প্রতিরক্ষা ব্যয়ের নতুন শিখর

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (Stockholm International Peace Research Institute) উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্ব সামরিক ব্যয় প্রায় $2.9 ট্রিলিয়নে পৌঁছেছে, যা টানা ১১তম বছরের বৃদ্ধি এবং একটি নতুন রেকর্ড। এই শিরোনামটি নিজেই তাৎপর্যপূর্ণ, কিন্তু এর পেছনের ভৌগোলিক চিত্র আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ: ইউরোপ ও এশিয়া সম্প্রসারণের প্রধান চালিকা শক্তি ছিল, আর যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশকের মধ্যে তার সবচেয়ে বড় একক-বার্ষিক পতন নথিভুক্ত করেছে।

এই আপাতবিরোধিতা সামরিক প্রতিযোগিতার ব্যাপক শিথিলতা নির্দেশ করে না। বরং উল্টোটা দেখায়। উৎস পাঠ্যে বর্ণিত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের পতন মূলত ইউক্রেন-সংক্রান্ত প্রতিরক্ষা দফতর সহায়তার জন্য নতুন পরিপূরক বরাদ্দ পাস না হওয়ার কারণে ঘটেছে। SIPRI এই সহায়তাকে দাতা দেশের সামরিক ব্যয়ের অংশ হিসেবে গণনা করে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পতন স্থায়ী কৌশলগত পশ্চাদপসরণ নয়, বরং হিসাব-নিকাশ ও আইনসভার সময়সূচির ফল।

সবচেয়ে বড় ত্বরান্বিতকরণ ঘটিয়েছে ইউরোপ

SIPRI-এর তথ্যভান্ডারে ইউরোপই আঞ্চলিকভাবে সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যয় ১৪% বেড়ে $864 বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যদের মধ্যে এটি ১৯৫৩ সালের পর সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি। জার্মানির ব্যয় ২৪% বেড়ে $114 বিলিয়নে পৌঁছেছে এবং ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার জিডিপির ২% সীমা অতিক্রম করেছে। স্পেনের বাজেট ৫০% বেড়ে $40.2 বিলিয়নে পৌঁছেছে, বহু দশকের মধ্যে প্রথমবার জিডিপির ২% ছাড়িয়েছে। পোল্যান্ড আরও স্পষ্টভাবে আলাদা হয়ে উঠেছে; তারা প্রতিরক্ষায় জিডিপির ৪.৫% ব্যয় করেছে, যা ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে সর্বোচ্চ বোঝা।

এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করে যে ইউরোপের পুনরায় অস্ত্রীকরণ আর শুধু সামনের সারির দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ সংকীর্ণ প্রতিক্রিয়া নয়। এটি আর্থিক অগ্রাধিকারের আরও গভীর আঞ্চলিক পুনর্গঠনে পরিণত হচ্ছে। রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ এখনও প্রধান উদ্দীপক, কিন্তু ব্যয়বৃদ্ধি আরও বিস্তৃত এক বিশ্বাসও দেখায় যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমর্থন কম পূর্বানুমেয় হলেও মহাদেশকে আরও সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

এশিয়ার সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত

এশিয়া ও ওশেনিয়াতেও শক্তিশালী বৃদ্ধি দেখা গেছে; ব্যয় ৮.১% বেড়ে $681 বিলিয়নে পৌঁছেছে, যা ২০০৯ সালের পর এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। চীনের ব্যয় ৭.৪% বেড়ে আনুমানিক $336 বিলিয়ন হয়েছে, যা টানা ৩১ বছরের বার্ষিক বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখেছে। তাইওয়ানের বাজেট ১৪% বেড়ে $18.2 বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে, যা SIPRI অন্তত ১৯৮৮ সাল থেকে যে সময়কাল ট্র্যাক করে আসছে, তাতে তার সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। জাপানের $62.2 বিলিয়ন বাজেট ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ সামরিক বোঝা নির্দেশ করে।

এই সংখ্যাগুলো এমন একটি নিরাপত্তা পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়, যা বেইজিংয়ের সামরিক আধুনিকায়নের অব্যাহত চাপ এবং তাইওয়ান ঘিরে বাড়তে থাকা উদ্বেগ দ্বারা গঠিত। এগুলো আরও দেখায় যে ইন্দো-প্যাসিফিক এখন দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক ব্যয় বৃদ্ধির ধারারই অংশ, আলাদা কোনো আঞ্চলিক গল্প নয়।

রাশিয়া ও ইউক্রেন এখনও কেন্দ্রে

রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য বিপুল সম্পদ ব্যয় অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়া আনুমানিক $190 বিলিয়ন ব্যয় করেছে, যা জিডিপির ৭.৫% এবং মোট সরকারি ব্যয়ের ২০%। ইউক্রেন ব্যয় করেছে $84.1 বিলিয়ন, বা জিডিপির ৪০% এবং সরকারি ব্যয়ের ৬৩%। এই পরিসংখ্যান শুধু সংঘাতের তীব্রতাই নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনীতিকে কতটা পুনর্গঠন করেছে সেটিও দেখায়।

ইউক্রেনের সংখ্যা বিশেষভাবে তীব্র। সরকারি ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ যুদ্ধের জন্য বরাদ্দকারী একটি রাষ্ট্র স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার অনেক বাইরে অবস্থায় কাজ করছে। রাশিয়ার ক্ষেত্রে, এই ব্যয়ের মাত্রা দেখায় ক্রেমলিন কীভাবে বিস্তৃত রাষ্ট্রকার্য বজায় রাখার চেষ্টা করেও যুদ্ধকালীন সমাবেশের দিকে অনেক দূর এগিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পতন সম্ভবত সাময়িক

উৎস পাঠ্যে SIPRI-এর মূল্যায়ন উদ্ধৃত করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের পতন সম্ভবত স্বল্পস্থায়ী হবে। কংগ্রেস ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের জন্য $1 ট্রিলিয়নের বেশি অনুমোদন করেছে, এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বাজেট প্রস্তাব কার্যকর হলে ২০২৭ সালে তা $1.5 ট্রিলিয়নে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে, উৎস বলছে বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় ৯.২% বেড়েছে।

এই প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ২০২৫ সালের মোট পরিমাণ কীভাবে পড়তে হবে তা বদলে দেয়। ওয়াশিংটনে কৌশলগত শীতলতা থাকলেও বিশ্ব রেকর্ডে পৌঁছায়নি। বিশ্বের বড় অংশ যখন গতি বাড়াচ্ছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র ছিল সাময়িক বাজেট-নিম্নগমনের মধ্যে। প্রত্যাশামতো যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দ আবার বাড়লে, ভবিষ্যতের মোট পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে আরও বেশি হতে পারে।

স্বচ্ছতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে

SIPRI গবেষকরাও, উৎস উপাদান অনুযায়ী, স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গৌণ ধারা। সামরিক বাজেট যত বড় এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হচ্ছে, জনসম্মুখে প্রতিবেদন দেওয়ার মান ও তুলনাযোগ্যতা তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কিছু দেশে ব্যয় ক্রমশ বিশেষ তহবিল, জরুরি বরাদ্দ বা অস্পষ্ট নিরাপত্তা শ্রেণিতে ছড়িয়ে পড়ছে, যা বাইরের বিশ্লেষণকে জটিল করে তুলছে।

নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকদের জন্য এই অস্বচ্ছতা স্থায়ী সক্ষমতা-উন্নয়নকে সাময়িক উত্থান থেকে আলাদা করা কঠিন করে তোলে, আর দেশগুলোর মধ্যে বোঝা তুলনা করাও কঠিন করে। বিশ্বব্যাপী ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বচ্ছতা কেবল একাডেমিক বিষয় নয়। এটি জোট পরিকল্পনা, প্রতিরোধমূলক সক্ষমতার মূল্যায়ন এবং জনজবাবদিহিতাকে প্রভাবিত করে।

উচ্চতর প্রতিরক্ষা ভিত্তিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে বিশ্ব

নতুন রেকর্ডের গভীর তাৎপর্য হলো, উচ্চতর সামরিক ব্যয় একটি কাঠামোগত বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। ইউরোপ পুনরায় অস্ত্রীকরণ করছে, এশিয়া সম্প্রসারণ করছে, রাশিয়া যুদ্ধকালীন অবস্থায় রয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রও শিগগিরই সাম্প্রতিক শীর্ষের নিচে দীর্ঘদিন থাকবে না। ২০২২-পরবর্তী যে উত্থান সাময়িক মনে হচ্ছিল, তা ক্রমশ নতুন ভিত্তি হিসেবে আচরণ করছে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব বাজেট, শিল্প এবং ভূ-রাজনীতিতে স্পষ্ট। এটি এমন এক বিশ্বের ইঙ্গিতও দেয় যেখানে নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা অন্য ব্যয় অগ্রাধিকারের জায়গা সংকুচিত করতে থাকে। তাই ২০২৫ সালের রেকর্ড কেবল একটি তথ্যবিন্দু নয়। এটি প্রমাণ যে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা চক্র এখনও ঊর্ধ্বমুখী, যদিও তার অন্যতম বড় খেলোয়াড় হিসাবের কারণে সাময়িকভাবে থেমে ছিল।

এই নিবন্ধটি Defense News-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on defensenews.com