অবকশৌলী-আবহাওয়া প্রতিরক্ষার একটি ধারণা সতর্কতা থেকে হস্তক্ষেপে এগোচ্ছে

গবেষকেরা পৃথিবীকে সবচেয়ে খারাপ সৌর ঝড় থেকে রক্ষা করার একটি অস্বাভাবিক নতুন উপায় প্রস্তাব করেছেন: জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে স্যাটেলাইটের একটি নক্ষত্রমণ্ডল স্থাপন করা, তারপর তারা এমন গ্যাস ছাড়বে যা বড় কোনো ঘটনার আগমনের সময় একটি সাময়িক প্লাজমা বাধা তৈরি করবে। StormWall নামে এই ধারণাটি বিরল কিন্তু সম্ভাব্য বিপর্যয়কর সৌর মহাতুফানের প্রভাব কমাতে তৈরি, যা স্যাটেলাইট, বিদ্যুৎ গ্রিড, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে বিপর্যস্ত করতে পারে।

এই ধারণার বর্ণনা 2 জুন Space Weather জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেওয়া হয়েছিল এবং 1 জুলাই Live Science এটি তুলে ধরে। সরবরাহকৃত উৎসপাঠ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা পৃথিবীর চারপাশে অবস্থান করা ছয়টি মহাকাশযান ব্যবহার করবে। পূর্বাভাসকারীরা যদি আসন্ন মহাতুফান শনাক্ত করেন, স্যাটেলাইটগুলো ম্যাগনেটোস্ফিয়ারে গ্যাসের মেঘ ছাড়বে। সেই পদার্থটি গ্রহের সামনে একটি প্রতিরক্ষামূলক প্লাজমা প্রাচীর তৈরি করবে, যা আসন্ন ঘটনার প্রভাব কমাতে সাহায্য করবে।

এই প্রস্তাবটি আলাদা করে চোখে পড়ে, কারণ আজকের বেশিরভাগ স্পেস-ওয়েদার পরিকল্পনা আরও সংকীর্ণ অর্থে প্রতিরক্ষামূলক। সরকার, ইউটিলিটি সংস্থা এবং মহাকাশযান পরিচালকেরা সাধারণত পূর্বাভাস, সিস্টেম শক্তিশালী করা এবং বিঘ্ন সামলানোর পদ্ধতি প্রস্তুত রাখার ওপর জোর দেন। StormWall আরও সক্রিয় কিছু প্রস্তাব করে: সংবেদনশীল সিস্টেমে পৌঁছানোর আগেই ক্ষতি কমাতে পৃথিবীর কাছের মহাশূন্য পরিবেশকে নিজেই বদলে দেওয়া।

চরম ঘটনা নিয়ে গবেষকেরা কেন উদ্বিগ্ন

সৌর ঝড় সূর্যগত কর্মকাণ্ডের একটি স্বাভাবিক অংশ, এবং এগুলো প্রায়ই বিপজ্জনক হওয়ার চেয়ে বেশি মনোমুগ্ধকর প্রভাব তৈরি করে, যেমন উজ্জ্বল অরোরা। কিন্তু উৎসপাঠটি জোর দেয় যে সব ঘটনাই নিরীহ নয়। ঝড়গুলো প্রায়ই করোনাল মাস ইজেকশন দ্বারা চালিত হয়, যা সূর্য থেকে বাইরে ছোড়া চার্জযুক্ত প্লাজমার বড় মেঘ, এবং কখনও কখনও শক্তিশালী সৌর শিখার পর দেখা দেয়।

চরম পরিস্থিতিতে, এসব বিস্ফোরণ অনেক বেশি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। উৎসপাঠ 1859 সালের ক্যারিংটন ঘটনাকে এক শতাব্দীতে একবার আসা মহাতুফানের মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। আধুনিক সমাজে এর মতো কোনো ঘটনা আঘাত হানলে তার ফল হতে পারে সাময়িক সেবা বিঘ্নের অনেক বাইরে। সরবরাহকৃত পাঠ্যে বলা হয়েছে, এমন একটি ঝড় কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইট ধ্বংস করতে পারে, নভোচারীদের প্রাণঘাতী বিকিরণের মুখে ফেলতে পারে, বিদ্যুৎ গ্রিড ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ইন্টারনেট ব্যাহত করতে পারে।

A photo of a Russian satellite orbiting Earth with auroras covering our planet
সূর্যঝড়ের সময় আমাদের গ্রহের স্ফীত বায়ুমণ্ডল থেকে বাড়তি ড্র্যাগের কারণে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইট আকাশ থেকে ছিটকে পড়তে পারে।

এই প্রেক্ষাপটটি বোঝায় কেন StormWall-এর মতো ধারণা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আধুনিক অর্থনীতি কয়েক দশক আগেও না থাকা স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন, যোগাযোগ সংযোগ, সময়নির্ধারণ ব্যবস্থা, ক্লাউড অবকাঠামো এবং বিদ্যুতায়িত নেটওয়ার্কের অনেক ঘন জালের ওপর নির্ভর করে। একটি তীব্র ভূ-চৌম্বকীয় ঘটনা শুধু মহাকাশ খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি পরিবহন, আর্থিক ব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ, প্রতিরক্ষা এবং জরুরি সাড়া ব্যবস্থায় ঢেউ তুলবে।

StormWall ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করবে

উৎসপাঠ StormWall-কে জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে থাকা ছয়টি স্যাটেলাইটের একটি নক্ষত্রমণ্ডল হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংকটের সময় এই মহাকাশযানগুলো মহাশূন্যে গ্যাস ছাড়বে, যা পৃথিবীর সামনে একটি বিশাল এয়ারব্যাগের মতো কাজ করা একটি প্লাজমা কাঠামো তৈরি করবে। লক্ষ্য হলো সৌর ঝড় সম্পূর্ণভাবে থামানো নয়, বরং সরবরাহকৃত পাঠ্য অনুযায়ী এর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক প্রভাব 50% এর বেশি কমানো।

এই সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আংশিক প্রশমনও স্থিতিস্থাপকতার অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে। সরাসরি যন্ত্রপাতির ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং তার পরবর্তী বিঘ্ন একত্রে ধরলে স্পেস-ওয়েদার দুর্যোগ প্রায়ই ট্রিলিয়ন ডলারের পরিসরে মাপা হয়। একটি ব্যবস্থা যা শীর্ষ তীব্রতা বাস্তবভাবে কমাতে পারে, তা অপারেটরদের বেশি সময় দিতে পারে, কক্ষপথের অবকাঠামোর কিছু অংশ রক্ষা করতে পারে এবং স্থলভাগে ধারাবাহিক ব্যর্থতার মাত্রা কমাতে পারে।

প্রস্তাবটি ভূ-চৌম্বক মণ্ডলে প্লাজমা কীভাবে আচরণ করে সেই বিদ্যমান জ্ঞানের ওপরও ভিত্তি করছে বলে মনে হয়। শক্ত কড়া ঢাল বা অদ্ভুত শক্তির বাধা কল্পনা না করে, StormWall ছাড়ানো গ্যাস ব্যবহার করে গ্রহের চারপাশের চার্জিত কণার পরিবেশকে প্রভাবিত করে। অন্য কথায়, ধারণাটি নাটকীয়, কিন্তু একে জাদু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। এটি পরিচিত ভৌত প্রক্রিয়া ব্যবহার করে মহাশূন্যে সাময়িক প্রতিরক্ষামূলক অবস্থা তৈরি করার একটি প্রচেষ্টা।

উৎসপাঠে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা এই ধারণাকে “খুবই সম্ভাব্য” বলে মনে করেন, যা গুরুত্বপূর্ণ। এর মানে এই নয় যে ব্যবস্থা মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত, বা সব বৈজ্ঞানিক ও পরিচালনাগত প্রশ্ন মিটে গেছে। তবে এটি ইঙ্গিত দেয় যে প্রস্তাবটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনির জল্পনা নয়, বরং গুরুতর প্রযুক্তিগত আলোচনার পরিসরের মধ্যেই রয়েছে।

পূর্বাভাস থেকে গ্রহ-স্তরের অবকাঠামো

StormWall এগোলে, এটি স্পেস-ওয়েদার ঝুঁকি কীভাবে পরিচালিত হয় তাতে একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। আজ প্রধান মডেল হলো পূর্বাভাস এবং প্রস্তুতি। বিজ্ঞানীরা সূর্য পর্যবেক্ষণ করেন, সতর্কতা জারি করেন এবং অপারেটরদের সাড়া দিতে সাহায্য করেন। StormWall এতে তৃতীয় স্তর যোগ করে: হস্তক্ষেপ।

Photo of a giant red plume of plasma erupting from the sun
সূর্য ক্রমাগত বিস্ফোরণধর্মী সৌর শিখা মহাশূন্যে নিক্ষেপ করছে, আর বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে পরের “বড়টি” আসা কেবল সময়ের ব্যাপার।

এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পূর্বাভাসেরও সীমা আছে। মূল অবকাঠামো দুর্বল থাকলে উৎকৃষ্ট সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করতে পারে না। ইউটিলিটি সংস্থাগুলো গ্রিডের কিছু অংশ সাময়িকভাবে পুনর্গঠন করতে পারে। স্যাটেলাইট অপারেটররা মহাকাশযানকে নিরাপদ মোডে নিতে পারে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ এখনো ধরে নেয় যে ঝড়কে দুর্বল করার বদলে তা সহ্য করতেই হবে।

সফল একটি প্রশমন ব্যবস্থা কার্যত নতুন ধরনের গ্রহ-স্তরের অবকাঠামো তৈরি করবে, যার উদ্দেশ্য বাণিজ্য বা অনুসন্ধান নয়, বরং আধুনিক সভ্যতা যে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে সেগুলোর সুরক্ষা। এটি একটি বড় ধারণাগত পদক্ষেপ। এতে ইঙ্গিত মেলে যে কক্ষপথে ও সংযুক্ত নেটওয়ার্কে মানব কার্যকলাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌর চরমতার সরাসরি প্রতিরক্ষা একটি বাস্তব প্রকৌশল শাখা হয়ে উঠতে পারে।

যা এখনো অনির্ধারিত

সরবরাহকৃত পাঠ্য স্পষ্ট করে যে StormWall একটি প্রস্তাব, কোনো কার্যকর কর্মসূচি নয়। বেশ কিছু প্রশ্ন এখনো খোলা। উৎসে বলা হয়নি ব্যবস্থা কত ব্যয়বহুল হবে, কত ঘন ঘন পুনরায় সরবরাহ লাগবে, নির্দিষ্ট মোতায়েনের সীমা কী হবে বা আন্তর্জাতিকভাবে কীভাবে এটি সমন্বিত হবে। সম্ভাব্য কোনো উৎক্ষেপণের আগে কোন পরিবেশগত বা কক্ষপথগত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা দরকার, তার পূর্ণ বিবরণও নেই।

শাসনব্যবস্থার চ্যালেঞ্জও আছে। গ্রহব্যাপী জরুরি অবস্থায় পৃথিবীর কাছের মহাশূন্যের অবস্থা বদলানোর জন্য তৈরি একটি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সম্ভবত বিস্তৃত আন্তর্জাতিক আস্থার প্রয়োজন হবে, বিশেষত যদি এটি শেয়ার করা কক্ষীয় অঞ্চল বা সীমান্তজুড়ে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে প্রভাবিত করে। পদার্থবিদ্যা সঠিক প্রমাণিত হলেও, ভবিষ্যতের StormWall কর্মসূচির জন্য অ্যারোস্পেস কাঠামোর পাশাপাশি নীতিগত কাঠামোও দরকার হবে।

তবু এই প্রস্তাব উচ্চাকাঙ্ক্ষায় একটি লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখায়। সৌর মহাতুফানকে কেবল অনিবার্য প্রাকৃতিক বিপদ হিসেবে মেনে নেওয়ার বদলে, গবেষকেরা প্রশ্ন করছেন পৃথিবীর চারপাশের মহাশূন্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে গঠন করা যায় কি না যাতে ক্ষতি কমে। এটুকুই StormWall-কে স্পেস-ওয়েদার ভাবনার পরবর্তী দিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত করে তোলে।

এই নিবন্ধটি Live Science-এর প্রতিবেদনভিত্তিক। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on livescience.com