যুক্তরাষ্ট্রে মেনোপজে থাকা নারীদের জন্য টেস্টোস্টেরন প্রেসক্রিপশন বাড়ছে, যদিও মেনোপজ, পেরিমেনোপজ বা পোস্টমেনোপজের চিকিৎসা হিসেবে Food and Drug Administration এই হরমোন অনুমোদন করেনি। কিছু হরমোনভিত্তিক চিকিৎসার জনপ্রিয়তা এবং সেগুলোর ব্যবহার সমর্থনকারী প্রমাণের মধ্যে ব্যবধানের দিকে এই প্রবণতা নতুন করে নজর দিচ্ছে।

২০২৬ সালের একটি মার্কিন গবেষণায় ২০২৫ সালে নারীদের জন্য ৯০,০০০-এর বেশি অফ-লেবেল টেস্টোস্টেরন প্রেসক্রিপশন নথিভুক্ত হয়। এগুলো মূলত ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সি এবং মেনোপজ নির্ণয় পাওয়া নারীদের জন্য ছিল। মোট সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৫৮.৭% বেশি।

মেনোপজ-চিকিৎসার এমন এক বাজারে এই বৃদ্ধি ঘটছে, যেখানে হট ফ্ল্যাশ ও ব্রেন ফগের মতো উপসর্গের উপশম নিয়ে মানুষ ক্রমশ বিজ্ঞাপন ও নানা দাবি দেখছেন। কিছু চিকিৎসা FDA-অনুমোদিত এবং শক্ত প্রমাণসমর্থিত। তবে টেস্টোস্টেরনের অবস্থান আলাদা: এটি আরও বেশি প্রেসক্রাইব করা হচ্ছে, কিন্তু Live Science-এর উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেনোপজের উপসর্গ মোকাবিলায় এর ব্যবহারের প্রমাণ সীমিত।

প্রেসক্রিপশনগুলো অফ-লেবেল কেন

অফ-লেবেল প্রেসক্রিপশন বলতে বোঝায়, চিকিৎসক FDA-অনুমোদিত কোনো ওষুধ এমন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন, যে উদ্দেশ্যটি নিজে অনুমোদিত নয়। এই ক্ষেত্রে মেনোপজ, মেনোপজে রূপান্তরের সময় বা মেনোপজ-পরবর্তী সময়ের চিকিৎসা হিসেবে টেস্টোস্টেরন FDA-অনুমোদিত নয়।

এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্যবহার বাড়াকে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসাগত সমর্থন বলে ভুল বোঝা যেতে পারে। প্রেসক্রিপশন বৃদ্ধি আগ্রহ ও প্রাপ্যতার প্রমাণ দেয়; এর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি উপসর্গের জন্য চিকিৎসাটি কার্যকর—এ কথা প্রমাণ করে না। টেস্টোস্টেরনকে ব্যাপকভাবে যাচাইকৃত মেনোপজ চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করার মতো প্রমাণ নেই।

জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য বিপণনে টেস্টোস্টেরনকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, তার সঙ্গে চিকিৎসাটির আকর্ষণের আংশিক সম্পর্ক থাকতে পারে। একে প্রায়ই “পুরুষ” হরমোন বলা হয়, কিন্তু নারীরাও টেস্টোস্টেরন তৈরি করেন, যদিও গড়ে পুরুষদের তুলনায় কম মাত্রায়। এই তথ্য মধ্যবয়সের উপসর্গের জন্য হরমোনগত ব্যাখ্যাকে স্বাভাবিক বলে মনে করাতে পারে। তবু পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া সেই ধারণাকে রোগনির্ণয় বা চিকিৎসার সিদ্ধান্তে রূপান্তর না করতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন।

অ্যান্ড্রোজেন ঘাটতির বিতর্কিত ধারণা

একটি প্রচলিত ধারণা হলো, মেনোপজের কাছে এলে নারীদের “অ্যান্ড্রোজেন ঘাটতি” হয়—অর্থাৎ টেস্টোস্টেরন ও সংশ্লিষ্ট হরমোন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে উপসর্গ সৃষ্টি করে। অস্ট্রেলিয়ার Monash University-এর এন্ডোক্রাইনোলজি অধ্যাপক এবং Women’s Health Research Program-এর প্রধান Susan Davis Live Science-কে বলেছেন, এটি একটি ভুল ধারণা।

প্রস্তাবিত কোনো কারণ চিকিৎসার চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মেনোপজের উপসর্গ টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি থেকে আসে বলে ধরে নিলে, টেস্টোস্টেরন প্রতিস্থাপনকে সুস্পষ্ট সমাধান মনে হতে পারে। কিন্তু টেস্টোস্টেরন চিকিৎসা ও মেনোপজের উপসর্গ কমার মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ সীমিত।

কয়েকটি প্রান্ত লাল রঙে চিহ্নিত একটি নীল ও বেগুনি অণু।
নারীদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে কমতে থাকে এবং ৬০ বছর বয়সের পর সামান্য বাড়তে পারে। তবে মেনোপজের সময় টেস্টোস্টেরনে তীব্র পতন হয় না।

এর অর্থ এই নয় যে টেস্টোস্টেরন ব্যবহারের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর একই, বা প্রতিটি চিকিৎসক একই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এর অর্থ হলো দাবিগুলো সতর্কভাবে আলাদা করতে হবে: টেস্টোস্টেরন প্রেসক্রাইব করা হচ্ছে; মেনোপজের জন্য এসব প্রেসক্রিপশন অফ-লেবেল; এবং মেনোপজের উপসর্গের চিকিৎসায় এর সমর্থনে প্রমাণ সীমিত। চিকিৎসাটির জনপ্রিয়তা বাড়লেও এই বক্তব্যগুলো একই সঙ্গে সত্য হতে পারে।

জনপ্রিয়তা প্রমাণ নয়

প্রেসক্রিপশন বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখযোগ্য, কারণ তা বড় এবং সাম্প্রতিক। বছরে ৫৮.৭% বৃদ্ধি বোঝায়, একটি চিকিৎসা দ্রুত বৃহত্তর চিকিৎসা ও ভোক্তা-সচেতনতায় প্রবেশ করছে। তবে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা সতর্ক যোগাযোগের প্রয়োজন কমায় না; বরং বাড়ায়। কোনটি অনুমোদিত, কোন প্রমাণ শক্তিশালী এবং কোথায় অনিশ্চয়তা রয়েছে—চিকিৎসা বাছাইকারী মানুষকে তা স্পষ্টভাবে জানতে হবে।

মেনোপজ এমন একটি সময়, যখন উপসর্গ বিভিন্ন ধরনের এবং বিঘ্নসৃষ্টিকারী হতে পারে। ফলে সুস্থতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া বিকল্পের চাহিদা তৈরি হয়। অনলাইন বিজ্ঞাপন জটিল অভিজ্ঞতার জন্য সরল হরমোনগত ব্যাখ্যা তুলে ধরে এই চাপ বাড়াতে পারে। উৎসটি বিশেষভাবে উল্লেখ করে, মেনোপজের কাছে থাকা মানুষ নানা চিকিৎসা-দাবির মুখোমুখি হতে পারেন, যেগুলোর কিছু অন্যগুলোর তুলনায় বেশি প্রমাণসমর্থিত।

চিকিৎসকদের জন্য অফ-লেবেল প্রেসক্রাইব করা স্বাভাবিক চিকিৎসা-চর্চার অংশ, তবে ব্যক্তিগত রোগী ও প্রাপ্য প্রমাণ অনুযায়ী আলোচনা দরকার। রোগীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রশ্ন কেবল কোনো চিকিৎসা জনপ্রিয় কি না বা তাকে “প্রাকৃতিক” বলা হয় কি না—তা নয়; বরং চিকিৎসাটি কোন ফলাফল আনতে চায় এবং সেই ফল কতটা ভালোভাবে প্রমাণিত হয়েছে, সেটি।

প্রমাণের ঘাটতির অর্থ

সীমিত প্রমাণ বৈজ্ঞানিক আগ্রহের অবসান ঘটায় না। বরং তা উন্নত গবেষণা ও আরও নির্ভুল দাবির প্রয়োজন দেখায়। প্রেসক্রিপশন বাড়ার সঙ্গে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, কোনো মেনোপজ-উপসর্গ টেস্টোস্টেরন চিকিৎসায় সাড়া দেয় কি না, দিলে কারা এবং কোন পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়—গবেষণা কি তা স্পষ্টভাবে দেখাতে পারে?

ততদিন পর্যন্ত অফ-লেবেল প্রেসক্রিপশন বৃদ্ধিকে FDA-এর অনুমোদন বা মেনোপজের সঙ্গে সাধারণত যুক্ত বিস্তৃত উপসর্গের চিকিৎসায় টেস্টোস্টেরন কার্যকর—এর প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং পাওয়া প্রতিবেদন এমন একটি চিকিৎসা-প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করে, যা দৃঢ় প্রমাণভিত্তির আগে এগিয়ে যাচ্ছে।

তাই স্বচ্ছতা জরুরি। টেস্টোস্টেরন বিবেচনা করা নারীদের বোঝা উচিত, মেনোপজ-সম্পর্কিত ব্যবহারের জন্য এই হরমোন FDA-অনুমোদিত নয় এবং মেনোপজের উপসর্গের চিকিৎসায় প্রমাণ সীমিত। শক্তিশালী প্রতিশ্রুতিতে ভরা বাজারে এই সীমাগুলো মনে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোর একটি হতে পারে।

এই নিবন্ধটি Live Science-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে তৈরি। মূল নিবন্ধ পড়ুন।

Originally published on livescience.com