রাশিয়ার দীর্ঘ-পাল্লার বিমানবাহিনীর জন্য আরও একটি ক্ষতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নাটকীয় ভিডিওতে বিমানটিকে খাড়া নাক-নিচু ডাইভে নেমে ইরকুটস্ক অঞ্চলে বিধ্বস্ত হতে দেখা যাওয়ার পর, রাশিয়া Tu-22M3 Backfire-C বোমারু বিমান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় অবতরণের চেষ্টা করতে গিয়ে ভেঙে পড়ে।
যদিও সোশ্যাল মিডিয়ার ফুটেজটি উৎস লেখায় স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, সরকারি নিশ্চিতকরণ বিস্তৃত তথ্যগুলো প্রতিষ্ঠা করতে যথেষ্ট: ১৫ জুন একটি Tu-22M3 হারানো হয়, সেটি যুদ্ধসামগ্রী বহন করছিল না, সব ক্রু সদস্য বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং এখন তদন্ত চলছে। আঞ্চলিক গভর্নর ইগর কোবজেভ বলেছেন, বিমানটি কামেনকা গ্রামের কাছে বখানস্কি জেলায় বিধ্বস্ত হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্যারাশুটে নেমে আসার পর ক্রুদের খুঁজে পান।
কৌশলগত গুরুত্বের একটি দুর্ঘটনা
Tu-22M3 এখনো রাশিয়ার দীর্ঘ-পাল্লার বিমানবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এবং প্রতিটি ক্ষতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই বহরটি সীমিত, বিশেষায়িত এবং ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন চাপের মধ্যে রয়েছে। যদিও এই নির্দিষ্ট দুর্ঘটনাটি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে ঘটেছে, তবু এটি এমন একটি বাহিনী থেকে আরেকটি বিমান সরিয়ে দেয়, যা রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে।
এই বোমারু বিমানটি Kh-22 ও Kh-32 ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দূর থেকে আঘাত হানার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। এগুলো মূলত জাহাজবিরোধী ভূমিকার জন্য তৈরি অস্ত্র, কিন্তু সংঘাতে স্থল লক্ষ্যে আক্রমণের জন্য সেগুলো পুনরায় ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, শীতল যুদ্ধের যুগের উৎপত্তি এবং রুশ মহাকাশ বাহিনীর ওপর পড়া ক্ষয়জনিত চাপ সত্ত্বেও এই ধরনটি এখনো উল্লেখযোগ্য কার্যক্ষম মূল্য বহন করে।
স্থানটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
দুর্ঘটনাটি ইরকুটস্কের কাছে ঘটেছে, যা বেলায়া বিমানঘাঁটির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অঞ্চল; সেখানে ২০০তম হেভি বোম্বার এভিয়েশন রেজিমেন্ট অবস্থিত। ওই ঘাঁটি Tu-22M3 পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, তাই ঘটনাটি বিমানটির মূল সহায়তা কেন্দ্রগুলোর একটির কাছাকাছি ঘটেছে। একটি প্রধান পরিচালন এলাকায় বা তার কাছাকাছি অবতরণের সময় একটি বোমারু বিমান হারানো রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, যান্ত্রিক নির্ভরযোগ্যতা এবং পরিচালনগত গতি নিয়ে স্পষ্ট প্রশ্ন তোলে।
উৎস লেখায় কারণ জানানো হয়নি, এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুমাননির্ভর হবে। তবে অবতরণের সময় নাক-নিচু ডাইভ এমন ধরনের গুরুতর ব্যর্থতার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা তদন্তকারীদের সতর্কভাবে খতিয়ে দেখতে হবে, বিশেষ করে এমন একটি বয়স্ক সুইং-উইং বোমারু বহরের ক্ষেত্রে যার ওপর এখনো ব্যাপকভাবে নির্ভর করা হচ্ছে।
যুদ্ধের বাইরে ক্ষয়
সামরিক বিমানবাহিনী সাধারণত ক্ষতিকে যুদ্ধের হিসাবে মাপে, কিন্তু যখন বহর পুরনো, উৎপাদন লাইন বন্ধ এবং বিকল্প সীমিত, তখন যুদ্ধবহির্ভূত দুর্ঘটনাও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রাশিয়ার ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে দীর্ঘ-পাল্লার বিমানবাহিনীতে সত্য। Tu-22M3 সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য প্ল্যাটফর্ম নয়, আর আধুনিকায়ন বয়স, রক্ষণাবেক্ষণের বোঝা এবং যুদ্ধকালীন ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট মৌলিক সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করে না।
এই কারণেই এমন একটি দুর্ঘটনা তাৎক্ষণিক ঘটনার বাইরেও প্রতিধ্বনিত হয়। এটি এমন একটি বিমানবাহিনীর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কথা বলে, যাকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের বিস্তৃত চাপও বহন করতে হচ্ছে, আবার একই সঙ্গে কঠিন মিশনের জন্য পুরনো বোমারু বিমানগুলোকে উড়িয়ে রাখতে হচ্ছে। ক্রুরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পারায় সবচেয়ে খারাপ মানবিক পরিণতি এড়ানো গেছে, কিন্তু বিমানটি হারানোর কার্যগত খরচ এতে বদলে যায় না।
পরের প্রশ্নটি কারণ
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত শুরু করেছে, তবে উৎস লেখায় দুর্ঘটনার কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা নেই। যতক্ষণ না কোনো কারণ সামনে আসে, ঘটনাটি মূলত মনে করিয়ে দেয় যে উড্ডয়নের রুটিন ধাপেও কৌশলগত বিমানসম্পদ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। টেকঅফ ও ল্যান্ডিং সামরিক বিমানের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্তগুলোর মধ্যে পড়ে, বিশেষ করে বড় ও পুরনো বিমানের ক্ষেত্রে।
বহিরাগত পর্যবেক্ষকদের কাছে এর গুরুত্ব দুর্ঘটনার বিস্তারিতের চেয়ে বহর-অঙ্কের দিকেও সমানভাবে নিহিত। রাশিয়ার হাতে এখন একটি Tu-22M3 কম, এবং দীর্ঘ-পাল্লার বিমানবাহিনী আবারও একটি বিরল এয়ারফ্রেম হারাল। চলমান যুদ্ধ ও বৃহত্তর সামরিক প্রতিযোগিতার মধ্যে, এমনকি একটি প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন-সংক্রান্ত দুর্ঘটনাও কৌশলগত পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
এই নিবন্ধটি twz.com-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on twz.com


