আবেগের সংকেত আবেগের কথার মতোই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে
শিশুরা শুধু বড়দের কথার মাধ্যমে আবেগ শেখে না। তারা কণ্ঠস্বর, মুখের অভিব্যক্তি এবং দুটির সামঞ্জস্যও পড়ে। Cardiff University-এর School of Psychology-এর গবেষণা বলছে, আবেগগত, আচরণগত বা জ্ঞানীয় সমস্যার জন্য রেফার করা শিশুদের ক্ষেত্রে মায়েদের তৈরি আবেগের পরিবেশ সমস্যার তীব্রতা ও ধরনটির সঙ্গে যুক্ত।
Scientific Reports-এ প্রকাশিত গবেষণায় ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী ১৩৪ শিশু ও তাদের মায়েদের পরীক্ষা করা হয়। স্কুলে সমস্যার কারণে শিশুদের মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয়েছিল। গবেষকেরা মায়েদের স্ব-প্রতিবেদিত মানসিক স্বাস্থ্য, মৌখিক আবেগগত যোগাযোগ এবং স্বয়ংক্রিয় বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া মুখের অভিব্যক্তির তথ্য বিবেচনা করেন।
এগুলো সম্পর্ক নির্দেশ করে, কারণ প্রমাণ করে না। তবু গবেষণাটি বাড়িতে স্পষ্ট ও সামঞ্জস্যপূর্ণ যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে।
উদ্বেগ ও বিষণ্নতা ভিন্ন ধরনের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত
মাতৃ উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ভিন্ন ভিন্ন ধরন দেখা গেছে। বেশি মাত্রার মাতৃ উদ্বেগ শিশুদের উদ্বেগ, দুঃখ ও গুটিয়ে যাওয়ার মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যার তীব্রতার সঙ্গে যুক্ত ছিল। মাতৃ বিষণ্নতা আক্রমণাত্মকতা, বিরোধী আচরণ ও আচরণগত সমস্যার মতো বহির্মুখী সমস্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
খুব কম মায়েরই উদ্বেগ বা বিষণ্নতার আনুষ্ঠানিক রোগনির্ণয় ছিল। তাই ফলাফল রোগনির্ণয় করা ও না করা গোষ্ঠীর তুলনা নয়; বরং উপসর্গের মাত্রা এবং শিশুদের সমস্যার মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে।
শিশুর প্রতি নেতিবাচক বা কম উষ্ণ মনোভাবও বেশি গুরুতর আচরণগত সমস্যার সঙ্গে দেখা গেছে।
মুখের অভিব্যক্তি ও কথা ভিন্ন দিকে গেলে
গবেষণার সবচেয়ে স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষণ ছিল অমিল। মায়েরা শিশুদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করার সময় মুখে খুব কম বা কোনো রাগ না দেখালে শিশুদের আবেগগত ও আচরণগত সমস্যা সবচেয়ে গুরুতর ছিল। গবেষকদের মতে, কথা ও মুখের সংকেতের অস্পষ্ট মিল শিশুদের আবেগ চিনতে ও প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
এর অর্থ এই নয় যে বাবা-মায়েদের অবাধে রাগ দেখানো উচিত। মুখের অভিব্যক্তি স্বভাব, সংস্কৃতি, চাপ ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। একক পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণায় প্রভাবের দিকও নির্ধারণ করা কঠিন।
ফলাফলটি আবেগগত সামঞ্জস্যের সম্ভাব্য গুরুত্ব তুলে ধরে। সমালোচনা শোনার সময় ভিন্ন বার্তা দেওয়া মুখ শিশুকে বড় ব্যক্তি কী অনুভব করছেন এবং কী প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিত তা অনুমান করতে বাধ্য করতে পারে।
পদ্ধতিটি কেন উল্লেখযোগ্য
আগের গবেষণায় শৈশবের আবেগগত ও আচরণগত সমস্যাকে মাতৃ উদ্বেগ, বিষণ্নতা, প্রকাশিত আবেগ ও মুখের অভিব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। Cardiff-এর গবেষক Ellie Dorrans বলেন, নতুন গবেষণায় এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
স্বয়ংক্রিয় মুখ-অভিব্যক্তি বিশ্লেষণও উল্লেখযোগ্য। এসব সরঞ্জাম আচরণগত সংকেত পদ্ধতিগতভাবে পরীক্ষা করা সহজ করলেও জটিল মানবিক যোগাযোগকে চূড়ান্ত রোগনির্ণয়ে পরিণত করে না।
আগাম পরিবারকেন্দ্রিক সহায়তার ইঙ্গিত
গবেষণাটি মায়েদের দোষারোপ করে না। এর মূল্য হলো এমন সম্পর্ক শনাক্ত করা, যা চিকিৎসক ও গবেষকদের শিশুর আবেগগত পরিবেশ সম্পর্কে আরও ভালো প্রশ্ন করতে সাহায্য করতে পারে।
এখনকার মূল বার্তা সংযত হলেও কার্যকর: শিশুরা আবেগগত সংকেত মনোযোগ দিয়ে পড়ে, এবং বড়রা যা বলেন ও দৃশ্যত যা প্রকাশ করেন তার সামঞ্জস্য শিশুদের আবেগ শেখার পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
এই নিবন্ধটি Medical Xpress-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে তৈরি। মূল নিবন্ধ পড়ুন।
Originally published on medicalxpress.com




