দীর্ঘমেয়াদি মস্তিষ্ক-ইমেজিং গবেষণায় নজরে রাখার মতো একটি নির্দিষ্ট বসে থাকার অভ্যাস ধরা পড়েছে
একটি নতুন গবেষণা মধ্যবয়সে ঘন ঘন টেলিভিশন দেখার সঙ্গে পরবর্তী জীবনে ছোট মস্তিষ্কীয় গঠন এবং বেশি সাদা পদার্থের ক্ষতির সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে, যা বসে থাকার আচরণ ও জ্ঞানীয় বার্ধক্য নিয়ে বৃহত্তর আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করে। এই ফলাফলটি এমন নয় যে টেলিভিশন আক্ষরিক অর্থে মস্তিষ্ককে "পচিয়ে" দেয়, তবে এটি ইঙ্গিত করে যে সব ধরনের বসে থাকা এক নয় এবং নিষ্ক্রিয় আচরণের ধরন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রদত্ত উৎসপাঠ্য অনুযায়ী, গবেষণাটি Alzheimer's & Dementia-এ প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি Atherosclerosis Risk in Communities, বা ARIC, গবেষণার প্রায় ১,৭০০ জন প্রাপ্তবয়স্কের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা ১৯৮৭ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে গড়ে ৫৩ বছর বয়সে ওই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত হন। দুই দশকেরও বেশি সময় পরে তাঁদের মস্তিষ্কের MRI স্ক্যান করা হয়, যা গবেষকদের স্ব-প্রতিবেদিত মধ্যবয়সী অভ্যাস ও পরবর্তী জীবনের মস্তিষ্কীয় গঠন তুলনা করার এক বিরল সুযোগ দেয়।
শিরোনাম-সদৃশ মূল ফলাফল ছিল সরল: যারা বলেছিলেন যে মধ্যবয়সে অবসর সময়ে তারা "খুব ঘন ঘন" টিভি দেখেন, পরবর্তী সময়ে তাঁদের স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্ক অঞ্চলে আয়তন কম, ফ্রন্টাল ও অক্সিপিটাল লোব ছোট, এবং সাদা পদার্থের হাইপারইনটেনসিটি ভলিউম বেশি দেখা গেছে। এই সাদা পদার্থের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো বার্ধক্য, স্ট্রোকের ঝুঁকি, জ্ঞানীয় অবনতি, এবং ডিমেনশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
কেন এই গবেষণা আলাদা করে নজর কাড়ে
প্রদত্ত উৎসপাঠ্য গবেষণাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করে: কেবল এই কারণে ফলাফল ব্যাখ্যা করা যায় না যে টেলিভিশন দেখা একটি বসে থাকার কাজ। গবেষকরা কর্মদিবসে বসে কাটানো সময়ও দেখেছিলেন, কিন্তু অন্য বসে থাকার কাজের সঙ্গে একই সম্পর্ক পাননি। এর মানে, TV দেখার সঙ্গে যুক্ত বিষয়বস্তু বা জ্ঞানীয় ধরণ অন্য কারণে বসে থাকার তুলনায় আলাদা হতে পারে।
সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান ও নৃতত্ত্বের অধ্যাপক এবং গবেষণাটির জ্যেষ্ঠ লেখক ডেভিড রাইকলেন বলেন, এই ক্ষেত্রটি বহু বছর ধরে মানুষ কতটা বসে থাকে, সেটির ওপর জোর দিয়েছে। উৎসপাঠ্যে উদ্ধৃত নতুন ফলাফল ইঙ্গিত করে যে মানুষ বসে থাকাকালীন কী করছে, সেদিকেও বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
গবেষণাটি ব্যাখ্যা করার জন্য এটাই সবচেয়ে কার্যকর কাঠামো। জনস্বাস্থ্য বার্তায় প্রায়ই বসে থাকার আচরণকে ঘণ্টাভিত্তিক একটি একক শ্রেণি হিসেবে ধরা হয়েছে। এই গবেষণা বলছে, কম নড়াচড়ার সব আচরণকে মস্তিষ্ক একইভাবে অনুভব নাও করতে পারে। নীরব ডেস্ক কাজ, পড়া, আলাপচারিতা, বা অন্য বসা অবস্থার কার্যকলাপে প্যাসিভ স্ক্রিন দেখা থেকে মানসিক সম্পৃক্ততার মাত্রা অনেক ভিন্ন হতে পারে।
MRI-তে গবেষকরা কী পেলেন
উৎসপাঠ্য অনুযায়ী, যারা "কখনও না" বা "কদাচিৎ" টিভি দেখেন বলে জানিয়েছিলেন, তাঁদের তুলনায় "খুব ঘন ঘন" দেখেন এমন অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কজুড়ে বিস্তৃত গঠনগত পার্থক্য ছিল। গবেষকরা আলঝাইমার রোগের প্রাথমিক লক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত এলাকায় ছোট আয়তন শনাক্ত করেন। তাঁরা সাদা পদার্থের হাইপারইনটেনসিটি বেশি থাকার কথাও পান, যা মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র রক্তনালীর রোগ বোঝাতে সাধারণত ব্যবহৃত একটি চিহ্ন।
এ ছাড়াও, ঘন ঘন টিভি দেখা গোষ্ঠীর অক্সিপিটাল ও ফ্রন্টাল লোব ছোট ছিল। এই অঞ্চলগুলো মোটামুটি দৃষ্টিগত প্রক্রিয়াকরণ ও নির্বাহী কার্যক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। নির্বাহী কার্যক্ষমতার মধ্যে পরিকল্পনা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ, এবং নমনীয়ভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন স্বনির্ভরতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উৎসপাঠ্য আরও জানায়, গবেষকরা অন্যান্য বিষয় নিয়ন্ত্রণ করার পরও এসব পার্থক্য টিকে ছিল। ওই বিষয়গুলোর সম্পূর্ণ তালিকা প্রদত্ত উপাদানে কাটা আছে, তাই সংশোধনগুলো কতটা বিস্তৃত ছিল তা বাড়িয়ে বলা ঠিক হবে না। তবু, পরিসংখ্যানগত নিয়ন্ত্রণের পরও সম্পর্ক টিকে থাকার তথ্যই গবেষণাটিকে উল্লেখযোগ্য করে তোলে।
সম্পর্ক মানেই কারণ নয়
এই কাহিনির সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্করণ বিভ্রান্তিকর হবে। গবেষণাটি একটি সম্পর্ক পেয়েছে, কিন্তু টেলিভিশন দেখা সরাসরি পরে দেখা মস্তিষ্কগত পার্থক্যের কারণ, তা প্রমাণ করেনি। পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা সময়ের সঙ্গে ধরণ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু একা দাঁড়িয়ে সব বিকল্প ব্যাখ্যা খারিজ করতে পারে না। যারা খুব ঘন ঘন টিভি দেখেন, তাঁরা স্বাস্থ্য, চাপ, ব্যায়াম, ঘুম, শিক্ষা, খাদ্যাভ্যাস, বা অন্তর্নিহিত রোগঝুঁকির মতো বিষয়ে অন্য অংশগ্রহণকারীদের থেকে ভিন্ন হতে পারেন, যা পুরোপুরি ধরা কঠিন।
তবুও, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণমূলক তথ্য মূল্যবান, বিশেষ করে যখন তা দশকজুড়ে বিস্তৃত হয় এবং শুধু জরিপের উত্তর নয়, ইমেজিং ফলও অন্তর্ভুক্ত করে। ARIC কোহর্ট গবেষকদের দেখায়, মধ্যবয়সী আচরণ কীভাবে পরবর্তী জীবনের মস্তিষ্কস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, যা ডিমেনশিয়া গবেষকেরা আরও ভালোভাবে বুঝতে চান। উপসর্গ দেখা দেওয়ার সময়ে গঠনগত পরিবর্তন অনেক দূর এগিয়েই যেতে পারে।
গবেষণাটি এটাও বলে না যে টেলিভিশনের প্রতিটি ঘণ্টা ক্ষতিকর, বা কোনো একক দেখার অভ্যাস মানুষের জ্ঞানীয় ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। উৎসপাঠ্যে জরিপের বিভাগ ছাড়া কোনো ডোজ-সীমা দেওয়া হয়নি, এবং এটি টিভি দেখাকেই একমাত্র ডিমেনশিয়া-নির্দেশক বলে দাবি করে না। যা সমর্থন করে তা হলো, অবসর সময়ে খুব ঘন ঘন টেলিভিশন দেখা পরবর্তী মস্তিষ্কের দুর্বলতার একটি সম্ভাব্য অর্থবহ চিহ্ন হতে পারে, এই বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট উদ্বেগ।
এটি সুস্থ বার্ধক্যের জন্য কী অর্থ বহন করতে পারে
ভবিষ্যতের গবেষণায় যদি এই ফলাফলগুলো টিকে থাকে, তবে ব্যবহারিক তাৎপর্য স্ক্রিন নিষিদ্ধ করা নয়, বরং বসে কাটানো সময়ের মান উন্নত করা। প্রদত্ত উপাদান থেকে সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা হলো, মধ্যবয়সে প্যাসিভ, ঘন ঘন টেলিভিশন দেখা অন্য বসা অবস্থার কাজের তুলনায় মস্তিষ্কের জন্য কম সহায়ক অবসর-ব্যবহার হতে পারে।
এটি অনুসরণমূলক গবেষণার জন্য কয়েকটি পথ খুলে দেয়। বিজ্ঞানীরা জানতে চাইবেন, অনুষ্ঠানের ধরন, সময়কাল, একসঙ্গে একাধিক কাজ করার অভ্যাস, সামাজিক প্রেক্ষাপট, বা দেখার অভ্যাস কি শারীরিক কার্যকলাপ, ঘুম, বা বেশি জ্ঞানচর্চামূলক শখকে প্রতিস্থাপন করে কিনা, তার ওপর প্রভাব ভিন্ন হয় কি না। তাঁরা এটাও পরীক্ষা করতে চাইবেন যে স্ট্রিমিং, স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও, এবং অন্যান্য ডিজিটাল মিডিয়া পরিবেশে, যা মূল ARIC অংশগ্রহণকারীদের প্রথম জরিপের সময় ছিল না, অনুরূপ ধরণ দেখা যায় কি না।
গবেষণার সময়কাল আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যবয়সকে দীর্ঘমেয়াদি মস্তিষ্কস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়পর্ব হিসেবে ক্রমশ দেখা হচ্ছে। এই সময়ে রক্তচাপ, ব্যায়াম, ঘুম, সামাজিক সংযোগ, বা মানসিক উদ্দীপক কার্যকলাপে মনোযোগী হস্তক্ষেপ, উল্লেখযোগ্য অবনতি শুরু হওয়ার পরে করা পরিবর্তনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সাধারণ অবসর আচরণের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত একটি ফলাফল দৈনন্দিন স্বাস্থ্য-সিদ্ধান্তের জন্য এই কাজটিকে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক করে তোলে।
এই গবেষণার প্রধান অবদান হলো নির্ভুলতা। এটি অতিরিক্ত বসে থাকার সাধারণ সতর্কতা থেকে আলোচনাকে সরিয়ে মধ্যবয়সে প্যাসিভ স্ক্রিন অভ্যাস নিয়ে আরও নির্দিষ্ট প্রশ্নের দিকে নিয়ে যায়। এটি চূড়ান্ত উত্তর নয়, তবে আরও কার্যকর উত্তর। চিকিৎসক, গবেষক, এবং দৈনন্দিন রুটিন কীভাবে বার্ধক্যকে রূপ দেয় তা নিয়ে ভাবছেন এমন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।
এই নিবন্ধটি Medical Xpress-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on medicalxpress.com





