সাম্প্রতিক সংঘাত অগ্রাধিকারের পুনর্বিন্যাস ঘটাচ্ছে, বলছেন এয়ার ফোর্স প্রধান
যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার ফোর্স চিফ অব স্টাফ জেনারেল কেনেথ উইলসবাখ বলেন, ইরান-সম্পর্কিত যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক যুদ্ধের শিক্ষা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে পর্যবেক্ষণ বিমান ও এয়ার বেস কীভাবে সুরক্ষিত করা হবে, সে বিষয়ে বাহিনীকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। উৎস উপাদানে উদ্ধৃত এক সাক্ষাৎকারে উইলসবাখ বলেন, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল, ব্যালিস্টিক মিসাইল এমনকি ছোট, কম খরচের আকাশঝুঁকি স্থায়ী স্থাপনাগুলোকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে বলে বেসের টিকে থাকা এবং পয়েন্ট ডিফেন্স এখন জরুরি উদ্বেগ।
এই মন্তব্যগুলো এয়ার ফোর্স নেতৃত্বের জন্য এক ব্যতিক্রমী সক্রিয় সময়ে এসেছে। উৎস পাঠ্যে বলা হয়েছে, উইলসবাখ এক বছরেরও কম আগে শীর্ষ ইউনিফর্মধারী এয়ার ফোর্স দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এর মধ্যেই তাঁকে ফোর্স-স্ট্রাকচার পরিবর্তন, একটি বড় প্রস্তাবিত পেন্টাগন বাজেট, তেহরানের সঙ্গে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধ, এবং বহু উচ্চপ্রোফাইল বিমান কর্মসূচিতে চলমান অধিগ্রহণ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এই একাধিক চাপ একসঙ্গে পড়ার কারণেই বোঝা যায় কেন সাক্ষাৎকারটি ইরান সংঘাতের শিক্ষা থেকে T-7 Red Hawk প্রশিক্ষণ জেট এবং F-35 কর্মসূচির বিলম্ব পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। সব মিলিয়ে বিষয়গুলো দেখায়, বাহিনীটি একসঙ্গে নতুন অপারেশনাল হুমকি এবং পুরোনো ক্রয়গত হতাশার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি এয়ারফিল্ড নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে
উইলসবাখের মন্তব্যের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক অর্থ হলো, এয়ার ফোর্স এখন এয়ার বেস প্রতিরক্ষাকে এমন একটি ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে যেখানে অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত দক্ষতা দরকার। উৎস পাঠ্যে তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শীর্ষ নেতারা একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন, অন্যান্য মানবহীন ব্যবস্থা, ক্রুজ মিসাইল, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং এমনকি ছোট কম-মূল্যের আকাশীয় হুমকির ক্রমবর্ধমান বিপদ পর্যালোচনা করার পর পয়েন্ট ডিফেন্সের জন্য একটি নতুন ক্যারিয়ার ফিল্ড তৈরির পরিকল্পনা করছে বাহিনী।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া। বিদ্যমান বিশেষত্বের মধ্যে ছড়ানো একটি গৌণ দায়িত্ব হিসেবে বেস প্রতিরক্ষাকে না দেখে, এয়ার ফোর্স স্থাপনাগুলোকে স্তরযুক্ত আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য নিবেদিত একটি পেশাগত পথের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। উইলসবাখের কথায়, সাম্প্রতিক সংঘাত বাস্তব একটি সক্ষমতার ঘাটতি প্রকাশ করেছে বলে বাহিনী বিশ্বাস করে।
তিনি এই উদ্বেগকে সরাসরি ইউক্রেনে সামরিক বাহিনীগুলোর অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করেন, যেখানে সস্তা ড্রোন এবং লোইটারিং মিউনিশন বারবার পেছনের এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তিনি এটিকে ইরানের একমুখী আক্রমণ ড্রোন ব্যবহারের সঙ্গেও যুক্ত করেন। শিক্ষা স্পষ্ট: মাটিতে পার্ক করা বিমান, ব্যয়বহুল ট্যাকটিক্যাল জেট এবং ভবিষ্যতের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাসহ, প্রতিপক্ষ আগে ঐতিহ্যগত আকাশ আধিপত্য না জিতেও ধ্বংস করা যেতে পারে।
এর প্রভাব রয়েছে ফোর্স ডিজাইন, বেইসিং এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে। শেল্টার শক্ত করা, বিমান ছড়িয়ে রাখা, শনাক্তকরণ উন্নত করা এবং প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা মোতায়েন করা কেবল অবকাঠামোগত প্রশ্ন নয়। এগুলো প্রস্তুতির প্রশ্ন। রানওয়ে, জ্বালানি কেন্দ্র, রক্ষণাবেক্ষণ এলাকা এবং পার্ক করা বিমানগুলো যদি উন্মুক্তই থাকে, তবে উন্নততম বহরও যুদ্ধক্ষমতা তৈরি করার আগেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে।
কর্মীচালিত ও মানবহীন উভয় বিমানের ক্ষেত্রেই উদ্বেগ
Collaborative Combat Aircraft, অর্থাৎ ভবিষ্যতে মানবচালিত ফাইটারের সঙ্গী হিসেবে এয়ার ফোর্স যে স্বয়ংক্রিয় বা আধা-স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ভাবছে, সেগুলোর টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে কংগ্রেসের উদ্বেগের আংশিক প্রতিক্রিয়ায় এই সাক্ষাৎকারটি হয়েছিল। উৎস পাঠ্যে প্রতিফলিত হয়েছে যে উইলসবাখ সমস্যাটিকে শুধু ড্রোনে সীমাবদ্ধ করেননি। তিনি বলেন, CCA সিস্টেম এবং মানবচালিত বিমান উভয়েরই এই পরিবেশে টিকে থাকা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে ভবিষ্যৎ বহরের জন্য একটি সাধারণ সুরক্ষা চ্যালেঞ্জ স্থাপন করা হয়, কোনো একক পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়। বিমানটি কম খরচের ড্রোন হোক বা উচ্চ-মূল্যের ফাইটার, মাটিতে থাকা ঝুঁকিই এখনও নির্ণায়ক হতে পারে। সেই অর্থে, টিকে থাকা শুধু প্ল্যাটফর্মের আকাশগত পারফরম্যান্সের বিষয় নয়। এটি এই বিষয়েও যে এয়ার ফোর্স কি বেস পর্যায়ে যথেষ্ট সম্পদ অক্ষত ও কার্যকর রাখতে পারবে কি না।
ইঙ্গিত হলো, ভবিষ্যৎ বিমানশক্তির ধারণাকে একটি সক্ষম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য করতে, সেবাকে তার স্থাপনাগুলোর চারপাশে প্যাসিভ ও অ্যাক্টিভ ডিফেন্সে যতটা সিরিয়াসলি বিনিয়োগ করতে হবে, নতুন প্রজন্মের বিমানে ততটাই করতে হবে। আরও বিতরণকৃত ও সুরক্ষিত বেইসিং মডেল ভবিষ্যৎ এয়ারপাওয়ার ধারণাগুলোকে বাস্তবসম্মত করার পূর্বশর্ত হয়ে উঠতে পারে।
T-7 এবং F-35 সমস্যাগুলো এখনও ছবির অংশ
সাম্প্রতিক যুদ্ধ থেকে আসা অপারেশনাল শিক্ষার বাইরে, উইলসবাখ Boeing-নির্মিত T-7 Red Hawk ট্রেনার এবং চলমান F-35 বিলম্ব নিয়ে দুটি বড় অধিগ্রহণ উদ্বেগও তুলে ধরেন। উৎস উপাদানে বলা হয়েছে, আগে প্রকাশ না হওয়া T-7 কর্মসূচির সমস্যা নিয়ে একটি রিপোর্টিং সিরিজের পর এই সাক্ষাৎকার হয়। এটি F-35 বহরের সমস্যার কথাও উল্লেখ করে, যেখানে আপগ্রেড-সংক্রান্ত জটিলতা কিছু বিমানকে যুদ্ধ-অযোগ্য করে রেখেছে এবং নতুন রাডার ছাড়াই ডেলিভারি হয়েছে বলে জানা যায়।
উৎস পাঠ্যে পূর্ণ প্রযুক্তিগত হিসাব না থাকলেও, এর গুরুত্ব স্পষ্ট। এয়ার ফোর্স একসঙ্গে পাইলট প্রশিক্ষণ আধুনিকায়ন, উন্নত ফাইটার মোতায়েন, এবং উদীয়মান বেস-ডিফেন্স হুমকির জন্য প্রস্তুত হওয়ার চেষ্টা করছে। এই ক্ষেত্রগুলোর যেকোনোটিতে বিলম্ব বা সক্ষমতার ফাঁক অন্যগুলোর ওপর বাড়তি চাপ ফেলে।
T-7 বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভবিষ্যৎ বৈমানিকদের প্রশিক্ষণ পাইপলাইনের ভিত্তি। সেখানে সমস্যা একটি অধিগ্রহণ কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; এগুলো প্রস্তুতি এবং বাহিনী-উৎপাদনের সময়সূচিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। F-35 সংক্রান্ত সমস্যাও একইভাবে গুরুতর, কারণ এই বিমান যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের ট্যাকটিক্যাল এয়ারপাওয়ার পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে। আপগ্রেড পিছিয়ে গেলে বা মোতায়েন করা জেট প্রত্যাশিত সক্ষমতার তুলনায় পিছিয়ে থাকলে, তার অপারেশনাল প্রভাব বাজেট বা সময়সূচির চার্টের অনেক বাইরে গিয়ে পড়ে।
তাৎক্ষণিক ঝুঁকির সঙ্গে আধুনিকায়নের ভারসাম্য রক্ষায় এয়ার ফোর্স
উইলসবাখের সাক্ষাৎকার থেকে যে চিত্রটি উঠে আসে, তা হলো একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন সময়সূচির মুখোমুখি এক এয়ার ফোর্স। একটি কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি: ভবিষ্যৎ বাহিনী তৈরি করা, Collaborative Combat Aircraft একীভূত করা, প্রশিক্ষণ আধুনিক করা, এবং উন্নত ফাইটার কর্মসূচি পথে রাখা। অন্যটি তাৎক্ষণিক: ইতিমধ্যেই সক্রিয় সংঘাতে কার্যকর প্রমাণিত হুমকি থেকে ঘাঁটি ও বিমানকে রক্ষা করা।
দ্বিতীয় সময়সূচিটি এখন আরও দ্রুত এগোচ্ছে বলে মনে হতে পারে। পয়েন্ট ডিফেন্স এবং এয়ারফিল্ড সুরক্ষায় উইলসবাখের জোর দেখায়, বাহিনী মনে করে হুমকি এমন পর্যায়ে পরিণত হয়েছে যেখানে আদর্শ অধিগ্রহণ সময়সূচির জন্য আর অপেক্ষা করা যাবে না। এয়ার ফোর্স এখনও উন্নত প্ল্যাটফর্ম চাইবে, কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ অভিজ্ঞতা একটি সহজ সত্যই তুলে ধরছে: সবচেয়ে উন্নত বিমানও মাটিতে টিকে থাকতে না পারলে ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
কংগ্রেস এবং পেন্টাগন পরিকল্পনাকারীদের জন্য এর মানে হলো, টিকে থাকার বিনিয়োগকে বিমান কেনার সঙ্গে পাশাপাশি মূল্যায়ন করতে হবে, পরে নয়। এয়ার ফোর্সের জন্য এর মানে, নতুন সিস্টেম কেনা যেমন জরুরি, তেমনি যেসব ঘাঁটি থেকে প্রতিটি সিস্টেমকে কাজ করতে হবে সেগুলো রক্ষা করাও জরুরি।
এই নিবন্ধটি Breaking Defense-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। মূল নিবন্ধ পড়ুন.
Originally published on breakingdefense.com




