ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা স্বাধীনতার জন্য দ্রুততর নতুন যুক্তি

প্রখ্যাত জার্মান প্রতিরক্ষা বিনিয়োগকারী, বিশ্লেষক ও শিল্প-সংশ্লিষ্টদের একটি দল যুক্তি দিচ্ছে যে ইউরোপ দশকের পর দশক অপেক্ষা না করেই সামরিক স্বায়ত্তশাসনের আরও অনেক কাছাকাছি যেতে পারে। Kiel Institute for the World Economy-এ প্রকাশিত একটি পত্রে বলা হয়েছে, সরকারগুলো যদি আগামী দশ বছর বছরে প্রায় €50 বিলিয়ন বিনিয়োগ করে, তবে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় ইউরোপীয় স্বাধীনতার উচ্চ মাত্রা সম্ভব।

Sparta 2.0 নামের এই পত্রটি দশটি কেন্দ্রীয় সক্ষমতার ঘাটতি চিহ্নিত করেছে, যেগুলো পূরণ করতে হবে যাতে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ছাড়া আরও স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করতে পারে। উল্লেখিত ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে command and control, autonomous systems, এবং deep strike রয়েছে। লেখকদের মতে, উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি স্বাধীন সক্ষমতা তিন থেকে পাঁচ বছরে গড়ে তোলা যেতে পারে, আর এটি যদি স্পষ্ট রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হয়, তবে পাঁচ থেকে দশ বছরে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন অর্জন সম্ভব।

প্রস্তাবের পরিসর

পত্রের সংখ্যাগুলো বড়, তবে সেগুলোকে ইউরোপের বৃহত্তর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার তুলনায় পরিচালনাযোগ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। লেখকদের অনুমান, প্রতিরক্ষা স্বায়ত্তশাসনে পৌঁছাতে 2030 সালের মধ্যে প্রায় €150 বিলিয়ন থেকে €200 বিলিয়ন এবং আগামী দশকে প্রায় €500 বিলিয়ন দরকার হবে। তাদের দাবি, এটি সেই সময়ে মোট ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রায় 10% এবং GDP-র প্রায় 0.25%।

এই framing রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সম্পূর্ণ নতুন ব্যয় কাঠামো দাবি করার বদলে, পত্রটি বলছে যে বর্তমানে পরিকল্পিত প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির একটি বড় অংশই এই উদ্যোগে কাজে লাগানো যেতে পারে, যদি সম্পদগুলো সঠিক ঘাটতির দিকে মোড়ানো হয়। অন্য কথায়, যুক্তি শুধু এই নয় যে স্বায়ত্তশাসন কৌশলগতভাবে জরুরি, বরং এটি আর্থিকভাবেও সম্ভব।

মূল কৌশলগত দাবি

পত্রটির মূল বক্তব্য হলো, সামরিক effect chain জুড়ে ইউরোপ এখনো গভীরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। লেখকদের মতে, এই নির্ভরতা satellite-based reconnaissance থেকে battlefield fire control পর্যন্ত বিস্তৃত। তাদের দৃষ্টিতে, শুধু সাধারণভাবে বেশি খরচ করলে সমস্যার সমাধান হবে না, যদি না সরকারগুলো সেই missing enablers-কে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে, যা ইউরোপীয় বাহিনীকে বড় পরিসরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়।

এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়লেও, যদি অর্থ এমন force structure বা procurement-এ যায়, যা এখনও American intelligence, command systems, বা strike support-এর ওপর নির্ভরশীল, তবে স্বায়ত্তশাসন খুব সামান্যই উন্নত হবে। তাই লেখকরা সাধারণ উচ্চ ব্যয়ের আহ্বানের চেয়ে বেশি দাবি-সংবলিত একটি অবস্থান নিচ্ছেন। তারা ক্ষমতার ক্ষেত্রে sovereignty-কেন্দ্রিক সমন্বিত ইউরোপীয় শিল্প ও সামরিক নির্মাণের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন, শুধু পরিমাণ বাড়ানোর পক্ষে নয়।

কীভাবে এই যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে

পত্রটিতে স্বাক্ষর করেছেন সাবেক Airbus chief executive Thomas Enders; General Catalyst executive Jeannette zu Fürstenberg; Kiel Institute president Moritz Schularick; Airbus chairman এবং সাবেক Deutsche Telekom chief René Obermann; এবং security analyst Nico Lange। এই মিশ্র কণ্ঠস্বরটি উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি প্রতিরক্ষা, শিল্প, বিনিয়োগ, এবং নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গিকে একত্রে এনেছে, একক কোনো প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গি নয়।

Enders সরাসরি বলেছেন যে কয়েক বছরের মধ্যেই উচ্চমাত্রার ইউরোপীয় স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব, এবং পরিকল্পিত বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমেই তা অর্থায়ন করা যেতে পারে। পত্রটি Ukraine-কে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছে, দেখানোর জন্য যে সরকারগুলো পর্যাপ্ত একাগ্রতা ও রাজনৈতিক ইচ্ছা দেখালে সক্ষমতা ও উৎপাদনের বড় পরিবর্তনের জন্য দশক লাগা বাধ্যতামূলক নয়।

‘Manhattan Project’ framing

পত্রটির অন্যতম চোখে পড়ার মতো বক্তব্য হলো, ইউরোপকে এই চ্যালেঞ্জটিকে এক ধরনের কৌশলগত “Manhattan Project” হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান। এই তুলনা লেখকদের বিশ্বাসের ইঙ্গিত দেয় যে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ঘাটতি কোনো সাধারণ procurement সমস্যা নয়। তাদের মতে, এটি একটি system-level রাজনৈতিক ও শিল্পগত সমস্যা, যার জন্য সরকার, কোম্পানি, এবং প্রতিষ্ঠান জুড়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ দরকার।

এই framing সমন্বয়-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের পরিসরও বোঝায়। ইউরোপের অনেক প্রতিরক্ষা দুর্বলতা শুধু প্রযুক্তিগত নয়, কাঠামোগতও: fragmented procurement, duplicated national efforts, এবং ধীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ। একটি সত্যিকারের autonomy push-এর জন্য কেবল বাজেট প্রতিশ্রুতি নয়, এমন দেশগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার মিলিয়ে নেওয়ার ইচ্ছাও প্রয়োজন হবে, যারা প্রায়ই নিজেদের জাতীয় শিল্প স্বার্থ রক্ষা করে।

কেন এই বিতর্ক এখনই গুরুত্বপূর্ণ

পত্রটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইউরোপ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ধারণাগুলো পুনর্বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি, Ukraine যুদ্ধের শিক্ষা, এবং আধুনিক উচ্চ-তীব্রতার সংঘাতের চাহিদা, ইউরোপ কীভাবে আরও স্বাধীনভাবে নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে সেই বিতর্ককে তীক্ষ্ণ করেছে।

Sparta 2.0 বলছে না যে স্বায়ত্তশাসন সহজ হবে। লেখকেরা তাদের ব্যয় অনুমানে অনিশ্চয়তা স্বীকার করেছেন, এবং বলেছেন 20% থেকে 30% পর্যন্ত বিচ্যুতি হতে পারে। কিন্তু তাদের বড় বার্তাটি স্পষ্ট: বাধা আর শুধু অর্থ নয়, এবং সম্ভবত সময়ও নয়। বাধা হলো রাজনৈতিক অগ্রাধিকার।

যদি এই মূল্যায়ন গ্রহণযোগ্য হয়, তবে পত্রটির তাৎপর্য স্বায়ত্তশাসনের সঠিক অঙ্কের চেয়ে বেশি হয়ে উঠতে পারে সেই কৌশলগত মানদণ্ডে, যা এটি স্থাপন করছে। লেখকদের বক্তব্য, ইউরোপকে আর নির্ভরশীলতাকে অনিবার্য বলে মানতে হবে না। তারা ঘাটতি পূরণ করতে পারে, আর তা প্রজন্মে নয়, বছরের হিসেবে।

এই নিবন্ধটি Defense News-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। মূল নিবন্ধ পড়ুন.

Originally published on defensenews.com