একটি রোগ, যাকে দেশ অনেকটাই পেছনে ফেলে এসেছে বলে ভেবেছিল, সেটিই আবার বাড়ছে

অস্ট্রেলিয়া তাদের জীবদ্দশায় দেখা সবচেয়ে বড় ডিফথেরিয়া প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হচ্ছে, এ বছর এখন পর্যন্ত 230টি নথিভুক্ত সংক্রমণ এবং একটি সম্পর্কিত প্রাপ্তবয়স্ক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। 1930-এর দশকে ব্যাপক টিকাদান শুরু হওয়ার পর যে রোগটি বিরল হয়ে গিয়েছিল, তার ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন নিজেই উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি এটি আরও কিছু নির্দিষ্ট দুর্বলতা প্রকাশ করছে: বুস্টার নেওয়ার হার অসম, দূরবর্তী এলাকায় কর্মীসংকট, গাদাগাদি বাসস্থান এবং টিকা-সংক্রান্ত ভুল তথ্যের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব।

দেওয়া প্রতিবেদনের অনুযায়ী, অধিকাংশ সংক্রমণ ঘটেছে Northern Territory এবং Western Australia-র দূরবর্তী অঞ্চলের আদিবাসী সম্প্রদায়ে; Queensland ও South Australia-তে সংখ্যা তুলনামূলক কম। আগের বছরগুলোতে সংক্রমণের সংখ্যা সাধারণত শূন্য বা তার কাছাকাছি ছিল। তাই বর্তমান প্রাদুর্ভাবের ব্যাপকতা সাম্প্রতিক অস্ট্রেলীয় অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতি নির্দেশ করে।

প্রাদুর্ভাবটি কীভাবে ছড়িয়েছে বলে মনে হচ্ছে

Northern Territory Chief Health Officer Paul Burgess Australian Broadcasting Corporation-কে জানান, প্রাদুর্ভাবটি সম্ভবত 2022 সালে Queensland-এ একটি সংক্রমণ থেকে শুরু হয়েছিল, যা বিদেশ থেকে আনা হয়েছিল। সেখান থেকে রোগটি Northern Territory-তে ছড়ায় এবং সেখানে ও অন্যান্য রাজ্যের আদিবাসী সম্প্রদায়ে বিস্তার লাভ করে।

Burgess টিকাদানে ফাঁক, সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বেশি চলাচল, এবং ঘনবসতিপূর্ণ বাসস্থানকে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই সংমিশ্রণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডিফথেরিয়া অত্যন্ত সংক্রামক। ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত ত্বকের ঘা-র সংস্পর্শে বা শ্বাসবিন্দুর মাধ্যমে ছড়াতে পারে, তাই কাছাকাছি বসবাস এবং সংযুক্ত সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বুস্টার-ঘাটতি একটি বড় সতর্ক সংকেত

উৎসপাঠ্যে টিকাদান-সংক্রান্ত তথ্যের একটি উদ্বেগজনক বৈষম্য তুলে ধরা হয়েছে। Northern Territory-তে 5 বছর বয়সীদের প্রায় 92 শতাংশ ডিফথেরিয়ার বিরুদ্ধে টিকা পেয়েছে, কিন্তু জাতীয় স্কুলভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে দেওয়া সুপারিশকৃত বুস্টার পাচ্ছে 13 বছর বয়সীদের সর্বোচ্চ 67 শতাংশ। University of New South Wales-এর Raina MacIntyre বলেছেন, টিকার সুরক্ষা সময়ের সঙ্গে কমে যায় এবং বুস্টার দরকার হয়।

এতে ব্যাখ্যা মেলে কেন অনেক কিশোর ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক সংক্রমিত হচ্ছে। অর্থাৎ, সমস্যাটি শুধু শিশুকালের টিকা গ্রহণে অনীহা নয়। বুস্টার যেসব বয়সগোষ্ঠীতে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে সুরক্ষা ধরে রাখতে ব্যর্থতাও হতে পারে। জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাগুলো প্রাথমিক টিকা কভারেজকে উদযাপন করলেও, ফলো-আপ ডোজ পিছিয়ে পড়লে কতটা ক্ষতি হতে পারে তা প্রায়ই কম গুরুত্ব দেয়।

দূরবর্তী আদিবাসী সম্প্রদায়গুলো কেন সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত

প্রতিবেদনটি একাধিক ওভারল্যাপিং কারণ দেখায়। একটি হলো প্রাপ্যতা। দূরবর্তী এলাকায় নার্স ও চিকিৎসকের অভাব টিকাদানের হার কমাতে পারে এবং প্রাদুর্ভাব-প্রতিক্রিয়া ক্ষমতাও দুর্বল করতে পারে। আরেকটি হলো সামাজিক কাঠামো: গাদাগাদি বাসস্থান সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়, আর সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে যাতায়াত রোগটি ছড়িয়ে পড়ার পর আরও দূরে নিয়ে যেতে পারে।

উৎসে আরও বলা হয়েছে, টিকা-সংক্রান্ত ভুল তথ্য এবং কোভিড-পরবর্তী টিকা-বিরোধিতাও অপর্যাপ্ত কভারেজে ভূমিকা রাখতে পারে। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রাদুর্ভাব সাধারণত একক কারণে তৈরি হয় না। এগুলো গড়ে ওঠে তখনই, যখন লজিস্টিক দুর্বলতা, সামাজিক চাপ এবং জনস্বাস্থ্যের প্রতি দুর্বল আস্থা একসঙ্গে মেলে।

সবচেয়ে বেশি বোঝা দূরবর্তী আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর পড়ায়, প্রাদুর্ভাবটি শুধু মহামারীবিদ্যার নয়, ন্যায়বিচারেরও বিষয় হয়ে উঠেছে। এটি ইঙ্গিত করে, দেশের সামগ্রিক টিকাদান কাঠামো কাগজে যতটা শক্তিশালী দেখায়, বাস্তবে তা সেখানে ততটা দৃঢ় নয় যেখানে ধারাবাহিক সেবা দেওয়া সবচেয়ে কঠিন।

ডিফথেরিয়া এখনও কেন ভয় জাগায়

ডিফথেরিয়া হয় Corynebacterium diphtheriae ব্যাকটেরিয়ার কারণে, যা ত্বক বা শ্বাসনালী সংক্রমিত করে টক্সিন তৈরি করতে পারে। সংক্রমণে ত্বকের ঘা বা গলায় মোটা ধূসর পর্দা তৈরি হতে পারে, যা শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা দেয়। টক্সিন রক্তপ্রবাহে গেলে হৃদ্‌যন্ত্রের ব্যর্থতা বা পক্ষাঘাত ঘটাতে পারে।

এই জটিলতাগুলো ব্যাখ্যা করে কেন একসময় কম দৃশ্যমান হয়ে পড়া রোগটি কম বিপজ্জনক হয়ে যায়নি। উচ্চ টিকাকরণযুক্ত সমাজে ডিফথেরিয়ার বিরলতা এক ধরনের ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে যে এটি অতীতের রোগ। অস্ট্রেলিয়ার প্রাদুর্ভাব মনে করিয়ে দেয়, একবার কভারেজের ফাঁক তৈরি হলে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ে, পুরনো সংক্রামক হুমকি দ্রুত ফিরে আসতে পারে।

বড় শিক্ষা

এটি শুধু একটি রোগজীবাণুর গল্প নয়। এটি দেখায়, বুস্টার কর্মসূচি দুর্বল হলে, সামনে থাকা কর্মী কম থাকলে এবং আস্থা ক্ষয় হলে জনস্বাস্থ্য অর্জন কতটা ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান সংখ্যা শুধু এই কারণে উদ্বেগজনক নয় যে 230টি সংক্রমণ সাম্প্রতিক ভিত্তির তুলনায় বড় বৃদ্ধি, বরং এই কারণে যে সংক্রমণের বণ্টন দেখায় ব্যবস্থাটি কোথায় সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত।

প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে শুধু বার্তা দেওয়া যথেষ্ট হবে না। উৎসের বিস্তারিত তথ্য দেখায়, ধারাবাহিক টিকাদান, চিকিৎসকের বাস্তবিক প্রাপ্যতা এবং দূরবর্তী আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই প্রতিক্রিয়া দরকার। এই প্রাদুর্ভাবের সতর্কবার্তা স্পষ্ট: টিকায় দমিত রোগগুলো আবার ফিরে আসতে পারে, যদি সেই সুরক্ষা ধরে রাখার পরিবেশকে দুর্বল হতে দেওয়া হয়।

এই নিবন্ধটি New Scientist-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on refractor.io