অ্যান্ডিজ ভাইরাস সংক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ স্পষ্ট করেছে গবেষণা

আলবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অব মেডিসিন এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা বর্ণনা করেছেন, মানবকোষের পৃষ্ঠে থাকা একটি রিসেপ্টরকে অ্যান্ডিজ ভাইরাস কীভাবে শনাক্ত করে। Nature-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় PCDH1-এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি কোষের পৃষ্ঠের একটি প্রোটিন, যেটিকে দলটি আগে সংক্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় হিসেবে শনাক্ত করেছিল।

এই ফলাফল অ্যান্ডিজ ভাইরাসের জীববিদ্যার একটি কেন্দ্রীয় প্রশ্নের উত্তর দেয়: ভাইরাসটি কোন মানবকোষীয় প্রোটিন ব্যবহার করে, শুধু তা নয়, ভাইরাসটি কীভাবে শারীরিকভাবে সেই লক্ষ্যকে আঁকড়ে ধরে সেটিও। গবেষকদের মতে, সদ্য বর্ণিত এই মিথস্ক্রিয়া সংক্রমণের সময় ভাইরাসের রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এক অস্বাভাবিক পদ্ধতি প্রকাশ করে এবং সেই দুর্বলতাকে কেন্দ্র করে তৈরি চিকিৎসার পথ দেখাতে পারে।

অ্যান্ডিজ ভাইরাস হান্টাভাইরাস পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, যে পরিবারটি প্রধানত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে বহন হয়। কিছু হান্টাভাইরাস হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম ঘটাতে পারে; এটি একটি গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের রোগ, যা দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যর্থতায় রূপ নিতে পারে। সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মূত্র, মল বা লালার সঙ্গে যুক্ত ভাইরাস কণা শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে মানুষ আক্রান্ত হয়।

অ্যান্ডিজ ভাইরাস নিয়ে বিশেষ উদ্বেগের কারণ

২০টিরও বেশি হান্টাভাইরাস মানুষের মধ্যে রোগ সৃষ্টি করে বলে জানা যায়। তবে অ্যান্ডিজ ভাইরাসের একটি স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে: মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে—এমন একমাত্র পরিচিত হান্টাভাইরাস এটি। সূত্র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংক্রমণ সাধারণত ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শে ঘটে।

২০২৬ সালের শুরুর দিকে একটি ক্রুজ জাহাজে প্রাদুর্ভাবের সময় এই সক্ষমতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রাদুর্ভাবে তিনজন যাত্রী মারা যান এবং আরও ১৩ জন অসুস্থ হন। এতে একটি বাস্তব ঘাটতিও স্পষ্ট হয়: ভাইরাসটির জন্য কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই।

নতুন গবেষণা কোনো চিকিৎসা বা টিকার ঘোষণা নয়। বরং সংক্রমণ এগিয়ে যাওয়ার আগে ভবিষ্যৎ চিকিৎসা যে প্রাথমিক জৈবিক ঘটনাকে থামানোর চেষ্টা করতে পারে, তার একটি আরও বিস্তারিত মানচিত্র এটি দেয়। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। রোগজীবাণু কীভাবে কোষে প্রবেশ করে তা বোঝা ওষুধ-উন্নয়নের লক্ষ্যকে আরও নির্দিষ্ট করতে পারে, কিন্তু একাই এটি প্রমাণ করে না যে কোনো ওষুধ মানুষের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

যোগাযোগের বিন্দু হিসেবে PCDH1

বংশবিস্তার করতে ভাইরাসকে কোষে প্রবেশ করতে হয়। অ্যান্ডিজ ভাইরাসের ক্ষেত্রে, ভাইরাসের পৃষ্ঠের একটি স্পাইক প্রোটিন মানবকোষের PCDH1-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভাইরাসটি এই রিসেপ্টর ব্যবহার করে—আইনস্টাইন-নেতৃত্বাধীন দলটি আট বছর আগেই তা দেখিয়েছিল; তবে সুনির্দিষ্ট শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়নি।

Scientists reveal how deadly Andes hantavirus attaches to human cells
rVSV-ANDV-তে সংক্রমিত কোষ (সবুজ) এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত PCDH1 (গোলাপি)। কৃতিত্ব: আলবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অব মেডিসিন

নতুন গবেষণায় গবেষকেরা সংযুক্তির প্রক্রিয়া পরীক্ষা করেছেন এবং ভাইরাল স্পাইক কীভাবে PCDH1-কে আঁকড়ে ধরে তা বর্ণনা করেছেন। গবেষণার সঙ্গে প্রকাশিত একটি ছবিতে গবেষণায় ব্যবহৃত ভাইরাস মডেলে সংক্রমিত কোষ এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত PCDH1 দেখা যায়। সংক্রমণ এগিয়ে যাওয়ার আগে এই মিথস্ক্রিয়া ঠেকানোর উপায় বিবেচনার জন্য গবেষণাটি বিজ্ঞানীদের একটি কাঠামোগত ও প্রক্রিয়াগত ভিত্তি দেয়।

দ্রুত গুরুতর রোগ তৈরি করতে পারে—এমন ভাইরাস পরিবারের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। ভাইরাসকে তার রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হতে বাধা দেয় এমন চিকিৎসা সংক্রমণের একেবারে প্রাথমিক ধাপকে লক্ষ্য করবে। গবেষণার লেখকেরা বলেন, এই ফলাফল অ্যান্ডিজ ভাইরাসের পাশাপাশি অন্যান্য হান্টাভাইরাসের বিরুদ্ধেও পদ্ধতির ইঙ্গিত দিতে পারে।

জৈবিক প্রক্রিয়া থেকে চিকিৎসা ব্যবহারে

মৌলিক ভাইরাসবিদ্যার গবেষণা ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা থেকে দূরের মনে হতে পারে, কিন্তু রিসেপ্টর-গবেষণা প্রায়ই চিকিৎসা নকশার একেবারে প্রাথমিক ধাপকে প্রভাবিত করে। ভাইরাস ও মানবকোষের রিসেপ্টরের মধ্যে একটি দুর্বল মিথস্ক্রিয়া বর্ণনা করতে পারলে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করতে পারেন, অ্যান্টিবডি, প্রকৌশলগতভাবে তৈরি প্রোটিন বা অন্য চিকিৎসা-কৌশলের মাধ্যমে সেই মিথস্ক্রিয়া ব্যাহত করা যায় কি না।

অ্যান্ডিজ ভাইরাস নিয়ে পরবর্তী এসব প্রশ্ন এখনও খোলা রয়েছে। সূত্র উপাদান এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে যে গবেষণাটি একটি সম্ভাব্য চিকিৎসাগত দিক শনাক্ত করেছে; তবে এটি কোনো অনুমোদিত হস্তক্ষেপ, কোনো প্রার্থীর নিরাপত্তা বা ব্যবহারের সময়সীমা প্রতিষ্ঠা করে না। ভবিষ্যতের যেকোনো চিকিৎসাকেই এখনও ব্যাপক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

এই মুহূর্তে গবেষণাটির মূল্য হলো, PCDH1-কে অ্যান্ডিজ ভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে প্রথম যুক্ত করার পর থেকে চলে আসা একটি জৈবিক ধাঁধা এটি স্পষ্ট করেছে। রোগজীবাণু কীভাবে সংবেদনশীল মানবকোষ শনাক্ত করে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা কমিয়েছে ফলাফলটি; পাশাপাশি আরও গবেষণার জন্য একটি নির্দিষ্ট মিথস্ক্রিয়া দিয়েছে।

প্রাদুর্ভাব থেকে বৃহত্তর শিক্ষা

প্রতিবেদনে বর্ণিত ক্রুজ জাহাজের প্রাদুর্ভাব দেখায়, ভাইরাসের কোষে প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা কেন বাস্তব জরুরি বিষয় হতে পারে। মানুষে মানুষে ছড়াতে সক্ষম রোগজীবাণু কেবল প্রাণী-উৎস থেকে ছড়ানো রোগজীবাণুর তুলনায় নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা না থাকায় প্রতিরোধ এবং সংক্রমণ ছড়ানোর বিষয়টি ভালোভাবে বোঝা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকদের কাজ এই বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য-চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান করে না, তবে সেগুলো মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে একটি কার্যকর অংশ যোগ করে। অ্যান্ডিজ ভাইরাস কীভাবে PCDH1-কে আঁকড়ে ধরে তা দেখিয়ে গবেষণাটি ভাইরাস ও পোষক কোষের প্রথম সংস্পর্শের একটি স্পষ্ট বিবরণ দেয়—এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার একটি সম্ভাব্য পথও দেখায়।

এই নিবন্ধটি Phys.org-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে তৈরি। মূল নিবন্ধ পড়ুন।

Originally published on phys.org