দিল্লিতে মৌসুমি দূষণ মোকাবিলা শুরু
শীতের আগে নয়াদিল্লিতে বিষাক্ত বায়ুদূষণ কমাতে ভারত বার্ষিক পদক্ষেপ শুরু করেছে। দিল্লি সরকার খোলা জায়গায় আবর্জনা পোড়ানো নিষিদ্ধ করেছে এবং খাবারের দোকানগুলোকে কয়লা বা জ্বালানি কাঠ ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বলে Phys.org-এ প্রকাশিত AFP-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আরও বিধিনিষেধ ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এর মধ্যে পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা, সরকারি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ এবং নির্মাণকাজে কঠোর নিয়ম রয়েছে। ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্মাণ ও ভাঙার কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শীতের পরিস্থিতিতে দূষণ আটকে যায়
ঠান্ডা বাতাস দূষককে মাটির কাছাকাছি আটকে রাখায় শীতে দিল্লির বায়ুদূষণ আরও তীব্র হয়। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যানবাহন, নির্মাণকাজ এবং প্রতিবেশী এলাকায় ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোকে প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে কণাদূষণ প্রতি ঘনমিটারে ২৩৩ মাইক্রোগ্রাম রেকর্ড হয়, যা WHO-র প্রস্তাবিত দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রার প্রায় ১৫ গুণ। আগামী কয়েক দিন বায়ুর মান খারাপ থাকবে বলে Commission for Air Quality Management পূর্বাভাস দিয়েছে।
আগের শীতগুলোতে PM2.5-এর মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ৩০০ মাইক্রোগ্রাম ছাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর তা ৮৪৬ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছেছিল—WHO-র সীমার ৫৬ গুণ।
সবচেয়ে খারাপ মাসের আগে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা
নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে দূষণ সাধারণত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে নতুন বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে। খোলা জায়গায় আবর্জনা পোড়ানো বন্ধের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ধোঁয়ার একটি উৎসকে লক্ষ্য করছে; খাবারের দোকানে কয়লা ও কাঠ নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্য দহনজনিত নির্গমন কমানো।
নভেম্বর থেকে পার্কিং ফি বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মীদের দূর থেকে কাজের ব্যবস্থা যানবাহনের নির্গমন কমাতে সাহায্য করবে। একই সময়ে নির্মাণের নিয়ম কঠোর হবে এবং পরে নির্মাণ ও ভাঙার মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
পরিবহন, নির্মাণ, বাণিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহার, শিল্প এবং আশপাশের এলাকা থেকে আসা নির্গমন—সবই দিল্লির দূষণ সমস্যার অংশ বলে এই পদক্ষেপগুলো দেখায়। তবে আগের বছরের ব্যবস্থা তীব্র দূষণ ঠেকাতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি এখনও কেন্দ্রে
PM2.5 নামে পরিচিত সূক্ষ্ম কণাগুলো ফুসফুসের গভীরে ঢুকতে পারে এবং গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবেদনে দিল্লিতে মাপা কণাগুলোকে ক্যানসারসৃষ্টিকারী বলা হয়েছে।
The Lancet Planetary Health-এ প্রকাশিত ২০২৪ সালের এক গবেষণায় অনুমান করা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতে ৩৮ লাখ মৃত্যু দেশের নিজস্ব বায়ুমান নির্দেশিকার চেয়ে বেশি দূষণের সঙ্গে যুক্ত ছিল। জাতিসংঘের শিশু সংস্থাও সতর্ক করেছে যে দূষিত বাতাস শিশুদের তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
- দিল্লি খোলা জায়গায় আবর্জনা পোড়ানো এবং খাবারের দোকানে কয়লা বা কাঠ জ্বালানো নিষিদ্ধ করেছে।
- পার্কিং ফি, সরকারি কর্মীদের দূরবর্তী কাজ এবং কঠোর নির্মাণ নিয়ম ১ নভেম্বর থেকে শুরু হবে।
- নির্মাণ ও ভাঙার কাজ বন্ধ থাকবে ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত।
- নিকট ভবিষ্যতে বায়ুর মান খারাপ থাকবে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন।
নীতির জন্য বারবারের পরীক্ষা
দিল্লির শীতকালীন ব্যবস্থা এককালীন ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়; এটি পুনরাবৃত্ত পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সংকটের জবাব। বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি দূষণ ছড়িয়ে পড়া কঠিন করে তোলার আগে স্থানীয় নির্গমন কমানোর চেষ্টা করছে এই পরিকল্পনা।
ফলাফল শুধু ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার ওপর নয়, সেগুলোর বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন উৎসের নির্গমনের ওপরও নির্ভর করবে। PM2.5-এর মাত্রা WHO-র মানের অনেক ওপরে থাকায় আসন্ন শীত আবার পরীক্ষা করবে দিল্লি ধোঁয়াশার তীব্রতা ও স্থায়িত্ব কমাতে পারে কি না।
এই নিবন্ধটি Phys.org-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি। মূল নিবন্ধ পড়ুন।
Originally published on phys.org


