এআই-এর সম্পদক্ষুধা নিয়ে নতুন জাতিসংঘ সতর্কতা বিষয়টিকে আরও তীক্ষ্ণভাবে সামনে এনেছে
প্রদত্ত উৎস পাঠ অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের বিদ্যুতের ৩% পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে। একই প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে এআই-এর নিঃসরণ যুক্তরাজ্যের সমতুল্য একটি স্তরে পৌঁছাতে পারে এবং শীতলীকরণের জন্য ব্যবহৃত পানি বিশ্বের জনসংখ্যার বার্ষিক পানযোগ্য পানির চাহিদাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এটি গুরুতর কিছু দাবি, এবং “আরও দক্ষ মডেল সমস্যা মিটিয়ে দেবে” - এমন পরিচিত ধারণার বাইরে বিতর্ককে ঠেলে দেয়। উৎস উপাদানের মূল যুক্তি হলো, দক্ষতা একাই মোট সম্পদ ব্যবহার কমাতে নাও পারে। বরং এআই যত সস্তা ও ব্যবহারযোগ্য হবে, চাহিদা তত দ্রুত বাড়তে পারে, ফলে মোট শক্তি ও পানি ব্যবহারও তীব্রভাবে বেড়ে যেতে পারে।
জেভন্সের প্যারাডক্স এআই-এর ওপর প্রয়োগ হচ্ছে
প্রতিবেদনটি স্পষ্টভাবে এআই-কে জেভন্সের প্যারাডক্সের সঙ্গে যুক্ত করেছে, অর্থনৈতিক সেই নীতি যেখানে দক্ষতা বৃদ্ধি মোট সম্পদ ব্যবহার কমানোর বদলে বাড়িয়ে দিতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে ধারণাটি কয়লার সঙ্গে সম্পর্কিত: কোনো সম্পদকে ব্যবহার করা সহজ বা সস্তা করলে তা আরও বেশি ব্যবহৃত হতে পারে, কম নয়। এআই-তে এটি প্রয়োগ করলে সতর্কবার্তাটি সরল। উন্নত মডেল, সস্তা ইনফারেন্স, এবং বিস্তৃত ব্যবহার এমন গতিতে ব্যবহারের ক্ষেত্র বাড়াতে পারে যে প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে হওয়া সাশ্রয় মুছে যেতে পারে।
এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এআই নিয়ে শক্তি-আশাবাদ প্রায়ই একটি পরিষ্কার অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে: মডেল যত উন্নত হবে, একটি কাজ করতে তত কম সম্পদ লাগবে, ফলে পরিবেশগত সমস্যা কমে যাবে। জাতিসংঘের যুক্তি হলো, এই ধারণা অসম্পূর্ণ। সম্পদ ব্যবহার নির্ধারিত হয় শুধু কাজপ্রতি দক্ষতায় নয়, বরং পুরো সিস্টেম জুড়ে কাজ, অ্যাপ্লিকেশন, এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা গুণিতক আকারে বাড়ার মাধ্যমে।
এই বিতর্ক কেন বদলাচ্ছে
গত কয়েক বছর ধরে এআই আলোচনা মূলত ক্ষমতা, প্রতিযোগিতা, নিরাপত্তা, এবং শ্রম-প্রভাবের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল। অবকাঠামোগত উদ্বেগগুলোকে প্রায়ই গৌণ হিসেবে দেখা হয়েছে। এখন তা বলা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। ডেটা সেন্টার, কুলিং সিস্টেম, এবং বিদ্যুৎ চাহিদা এআই স্থাপনের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে ক্রমশ কেন্দ্রস্থ হয়ে উঠছে।
উৎস পাঠে শক্তি ব্যবহার, নিঃসরণ, এবং পানি ব্যবহারকে একসঙ্গে যুক্ত করে এই পরিবর্তনটি দেখানো হয়েছে। বিদ্যুৎ কেবল ছবির একটি অংশ। কুলিংয়ের চাহিদা স্থানীয় চাপ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যেখানে জলব্যবস্থা আগেই চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই দ্রুত প্রসারমান একটি প্রযুক্তি-স্তর শুধু গ্রিড নয়, ভূমি ব্যবহার, অনুমোদন, আঞ্চলিক পানি পরিকল্পনা, এবং জনস্বীকৃতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।
প্রতিবেদনটির বিস্তৃত নীতিগত বার্তা
উৎস উপাদানের সারাংশ অনুযায়ী, জাতিসংঘের প্রতিবেদন সতর্কতায় থেমে নেই। এটি দায়িত্বশীল এআই ব্যবহারের জন্য নীতিমালা তুলে ধরেছে: স্বচ্ছতা, নকশার মধ্যেই দক্ষতা, সমতা ও ন্যায়বিচার, জীবনচক্র-দায়িত্ব, বৈশ্বিক সহযোগিতা, এবং টেকসই ব্যবহার। এগুলো বিস্তৃত শব্দ, তবে সুরে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে। বার্তাটি এখন শুধু এই নয় যে এআই শক্তিশালী বা নিরাপদ হওয়া উচিত। বরং এটিও যে, পরিমাপযোগ্য ভৌত খরচসহ একটি শিল্পব্যবস্থা হিসেবে এআই-কে শাসনযোগ্য হওয়া উচিত।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্নির্মাণ। ডিজিটাল প্রযুক্তিকে প্রায়ই এমনভাবে আলোচনা করা হয় যেন তাদের প্রভাব বেশিরভাগই ভার্চুয়াল। বাস্তবে, এআই অনেকটাই ভৌত অবকাঠামোর ওপর চলে: বিদ্যুৎকেন্দ্র, চিপ, কুলিং লুপ, ভবন, এবং ট্রান্সমিশন লাইন। গ্রহণের মাত্রা যথেষ্ট বড় হলে, পরিবেশগত হিসাব-নিকাশ একটি প্রথম-স্তরের নীতিগত বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, ফুটনোট নয়।
এই সতর্কবার্তা কী বোঝায় না
প্রতিবেদনের দাবিগুলোকে এআই-বিরোধী সামগ্রিক যুক্তি হিসেবে ভুল বোঝা উচিত নয়। উৎস পাঠ এমনটা বলেনি। বরং এটি একটি নির্দিষ্ট আত্মতুষ্টিকে চ্যালেঞ্জ করছে: এই ধারণা যে দক্ষতা বাড়লেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পদের চাপ কমে যাবে। এআই বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক, এবং কার্যকরী সুবিধা দিতে পারে, আবার একই সঙ্গে গুরুতর অবকাঠামোগত বোঝাও তৈরি করতে পারে। এই দুই বাস্তবতা একসঙ্গে থাকতে পারে।
এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সরল বিতর্ক প্রায়ই দুই চরমে গিয়ে ঠেকে। এক পক্ষ মনে করে অবকাঠামোগত খরচ যাই হোক, এআই-এর বৃদ্ধি স্বভাবতই মূল্যবান। অন্য পক্ষ পরিবেশগত প্রভাবকে দেখে প্রমাণ হিসেবে যে প্রযুক্তিটিকে সামগ্রিকভাবে সীমিত করা উচিত। জাতিসংঘের দৃষ্টিভঙ্গি আরও বাস্তবসম্মত। এটি নীতিনির্ধারক ও শিল্পকে খরচ সততার সঙ্গে হিসাব করতে এবং যেখানে সম্ভব সেভাবেই নকশা করতে বলে।
এআই নীতির পরের ধাপ শুধু ক্ষমতা নয়, সীমা নিয়েও
যদি ২০৩০ সালের মধ্যে এআই বিদ্যুৎ চাহিদা বিশ্বব্যাপী ব্যবহারের ৩%-এ পৌঁছে যায়, তবে এর প্রভাব প্রযুক্তি খাতের অনেক বাইরে যাবে। ইউটিলিটি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পরিবেশ সংস্থা, এবং শিল্প-পরিকল্পনাকারীরা এমন সিদ্ধান্তে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়বে, যেগুলো আগে কম্পিউটিং কোম্পানির অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করা হতো। ডেটা সেন্টার কোথায় হবে, কীভাবে বিদ্যুৎ পাবে, কীভাবে শীতল হবে, আর কোন ওয়ার্কলোড সম্পদের এই ব্যবহারকে ন্যায্যতা দেয় - এসব প্রশ্ন আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পাবে।
জাতিসংঘের সতর্কবার্তার গভীর তাৎপর্য হলো, এটি এআই-কে শুধু সফটওয়্যার অর্থনীতির অংশ নয়, বিশ্বের ভৌত অর্থনীতিরও অংশ হিসেবে দেখে। ক্ষেত্রটিকে দেখার এটি আরও পরিণত উপায়। নির্দিষ্ট সংখ্যাগুলো ঠিক থাকুক বা বদলাক, প্রতিবেদনে বর্ণিত প্রবণতা একটি কঠিন প্রশ্ন তুলতে যথেষ্ট: শুধু এআই কী করতে পারে তা নয়, বরং সমাজ তার চারপাশে কী ধরনের শক্তি ও পানি ব্যবস্থা গড়তে প্রস্তুত।
এই নিবন্ধটি Live Science-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধ পড়ুন.
Originally published on livescience.com

