একটি পুরোনো প্রতিশ্রুতি আবার ক্লিনিকে ফিরে এসেছে
বার্ধক্য গবেষণায় ভাঙা প্রতিশ্রুতির অভাব নেই। এই ক্ষেত্র বারবার এমন সব যৌগ ও প্রক্রিয়াকে সামনে এনেছে যা তত্ত্বে বিপ্লবী লাগলেও বাস্তবে কম ফল দিয়েছে। আংশিক পুনঃপ্রোগ্রামিং নিয়ে নতুন আগ্রহের ঢেউকে উল্লেখযোগ্য করে তুলেছে এটাই। দেওয়া New Scientist উৎস অনুযায়ী, বয়স-সম্পর্কিত দৃষ্টিজনিত সমস্যাকে লক্ষ্য করে একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখন জীববিজ্ঞানের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পুনর্যৌবন-ধারণাগুলোর একটিকে আবারও গভীর পর্যবেক্ষণের আওতায় এনেছে।
এই ধারণার উৎস 2006 সালের Shinya Yamanaka এবং Kazutoshi Takahashi-র যুগান্তকারী আবিষ্কার। তাঁরা দেখিয়েছিলেন, চারটি জিন যুক্ত করে পরিণত কোষকে induced pluripotent stem cells-এ ফিরিয়ে আনা যায়। এই আবিষ্কার পুনর্জননমূলক চিকিৎসাকে বদলে দেয়, কারণ এটি প্রমাণ করে যে বিশেষায়িত প্রাপ্তবয়স্ক কোষ তাদের চূড়ান্ত পরিচয়ে বন্দি নয়। নীতিগতভাবে, তাদেরকে আরও তরুণ, আরও নমনীয় অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
পূর্ণ পুনঃপ্রোগ্রামিং কেন উত্তর ছিল না
induced pluripotent stem cells-এর তাৎক্ষণিক চিকিৎসাগত আকর্ষণ স্পষ্ট ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু যদি রোগীর নিজের শরীর থেকে তৈরি নতুন কোষ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যায়, তবে অনেক অবক্ষয়জনিত রোগ চিকিৎসাযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এই পদ্ধতির শক্তির মধ্যেই একটি সমস্যা ছিল। কোনো কোষকে পুরোপুরি রিসেট করলে সেই পরিচয়ই মুছে যায় যা একটি হৃদ্কোষকে হৃদ্কোষ এবং একটি রেটিনাল কোষকে রেটিনাল কোষ করে তোলে। এতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়, বিশেষ করে শরীরের ভেতরে সরাসরি ব্যবহারের ক্ষেত্রে।
আংশিক পুনঃপ্রোগ্রামিং হলো সেই রিসেটের পুনর্যৌবনকারী দিকটি ধরার চেষ্টা, কিন্তু কোষকে ভ্রূণ-সদৃশ অবস্থায় পুরোপুরি ফিরিয়ে না আনা। ধারণাটি হলো কোষীয় বার্ধক্যের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্টো পথে ফেরানো, অথচ কোষের মূল কাজ অক্ষুণ্ণ রাখা। এটি যদি নির্ভরযোগ্যভাবে করা যায়, তবে এর প্রভাব হবে ব্যাপক: ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু নতুন করে তৈরি না করেও আবার কাজ করতে পারবে।


