নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা বিষয়টি স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরলেন

মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এমনভাবে সামরিক প্রস্তুতি খেয়ে ফেলছে, যা অনিবার্যভাবে অন্যত্র, চীনের বিরুদ্ধেও, ব্যবহার করা যাবে এমন সম্পদ কমিয়ে দিচ্ছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নৌবাহিনীর অপারেশনস প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল বিষয়টিকে মতামতের নয়, বরং হিসাবের বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেন: যদি একটি নির্দিষ্ট সম্পদ এক মঞ্চে ব্যবহার করা হয়, তবে অন্য মঞ্চের জন্য কম অবশিষ্ট থাকে।

এই স্পষ্টবাদিতা গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন বাহিনী-অবস্থান নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনায় প্রায়ই সরাসরি সমঝোতা স্বীকার করা এড়ানো হয়, বিশেষ করে যখন ওয়াশিংটন একসঙ্গে একাধিক অঞ্চলে শক্তি প্রদর্শন করতে চায়। কডল তা এড়িয়ে যাননি। তিনি বলেন, তিনি উদ্বিগ্ন, প্রস্তুতি ক্ষয় হচ্ছে, এবং ইরান-সংক্রান্ত অভিযানের সময় গোলাবারুদের মজুতের ওপর বিশেষভাবে চাপ পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

গোলাবারুদ, মোতায়েন এবং একযোগে চাহিদার চাপ

সরবরাহিত সূত্রপাঠ্যে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে টোমাহক স্থল-আক্রমণ ক্ষেপণাস্ত্র, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং THAAD সিস্টেমের ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অভিযানকে সমর্থন এবং কমে যাওয়া মজুত পুনরায় পূরণ করতে পেন্টাগন অতিরিক্ত অর্থায়ন চাইতে চায়। এসব তথ্য আধুনিক সামরিক পরিকল্পনার একটি কেন্দ্রীয় সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে: সীমাবদ্ধতা সবসময় বিমূর্ত যুদ্ধক্ষমতায় নয়, বরং কত দ্রুত উন্নত সিস্টেম ও গোলাবারুদ টিকিয়ে রাখা ও প্রতিস্থাপন করা যায়, সেটাতেই।

কডল আরও বলেন, বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড সমুদ্রে ১১ মাস পর্যন্ত থাকতে পারে, যা নৌবাহিনীর মানক সাত মাসের মোতায়েন সময়ের অনেক বেশি। দীর্ঘস্থায়ী মোতায়েন কেবল সময়সূচির সমস্যা নয়। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ চক্র, নাবিকদের ওপর চাপ, প্রশিক্ষণের সময়সীমা এবং বিশ্বব্যাপী উপস্থিতি বজায় রাখার বৃহত্তর বাহিনী-উৎপাদন মডেলকে প্রভাবিত করে। পাশাপাশি, প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে আরেকটি রণতরী, জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ, অঞ্চলটিতে পাঠানো হচ্ছিল, যা এক এলাকায় উচ্চক্ষমতার সম্পদের ঘনত্ব আরও বাড়ায়।

চীন প্রশ্নই আসল কৌশলগত পটভূমি

এটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? কারণ মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান বহু বছর ধরে চীনকে প্রধান প্রতিযোগিতামূলক চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছে। যদি সম্পদ, গোলাবারুদ এবং শীর্ষস্তরের নৌসম্পদ অন্য এক সংঘাতে সরিয়ে নেওয়া হয় বা ক্ষয় হয়, তাহলে ইন্দো-প্যাসিফিকে প্রতিরোধের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কডলের মন্তব্য কার্যত স্বীকার করে যে ওয়াশিংটন ভান করতে পারে না যে এসব মঞ্চ কৌশলগতভাবে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন।

সূত্রপাঠ্যে আরও বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় মঞ্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ধরনের বিবরণ একটি সাধারণ উদ্বেগকে পরিমাপযোগ্য কৌশলগত পরিবর্তনে রূপ দেয়। অগ্রাধিকারের ভারসাম্য রাখতে হবে বলা এক কথা। কিন্তু বেইজিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতার কেন্দ্রীয় অঞ্চল হিসেবে যাকে প্রায়ই বর্ণনা করা হয়, সেখান থেকে বাস্তবে সক্ষমতা সরিয়ে নেওয়া আরেক কথা।

সীমিত সক্ষমতার বিরল প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি

কডলের মন্তব্যকে উল্লেখযোগ্য করে তোলে তাদের স্পষ্টতা। মার্কিন কর্মকর্তারা প্রায়ই বলেন, সামরিক বাহিনী বৈশ্বিকভাবে সাড়া দেওয়ার জন্য তৈরি, এবং কডলও সেই বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করেছেন। কিন্তু তিনি এর সঙ্গে কঠিন সত্যটি যুক্ত করেছেন যে, বিশ্বব্যাপী অভিযোজিত বাহিনীও শেষ পর্যন্ত সীমিত সক্ষমতার মধ্যেই কাজ করে। তিনি বলেন, বড় সম্পদ এক অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত করতে গিয়ে অন্যত্র ঝুঁকি কীভাবে কমানো যায়, সেটাই চ্যালেঞ্জ।

এটি সম্ভবত সাময়িক নয়, বরং আরও চাপযুক্ত প্রশ্ন হয়ে উঠবে। আধুনিক যুদ্ধ দ্রুত ব্যয়বহুল নিখুঁত গোলাবারুদ খরচ করে, মোতায়েন সময়সূচির ওপর চাপ ফেলে, এবং কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও শিল্পভিত্তিক পুনরায় সরবরাহের ব্যবধান উন্মোচিত করে। নৌবাহিনী প্রধানের মন্তব্যগুলো ইঙ্গিত দেয়, এই চাপগুলো আর বিমূর্ত পরিকল্পনার উদ্বেগ নয়। সেগুলো এখনই অনুভূত হচ্ছে।

এর তাৎপর্য সরাসরি: ইরান-সংঘাত ভৌগোলিকভাবে সীমাবদ্ধ হতে পারে, কিন্তু তার প্রভাব সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয়, প্রতিটি দীর্ঘায়িত মোতায়েন, এবং প্রতিটি সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোথাও কতটা বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, তার ভারসাম্য বদলে দেয়। কডলের বক্তব্য অলঙ্কারিক ছিল না। এটি ছিল কার্যগত।

এই নিবন্ধটি Breaking Defense-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে তৈরি। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on breakingdefense.com