প্রস্তাবিত নতুন নৌবাহিনীর মূল যুদ্ধজাহাজের জন্য CBO বিপুল মূল্য নির্ধারণ করেছে

কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের একটি প্রতিবেদন নৌবাহিনীর প্রস্তাবিত ট্রাম্প-শ্রেণির গাইডেড মিসাইল যুদ্ধজাহাজ কর্মসূচির জন্য অসাধারণ এক আনুমানিক খরচ যুক্ত করেছে: ২০২৮ থেকে ২০৫৬ সালের মধ্যে নির্মিত ১৫টি জাহাজের বহরের জন্য ২৭৫ বিলিয়ন ডলার। সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম জাহাজটির একার খরচ হবে ২৩.৪ বিলিয়ন ডলার, আর বাকি ১৪টি জাহাজের প্রতিটির খরচ হবে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার করে।

এই মূল্য প্রথম জাহাজটিকে USS Gerald R. Ford-এর জন্য উদ্ধৃত আনুমানিক ১৩.৩ বিলিয়ন ডলারের অনেক ওপরে রাখবে, যা নৌবাহিনীর প্রধান পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী। জাহাজ শ্রেণির মধ্যে খরচের তুলনা কখনও পুরোপুরি নিখুঁত নয়, তবে এখানে ইঙ্গিতটি এড়ানো কঠিন। কিল স্থাপনের আগেই, প্রস্তাবিত কর্মসূচি এমন এক পরিসরে রয়েছে যা বহর গঠন, শিল্পক্ষমতা, এবং নৌবাহিনী বাস্তবে বিদ্যমান জাহাজ নির্মাণ চাহিদার পাশাপাশি এমন একটি প্রচেষ্টা বহন করতে পারবে কি না, সেই বিতর্ককে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে।

প্রস্তাবিত যুদ্ধজাহাজটি কেমন হবে

প্রতিবেদনটি BBG(X) নামে চিহ্নিত ৩৫,০০০ টন ওজনের একটি পারমাণবিকচালিত পৃষ্ঠযুদ্ধজাহাজের কথা বলে, বা ট্রাম্প-শ্রেণির গাইডেড মিসাইল যুদ্ধজাহাজ। বর্ণিত নির্দিষ্টকরণ অনুযায়ী নির্মিত হলে এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠযুদ্ধজাহাজ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নৌবাহিনীর তৈরি এ ধরনের সবচেয়ে বড় জাহাজ। এটি Arleigh Burke-শ্রেণির গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের চেয়ে সাড়ে তিন গুণেরও বেশি বড় এবং Zumwalt-শ্রেণির গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের চেয়ে দুই গুণেরও বেশি বড় হবে।

উৎস পাঠ্যে উল্লিখিত পরিকল্পিত অস্ত্রসজ্জা বিস্তৃত: আকাশ প্রতিরক্ষা, স্থল আক্রমণ, এবং জাহাজ-বিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র, পাশাপাশি হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, বৃহৎ লেজার, এবং রেলগান। কাগজে-কলমে, এই সমন্বয় এমন একটি জাহাজের দিকে ইঙ্গিত করে যা একসঙ্গে প্রতীকও এবং অস্ত্রাগারও, এবং একাধিক মিশনে উল্লেখযোগ্য অগ্নিশক্তি বহন করার জন্য তৈরি। ধারণাগতভাবে এটি আধিপত্যশীল পৃষ্ঠযুদ্ধজাহাজের ধারণায় ফিরে যাওয়া, তবে ঐতিহাসিক যুদ্ধজাহাজের কামানযুদ্ধের বদলে ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ এবং ভবিষ্যতমুখী শক্তি-নির্ভর ভূমিকায় উপযোগী করে।

তবু CBO-এর অনুমান দেখায় যে প্রযুক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাজেটগত বাস্তবতা এক বিষয় নয়। পারমাণবিক প্রপালশন, চরম আকার, এবং উন্নত অস্ত্রের বিস্তৃত মিশ্রণ একত্র করতে চাওয়া জাহাজ অনিবার্যভাবেই ক্রয়শৃঙ্খলার সীমা পরীক্ষা করবে। প্রতিবেদনটি শুধু মোট খরচই দেখায় না; এটি পরিকল্পনাটিকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে যে শিল্প ও সময়সূচিগত চাপ তৈরি হবে, সেটিও তুলে ধরে।

অর্থের মতোই শিল্পক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে

উৎস পাঠ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর পরিকল্পনায় ২০২৮ থেকে ২০৫৬ সালের মধ্যে ১৫টি ট্রাম্প-শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ লাগবে, কার্যত প্রতি অন্য বছরে একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ, যখন বাহিনী বছরে দুটি DDG-51 ডেস্ট্রয়ারও তৈরি করে যাবে। এটি শুধু ক্রয়সংক্রান্ত প্রশ্ন নয়। এটি এমন একটি জাহাজনির্মাণ ভিত্তির উৎপাদনক্ষমতার প্রশ্ন, যা বছরের পর বছর দেরি, ব্যয় বৃদ্ধি, এবং কর্মক্ষমতার ঘাটতিতে ভুগেছে।

সরবরাহকৃত উপকরণে সংক্ষেপিত CBO প্রতিবেদন বলছে, ২০৫৮ সালের মধ্যে নির্মিত বৃহৎ পৃষ্ঠযুদ্ধজাহাজের মোট টনেজ ৬০ শতাংশ বাড়াতে হবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে, ২০২৫ সংস্করণের তুলনায় নতুন পরিকল্পনার অধীনে জাহাজঘাঁটিগুলোকে ১২ শতাংশ বেশি টনেজ উৎপাদন করতে হবে। এমন শিল্পগত পার্থক্য এমন একটি খাতে বড়, যেখানে সক্ষমতা দ্রুত বা সস্তায় বাড়ানো যায় না।

এই উদ্বেগকে আরও জোরদার করেছে মার্চে প্রকাশিত Government Accountability Office পর্যালোচনা থেকে পাওয়া অতিরিক্ত প্রেক্ষাপট। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণ ব্যবস্থা প্রায় দুই দশক ধরে প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে: যথেষ্ট জাহাজ তৈরি হয়নি, নতুন নির্মিত জাহাজ প্রত্যাশামতো কাজ করেনি, এবং ডেলিভারি সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত পিছিয়েছে। সরবরাহকৃত প্রবন্ধে উদ্ধৃত সাক্ষ্যে GAO কর্মকর্তা Shelby S. Oakley বলেন, খরচ ও সময়সূচি নিয়ে অবাস্তব প্রত্যাশা সম্পদ সরিয়ে নিয়েছে এবং কর্মসূচি ও নির্মাতাদের তিনি যাকে স্থায়ী ট্রায়াজ অবস্থা বলেছেন, তাতে কাজ করতে বাধ্য করেছে।

এই ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রস্তাবিত যুদ্ধজাহাজ কর্মসূচি সুস্থ শিল্পপরিবেশে আসবে না। এটি চাপের মধ্যে থাকা একটি ব্যবস্থায় প্রবেশ করবে। তাই ট্রাম্প-শ্রেণির যেকোনো হিসাবকে এমন একটি বাস্তবতার পটভূমিতে পড়তে হবে, যেখানে তুলনামূলক কম উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনাও বারবার বাস্তবায়নে লড়াই করেছে।

কেন এই বিতর্ক নৌবাহিনীর বাইরেও যাবে

২৭৫ বিলিয়ন ডলারের এই অনুমান কংগ্রেস, প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকারী, এবং বাইরের বিশ্লেষকদের কাছ থেকে নিশ্চয়ই তীব্র নজর কেড়ে নেবে। সমর্থকেরা বলতে পারেন, পারমাণবিকচালিত একটি বড় পৃষ্ঠযুদ্ধজাহাজ দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয় কমাতে পারে, যেটি রিপোর্টে CBO উত্থাপন করেছে বলে উৎস পাঠ্যে বলা হয়েছে। তারা আরও যুক্তি দিতে পারেন, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সরবরাহ-ব্যবস্থায় গড়ে ওঠা ভবিষ্যৎ সামুদ্রিক সংঘাতে নৌবাহিনীর আরও টিকে থাকার মতো, ভারী অস্ত্রসজ্জিত একটি প্ল্যাটফর্ম দরকার।

অন্যদিকে সমালোচকেরা সম্ভবত ঝুঁকির কেন্দ্রীকরণ এবং ব্যয়সাধ্যতার দিকে নজর দেবেন। ২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি দামের একটি জাহাজ শুধু ব্যয়বহুলই নয়। এটি অন্য জাহাজ, গোলাবারুদ, রক্ষণাবেক্ষণ, এবং প্রস্তুতি খাতের দিক থেকে একটি সুযোগ ব্যয়ও। যদি জাহাজঘাঁটিগুলো আগে থেকেই চাপে থাকে, তবে একটি বিশাল পারমাণবিক পৃষ্ঠযুদ্ধজাহাজ যোগ করলে অন্য অগ্রাধিকারগুলো সরে যেতে পারে বা বহরের অন্যত্র বিলম্ব আরও বাড়তে পারে।

রাজনীতিও শিল্পগত হিসাবের মতোই জটিল হতে পারে। ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেটের নেই এমন প্রতীকী গুরুত্ব যুদ্ধজাহাজের আছে। এটি একটি কর্মসূচিকে নজর পেতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু ধারণাটি বাস্তবায়নযোগ্যতার চেয়ে বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী মনে হলে সন্দেহও বাড়াতে পারে। CBO অনুমান সেই বিতর্কের সমাধান করে না। তবে এটি বিতর্ককে আরও বাস্তব ভিত্তিতে নিয়ে আসে।

এখন সংখ্যা-ই আলোচনাকে নির্ধারণ করছে

  • CBO পুরো কর্মসূচির খরচ ২৭৫ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করছে।
  • প্রথম জাহাজের খরচ ধরা হয়েছে ২৩.৪ বিলিয়ন ডলার।
  • বাকি ১৪টি জাহাজের প্রতিটির খরচ ১৮ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান।
  • বহরটি ২০২৮ থেকে ২০৫৬ সালের মধ্যে নির্মিত হবে।
  • পরিকল্পনাকে সমর্থন করতে জাহাজঘাঁটিগুলোর উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি উৎপাদন করতে হবে।

এখনকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি নকশা নিজে নয়, বরং অনুমান থেকে বোঝা প্রতিশ্রুতির পরিসর। বড় নৌ-কর্মসূচি প্রায়ই কৌশলগত ভাষায় সমর্থিত হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাজেট এবং জাহাজঘাঁটির সক্ষমতাই নির্ধারণ করে ধারণাগুলো টিকে থাকবে কি না। CBO-এর নতুন সংখ্যাটি সামনে আসায়, ট্রাম্প-শ্রেণির প্রস্তাবটি এখন আর শুধু শিরোনাম-ধরা একটি ধারণা নয়; এটি পরীক্ষা যে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ব্যয়ে নতুন ধরনের একটি মূল যুদ্ধজাহাজে অর্থ জোগাতে, নির্মাণ করতে, এবং ধরে রাখতে প্রস্তুত ও সক্ষম কি না।

এই প্রবন্ধটি Defense News-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল প্রবন্ধ পড়ুন.

Originally published on defensenews.com