একটি কৌশলগত দ্বীপ কেন্দ্রে উঠে আসছে

পশ্চিম মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখের কাছে অবস্থিত দূরবর্তী আউটপোস্ট গ্রেট নিকোবর দ্বীপে ৯ বিলিয়ন ডলারের একটি অবকাঠামো প্রকল্প ভারত এগিয়ে নিচ্ছে, যার অবস্থান এটিকে অসামান্য সামরিক তাৎপর্য দেয়। সরবরাহকৃত প্রতিবেদনের মতে, আন্তর্জাতিক কনটেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল, দ্বৈত-ব্যবহারের বেসামরিক ও সামরিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এবং গালাথিয়া বে-তে একটি টাউনশিপসহ বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত অবকাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমে এই প্রকল্পের লক্ষ্য ইন্দো-প্যাসিফিকে ভারতের উপস্থিতি বাড়ানো।

দ্বীপটি প্রণালীর পশ্চিম প্রবেশমুখ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে এবং ভারতের মূল ভূখণ্ডের তুলনায় ইন্দোনেশিয়ার কাছাকাছি অবস্থিত। সেই ভৌগোলিক অবস্থানই ব্যাখ্যা করে কেন এটিকে দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাব্য অগ্রবর্তী অভিযানস্থল এবং নজরদারি কেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়েছে। মালাক্কা প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যিক পথগুলোর একটি; এটি বিশ্বের সমুদ্রবাণিজ্যের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি বহন করে, এবং চীনের জন্য এটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তার সামুদ্রিক বাণিজ্যের বড় অংশ এবং আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের বড় এক ভাগ এই জলপথ দিয়ে যায়।

হরমুজ প্রণালীর আশেপাশের বিঘ্ন সামগ্রিকভাবে সমুদ্র সংকীর্ণ পথ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলার সময়ে প্রকল্পটি নতুন করে মনোযোগ পেয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে, গ্রেট নিকোবর নিছক একটি স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়। এটি বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক সামুদ্রিক ব্যবস্থায় ভারতকে আরও বিস্তার, আরও দৃশ্যমানতা, এবং আরও স্থিতিস্থাপকতা দেওয়ার এক বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।

বাণিজ্যিক কেন্দ্র, সামরিক যুক্তি

ভারত সরকার এই উন্নয়নকে এমন একটি প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করে যা জাতীয় নিরাপত্তা মজবুত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মূল্যও তৈরি করবে। সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনাটি প্রায় ১৬০ বর্গকিলোমিটার উষ্ণমণ্ডলীয় বনভূমি জুড়ে বিস্তৃত এবং তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এটি স্কটল্যান্ডে ৭০০-এর বেশি চাকরি তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে? না। সেই কর্মসংস্থানের সংখ্যাটি অন্য একটি জ্বালানি প্রকল্পের, এবং এই গল্পের অংশ নয়। গ্রেট নিকোবর প্রতিবেদনে যে বিষয়টি সমর্থিত হয়েছে তা হলো বেসামরিক ও সামরিক ব্যবহারের মিশ্রণ: বন্দর অবকাঠামো, এয়ারফিল্ড সম্প্রসারণ, লজিস্টিক সহায়তা, এবং দ্বীপে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের ভিত্তি গড়ে তুলতে নকশা করা একটি টাউনশিপ।

সরবরাহকৃত লেখায় উদ্ধৃত বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রসারিত রানওয়ে যুদ্ধবিমান এবং নজরদারি বিমানকে সহায়তা করবে, আর নতুন জেটি ও লজিস্টিক হাব নৌবাহিনীর কার্যক্রমকে শক্তিশালী করবে। ঘোষিত অবকাঠামোর দ্বৈত-ব্যবহার স্বভাবের সঙ্গে এই ব্যাখ্যা মেলে। একটি বেসামরিক বিমানবন্দর সামরিক সম্পদও পরিবহন করতে পারে। একটি কনটেইনার হাব লজিস্টিকের ভিত্তিও হতে পারে। কৌশলগত পরিকল্পনায়, এই ওভারল্যাপটাই প্রায়ই মূল বিষয়।

ভারত ১ মে এই প্রকল্পকে ইন্দো-প্যাসিফিকে তার সমুদ্র ও প্রতিরক্ষা উপস্থিতি শক্তিশালী করার উপায় হিসেবে উপস্থাপন করে, পাশাপাশি পরিবেশগত সুরক্ষা ও আদিবাসী কল্যাণ ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে। এই ভাষাই দেখায় প্রকল্পটি কোন দুই দিক থেকে বিচার হবে: একদিকে কৌশলগত প্রয়োজন, অন্যদিকে পরিবেশগত ও সামাজিক ব্যয়।