সুইডেনের মানববিহীন যুদ্ধ-আকাঙ্ক্ষাকে স্যাব কাঠামো দিল

লয়াল উইংম্যান-ধাঁচের যুদ্ধ ড্রোনের জন্য ইউরোপের তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট রোডম্যাপগুলোর একটি স্যাব প্রকাশ্যে তুলে ধরেছে। সুইডিশ বিমানবাহিনীর শতবর্ষী এয়ার শো ব্যবহার করে কোম্পানিটি তিন-বিমান উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে, যা শেষ পর্যন্ত গ্রিপেন যুদ্ধবিমানের জন্য একটি কার্যকর মানববিহীন সঙ্গী তৈরি করতে পারে।

দক্ষিণ সুইডেনের ম্যালমেন এয়ার বেসে কোম্পানিটি বলেছে, তারা A1, A2 এবং A3 নামে তিনটি মানববিহীন বিমান তৈরি করছে। একসঙ্গে এগুলো ধাপে ধাপে এমন একটি পথ তৈরি করে, যাকে স্যাব Autonomous Collaborative Platform, বা ACP, বলে। এই উপস্থাপনার ধরনটি গুরুত্বপূর্ণ। একটি একক ধারণাচিত্র বা দূরের কোনো লক্ষ্য দেখানোর বদলে, স্যাব একাধিক ডেমোনস্ট্রেটর ও সক্ষমতার ধাপের ধারাবাহিকতা বর্ণনা করেছে, যেখানে প্রথম দুই বিমানের জন্য নির্দিষ্ট মাইলফলক এবং তৃতীয়টির জন্য মোটামুটি পরিষেবায় প্রবেশের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই ঘোষণা সুইডেনকে মানবচালিত ও মানববিহীন যুদ্ধবিমানের বৈশ্বিক রূপান্তরের ভেতরে আরও দৃশ্যমানভাবে স্থাপন করে। যুক্তরাষ্ট্র স্বায়ত্তশাসিত সিস্টেমকে ক্রু-সহ যুদ্ধে ব্যবহৃত বিমানের সঙ্গে জোড়া লাগাতে Collaborative Combat Aircraft কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে। স্যাবের পরিভাষা ভিন্ন হলেও কৌশলগত যুক্তি একই: পরিসর বাড়ানো, সক্ষমতা বাড়ানো, ঝুঁকি ভাগ করা এবং ক্রু-সহ বিমানকে সংঘাতপূর্ণ অভিযানে নতুন বিকল্প দেওয়া।

তিনটি বিমান, তিনটি সক্ষমতার ধাপ

A1-কে GE F414 ইঞ্জিনচালিত একটি সুপারসনিক ডেমোনস্ট্রেটর হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, একই মার্কিন ইঞ্জিন যা Gripen E/F-এ ব্যবহৃত হয়। স্যাব বলেছে, ইঞ্জিনটি AI-চালিত হবে, যা ইঙ্গিত করে যে স্বায়ত্তশাসন এবং অনবোর্ড সিদ্ধান্ত-সহায়তা শুরু থেকেই ধারণাটির কেন্দ্রে রয়েছে, পরবর্তীকালের অতিরিক্ত সংযোজন নয়। কোম্পানি আশা করছে, তার প্রথম ডেমোনস্ট্রেটর 15 মাসের মধ্যে উড়বে, আর A1 ও A2 দুটিই চার বছরের মধ্যে আকাশে উঠবে।

A2 আরও একটি বড় বৈশিষ্ট্য যোগ করে: একটি অভ্যন্তরীণ অস্ত্র-বে। এটি পরীক্ষানিরীক্ষার সীমা ছাড়িয়ে বেঁচে থাকার ক্ষমতা, মিশন নমনীয়তা এবং আরও কার্যকরী-প্রাসঙ্গিক বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত নকশা-সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। পূর্ণ পাবলিক প্রযুক্তিগত ভাঙন ছাড়াই, সুপারসনিক ডেমোনস্ট্রেটর থেকে অভ্যন্তরীণ অস্ত্র বহনকারী নকশার দিকে অগ্রগতি দেখায় যে স্যাব সরাসরি চূড়ান্ত উৎপাদন ব্যবস্থায় লাফ না দিয়ে ধাপে ধাপে ঝুঁকি কমাতে চাইছে।

A3-ই সেই বিমান, যেটিকে স্যাব শেষ পর্যন্ত বিক্রয়-উৎপাদ হিসেবে দেখতে পারে। এয়ার শোতে কোম্পানির হ্যাঙ্গারের বাইরে এর পূর্ণ-আকারের মডেল প্রদর্শিত হয়েছিল। যদি সুইডিশ সরকার এগিয়ে যাওয়ার এবং অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে স্যাব বলেছে A3 দশ বছরের মধ্যে পরিষেবায় প্রবেশ করতে পারে।

সরকারি সমর্থন এখনো চূড়ান্ত নয়, কিন্তু ইঙ্গিত ইতিবাচক

এখানে মূল শর্ত অর্থায়ন। A3-এর জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি, অর্থাৎ ধারণাটি এখনও রাজনৈতিক ও বাজেট-সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তবু উন্মোচনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি মন্তব্যগুলো বিরোধিতার বদলে সাযুজ্যের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

সুইডিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পল জোনসন বলেছেন, স্যাবের পদ্ধতিটি গ্রিপেন সিস্টেমের একটি স্বাভাবিক বিবর্তন বলে মনে হচ্ছে, বিশেষ করে এমন একটি loyal unmanned wingman উপাদানের কথা উল্লেখ করে যা ক্রু-সহ প্ল্যাটফর্মের পাশে গভীর অভিযান চালাতে সক্ষম। এটি কোনো ক্রয়চুক্তি নয়, তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন। এটি দেখায় যে কোম্পানিটি প্রোগ্রামটি শূন্যে পিচ করছে না; বিমানটিকে সরাসরি সুইডেনের বিদ্যমান আকাশযুদ্ধ স্থাপত্যের সঙ্গে যুক্ত করছে।

এই সংযোগ স্যাবের অন্যতম শক্তিশালী সুবিধা হতে পারে। যারা আগে থেকেই Gripen চালায়, তারা বড় মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবিমান ব্যবস্থার তুলনায় সার্বভৌমত্ব, মডুলারিটি এবং ব্যয়সাশ্রয়কে গুরুত্ব দেয়। শুরু থেকেই গ্রিপেন পরিবারের অংশ হিসেবে ডিজাইন করা একটি মানববিহীন সঙ্গী বিমান শুধু সুইডেনের জন্য নয়, বরং মানব-মেশিন সমন্বিত পরিচালনার আরও একীভূত পথ খোঁজা রপ্তানির গ্রাহকদের কাছেও আকর্ষণীয় হতে পারে।

দক্ষিণ সুইডেনের ম্যালমেন এয়ার বেসে স্যাবের হ্যাঙ্গারের বাইরে A-3-এর পূর্ণ-আকার মডেলটি এখানে দেখানো হয়েছে। (ছবি: জোনাস ওলসন)
দক্ষিণ সুইডেনের ম্যালমেন এয়ার বেসে স্যাবের হ্যাঙ্গারের বাইরে A-3-এর পূর্ণ-আকার মডেলটি এখানে দেখানো হয়েছে। (ছবি: জোনাস ওলসন)

ইউরোপ কেন এই পথে এগোচ্ছে

বৃহত্তর সামরিক প্রবণতা পরিষ্কার। ভবিষ্যতের অভিযানগুলোতে ঘনবসতিপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, বৃহত্তর ভৌগোলিক ক্ষেত্র এবং উচ্চ ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকবে বলে বিমানবাহিনী ক্রমশ ধরে নিচ্ছে। এমন অবস্থায়, কেবল ব্যয়বহুল ক্রু-সহ যুদ্ধবিমানকে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের গভীরে পাঠানো কম টেকসই মনে হয়। লয়াল উইংম্যান ধারণাগুলো পাইলটদের একই মাত্রার ঝুঁকিতে না ফেলে সেন্সিং, স্ট্রাইক, জ্যামিং বা ডিকয় কাজকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার উপায় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

এই প্রচেষ্টা সম্পর্কে স্যাবের নিজের বর্ণনা বলছে, তারা এসব বিমানকে প্রতিস্থাপন নয়, সহযোগী হিসেবে দেখে। সুইডেনের ডেপুটি এয়ার চিফ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিকলাস ম্যাগনুসন বলেছেন, তিনি মানবচালিত ও মানববিহীন সম্পদের কোনো এক ধরনের মিশ্রণ আশা করেন এবং ভবিষ্যৎকে উভয়কে একত্র করা মিশ্র স্কোয়াড্রন হিসেবে বর্ণনা করেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী সংকেত। এটি বোঝায়, সুইডিশ বিমানবাহিনী ড্রোনকে শুধু স্বতন্ত্র সিস্টেম হিসেবে নয়, স্কোয়াড্রন-স্তরের বাহিনী গঠনের অংশ হিসেবে দেখছে।

ইউরোপের জন্য এর গুরুত্ব সুইডেনের বাইরেও। এই অঞ্চল প্রতিরক্ষা শিল্প সক্ষমতা জোরদার করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তিতে নির্ভরতা কমাতে চায়, আবার মিত্রদের সঙ্গে আন্তঃকার্যকারিতাও বজায় রাখতে চায়। একটি কার্যকর সুইডিশ স্বায়ত্তশাসিত যুদ্ধ প্ল্যাটফর্ম এমন একটি ক্ষেত্রে আরেকটি ইউরোপ-উত্পাদিত বিকল্প যোগ করবে, যেখানে এখন মার্কিন গতি এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা প্রাধান্য পাচ্ছে।

এখনও কী অনিশ্চিত

একটি প্রদর্শনী মডেল আর একটি কার্যকর যুদ্ধবিমানের মধ্যে এখনও বড় ফাঁক রয়েছে। সরবরাহকৃত উৎস-পাঠ্যে স্যাব পূর্ণ পারফরম্যান্স সীমা, স্বায়ত্তশাসনের নিয়ম, পেলোড বিকল্প, বেঁচে থাকার কৌশল, যোগাযোগ কাঠামো বা টিমিং নীতি প্রকাশ করেনি। এসব বিবরণই নির্ধারণ করবে ACP ধারণাটি বিশ্বাসযোগ্য কার্যকরী সরঞ্জাম হবে, না কি কেবল সম্ভাবনাময় একটি কাঠামো হয়ে থাকবে।

সময়সূচিও উচ্চাভিলাষী। প্রাথমিক ডেমোনস্ট্রেটরের জন্য 15 মাসের মধ্যে প্রথম উড্ডয়ন ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা উন্নয়নের মানদণ্ডে দ্রুত পদক্ষেপ হবে। চার বছরের মধ্যে A1 ও A2 উভয়কে সরবরাহ করা এবং তারপর এক দশকের মধ্যে সম্ভাব্য কার্যকর A3-তে রূপান্তর করতে স্থিতিশীল অর্থায়ন, সুশৃঙ্খল বাস্তবায়ন এবং অব্যাহত সামরিক সমর্থন দরকার হবে।

যুদ্ধব্যবস্থায় স্বায়ত্তশাসনের সাধারণ চ্যালেঞ্জও আছে: বিমানটি কতটা কর্তৃত্ব পাবে, জ্যামিং ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এবং মানব পাইলট বা কমান্ড চেইন সিদ্ধান্ত-চক্রের মধ্যে কীভাবে থাকবে। Autonomous Collaborative Platform শব্দটি স্যাব জোটবদ্ধ কাজকে জোর দিতে ব্যবহার করছে, কিন্তু মানব কমান্ড ও যন্ত্রের উদ্যোগের সুনির্দিষ্ট বিভাজন এখনও উপলভ্য উপাদানে সংজ্ঞায়িত নয়।

আকাশযুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন

এই অজানাগুলো সত্ত্বেও, স্যাবের ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি লয়াল উইংম্যান বিতর্ককে বিমূর্ততা থেকে ধাপে ধাপে সংগ্রহের গল্পে নিয়ে আসে। কোম্পানি শুধু একটি সম্ভাব্য শেষ অবস্থা দেখাচ্ছে না। এটি সেখানে পৌঁছানোর পথ নির্ধারণ করছে, সেই পথকে গ্রিপেন ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করছে, এবং তা করছে সুইডেনের প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের দৃশ্যমান সমর্থন নিয়ে।

অর্থায়ন এলে A3 আগামী দশকের ইউরোপের আরও গুরুত্বপূর্ণ মানববিহীন যুদ্ধ কর্মসূচিগুলোর একটি হতে পারে। আর না এলে A1 ও A2 স্যাবকে দক্ষতা গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতের আকাশশক্তিকে গড়ে দেবে এমন প্রযুক্তি যাচাই করার সুযোগ দেবে। যেকোনো ক্ষেত্রেই, সুইডেন স্পষ্ট করেছে যে মিশ্র মানবচালিত-মানববিহীন যুদ্ধবিমান আর দূরের আলোচনার বিষয় নয়। এটি এখন একটি নকশাগত প্রয়োজনীয়তায় পরিণত হচ্ছে।

এই নিবন্ধটি Breaking Defense-এর রিপোর্টিংয়ের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on breakingdefense.com