ভিড়ভাট্টা উপনিবেশে পরিচয় শনাক্তকরণ

একই আশ্রয় ভাগ করে নেওয়া অনেক প্রাণীর মধ্যে মা বাদুড়দের নিজের শাবককে আলাদা করে চিনতে হতে পারে। জাপানি হাউস ব্যাট নিয়ে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরিচয় শনাক্তকরণের একটি পরিমাপযোগ্য শারীরবৃত্তীয় চিহ্ন রয়েছে: নিজের শাবকের বিচ্ছিন্নতার ডাক শুনলে মায়েদের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।

অন্য বাদুড়ের শাবকদের ডাক শুনলে একই প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কোনো শাবক দুর্দশা বা বিচ্ছিন্নতার সংকেত দিলে মা বাদুড়ের শরীরের ভিতরে কী ঘটে, এই ফল তা বোঝার সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে এটি এই ধারণাকে সমর্থন করে যে শাবকদের ডাকে এমন ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য থাকে, যা মায়েরা চিনতে পারেন।

গবেষণাটি একটি পরীক্ষাগার পর্যবেক্ষণ দিয়ে শুরু হয়। কোনো শাবক তার আশ্রয়স্থল থেকে বিচ্ছিন্ন হলে তাকে ফিরিয়ে আনতে সঙ্গে সঙ্গে শুধু তার জৈবিক মা-ই এগিয়ে যেতেন বলে জানান Doshisha University-এর প্রধান লেখক Kazuki Yoshino-Hashizawa। এই বাছাই করা আচরণ গবেষকদের ভাবায়, এই ডাক শুনলে মায়েদের ভিতরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া ঘটে।

বিচ্ছিন্নতার ডাক একটি সংকেত হিসেবে কাজ করে

মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে ছোট বাদুড়েরা বিচ্ছিন্নতার ডাক দেয়। অন্ধকার উপনিবেশে মা যাতে নিজের শাবককে খুঁজে পেতে পারেন, সেই সতর্কতামূলক ধ্বনি-ভিত্তিক দুর্দশার সংকেত হিসেবে গবেষকেরা এই ডাককে বর্ণনা করেছেন। ডাকগুলিতে ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য থাকে, ফলে মায়েরা শাবকদের আলাদা করতে পারেন।

দুধ খাওয়ানো মায়ের জন্য এই পার্থক্য শনাক্তকরণের ব্যবহারিক গুরুত্ব আছে। নিজের শাবককে খুঁজে তার যত্ন নেওয়া তার বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। একটি ভাগ করা উপনিবেশে শত শত বাদুড় থাকতে পারে, তাই যে কোনো শাবকের ডাকে সাড়া দিলে গবেষণায় দেখা সেই একই কেন্দ্রীভূত মাতৃসুলভ যত্ন পাওয়া যাবে না।

হৃদস্পন্দনের এই ফল আচরণগত পর্যবেক্ষণকে প্রতিস্থাপন করে না; বরং তাতে আরেকটি স্তর যোগ করে। এটি ইঙ্গিত দেয়, নিজের শাবকের ডাক শুধু এমন শব্দ নয় যা মাকে নড়াচড়া করতে প্ররোচিত করে; এর সঙ্গে মায়ের একটি স্বতন্ত্র শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়াও যুক্ত।

গবেষকেরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করেছিলেন

গবেষক দল Doshisha University-এর কাছে আশ্রয় নেওয়া একটি উপনিবেশ থেকে চারটি গর্ভবতী বাদুড় ধরে। প্রতিটি বাদুড় তিনটি করে শাবকের জন্ম দেয়। শাবকদের বয়স যখন দুই দিন, তখন গবেষকেরা তাদের বিচ্ছিন্নতার ডাকের নমুনা রেকর্ড করেন।

গবেষণা দল শুধু পুরুষ শাবকদের ডাক রেকর্ড করে। কিছু দলে স্ত্রী শাবক ছিল না, আর শাবকের লিঙ্গ-সম্পর্কিত ভিন্নতা বাদ দিতে রেকর্ডিং পুরুষ শাবকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। এরপর বিজ্ঞানীরা হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করতে করতে মায়েদের নিজের শাবক এবং অন্য বাদুড়ের শাবকের ডাক শোনান।

অন্য শাবকদের ডাক শুনলে মায়েরা নিজের শাবকের ডাকে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তা দেখাননি। নিজের শাবকের শব্দ মায়ের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। এই তুলনাটি গবেষণার কেন্দ্রে রয়েছে, কারণ এটি প্রতিক্রিয়াকে সাধারণ বিচ্ছিন্নতার ডাকের সঙ্গে নয়, ডাকদাতার পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে।

বিকাশের একটি সংক্ষিপ্ত ও পরিবর্তনশীল পর্যায়

এই ডাক ব্যবহারের সময়কাল সংক্ষিপ্ত। শাবকেরা দ্রুত বেড়ে ওঠে। প্রায় আট দিন বয়সে তারা প্রথম প্রতিধ্বনি-নির্ণয় ডাক তৈরি করতে শুরু করে। প্রায় 12 দিন বয়সে তারা বিচ্ছিন্নতার ডাক দেওয়া বন্ধ করে। 30 দিন বয়সে তারা উড়তে এবং বড় বাদুড়ের মতো প্রতিধ্বনি-নির্ণয় ডাক দিতে পারে; তখন তারা আর মায়েদের সঙ্গে আশ্রয়ে থাকে না।

এই পরিবর্তনগুলো মাতৃসুলভ প্রতিক্রিয়াকে একটি নির্দিষ্ট বিকাশকালীন পর্যায়ে স্থাপন করে: জীবনের প্রথম দিকে, যখন শাবকেরা মায়ের ওপর নির্ভরশীল এবং বিচ্ছিন্ন হলে বিচ্ছিন্নতার ডাক ব্যবহার করে। তাই ডাকগুলো এমন একটি পর্যায়ের সঙ্গে যুক্ত, যখন দ্রুত পুনর্মিলন তরুণ প্রাণীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

গবেষণাটি উৎসে বর্ণিত বাদুড়ের কণ্ঠস্বর-ভিত্তিক আচরণের দুই ধরনের পার্থক্যও স্পষ্ট করে। বিচ্ছিন্নতার পর ছোট শাবকেরা বিচ্ছিন্নতার ডাক ব্যবহার করে। পরে শাবকের বিকাশের সঙ্গে প্রতিধ্বনি-নির্ণয় ডাক দেখা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তা বড় বাদুড়ের ডাকার মতো হয়ে ওঠে। গবেষণার হৃদস্পন্দন মাপা হয়েছে আগের বিচ্ছিন্নতার ডাক নিয়ে।

ফলাফলটি কী যোগ করে

ফলাফল মায়ের হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন এবং কোনো মায়ের নিজের শাবকদের ডাকের মধ্যে একটি সম্পর্ক দেখায়। এতে প্রমাণ হয় না যে প্রতিটি মাতৃসুলভ সিদ্ধান্ত বা কাজ হৃদস্পন্দন বাড়ার কারণে ঘটে। তবে শাবককে ফিরিয়ে আনার আচরণে দেখা বাছাই করা প্রতিক্রিয়া এবং শাবকের ডাকে ব্যক্তিগত ধ্বনি-স্বাক্ষর থাকার দাবির সঙ্গে এই প্রবণতা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রাণী আচরণ গবেষণার ক্ষেত্রে এই কাজ দেখায়, একটি সামাজিক সংকেতকে একাধিক স্তরে মূল্যায়ন করা যায়। কোনো প্রাণী শাবকের দিকে এগিয়ে যায় কি না, গবেষকেরা তা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন; আবার অর্থপূর্ণ কোনো সংকেত শোনার সময় ঘটে যাওয়া শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনও মাপতে পারেন। এখানে দুই ধরনের প্রমাণই জাপানি হাউস ব্যাটদের মধ্যে অত্যন্ত নির্দিষ্ট মা–শাবক পরিচয় শনাক্তকরণের দিকে ইঙ্গিত করে।

গবেষণাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ চ্যালেঞ্জটি শুধু ডাক শোনা নয়। ব্যস্ত উপনিবেশে সঠিক ডাকটি শনাক্ত করাও জরুরি। অন্য শাবকদের ডাকে মায়েদের প্রতিক্রিয়া না থাকা এবং নিজের শাবকের ডাকে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া ইঙ্গিত দেয়, জৈবিক সম্পর্কটি যেকোনো বিপদগ্রস্ত তরুণ বাদুড়ের প্রতি সাধারণ প্রতিক্রিয়া নয়, বরং বাছাই করা প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশ পায়।

অভিভাবকীয় পরিচয় শনাক্তকরণের একটি কেন্দ্রীভূত দৃষ্টিভঙ্গি

গবেষণাটি দাবি করে না যে শুধু হৃদস্পন্দন মাতৃসুলভ যত্নের ব্যাখ্যা দেয়। বরং কোনো মা নিজের শাবকের ব্যক্তিগত ডাক শুনলে কী ঘটে, তার একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ এটি দেয়। উপনিবেশে কোনো অভিভাবককে সঠিক তরুণ প্রাণীকে খুঁজে তার যত্ন নিতে হয়—এই পরিচিত পরিবেশগত সমস্যার সঙ্গে গবেষণাটি শারীরবৃত্তীয় প্রমাণ যোগ করেছে।

শাবকেরা পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিধ্বনি-নির্ণয় শুরু করে, উড়তে শেখে এবং মায়েদের সঙ্গে আশ্রয়ে থাকা বন্ধ করে; ফলে এই ধরনের যোগাযোগের প্রয়োজন বদলে যায়। তবে জীবনের প্রথম দিনগুলোতে বিচ্ছিন্নতার ডাক একটি লক্ষ্যভিত্তিক সংকেত দেয় বলে মনে হয়—আর সংকেতটি নিজের শাবকের কাছ থেকে এলে মায়েদের হৃদস্পন্দন সবচেয়ে জোরালোভাবে সাড়া দেয়।

এই নিবন্ধটি Phys.org-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে লেখা। মূল নিবন্ধ পড়ুন।

Originally published on phys.org