defense

শিল্পক্ষমতাও এখন কৌশলের অংশ

শুনানি থেকে আরেকটি শিক্ষা হলো, উৎপাদনক্ষমতা সামরিক কৌশল থেকে আলাদা নয়। মূল লেখায় উচ্চমানের আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র, বোমা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর প্রতিস্থাপনের দীর্ঘস্থায়ী কঠিনতার কথা বলা হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ কাঠামোগত। জটিল গোলাবারুদ এমন কিছু নয় যা রাতারাতি পূরণ করা যায়, আর শিল্পক্ষেত্রে হঠাৎ উৎপাদন বাড়াতে সময়, শ্রম, উপাদান এবং স্থিতিশীল চুক্তির প্রয়োজন হয়।

অর্থাৎ, এই সম্পূরক অনুরোধ কেবল ইতিমধ্যে খরচ হয়ে যাওয়া জিনিসের জন্য চেক লেখা নয়। এটি এও স্বীকার করছে যে প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিকে আরেকটি বড় চাহিদার ধাক্কা সামলাতে হবে। উৎপাদন যথেষ্ট দ্রুত না বাড়লে, কাগজে অর্থ থাকলেও বাস্তবে মাঠে সীমাবদ্ধতা থেকেই যাবে।

আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে তীব্র। বাহিনী বারবার ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার মুখে পড়লে ইন্টারসেপ্টর দ্রুত খরচ হয়ে যেতে পারে, আর প্রতিস্থাপনের সরবরাহপথ অপারেশনাল খরচের গতির তুলনায় অনেক পিছিয়ে থাকতে পারে। একবার এই অসাম্য তৈরি হলে, কমান্ডারদের বেস, জাহাজ, অংশীদার বাহিনী ও কৌশলগত স্থাপনার মধ্যে সীমিত প্রতিরক্ষা কীভাবে বণ্টন করা হবে, তা ঠিক করতে হয়। শুনানি ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই সিদ্ধান্তগুলো আরও জরুরি হয়ে উঠছে।

বিস্তৃত তাৎপর্যসহ সেনেট শুনানি

War Secretary Pete Hegseth এবং Joint Chiefs Chairman Dan Caine-এর উপস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে। মূল লেখায় বলা হয়েছে, President Donald Trump ইরানের গভীরে থাকা Pickaxe Mountain স্থাপনায় আক্রমণের হুমকি নতুন করে দিয়েছিলেন, আর পুনরায় শুরু হওয়া শত্রুতা ১১তম দিনেও চলছিল। সক্রিয় লড়াই, সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধি, এবং দৃশ্যমান মজুত-সংকটের এই সংমিশ্রণ তহবিলের অনুরোধকে অসাধারণ গুরুত্ব দিয়েছে।

ফলে, কংগ্রেসকে কেবল বর্তমান অপারেশনের খরচই নয়, ভবিষ্যৎ অপারেশনের বিশ্বাসযোগ্যতাও বিচার করতে বলা হচ্ছে। প্রশাসন যদি একই সঙ্গে আক্রমণ বাড়ানোর ইচ্ছা দেখায় এবং গোলাবারুদের চাপের সতর্কতা দেয়, তবে আইনপ্রণেতারা অগ্রাধিকার, সময়সীমা এবং শিল্প পুনরুদ্ধার নিয়ে আরও স্পষ্ট উত্তর চাইতে পারেন। সংঘাতের এই তীব্রতার জন্য পেন্টাগনের মজুত-সংক্রান্ত পরিকল্পনাধারণা যথেষ্ট ছিল কি না, সেটাও তারা প্রশ্ন করতে পারেন।

এই প্রশ্নগুলো এই যুদ্ধের বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো প্রতিরোধক্ষমতা, মিত্র প্রতিশ্রুতি এবং মহাশক্তি প্রতিযোগিতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পর্শ করে। যে বাহিনী একটি থিয়েটারে গুরুত্বপূর্ণ মজুত দ্রুত শেষ করে ফেলে, তার অন্যত্র নমনীয়তা কমে যায়। সেই কারণেই গোলাবারুদের হিসাব, যা একসময় প্রযুক্তিগত ক্রয়বিষয়ক ব্যাপার হিসেবে দেখা হতো, এখন কৌশলগত বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।

তহবিলের অনুরোধের আসল কথা

শুনানি থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা শুধু এই নয় যে পেন্টাগনের আরও অর্থ দরকার। আসল বিষয় হলো, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দেখিয়ে দিচ্ছে আধুনিক সংঘাত কত দ্রুত ক্রয়-বাস্তবতার সঙ্গে ধাক্কা খেতে পারে। নির্ভুল অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্ণায়ক, কিন্তু সেগুলোও সীমিত। কোনো অভিযান যখন দিন থেকে সপ্তাহে গড়ায়, তখন আর্থিক খরচ, শিল্পগত উৎপাদনক্ষমতা এবং প্রস্তুতি-সংক্রান্ত সমঝোতা যুদ্ধক্ষেত্রের পছন্দগুলোকে আকার দিতে শুরু করে।

সেনেট শুনানি এই টানাপোড়েনকে প্রকাশ্যে এনেছে। প্রশাসন বহু দশক নয়, বরং দশ-দশক নয়, বরং দশকের বিলিয়ন ডলার নয়, তত্ত্বগত নয়, বাস্তবে দশকের পর শতকোটি নয়, বরং অতিরিক্ত অর্থ চাইছে, যার মধ্যে $21 বিলিয়ন সরাসরি ইতিমধ্যেই ব্যবহৃত গোলাবারুদ পুনরায় পূরণে যাচ্ছে। কংগ্রেস এই অনুরোধ পুরোপুরি মঞ্জুর করুক বা কমিয়ে দিক, অন্তর্নিহিত সমস্যা থেকে যাবে: উচ্চ-গতির যুদ্ধ টিকিয়ে রাখা যতটা না কৌশলগত সাফল্যের ওপর নির্ভর করে, তার চেয়ে বেশি নির্ভর করে মজুতের গভীরতা ও উৎপাদনক্ষমতার ওপর।

এটাই এখন ওয়াশিংটনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে এমন নীতিগত সমস্যা। ইরানের সঙ্গে সংঘাত আকাশে ও সমুদ্রে লড়া হতে পারে, কিন্তু এর পরবর্তী সীমাবদ্ধতাগুলো নির্ধারিত হতে পারে কারখানার মেঝেতে, রক্ষণাবেক্ষণ বাজেটে এবং অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন শুনানিতে।

এই নিবন্ধটি twz.com-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধ পড়ুন.

Originally published on twz.com