বাজেট শুনানি যুদ্ধ কৌশলের লড়াইয়ে পরিণত হয়

পেন্টাগনের ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুরোধ নিয়ে শুরু হওয়া শুনানি দ্রুতই ইরান যুদ্ধ কোন পথে যাচ্ছে তা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কে পরিণত হয়। ২৯ এপ্রিলের ওই অধিবেশনে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ প্রশাসনের অবস্থান রক্ষা করেন, আর আইনপ্রণেতারা তাকে প্রশ্ন করেন সংঘাতটি কতদিন চলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী ফলাফল চাইছে।

এই বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ এটি সামরিক সাফল্যের দাবি এবং অনির্ধারিত কৌশলগত শেষ লক্ষ্যের প্রশ্নের মধ্যে বাড়তে থাকা ফাটলকে প্রকাশ করে। কমিটির সদস্যরা মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের প্রশংসা করেন, তবে অনেকেই সময়সীমা, অনুমোদন এবং অভিযান চালিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক যুক্তি নিয়ে আরও স্পষ্ট উত্তর চান।

হেগসেথ যুদ্ধ কতদিন চলবে তা অনুমান করতে অস্বীকার করেন। পরিবর্তে, তিনি কংগ্রেসের সমালোচকদের আক্রমণ করেন এবং অভিযানটির উদ্দেশ্য ও গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য কিছু আইনপ্রণেতাকে “reckless, feckless and defeatist” বলে অভিহিত করেন। আইনগত ও সাংবিধানিক সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধটি কতটা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, এই সংঘাত তা স্পষ্ট করে।

প্রশাসন কী অর্জন করেছে বলে দাবি করছে

দেওয়া উৎস-পাঠের শুনানি নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুদ্ধ শুরু করার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিনটি প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা, তার নৌবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করা, এবং দেশটির কখনও পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা নিশ্চিত করা।

উৎসে বলা হয়েছে, ওই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হন, ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়, এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হেগসেথ যুক্তি দেন যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে শারীরিকভাবে থামাতে মার্কিন কোনো নেতা আগে এমন গুরুতর পদক্ষেপ নেননি।

তিনি আরও বলেন, গত গ্রীষ্মে Operation Midnight Hammer দ্বারা করা ক্ষতির পরও ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়ে গেছে, এবং তার মতে ওই অভিযান স্থাপনাগুলোকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। তার বর্ণনা ইঙ্গিত করে যে যুদ্ধের কৌশলগত যুক্তি এখন আর কেবল প্রাথমিক যুদ্ধক্ষেত্রের ধ্বংসে নয়, বরং আলোচনার টেবিলে ইরানকে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে বাধ্য করার দিকেই বেশি কেন্দ্রীভূত।