অনেকের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয় একটি কোয়ালা প্রজাতি ছিল
দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার গুহা থেকে উদ্ধার করা জীবাশ্ম গবেষকদের একটি পূর্বে অজানা বিলুপ্ত কোয়ালা-আত্মীয়কে শনাক্ত করতে সাহায্য করেছে। এই আবিষ্কারটি ইঙ্গিত দেয় যে মানুষ যখন প্রথম এই মহাদেশে আসে, তখন অস্ট্রেলিয়ায় একটির বদলে অন্তত দুটি কোয়ালা প্রজাতি ছিল।
নতুনভাবে বর্ণিত প্রজাতিটির নাম Phascolarctos sulcomaxilliaris; মনে করা হচ্ছে এটি প্রায় ৩০,০০০ বছর আগ পর্যন্ত টিকে ছিল এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় বন শুকিয়ে যাওয়ায় বিলুপ্ত হয়। তাই এই আবিষ্কার শুধু কোয়ালা পরিবারের বংশবৃক্ষে একটি নতুন শাখা যোগ করে না, বরং তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক প্রাগৈতিহাসিক সময়ে বিলুপ্তির ঘটনাও স্থাপন করে, যখন বড় পরিবেশগত পরিবর্তন ঘটছিল।
আজ জীবিত একমাত্র কোয়ালা প্রজাতি হলো Phascolarctos cinereus, যা মূলত পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার ইউক্যালিপটাস বনে পাওয়া যায়। আধুনিক কোয়ালারা বাসস্থান হারানো, রোগ, গাড়ির ধাক্কা এবং আমদানি করা প্রাণীর শিকার হওয়ার কারণে তীব্র চাপের মুখে আছে। জীবাশ্ম প্রমাণ এখন দেখাচ্ছে যে মহাদেশটির কোয়ালা ইতিহাস আরও আঞ্চলিকভাবে বৈচিত্র্যময় এবং বেঁচে থাকা প্রজাতিটির তুলনায় অনেক বেশি নাজুক ছিল।
এই জীবাশ্মগুলো এখন কেন গুরুত্বপূর্ণ
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার গুহা থেকে কোয়ালার অবশিষ্টাংশ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সংগ্রহ করা হচ্ছে, যেগুলোর তারিখ প্রায় ১,৩৭,০০০ থেকে ৩১,০০০ বছর আগের মধ্যে। তবে বহু দশক ধরে যথেষ্ট ভালোভাবে সংরক্ষিত উপাদান না থাকায়, পশ্চিমাঞ্চলীয় জনসংখ্যাটি আলাদা প্রজাতি না কেবল জীবিত কোয়ালার একটি আঞ্চলিক রূপ ছিল, তা নির্ধারণ করা যায়নি।
গত এক চতুর্থাংশ শতকে আরও জীবাশ্ম পাওয়ার ফলে পরিস্থিতি বদলায়, যার মধ্যে প্রয়াত স্পেলিওলজিস্ট লিন্ডসে হ্যাচারের পরিবারের দান করা খুলি ছিল। প্রদত্ত উৎস পাঠ্য অনুযায়ী, বিশেষভাবে ভালোভাবে সংরক্ষিত একটি খুলি আধুনিক কোয়ালার সঙ্গে এবং জাদুঘরের সংগ্রহে আগে থেকেই থাকা পুরোনো জীবাশ্ম উপাদানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ তুলনার প্রেরণা দেয়।
ফলে একটি আরও স্পষ্ট পশ্চিমাঞ্চলীয় বংশধারার ছবি পাওয়া যায়, যা দেখতে আধুনিক কোয়ালার মতো হওয়ায় প্রথম দেখায় অদেখা থেকে যেতে পারত, কিন্তু কার্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোতে আলাদা ছিল। গবেষকেরা জানান, এর মাথা ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট, কিছু ক্ষেত্রে চিবোনোর পেশি কম বিকশিত, দাঁত বড়, এবং চোয়াল ছোট যা আজকের পূর্বাঞ্চলীয় কোয়ালাদের তুলনায় পাতাকে ভিন্নভাবে ভাঙার উপযোগী।
সূক্ষ্ম অঙ্গসংস্থান, কিন্তু অর্থপূর্ণ পরিবেশগত পার্থক্য
এই পার্থক্যগুলো একজন সাধারণ পর্যবেক্ষকের প্রত্যাশিত “নতুন প্রজাতি” ঘোষণার মতো নাটকীয় নয়। আসলে, আবিষ্কারের গুরুত্ব আসে উল্টো দিক থেকে: পরিচিত-দেখা একটি প্রাণীও আলাদা পরিবেশগত কৌশল এবং বিবর্তনীয় ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।
উৎস পাঠ্যে বিলুপ্ত কোয়ালার গালে একটি বড় খাঁজের কথা বলা হয়েছে, যা বড় একটি পেশির সংযোজনস্থল নির্দেশ করতে পারে। গবেষকেরা প্রস্তাব করেছেন, এটি পাতাগুলো ধরার জন্য বড় ঠোঁটকে সমর্থন করতে পারে অথবা আরও দূর থেকে খাদ্য খুঁজে পেতে নাসারন্ধ্র আরও কার্যকরভাবে প্রসারিত করার ক্ষমতা দিতে পারে। দুই ব্যাখ্যাই বিশেষায়িত খাদ্যাভ্যাসের ইঙ্গিত দেয়।
এর কঙ্কালেও আধুনিক কোয়ালার তুলনায় কম চটপটতা বোঝা যায়, অর্থাৎ এটি গাছের মধ্যে কম ঘন ঘন চলাচল করত। বনভূমির পরিবেশে চলাচল, চোয়ালের যান্ত্রিকতা এবং খাদ্য সংগ্রহের আচরণে ছোট পার্থক্যও নির্ধারণ করতে পারে কোন আবাসস্থল একটি প্রাণী ব্যবহার করতে পারবে এবং সেই আবাসস্থলগুলো খণ্ডিত হতে শুরু করলে সেটি কতটা সহনশীল থাকবে।
কারণ বিলুপ্তি সাধারণত কেবল একটি সরল জৈবিক দুর্ঘটনা নয়। এটি প্রায়ই একটি প্রজাতির অভিযোজন এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশের মধ্যে অসামঞ্জস্যের ফল। পশ্চিমাঞ্চলীয় কোয়ালাটি সম্ভবত সেই প্যাটার্নেরই একটি উদাহরণ।
৩০,০০০ বছর আগের একটি জলবায়ু সতর্কবার্তা
প্রদত্ত প্রতিবেদনের মতে, জলবায়ু শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় এবং প্রায় ৩০,০০০ বছর আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চল বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় সেই পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রজাতিটি লুপ্ত হয়। এর সোজাসাপ্টা অর্থ হলো, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে মহাদেশের এক পাশ থেকে একটি সম্পূর্ণ কোয়ালা বংশধারা মুছে যায়, আর তার পূর্বাঞ্চলীয় আত্মীয় অন্যত্র টিকে থাকে।
এতে জীবাশ্ম কাহিনি আজকের সংরক্ষণ সংকটের সরাসরি উপমা হয়ে ওঠে না, তবে ঝুঁকির মাত্রা স্পষ্ট করে। কোয়ালারা ইতিমধ্যেই দেখিয়েছে যে বড় মাপের পরিবেশগত বিঘ্ন তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আধুনিক প্রজাতিটি ভিন্ন ধরনের চাপের সম্মিলিত প্রভাবের মুখে আছে, কিন্তু আবাসস্থল পরিবর্তন এখনও কেন্দ্রে রয়েছে।
অতএব, জীবাশ্ম নথি বর্তমান সংরক্ষণ বিতর্ককে ঐতিহাসিক গভীরতা দেয়। কোয়ালাকে আধুনিক যুগে কেবলমাত্র কমতে থাকা একক স্থায়ী বংশধারা হিসেবে দেখার বদলে নতুন প্রমাণ আরও জটিল একটি ছবি দেয়: টিকে থাকা, আঞ্চলিক অভিযোজন এবং ক্ষতির গল্প।
এই আবিষ্কার কী বদলায়
প্যালিওন্টোলজির বাইরেও এই আবিষ্কারকে আলাদা করে তোলার বেশ কয়েকটি কারণ আছে।
- এটি কোয়ালার বৈচিত্র্যকে কেবল দূরবর্তী বিবর্তনীয় অতীতে নয়, বরং late Quaternary সময়কালেও স্থাপন করে।
- এটি ইঙ্গিত দেয় যে পশ্চিম ও পূর্ব অস্ট্রেলিয়া একসময় অর্থপূর্ণভাবে ভিন্ন কোয়ালা রূপকে সমর্থন করত।
- এটি বিলুপ্তিকে পরিবেশগত শুষ্কতা এবং বন হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত করে, একটি নির্দিষ্ট paleoecological উদাহরণ দেয়।
- এটি দেখায় যে জাদুঘরের সংগ্রহ এবং দীর্ঘদিনের সংরক্ষিত জীবাশ্ম, আরও ভালো তুলনামূলক উপাদান পাওয়া গেলে, এখনও বড় আবিষ্কার দিতে পারে।
সেই শেষ বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল নতুন খননকাজ-ভিত্তিক আবিষ্কার ছিল না। এটি জমা হওয়া উপাদান, যত্নসহকারে সংরক্ষণ, এবং পুরোনো সংগ্রহকে নতুন প্রশ্ন নিয়ে আবার দেখার ওপর নির্ভর করেছে। উদীয়মান বিজ্ঞানে বড় অগ্রগতি অনেক সময় নতুন যন্ত্র বা নতুন মাঠপর্যায়ের কাজ থেকে আসে, তবে হাতে থাকা প্রমাণের উন্নত ব্যাখ্যা থেকেও আসে।
পরিচিত একটি প্রাণী, কিন্তু কম পরিচিত ইতিহাস
জনমনে কোয়ালাকে প্রায়শই অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীন প্রাণিজগতের প্রতীক, প্রায় স্থির ধারাবাহিকতার চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়। নতুনভাবে শনাক্ত হওয়া পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রজাতিটি সেই ছবিকে কার্যকরভাবে জটিল করে তোলে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে কোয়ালার ইতিহাসে সাম্প্রতিক বৈচিত্র্যায়ন, আঞ্চলিক অভিযোজন এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত অন্তত একটি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক বিলুপ্তি রয়েছে।
গবেষকদের জন্য পরবর্তী ধাপ হবে এই বিলুপ্ত প্রজাতিটি কোয়ালা বিবর্তনে কীভাবে বসে এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চল শুষ্ক হওয়ার আগে তাদের বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে এর অঙ্গসংস্থান কী জানায় তা পরিষ্কার করা। বৃহত্তর পাঠকের জন্য শিক্ষা সহজ: প্রতীকী প্রজাতিগুলোর মধ্যেও হারিয়ে যাওয়া আত্মীয় এবং ভুলে যাওয়া পরিবেশগত জগৎ লুকিয়ে থাকতে পারে।
সে অর্থে, এই আবিষ্কার কেবল আরেকটি জীবাশ্ম প্রাণীর নামকরণ নয়। এটি হারিয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার একটি রূপ পুনরুদ্ধার করা, যেখানে কোয়ালারা আজকের তুলনায় বেশি বৈচিত্র্যময় ছিল, এবং যেখানে পরিবর্তনশীল জলবায়ুর প্রভাব সেই বংশের একটি সম্পূর্ণ শাখা মুছে দেওয়ার মতো গুরুতর ছিল।
এই নিবন্ধটি New Scientist-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। মূল নিবন্ধ পড়ুন.
Originally published on newscientist.com


