দৈনন্দিন ছবির ভেতরে লুকিয়ে থাকা গোপনীয়তার ফাঁস
আধুনিক ছবি শুধু ছবি নয়। এগুলো তথ্যের প্যাকেট, যার মধ্যে প্রায়ই অদৃশ্য মেটাডেটা থাকে, যেমন ছবিটি কখন তোলা হয়েছে, কোন ডিভাইস তা ধারণ করেছে, এবং কিছু ক্ষেত্রে ঠিক কোথায় তোলা হয়েছে। এটাই সরবরাহ করা Wired লেখার ব্যবহারিক সতর্কবার্তা, যেখানে বলা হয়েছে যে লোকেশন-স্ট্যাম্পযুক্ত ছবি বেশিরভাগ মানুষের ধারণার চেয়েও বেশি কিছু প্রকাশ করতে পারে।
সমস্যাটি EXIF মেটাডেটা, অর্থাৎ ক্যামেরা ও স্মার্টফোন ছবির ফাইলে যে তথ্য যোগ করে। কোনো ডিভাইসে GPS চালু থাকলে, সেই মেটাডেটায় লোকেশন কোঅর্ডিনেট থাকতে পারে। ব্যক্তিগত ফটো লাইব্রেরির জন্য এটি উপকারী হতে পারে। শেয়ার করা ছবির জন্য এটি নীরব গোপনীয়তার সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।
ঝুঁকিটা কেন সহজে চোখ এড়ায়
ঝুঁকিটা নাটকীয় নয়। এটি সাধারণ। কেউ পোষা প্রাণীর ছবি, বাড়ি সংস্কারের আপডেট, বা পরিবারের স্ন্যাপশট পোস্ট করেন, আর বুঝতেই পারেন না যে ফাইলে লোকেশনের ইতিহাস থাকতে পারে। ছবিটি নিজে নিরীহ দেখায়। মেটাডেটা আরও বেশি স্পষ্ট গল্প বলতে পারে।
এই অমিলের কারণেই ঝুঁকিটা টিকে থাকে। অধিকাংশ মানুষ ছবিকে ডেটা-সমৃদ্ধ ফাইল নয়, দৃশ্যমান বস্তু হিসেবে ব্যবহার করেন। কিন্তু সরবরাহ করা উৎস লেখাটি স্পষ্ট করে যে ছবি প্রায়ই লুকানো প্রেক্ষাপট নিয়ে চলে। একবার কোনো ছবি ব্যক্তিগত আর্কাইভ ছেড়ে বেরিয়ে গেলে, সেই প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি।
একটি ছবি কী প্রকাশ করে, কীভাবে দেখবেন
Wired ছবির মেটাডেটা পরীক্ষা করার কয়েকটি উপায় বর্ণনা করেছে। Android-এ Google Photos-এ, ব্যবহারকারীরা একটি ছবি খুলে, তিন-ডট মেনুতে ট্যাপ করে, এবং তথ্য দেখার অপশন নির্বাচন করে দেখতে পারেন লোকেশন ডেটা আছে কি না। Google Photos-এর ওয়েব সংস্করণে একই তথ্য info বোতামের মাধ্যমে দেখা যায়।
Apple Photos iOS এবং ওয়েবে info আইকনের মাধ্যমে একই ধরনের পথ দেয়। Windows এবং macOS-এ, ফাইল properties বা get-info ডায়ালগের মাধ্যমেও লোকেশন বিবরণ দেখা যেতে পারে, যদিও সেখানে উপস্থাপনাটি ফরম্যাটেড মানচিত্রের বদলে raw কোঅর্ডিনেট হতে পারে।
মূল কথা সহজ: কোথায় দেখতে হবে জানা থাকলে এই তথ্য প্রায়ই সহজেই পাওয়া যায়। তাই ব্যবহারকারীদের ধরে নেওয়া উচিত যে লোকেশন ডেটা থাকতে পারে, আছে না বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
ছোট একটি অভ্যাস, বড় লাভ
এই গল্পের সবচেয়ে উপকারী অংশ ভয় নয়। এটি অভ্যাস। একটি ছবি ছোট, বিশ্বস্ত দর্শকবৃত্তের বাইরে শেয়ার করার আগে দেখে নেওয়া ভালো যে তাতে লোকেশন মেটাডেটা আছে কি না, এবং ঠিক করা উচিত সেই তথ্য ফাইলের সঙ্গে যাবে কি না।
এটি দেখায়, বাস্তবে ডিজিটাল গোপনীয়তা কীভাবে কাজ করে। সবচেয়ে বড় ফাঁস সবসময় হ্যাক বা নজরদারি প্ল্যাটফর্মের ফল নয়। কখনও কখনও সেগুলো আসে ডিফল্ট সেটিংস আর রুটিন আচরণ থেকে। একটি ফটোগ্রাফ সবচেয়ে মানবিক ও তাৎক্ষণিক মাধ্যমের মতো মনে হতে পারে, কিন্তু তার নিচে এটি এখনও একটি ডেটা অবজেক্ট।
এই কারণেই এখন ছবির গোপনীয়তা শুধু ফ্রেমে কী দেখা যাচ্ছে তা ঠিক করার বিষয় নয়। এর মানে হলো, তার পেছনে কী সাথে যাচ্ছে সেটাও ঠিক করা।
এই নিবন্ধটি Wired-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.



