শহরগুলোর প্রয়োজনীয় সব প্রশ্নের উত্তর বন্যার মানচিত্র দেয় না

তীব্র বৃষ্টি কোনো শহরে আঘাত হানলে কোথায় পানি জমতে পারে তা মানচিত্রে দেখানো জরুরি, কিন্তু এটিই সম্পূর্ণ নয়। হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের Malte von Szombathely-এর নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন গবেষণায় পৃথক ভবনের স্তরে নগর বন্যার ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য বন্যার বিপদকে এক্সপোজার এবং সামাজিক দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

Climate Risk Management-এ প্রকাশিত এই কাঠামোটি শুধু পানির সম্ভাব্য গতিপথ দেখানোর জন্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে কারা বসবাস করেন, বন্যা কীভাবে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করতে পারে এবং কোথায় অতিরিক্ত সহায়তা সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে—এসবও এতে বিবেচনা করা হয়। মানুষ, সম্পত্তি ও চলাচলের ওপর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে পরিকল্পনাবিদদের আরও বিস্তারিত ধারণা দেওয়াই এর লক্ষ্য।

ঝুঁকির মানচিত্রকে সম্পূর্ণ ঝুঁকি মূল্যায়ন হিসেবে না দেখার সতর্কতাও গবেষণার কেন্দ্রীয় ফলাফল। বেশি বন্যা-ঝুঁকির অঞ্চল সবসময় বেশি সামাজিক দুর্বলতার অঞ্চলের সঙ্গে মেলে না। অর্থাৎ সম্ভাব্য প্লাবন শনাক্ত করা মানচিত্র একাই বলতে পারে না কোন মানুষ বা সম্প্রদায় সবচেয়ে গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে পারে।

ভবন পর্যায়ে ১০০ বছরের বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি

মূল্যায়নে ঘণ্টায় ৩৬ মিলিমিটার, অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ১.৪ ইঞ্চি বৃষ্টিপাতের একটি নির্দিষ্ট ১০০ বছরের ঘটনা মডেল করা হয়েছে। বিস্তৃত পাড়া-ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিতে থেমে না থেকে পৃথক ভবনের স্তরে ঝুঁকি মানচিত্রায়ন করা হয়েছে। এই সূক্ষ্ম মাত্রা বৃহত্তর মানচিত্রে আড়াল হয়ে থাকা স্থানীয় হটস্পট ও বৈষম্য প্রকাশ করতে পারে।

একই পাড়ার মধ্যেও বন্যার পরিণতি ভিন্ন হতে পারে। ভবনগুলো ভিন্ন মাত্রার বিপদ ও এক্সপোজারের মুখোমুখি হতে পারে, আর সেগুলো ব্যবহারকারী মানুষের সামাজিক অবস্থাও আলাদা হতে পারে। তাই কোথায় আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ বা লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে তা শনাক্ত করতে ভবনভিত্তিক পদ্ধতিটি শহরগুলোকে সাহায্য করার জন্য তৈরি।

গবেষণাটি ঝুঁকির দুটি রূপ আলাদা করে। একটি সূচক মানুষ ও সম্পত্তির সম্ভাব্য ক্ষতি অনুমান করে। দ্বিতীয়টি ভবনে প্রবেশ বা বের হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে পৌঁছানোর বাধা পরীক্ষা করে। উভয়টি বিবেচনা করলে নগর বন্যার বাস্তবতা স্পষ্ট হয়: পানির সরাসরি ক্ষতি কোনো ঘটনার একমাত্র অংশ নয়। প্লাবিত রাস্তা ও বন্ধ পথ মানুষকে পরিষেবা, কাজ, যত্ন এবং অন্যান্য জরুরি গন্তব্য থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে।

এক্সপোজারে সামাজিক মাত্রা যোগ করা

সামাজিক দুর্বলতা এই কাঠামোর মূল উপাদান। বয়স, আয় ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন সূচক ব্যবহার করে গবেষণাটি এমন স্থান শনাক্ত করে যেখানে সামাজিক পরিস্থিতি বন্যার এক্সপোজারকে আরও তীব্র করতে পারে। বিশ্লেষণে এসব কারণ যুক্ত করার উদ্দেশ্য অভিযোজন পরিকল্পনায় দুর্বল জনগোষ্ঠীকে আরও দৃশ্যমান করা।

এর অর্থ এই নয় যে উচ্চ-ঝুঁকির এলাকার প্রতিটি ভবনের সামগ্রিক ঝুঁকি সমান, কিংবা প্রতিটি সামাজিকভাবে দুর্বল এলাকার বন্যার বিপদ একই। কাঠামোটির মূল্য হলো এসব মাত্রার পারস্পরিক সম্পর্ক পরীক্ষা করা, কোনো একটি মাত্রাকে অন্য সব কিছুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা নয়।

শহর কর্তৃপক্ষের জন্য এই পার্থক্য সীমিত সম্পদ কীভাবে বণ্টন করা হবে তা প্রভাবিত করতে পারে। বন্যার মডেল নিষ্কাশন, বাধা বা পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৌশল সিদ্ধান্তে সহায়তা করতে পারে। সামাজিক ঝুঁকি মূল্যায়ন জনসম্পৃক্ততা, জরুরি পরিকল্পনা, প্রবেশাধিকার সহায়তা বা অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থায় কোথায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত তাও জানাতে পারে। গবেষণাটি এগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, পরস্পর-পরিপূরক প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

বিপদসংক্রান্ত তথ্য থেকে দৈনন্দিন জীবনের পরিণতি

উচ্চ-রেজোলিউশনের মানচিত্র আলোচনার পরিসর বদলে দেয়। শুধু কোন জেলা ঝুঁকিতে আছে তা না জিজ্ঞেস করে পরিকল্পনাবিদরা ভবনভিত্তিক সম্ভাব্য পরিণতি পরীক্ষা করতে পারেন। একই বৃষ্টির পরিস্থিতিতেও কাছাকাছি দুটি স্থানের জন্য ভিন্ন প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে—এটি বোঝা সহজ হয়।

এ ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার-কেন্দ্রিক সূচকটি বিশেষভাবে উপযোগী। কোনো ভবন সরাসরি সবচেয়ে বড় আঘাত এড়ালেও আশপাশের পথ প্লাবিত হলে সেখানে পৌঁছানো বা বের হওয়া কঠিন হতে পারে। বিপরীতে, পানির এক্সপোজারের মুখে থাকা কোনো স্থানের অবকাঠামো বা পরিষেবার সঙ্গে অন্য স্থানের তুলনায় ভালো যোগাযোগ থাকতে পারে। চলাচল ও প্রবেশাধিকারকে বন্যার ঝুঁকির অংশ হিসেবে দেখলে বিশ্লেষণ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব থেকে দৈনন্দিন জীবনের ধারাবাহিকতার দিকে বিস্তৃত হয়।

একটি মডেলই সব পরিকল্পনাগত সিদ্ধান্তের সমাধান করতে পারে—গবেষণাটি এমন দাবি করে না। বরং আরও সম্পূর্ণ প্রশ্ন করার জন্য এটি একটি কাঠামো দেয়। এর রেজোলিউশন ও সূচকগুলোর সমন্বয়ই মূল বৈশিষ্ট্য: বিপদ, এক্সপোজার ও দুর্বলতাকে একসঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়, আর সরাসরি ক্ষতি ও প্রবেশাধিকার ব্যাহত হওয়াকে পৃথক কিন্তু সম্পর্কিত ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়।

আরও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযোজনের একটি সরঞ্জাম

নগর অভিযোজন পরিকল্পনায় অবকাঠামোর প্রয়োজন ও সামাজিক অগ্রাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়। গবেষণাটির অবদান হলো একটি শহরব্যাপী মূল্যায়নে এসব বিষয়কে একত্র করা এবং একই সঙ্গে ভবন পর্যায়ের বিস্তারিত বজায় রাখা। এতে সিদ্ধান্তগ্রহণকারীরা বুঝতে পারেন কোথায় সাধারণ বন্যা-সুরক্ষা কৌশলের সঙ্গে এমন ব্যবস্থা যুক্ত করা দরকার, যা কোনো ঘটনার সময় অতিরিক্ত সমস্যায় পড়তে পারেন এমন মানুষদের লক্ষ্য করে।

চরম বৃষ্টিপাত যখন শহরগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে, তখন বাস্তব শিক্ষা শুধু আরও বিস্তারিত পানির মানচিত্র তৈরি করা নয়। বন্যার মডেলকে বন্যায় প্রভাবিত মানুষ ও তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করাই গুরুত্বপূর্ণ। বন্যা কোথায় ঘটতে পারে এবং এর পরিণতির মুখে কারা সবচেয়ে বেশি পড়তে পারেন—ঝুঁকি বোঝার জন্য এই দুই অংশই প্রয়োজন বলে হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বাধীন কাজটি বলছে।

এই নিবন্ধটি Phys.org-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে তৈরি। মূল নিবন্ধ পড়ুন।

Originally published on phys.org