ইঁদুরের নতুন গবেষণা বিরতিযুক্ত উপবাসকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং মস্তিষ্ক-আন্ত্রিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করেছে
চীনের গবেষকেরা প্রমাণ দিয়েছেন যে বিরতিযুক্ত উপবাস, অন্তত ইঁদুরের ক্ষেত্রে, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার উপসর্গ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার সঙ্গে থাকা কিছু মানসিক চাপ কমাতে পারে। New Atlas-এ কভার করা এই গবেষণায় স্থায়ী ব্যথার কয়েকটি ইঁদুর মডেল অনুসরণ করা হয় এবং দেখা যায়, একদিন পরপর উপবাসের সঙ্গে ব্যথার প্রতিক্রিয়া কম থাকা, একটি মডেলে উদ্বেগ-সদৃশ আচরণ কম হওয়া, অন্ত্রের জীবাণুতে পরিবর্তন, এবং নিউরোইনফ্ল্যামেশন কমার লক্ষণ সম্পর্কিত ছিল।
এই কাজটি প্রমাণ করে না যে উপবাস মানুষের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার চিকিৎসা করতে পারে, এবং এসব ফল এসেছে ক্লিনিকাল ট্রায়াল নয়, প্রাণী পরীক্ষার মাধ্যমে। তবু ফলাফলগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে কেবল একটি স্থানীয় সংবেদনজনিত সমস্যা হিসেবে নয়, বরং আরও বিস্তৃত একটি বিষয় হিসেবে তুলে ধরে। এগুলো ইমিউন প্রতিক্রিয়া, স্নায়ুতন্ত্র, এবং অন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা একটি বৃহত্তর ব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে এবং প্রায়ই উদ্বেগ ও বিষণ্নতার সঙ্গে সহাবস্থান করে। তবু এই বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রায়ই সম্পর্কিত হলেও আলাদা অবস্থা হিসেবে ধরা হয়। নতুন এই গবেষণা ক্রমবর্ধমান গবেষণার ভাণ্ডারে যোগ করেছে, যা বলছে ব্যথা এবং মানসিক চাপ মস্তিষ্ক-আন্ত্রিক অক্ষের মাধ্যমে কিছু একই জৈবিক সার্কিট্রি ভাগ করে নিতে পারে।
পরীক্ষাটি স্বল্পমেয়াদি অস্বস্তি নয়, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল
এই সম্পর্ক অনুসন্ধান করতে গবেষকেরা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ইঁদুর ব্যবহার করেন, যাদের তৈরি করা হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের চলমান ব্যথার মডেল হিসেবে, যার মধ্যে সংকোচনজনিত আঘাত এবং প্রদাহ-সম্পর্কিত ব্যথা অন্তর্ভুক্ত ছিল। 38 দিনের মধ্যে, ইঁদুরের একটি দল একদিন পরপর উপবাসের সময়সূচি অনুসরণ করে, আর নিয়ন্ত্রণদলের প্রাণীরা পুরো গবেষণা জুড়ে খেতে থাকে।
এরপর প্রাণীগুলোকে ব্যথা সংবেদনশীলতা, উদ্বেগ-সদৃশ লক্ষণ, অন্ত্রের জীবাণু, মেটাবোলাইট, এবং নিউরোইনফ্ল্যামেশন মাপার পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপবাসদলের ইঁদুরগুলো বিভিন্ন ব্যথা মডেলে বেদনাদায়ক তাপের প্রতি কম প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা জ্ঞানগত মাপকাঠিতেও উন্নতি দেখায়, এবং সংকোচনজনিত আঘাতের মডেলে নিয়ন্ত্রণের তুলনায় কম উদ্বেগ-সদৃশ আচরণ প্রদর্শন করে।
এই ফলাফলগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থায়ী ব্যথা খুব কমই একা কাজ করে। এটি মেজাজ, মনোযোগ, ঘুম, এবং দৈনন্দিন কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। এমন একটি চিকিৎসা কৌশল যা এসব ক্ষেত্রের একাধিকটিকে একসঙ্গে প্রভাবিত করে, তা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বাস্তবে কীভাবে অনুভূত হয় তার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যদিও এমন চিকিৎসার পথ এখনো অনিশ্চিত।
গল্পটির কেন্দ্রে রয়েছে অন্ত্র-মস্তিষ্ক অক্ষ
গবেষণার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি হতে পারে সেই প্রক্রিয়া, যা গবেষকেরা মানচিত্রায়িত করার চেষ্টা করছেন। New Atlas এই কাজকে মস্তিষ্ক এবং পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে স্নায়বিক সংযোগ বুঝতে চলমান বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যার মধ্যে জ্ঞানগত স্বাস্থ্যে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা রয়েছে।
উপবাস করা ইঁদুরে গবেষকেরা আরও শক্তিশালী অন্ত্র-প্রাচীর এবং স্নায়ুতন্ত্রে কম প্রদাহের লক্ষণ দেখেছেন। তাঁরা অন্ত্রের মাইক্রোফ্লোরার গঠনে পরিবর্তনের কথাও জানিয়েছেন, যার মধ্যে প্রদত্ত উৎস-পাঠ্যাংশে Alistipes finegoldii নামে একটি ব্যাকটেরিয়াল প্রজাতির সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবর্তনও রয়েছে।
এই সমন্বয় বায়োমেডিকেল গবেষণায় উদীয়মান একটি ধারণাকে সমর্থন করে: পরিপাকতন্ত্র শুধু খাবার প্রক্রিয়াজাতই করে না, এটি প্রদাহ, সংকেতবাহী অণু, এবং স্নায়বিক কার্যকলাপকেও প্রভাবিত করে, যা ব্যথা-অনুভূতি এবং আবেগগত অবস্থাকে বদলে দিতে পারে। উপবাস যদি সেই অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বদলে দেয়, তাহলে প্রাণীদের ক্ষেত্রে এই হস্তক্ষেপ কেন ব্যথা-সম্পর্কিত এবং আচরণ-সম্পর্কিত উভয় পরিমাপেই প্রভাব ফেলল, তা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করতে পারে।
এই ধারণার আকর্ষণ স্পষ্ট। এটি এমন সম্ভাবনা খুলে দেয় যে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ভবিষ্যতে শুধু সরাসরি ব্যথানাশক দিয়ে নয়, বরং বিপাক, অন্ত্রের কার্যকারিতা, বা প্রদাহজনিত সংকেতকে পুনর্গঠনকারী হস্তক্ষেপের মাধ্যমেও মোকাবিলা করা যেতে পারে। এটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রচলিত ব্যথার ওষুধকে প্রতিস্থাপন করবে না, কিন্তু চিকিৎসার মানচিত্রকে বিস্তৃত করতে পারে।
ফলাফলগুলো আকর্ষণীয়, কিন্তু ক্লিনিকাল ব্যবহারের জন্য এখনও প্রস্তুত নয়
সতর্ক থাকার একটি স্পষ্ট কারণ আছে। ইঁদুরের গবেষণা প্রক্রিয়া বোঝার জন্য উপকারী, কিন্তু এগুলো বলে না যে উপবাসের কোনও নিয়ম দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় আক্রান্ত মানুষের জন্য নিরাপদ, কার্যকর, বা বাস্তবসম্মত কি না। মানব রোগীদের ব্যথার কারণ, ওষুধ, পুষ্টিগত চাহিদা, এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার সঙ্গে থাকা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অবস্থা অনেক ভিন্ন হতে পারে।
এমনকি প্রবন্ধের উপস্থাপনাতেও প্রমাণ এখনো প্রাক-ক্লিনিকাল। প্রাণীগুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত সময়সূচিতে রাখা হয়েছিল, এবং ফলাফল এসেছে বাস্তবজীবনের চিকিৎসা-ফল থেকে নয়, পরীক্ষাগারভিত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে। ইঁদুরে পাওয়া একটি আশাব্যঞ্জক সংকেত মানুষের মধ্যে প্রমাণিত চিকিৎসার সমান নয়।
উপবাস গবেষণায় আরও একটি বিস্তৃত সমস্যা আছে: এর প্রভাব নির্ভর করতে পারে নির্দিষ্ট প্রোটোকল, বয়স, লিঙ্গ, রোগের মডেল, এবং হস্তক্ষেপের সময়সীমার ওপর। অর্থাৎ, খুঁটিনাটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতের ক্লিনিকাল প্রয়োগ হলে, শুধু উপবাসে উপকার হয় কি না তা নয়, কাদের জন্য, কী ধরনের তত্ত্বাবধানে, এবং কী কী আপসের সঙ্গে তা নির্ধারণ করতে হবে।
তবু গবেষণাটি মনোযোগের যোগ্য, কারণ এটি এমন কয়েকটি ক্ষেত্রকে যুক্ত করে যেগুলো সাধারণত আলাদা আলাদাভাবে অনুসন্ধান করা হয়। ব্যথা সংবেদনশীলতা, উদ্বেগ-সদৃশ আচরণ, অন্ত্র-প্রাচীরের কার্যকারিতা, জীবাণুর গঠন, এবং নিউরোইনফ্ল্যামেশন সবই একই পরীক্ষামূলক দিকে পরিবর্তিত হয়েছে। এমন সমন্বয় ফলাফলকে একটি বিচ্ছিন্ন মাপকাঠির তুলনায় বেশি শক্তিশালী করে।
এটি ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য কী অর্থ বহন করতে পারে
পরবর্তী যৌক্তিক ধাপ হলো রোগীদের নিজেদের ইচ্ছেমতো উপবাসকে ব্যথার চিকিৎসা হিসেবে শুরু করা নয়। বরং গবেষকদের এই ফল আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা করা, প্রথমে প্রাণীতে প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট করা এবং তারপর সতর্কভাবে নিয়ন্ত্রিত মানব গবেষণা নকশা করা। এসব গবেষণায় দেখতে হবে বিরতিযুক্ত উপবাস ক্লিনিক্যালি অর্থপূর্ণভাবে ব্যথার তীব্রতা, মেজাজের উপসর্গ, প্রদাহজনক সূচক, বা মাইক্রোবায়োমের বৈশিষ্ট্য বদলায় কি না।
এগুলোকেও নির্ধারণ করতে হবে যে সম্ভাব্য উপকার উপবাস নিজেই থেকে আসে, নাকি তার পরবর্তী জৈবিক পরিবর্তন থেকে, যা ভবিষ্যতে ওষুধ, খাদ্য-নকশা, বা মাইক্রোবায়োম-নির্ভর থেরাপির মাধ্যমে আরও নির্ভুলভাবে পুনরুত্পাদন করা যেতে পারে। অন্য কথায়, উপবাস হয়তো একটি কার্যকর হস্তক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে, অথবা আরও ভালো হস্তক্ষেপের দিকে নিয়ে যাওয়া একটি সূত্র হতে পারে।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। বায়োমেডিকেল অগ্রগতি প্রায়ই একটি বিস্তৃত শারীরবৃত্তীয় প্রভাব দিয়ে শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত অনেক বেশি নির্দিষ্ট একটি উপকরণে পরিণত হয়। যদি এই গবেষণার মূল মূল্য হয় ব্যথা ও উদ্বেগে জড়িত নির্দিষ্ট অন্ত্র-মস্তিষ্ক পথগুলোকে তুলে ধরা, তাহলে এর দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব যথেষ্ট হতে পারে।
এখনের জন্য, এই গবেষণা দ্রুত বর্ধনশীল বৈজ্ঞানিক চিত্রে আরও একটি অংশ যোগ করেছে, যেখানে বিপাক, জীবাণু, রোগপ্রতিরোধ, এবং স্নায়বিক সংকেত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে সহজ ব্যাখ্যা ও সহজ চিকিৎসাকে প্রতিরোধ করে এসেছে। এ ধরনের গবেষণা বলছে, সামনে এগোনোর পথ হতে পারে এটিকে একটি একক উপসর্গ হিসেবে নয়, বরং একটি সিস্টেম-স্তরের ব্যাধি হিসেবে দেখা।
- একদিন পরপর উপবাস, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার কয়েকটি ইঁদুর মডেলে ব্যথার প্রতিক্রিয়া কমিয়েছে।
- একটি আঘাতের মডেলে, উপবাস নিয়ন্ত্রণ দলের তুলনায় উদ্বেগ-সদৃশ আচরণও কমিয়েছে।
- উপবাস করা ইঁদুরে আরও শক্তিশালী অন্ত্র-প্রাচীর, পরিবর্তিত অন্ত্রের জীবাণু, এবং কম নিউরোইনফ্ল্যামেশনের লক্ষণ দেখা গেছে।
- এই ফলাফলগুলো প্রাক-ক্লিনিকাল, এবং দেখায় না যে উপবাস মানুষের জন্য একটি প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা।
এই নিবন্ধটি New Atlas-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.
Originally published on newatlas.com

