ডিজিটাল নির্ভরতা বাড়লেও ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার এখনও অসম
ইন্টারনেট আধুনিক জীবনের মৌলিক অপারেটিং সিস্টেমের অংশ হয়ে উঠেছে, যা পেমেন্ট ও শিক্ষা থেকে শুরু করে টেলিহেলথ ও দূরবর্তী কাজ পর্যন্ত সবকিছুকে প্রভাবিত করছে। তবুও IEEE বিশ্বের অন্যতম পুরোনো অবকাঠামোগত ব্যবধানগুলোর একটির দিকে নতুন করে আলো ফেলছে এবং একটি সহজ কথা বলছে: বিলিয়ন মানুষ এখনও নির্ভরযোগ্যভাবে সংযুক্ত নয়। তাদের কর্মসূচি Connecting the Unconnected সেইসব উদ্ভাবকদের চিহ্নিত ও সহায়তা করার ওপর কেন্দ্রীভূত, যারা এখনও অফলাইনে থাকা সম্প্রদায়গুলিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর কাজ করছেন।
সমস্যার পরিমাণ এখনও বিস্ময়কর। উৎস উপাদানে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের এখনও ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার নেই। সংখ্যাটি শুধু বড় বলেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি ক্রমবর্ধমান ব্যয়বহুল এক ধরনের বঞ্চনাকে তুলে ধরে বলেও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার, নিয়োগকর্তা, স্কুল ও পরিষেবাগুলো যেহেতু সংযোগকে স্বাভাবিক ধরে নিচ্ছে, তাই অফলাইনে থাকা এখন আর কেবল একটি সংকীর্ণ প্রযুক্তিগত অসুবিধা নয়। এটি অর্থনৈতিক, নাগরিক ও সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণের পথে একটি বাধা।
সুবিধা থেকে সক্ষমতায় প্রবেশাধিকার
বহু বছর ধরে ইন্টারনেট সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা প্রায়ই সুবিধা বা বাজার বৃদ্ধির দিকেই আবর্তিত হতো। এখন সেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। অনেক অঞ্চলে সংযোগই ঠিক করে দেয় মানুষ ডিজিটাল পেমেন্ট, জনসাধারণের তথ্য, দূরবর্তী পরামর্শ, অনলাইন ক্লাস এবং আধুনিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবহার করতে পারবে কি না। এর মানে, প্রবেশাধিকার-ঘাটতি পূরণ করা শুধু আরও ডিভাইস অনলাইনে আনা নয়। এটি এমন সব সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা, যেগুলোকে ক্রমশ ডিফল্ট অবকাঠামো হিসেবে ধরা হচ্ছে।
IEEE-এর সম্পৃক্ততা তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি একটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে এমন একটি সমস্যার কেন্দ্রে নিয়ে আসে, যা একইসঙ্গে প্রযুক্তিগত ও সামাজিক। গ্রামীণ সম্প্রদায়, নিম্নআয়ের এলাকা এবং দূরবর্তী অঞ্চল ভিন্ন ভিন্ন বাধার মুখোমুখি হতে পারে: ব্যাকহলের অভাব, বাণিজ্যিক সরবরাহকারীদের জন্য দুর্বল ব্যবসায়িক প্রণোদনা, কঠিন ভূপ্রকৃতি, নিয়ন্ত্রক সীমাবদ্ধতা, ব্যয়বহুলতা-সংক্রান্ত সমস্যা, বা অনির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ। তাদের যুক্ত করার যেকোনো গুরুতর প্রচেষ্টায় প্রযুক্তিগত পছন্দের সঙ্গে এমন বাস্তবায়ন মডেলও দরকার যা স্থানীয় অবস্থার সঙ্গে সত্যিই মানানসই।
Connecting the Unconnected কী করতে চাইছে
IEEE যে কর্মসূচিকে তুলে ধরছে, তা মনে হচ্ছে বিষয়টি নিয়ে তাত্ত্বিক বিতর্কের বদলে বাস্তবসম্মত সমাধান সামনে আনা ও সমর্থন দেওয়ার জন্য তৈরি। উৎস পাঠ্যে এটিকে প্রবেশাধিকার বাড়ানো উদ্ভাবকদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সংযোগ-ঘাটতি খুব কমই একটি বড় যুগান্তকারী সাফল্যে বন্ধ হয়। তা বন্ধ হয় লক্ষ্যভিত্তিক প্রকৌশল, কমিউনিটি অংশীদারিত্ব, স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা, এবং ঘন শহুরে বাজারের অর্থনীতির বাইরে কাজ করতে পারে এমন অর্থায়ন মডেলের মিশ্রণে।
উৎসে বেঙ্গালুরু, ভারতের কাছাকাছি একটি কমিউনিটি ইভেন্টের কথাও বলা হয়েছে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ব্রডব্যান্ড প্রবেশাধিকার দিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ব্যাখ্যা করেছিলেন। এই বিবরণটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টকে জোর দেয়: সংযোগ-প্রচেষ্টা তখনই সবচেয়ে কার্যকর হয়, যখন সেগুলো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রোথিত থাকে, এক-আকার-সবার জন্য ধরনের সিস্টেম হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয় না। প্রদর্শনী প্রকল্প ও স্থানীয় সম্পৃক্ততা অবকাঠামোকে বাস্তব করে তোলে, অনুমান পরীক্ষা করে, এবং গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় আস্থা গড়ে তোলে।
শেষ মাইলের চ্যালেঞ্জ এখনও সবচেয়ে কঠিন
অনেক দেশে মূল চ্যালেঞ্জ হলো জাতীয়ভাবে ইন্টারনেট আছে কি না, তা নয়; বরং এটি শেষ মাইল পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ীভাবে পৌঁছায় কি না। বাণিজ্যিক সরবরাহকারীরা সেখানে বিনিয়োগ করতে দ্বিধা করতে পারে, যেখানে গ্রাহক ঘনত্ব কম বা প্রত্যাবর্তন অনিশ্চিত। সম্প্রদায়গুলোর হয়তো কাগজে কিছু কভারেজ থাকতে পারে, কিন্তু বাস্তবে তেমন অর্থপূর্ণ ব্যান্ডউইথ নাও থাকতে পারে। ডিভাইস পাওয়া গেলেও সেবার খরচ অত্যধিক হতে পারে।
এই কারণেই Connecting the Unconnected-এর মতো কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। তারা দেখিয়ে দেয় যে ডিজিটাল বিভাজন একটি একক সমস্যা নয়, বরং একাধিক ওভারল্যাপিং সমস্যা। একটি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা আর সেটিকে স্থিতিশীল করা এক নয়। সেটিকে স্থিতিশীল করা আর সাশ্রয়ী করা এক নয়। সেটিকে সাশ্রয়ী করা আর স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, উদ্যোক্তা ও বাসিন্দাদের জন্য ব্যবহারযোগ্য করা এক নয়।
বড় ক্যারিয়ারদের বাইরেও উদ্ভাবন
বড় টেলিকম অপারেটর ও জাতীয় অবকাঠামো কর্মসূচি এখনো অপরিহার্য, তবে তারা পুরো গল্প নয়। ছোট উদ্ভাবকেরা প্রায়ই বিকল্প স্থাপত্য, ভাগাভাগি করা অবকাঠামো, কমিউনিটি-ভিত্তিক মডেল, বা হাইব্রিড সিস্টেম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, যা শুধু ঐতিহ্যগত উপর-থেকে-নিচে পরিকল্পনা থেকে আসে না। এমন প্রচেষ্টাকে খুঁজে বের করা একটি কর্মসূচি এগুলোকে যাচাই করতে, বিশেষজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করতে, এবং নীতিনির্ধারক বা তহবিলদাতাদের দেখাতে সাহায্য করতে পারে যে ভিন্ন ভিন্ন স্থাপন-প্যাটার্ন সম্ভব।
এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এমন এক সময়ে, যখন ডিজিটাল অসমতার প্রভাব ব্রাউজিং অ্যাক্সেসের চেয়েও অনেক বেশি। সংযোগবিহীন একটি ব্যবসা বাজার-পরিসর হারাতে পারে। সংযোগবিহীন একটি শিক্ষার্থী শিক্ষাগত ধারাবাহিকতা হারাতে পারে। সংযোগবিহীন একটি ক্লিনিক তথ্য, সমন্বয় বা বিশেষজ্ঞ সহায়তা হারাতে পারে। সংযোগের মূল্য বিভিন্ন খাতে গুণোত্তর হারে বাড়ে, তাই সংযোগহীনতার অভাবও ততটাই দ্রুত বঞ্চনা বাড়াতে পারে।
এটি কেন এখনও একটি জীবন্ত উন্নয়নমূলক গল্প
সংযোগ-সংক্রান্ত গল্পগুলো সবসময় রকেট উৎক্ষেপণ বা AI মডেলের আত্মপ্রকাশের মতো ঝলমলে হয় না, কিন্তু এগুলোই সেই পরিস্থিতি নির্ধারণ করে, যার মধ্যে অন্য অনেক উদ্ভাবন ছড়িয়ে পড়তে পারে। সম্প্রদায়গুলো যদি নির্ভরযোগ্যভাবে অনলাইনে যেতে না পারে, তবে তারা ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্ম, ক্লাউড-ভিত্তিক সরঞ্জাম, AI পরিষেবা বা দূরবর্তী সহযোগিতা ব্যবস্থার পূর্ণ সুবিধাও নিতে পারবে না। তাই ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার-ঘাটতি একটি upstream innovation issue, যা অন্যান্য খাতে অগ্রগতি মানুষের কাছে পৌঁছাবে কি না, তা প্রভাবিত করে।
Connecting the Unconnected-এর ওপর IEEE-এর আলোকপাত মনে করিয়ে দেয় যে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কেবল সীমান্তবর্তী ব্যবস্থাগুলো কী করতে পারে, তা নিয়ে নয়। এটি নিয়েও যে মৌলিক সক্ষমতাদায়ক অবকাঠামো সেই মানুষদের কাছে পৌঁছায় কি না, যাদের তা ব্যবহার করার কথা। বিলিয়ন মানুষের জন্য সেই গল্পের অংশটি এখনও অসমাপ্ত।
- IEEE এমন একটি কর্মসূচিকে তুলে ধরছে, যা ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার বাড়ানোর কাজে নিয়োজিত উদ্ভাবকদের খুঁজছে।
- উৎস বলছে, বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ এখনও অফলাইনে রয়েছে।
- সংযোগের ঘাটতি পূরণ করা এখন অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ, শিক্ষা এবং পরিষেবার প্রবেশাধিকারের সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত।
এই নিবন্ধটি IEEE Spectrum-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। মূল নিবন্ধ পড়ুন.
Originally published on spectrum.ieee.org





