বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমন ছোট মুখের পরিবর্তন
অস্থিক্ষয়, পেশিক্ষয়, এবং বিকিরণ-সংস্পর্শের মতো শীর্ষঝুঁকির দিকেই মহাকাশ চিকিৎসা সাধারণত নজর দেয়। কিন্তু Universe Today-এ আলোচিত একটি নতুন গবেষণা মাইক্রোগ্রাভিটির আরও নির্দিষ্ট এবং আশ্চর্যজনকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করে: মহাকাশযাত্রার সময় নভোচারীদের নিচের চোখের পাতা উপরের দিকে সরে যেতে পারে। পরিবর্তনটি সামান্য মনে হতে পারে, তবে গবেষকদের মতে এটি দীর্ঘমেয়াদি মিশনের সঙ্গে সম্পর্কিত দৃষ্টিশ্রমের একটি অংশ ব্যাখ্যা করতে পারে।
The effect of short-term microgravity and hypergravity on eyelid and brow position শীর্ষক এই গবেষণা Eye & ENT Research-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে Western Sydney University, Center for Space Medicine and Extreme Environments Berlin, Aotearoa New Zealand National Eye Center, University of Otago, এবং Saarland University Medical Center-এর গবেষকেরা যুক্ত ছিলেন। তাঁদের কাজ মানবদেহে মাইক্রোগ্রাভিটি কীভাবে প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে দৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাঠামোগুলি কীভাবে বদলে যায়, তা বোঝার বৃহত্তর প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়েছে।
মূল ফলাফলটি সরল: মাইক্রোগ্রাভিটিতে নিচের চোখের পাতা স্বাভাবিকভাবেই ওপরে ওঠে। সময়ের সঙ্গে, এটি “reverse ptosis” নামে পরিচিত একটি অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে নিচের পাতা অস্বাভাবিকভাবে উঁচুতে অবস্থান করে এবং কর্নিয়ার নিচের প্রান্তের কিছু অংশ ঢেকে দেয়। চোখ যেহেতু অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সুরক্ষিত একটি অপটিক্যাল ব্যবস্থা, সামান্য শারীরিক পরিবর্তনও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
গবেষকেরা কী পেলেন
বিষয়টি অধ্যয়ন করতে দলটি ১৩ জন নভোচারীকে নিয়ে ১১৫টি NASA ছবি পর্যালোচনা করে। তারা কর্নিয়ার কেন্দ্র থেকে নিচের চোখের পাতার দূরত্ব, অর্থাৎ MRD2, মাপেন। গড়ে সেই দূরত্ব ১ মিলিমিটার কমে যায়। ব্যবহারিকভাবে এর মানে, চোখের তুলনায় নিচের চোখের পাতা ওপরে সরে গেছে।
এই ফলাফলটি কোনো ছোট উপদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মূল পাঠ্য অনুযায়ী, পর্যালোচিত সব নভোচারীর মধ্যেই reverse ptosis-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ লক্ষণ দেখা গেছে, এবং ৬২% ক্ষেত্রে ১ মিলিমিটারের বেশি পরিবর্তন ছিল। ফলে এই প্রভাবটি শুধু বিদ্যমান বলেই নয়, বরং এটি সাধারণ বলেও উল্লেখযোগ্য।
গবেষকেরা এই ফলাফলকে স্বল্পমেয়াদি প্যারাবলিক ফ্লাইটের পর যা দেখা গেছে তার সঙ্গেও তুলনা করেছেন, যেগুলো মাইক্রোগ্রাভিটির স্বল্প সময় তৈরি করে। এই মিলটি ইঙ্গিত করে যে চোখের পাতার এই পরিবর্তন দ্রুত ঘটে এবং দীর্ঘমেয়াদি ওজনহীনতার সংস্পর্শে থেকেও স্থায়ী থাকতে পারে। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সমস্যাটি কক্ষপথে কয়েক মাস পরে নয়, মিশনের শুরুতেই দেখা দিতে পারে।
মিশন পরিকল্পনাকারী এবং ফ্লাইট সার্জনদের জন্য, দ্রুত শুরু হওয়া পরিবর্তন বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। মাইক্রোগ্রাভিটিতে প্রবেশের পর যদি কোনো প্রভাব শিগগিরই দেখা দেয় এবং এরপরও থাকে, তা হলে এটি পুরো মিশনজুড়ে, এমনকি ভবিষ্যৎ গভীর মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রেও, ক্রুদের আরাম, চোখের কার্যকারিতা, এবং পর্যবেক্ষণ প্রোটোকলকে প্রভাবিত করতে পারে।
চোখের পাতার পরিবর্তন দৃষ্টির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
এখানে উদ্বেগটি সৌন্দর্যগত নয়। গবেষণার গুরুত্ব নিহিত আছে চোখের পাতার অবস্থান চোখের কর্মক্ষমতাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তাতে। মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, reverse ptosis কর্নিয়ার আকার বদলাতে পারে, দৃষ্টিক্ষেত্র কমাতে পারে, এবং দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা হ্রাস করতে পারে। কঠোর পরিবেশে সুনির্দিষ্ট দৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল নভোচারীদের জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ কার্যগত সমস্যা।
মহাকাশে দৃষ্টিজনিত সমস্যা ইতিমধ্যে দীর্ঘদিনের আগ্রহের বিষয়। দীর্ঘমেয়াদি মিশন দৃষ্টি এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পরিবর্তনের সঙ্গে, পাশাপাশি অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় প্রভাবের সঙ্গেও, যুক্ত হয়েছে। এই গবেষণা দাবি করে না যে চোখের পাতার নড়াচড়াই মহাকাশযাত্রাসংক্রান্ত সব দৃষ্টিসমস্যার ব্যাখ্যা। বরং এটি এমন একটি সম্ভাব্য ও পরিমাপযোগ্য অবদানকারী কারণ চিহ্নিত করে, যা অন্য প্রক্রিয়ার তুলনায় কম নজর পেয়েছিল।
এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জটিল চিকিৎসা সমস্যা প্রায়ই একাধিক কারণে তৈরি হয়। মাইক্রোগ্রাভিটি যদি একসঙ্গে তরলের বণ্টন, টিস্যুর যান্ত্রিকতা, চোখের চাপ, এবং চোখের পাতার অবস্থানকে প্রভাবিত করে, তবে গবেষকদের মহাকাশযাত্রাজনিত দৃষ্টি সিন্ড্রোমকে একক প্রধান কারণের বদলে কয়েকটি ছোট পরিবর্তনের পারস্পরিক প্রভাব হিসেবে দেখতে হতে পারে।
দুটি প্রস্তাবিত প্রক্রিয়া
লেখকেরা ব্যাখ্যা করেছেন কেন মহাকাশে নিচের চোখের পাতা ওপরে ওঠে, তার জন্য দুটি প্রধান কারণ। প্রথমটি cephalad fluid shift, যা মাইক্রোগ্রাভিটির সুপরিচিত প্রভাবগুলোর একটি। কক্ষপথে, মাধ্যাকর্ষণ পৃথিবীর মতো করে শরীরের তরলকে নিচে টানে না, তাই শরীরের তরল মাথার দিকে সরে যায়।
মূল পাঠ্য অনুযায়ী, নভোচারীদের প্রায় ২ লিটার তরল মাথার দিকে সরে যেতে পারে, যার মধ্যে প্রায় ৫০ মিলিলিটার মাথা ও ঘাড়ের টিস্যুতে পুনর্বণ্টিত হয়। চোখের আশপাশের এলাকায় এই পুনর্বণ্টন pretarsal অঞ্চলে ফোলা সৃষ্টি করতে পারে, যা শারীরিকভাবে নিচের চোখের পাতাকে ওপরে ঠেলে দেয়। এই প্রক্রিয়াটি সহজবোধ্য এবং মহাকাশে নভোচারীদের মুখ ফোলা দেখায় এমন বিস্তৃত পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দ্বিতীয় প্রস্তাবিত প্রক্রিয়াটি মুখের টিস্যুর elastic recoil-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। পৃথিবীতে, মাধ্যাকর্ষণ নরম টিস্যুগুলোকে নিয়মিত নিচের দিকে টানে। সেই স্থায়ী বল সরিয়ে দিলে টিস্যুগুলো আবার ওপরে উঠতে পারে। সেই ব্যাখ্যায়, চোখের পাতা শুধু তরলের কারণে নয়, বরং মাইক্রোগ্রাভিটিতে মুখের পরিবর্তিত যান্ত্রিক ভারসাম্যের কারণেও সরে যায়।
এই প্রক্রিয়াগুলো পরস্পরবিরোধী নয়। বরং সরবরাহকৃত পাঠ্য থেকে সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, দুটিই একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তরলের স্থানান্তর টিস্যুর আয়তন বদলাতে পারে, আর মাধ্যাকর্ষণের অনুপস্থিতি টিস্যুর টান ও বিশ্রামাবস্থার অবস্থান বদলে দেয়। একত্রে, এগুলো নিচের চোখের পাতাকে স্থায়ীভাবে ওপরে রাখতে পারে।
দীর্ঘ মিশনে কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
চন্দ্রযাত্রা, এবং শেষ পর্যন্ত মঙ্গলযাত্রার দিকে এগোতে থাকা দীর্ঘ মিশনের কথা ভাবছে মহাকাশ সংস্থাগুলো। পরিবর্তিত মাধ্যাকর্ষণ পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাটানো ক্রুদের জন্য নতুন শারীরবৃত্তীয় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। দৃষ্টিকে ব্যাহত করতে পারে এমন যেকোনো শারীরবৃত্তীয় প্রভাব মিশনের সময়কাল, জটিলতা, এবং পৃথিবী থেকে দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গড়ে ১ মিলিমিটার পরিবর্তন কাগজে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু যদি তা কর্নিয়ার বিকৃতি বা দৃষ্টিতীক্ষ্ণতা হ্রাসে ভূমিকা রাখে, তবে এটি যন্ত্র পড়া, সরঞ্জাম চালানো, চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পাদন, অথবা বৈজ্ঞানিক কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মহাকাশযাত্রায়, ক্লান্তি, সীমাবদ্ধতা, এবং ভুলের উচ্চ মূল্যকে সঙ্গে নিয়ে ছোট অবনতি বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে।
এই গবেষণা নভোচারী স্বাস্থ্য গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিও দেখায়: সংকীর্ণ অ্যানাটমিক পরিবর্তনের সূক্ষ্ম পরিমাপ কার্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি উন্মোচন করতে পারে। নভোচারীদের চোখের ছবি বিশ্লেষণ করা নতুন মহাকাশযান ব্যবস্থার পরীক্ষা করার মতো নাটকীয় শোনাতে নাও পারে, কিন্তু এটিও মিশনের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যাকে সামনে আনতে পারে।
নিচের চোখের পাতার পরিবর্তন মহাকাশে ইতিমধ্যে পরিচিত অন্যান্য দৃষ্টিজনিত সমস্যার সঙ্গে কীভাবে মিথস্ক্রিয়া করে, এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এই প্রভাব ঠেকাতে বা কমাতে পারে কি না, তা নির্ধারণে আরও কাজ দরকার হবে। তবে বর্তমান প্রমাণ পাজলের আরও একটি অংশ যোগ করে। মাইক্রোগ্রাভিটি শুধু পেশি দুর্বল করে না এবং হাড় পাতলা করে না; এটি মুখ ও চোখের অঞ্চলকেও সূক্ষ্মভাবে বদলে দেয়, যা নভোচারীরা কীভাবে দেখেন তা প্রভাবিত করতে পারে।
মানব মহাকাশযাত্রা যখন আরও দীর্ঘ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী মিশনের দিকে এগোচ্ছে, এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো কৌতূহলের বিষয় না হয়ে প্রকৌশলগত সীমাবদ্ধতায় পরিণত হচ্ছে। সেগুলো আগে থেকেই বোঝাই পরে ক্রুদের কর্মক্ষমতা রক্ষার বাস্তব পথ।
এই নিবন্ধটি Universe Today-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on universetoday.com







