গ্যালাক্সির সবচেয়ে চরম অঞ্চলের একটিতে একটি সম্ভাব্য সুপারনোভা অবশেষ দেখা দিয়েছে

মিল্কি ওয়ের কেন্দ্র নিয়ে গবেষণা করা জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা Sagittarius C-তে এমন একটি বস্তুকে শনাক্ত করেছেন, যা একটি সুপারনোভা অবশেষ হতে পারে। এটি গ্যালাক্সির মহাবিশাল ব্ল্যাক হোলের কাছে একটি নক্ষত্র-গঠনকারী অঞ্চল। যদি এটি নিশ্চিত হয়, তবে এটি মিল্কি ওয়ের কেন্দ্রীয় ব্ল্যাক হোলের সবচেয়ে কাছের পরিচিত সুপারনোভা অবশেষগুলির মধ্যে একটি হবে, এবং গ্যালাক্সির সবচেয়ে গতিশীল ও বোঝা সবচেয়ে কঠিন পরিবেশগুলির একটিতে অবস্থান করবে।

এই সম্ভাব্য বস্তুটি NASA-র Chandra X-ray Observatory-এর এক্স-রে পর্যবেক্ষণ এবং European Space Agency-র XMM-Newton মিশনের তথ্য ব্যবহার করে শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকেরা দক্ষিণ আফ্রিকার MeerKAT-এর রেডিও পর্যবেক্ষণ এবং হাওয়াইয়ের Pan-STARRS-এর অপটিক্যাল পর্যবেক্ষণও ব্যবহার করে অঞ্চলটির আরও বিস্তৃত চিত্র তৈরি করেছেন।

Sagittarius C কেন গুরুত্বপূর্ণ

Sagittarius C কেন্দ্রীয় আণবিক অঞ্চলের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত, যা গ্যালাক্টিক কেন্দ্রের কাছে একটি ঘন এবং সক্রিয় এলাকা। মিল্কি ওয়ের এই অংশটি বিশাল নক্ষত্র, গ্যাস মেঘ এবং অস্বাভাবিক চৌম্বক কাঠামোতে পরিপূর্ণ। গ্যালাক্সির অন্যত্র জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যে তুলনামূলক পরিচিত পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন, তার সঙ্গে এর পরিস্থিতি তীব্রভাবে ভিন্ন হওয়ায় এটি বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রেক্ষাপট যেকোনো সম্ভাব্য সুপারনোভা অবশেষকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তোলে। সুপারনোভা অবশেষ কেবল নক্ষত্র বিস্ফোরণের অবশিষ্টাংশ নয়। এগুলো এমন রাসায়নিক ইঞ্জিনও, যা লোহা, অক্সিজেন এবং সিলিকনের মতো ভারী মৌলকে আশপাশের মহাকাশে ছড়িয়ে দেয়। পরে এই মৌলগুলো নতুন নক্ষত্র, গ্রহ এবং শেষ পর্যন্ত জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় পদার্থগত অবস্থার অংশ হয়ে ওঠে।

গ্যালাক্টিক কেন্দ্রের কাছে এমন একটি অবশেষ খুঁজে পাওয়া গবেষকদের জন্য একটি চরম পরিবেশে নক্ষত্রমৃত্যু কীভাবে ঘটে এবং মিল্কি ওয়ের সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চলগুলোর একটিতে পদার্থ কীভাবে চক্রাকারে ঘোরে, তা বোঝার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।

পর্যবেক্ষণাগারগুলো কী দেখেছে

প্রদত্ত উৎস-পাঠ্যে এক্স-রে, রেডিও এবং অপটিক্যাল ডেটা মিলিয়ে তৈরি একটি সমন্বিত ছবির বর্ণনা রয়েছে। সেই ছবিতে এক্স-রে বিকিরণের একটি বড় নীল অঞ্চল এমন একটি ব্লবের মতো দেখা যায়, যা গবেষকদের মতে সন্দেহভাজন সুপারনোভার প্রমাণ হতে পারে। ওই সম্ভাব্য অবশেষটি Sagittarius C-এর সঙ্গে যুক্ত, যাকে একটি বিশাল, তরুণ নক্ষত্রকে ঘিরে থাকা আয়নিত হাইড্রোজেনের বুদবুদ বলেও বর্ণনা করা হয়েছে।

এই আয়নিত হাইড্রোজেন অঞ্চল, যাকে H II অঞ্চল বলা হয়, রেডিও তরঙ্গদৈর্ঘ্যে উজ্জ্বলভাবে জ্বলে ওঠে, কারণ তরুণ নক্ষত্র থেকে আসা বিকিরণ আশপাশের হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে ইলেকট্রন সরিয়ে দেয়। ইতিমধ্যে জটিল এই পটভূমির বিপরীতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করছেন, দেখা এক্স-রে কাঠামোটি কোনো সুপারনোভা বিস্ফোরণের অবশিষ্টাংশ কিনা।

একই সমন্বিত ছবিতে চৌম্বক ক্ষেত্ররেখা বরাবর চলমান শক্তিমান কণার কারণে তৈরি দীর্ঘ রেডিও ফিলামেন্টও রয়েছে। এর মধ্যে একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য গুচ্ছ মিল্কি ওয়ের সমতলের লম্বভাবে প্রসারিত, যা গ্যালাক্টিক কেন্দ্রের অস্বাভাবিক চৌম্বক প্রকৃতি তুলে ধরে।

আগের সূত্র মিলেছিল প্রসারিত গ্যাসের খোলস থেকে

নতুন এক্স-রে প্রমাণ বিচ্ছিন্নভাবে আসেনি। NASA-র এখন অবসরপ্রাপ্ত Stratospheric Observatory for Infrared Astronomy, বা SOFIA, দিয়ে করা আগের পর্যবেক্ষণ ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে Sagittarius C-কে ঘিরে একটি প্রসারিত গ্যাসের খোলস আছে। সেই খোলস সেখানে কোনো সুপারনোভা ঘটেছিল কি না, তার আগের একটি ইঙ্গিত দেয়।

নতুন গবেষণা সেই ভিত্তির ওপর এগোচ্ছে বলে মনে হয়, যেখানে পরীক্ষা করা হচ্ছে সুপারনোভা অবশেষের অন্য প্রচলিত লক্ষণগুলো উপস্থিত কি না। নীতিগতভাবে, একটি নক্ষত্র বিস্ফোরণের পর শুধু একটি প্রসারিত কাঠামোই নয়, ধ্বংসাবশেষে রাসায়নিক চিহ্নও থেকে যাওয়ার কথা।

নিশ্চিত করা এখনও কেন কঠিন

মামলাটি এখনো চূড়ান্ত নয়। প্রদত্ত পাঠ্য অনুযায়ী, দলটি Chandra-র এক্স-রে ডেটায় ভারী মৌলের পরিমাণ বেড়েছে কি না তা খুঁজেছে, যা সুপারনোভা পদার্থের একটি সাধারণ চিহ্ন, কিন্তু সেসব মৌলের স্পষ্ট প্রমাণ পায়নি। এই অনুপস্থিতি ব্যাখ্যাকে দুর্বল করে মনে হতে পারে, তবে গবেষকদের একটি যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা আছে: ধ্বংসাবশেষ আগেই তার আশপাশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

গ্যালাক্টিক কেন্দ্রে এটি একটি গুরুতর সম্ভাবনা, যেখানে অস্থিরতা, ঘন গ্যাস এবং জটিল স্থানীয় পরিস্থিতি দ্রুত সেই পরিষ্কার লক্ষণগুলো ঝাপসা করে দিতে পারে, যেগুলোর ওপর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রায়ই নির্ভর করেন। অপেক্ষাকৃত শান্ত অঞ্চলে একটি সুপারনোভা অবশেষ ভারী মৌলে সমৃদ্ধ প্রসারিত খোলস হিসেবে আরও স্পষ্ট দেখা যেতে পারে। মিল্কি ওয়ের কেন্দ্রীয় ব্ল্যাক হোলের কাছে পরিবেশটি অনেক বেশি বিশৃঙ্খল।

ফলে বস্তুটি এখনো নিশ্চিত সুপারনোভা অবশেষ নয়, বরং একটি সম্ভাব্য সুপারনোভা অবশেষ হিসেবেই রয়ে গেছে। এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। উপলব্ধ প্রমাণ এই ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে, তবে এখনো এটিকে চূড়ান্ত করে না।

এটি নিশ্চিত হলে বিজ্ঞানীরা কী জানতে পারবেন

যদি অবশেষটি সত্যি হয়, তবে এটি একটি অতিভারী ব্ল্যাক হোলের কাছে সুপারনোভার পরবর্তী বিবর্তন অধ্যয়নের জন্য বিরল একটি পরীক্ষাগার হতে পারে। এটি মূল্যবান, কারণ উৎস-পাঠ্যে অঞ্চলের এক্স-রে বৈশিষ্ট্যগুলোকে খুব একটা ভালোভাবে বোঝা যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকেরা এই বস্তুটি ব্যবহার করে দেখতে পারবেন, শক ওয়েভ কীভাবে ঘন আণবিক পদার্থের ভেতর দিয়ে এগোয়, নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে কীভাবে মিথস্ক্রিয়া করে, এবং মৃতপ্রায় নক্ষত্রের প্রতিক্রিয়া গ্যালাক্টিক কেন্দ্রের কাছের নক্ষত্র-গঠনকারী অঞ্চলগুলোকে কীভাবে প্রভাবিত করে। এটি এমন পরিবেশে সুপারনোভা অবশেষগুলো মিল্কি ওয়ের অন্যত্রের তুলনায় ভিন্ন দেখায় কি না, সেটিও পরিষ্কার করতে পারে।

আরও বিস্তৃতভাবে, এই আবিষ্কার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গ্যালাক্টিক কেন্দ্রকে একটি ব্যবস্থা হিসেবে বোঝার প্রচেষ্টায় যোগ দেবে। ওই অঞ্চল শুধু একটি ব্ল্যাক হোলের বাসস্থান নয়। এটি এমন একটি ভিড়াক্রান্ত বাস্তুতন্ত্র, যেখানে নক্ষত্র গঠন, নক্ষত্রমৃত্যু, গ্যাসগতিবিদ্যা এবং চৌম্বক কাঠামো একে অন্যকে প্রভাবিত করে।

সতর্ক, তবে অর্থপূর্ণ ফল

বর্তমান সাময়িক রূপেও ফলটি বৈজ্ঞানিকভাবে অর্থবহ। Sagittarius C-তে একটি সম্ভাব্য অবশেষের উপস্থিতি দেখায়, অভ্যন্তরীণ মিল্কি ওয়েতে এখনো কত কিছু অনির্ধারিত রয়ে গেছে। এটি আরও দেখায়, বিশেষ করে এমন জায়গায় যেখানে কোনো একক যন্ত্র পুরো গল্প বলতে পারে না, বিভিন্ন পর্যবেক্ষণাগার ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তথ্য একত্র করার মূল্য কতটা বেশি।

এখনও বস্তুটি একটি শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী, চূড়ান্ত আবিষ্কার নয়। তবে ভবিষ্যতের পর্যবেক্ষণ যদি নিশ্চিত করে যে Sagittarius C-এর কাছে একটি সুপারনোভা বিস্ফোরিত হয়েছিল, তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় ব্ল্যাক হোলের ছায়ায় সহিংস নাক্ষত্রিক ঘটনাগুলো কীভাবে ঘটে, তার এক ব্যতিক্রমী কাছের দৃশ্য পাবেন।

এই নিবন্ধটি Universe Today-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on universetoday.com