রানিং শু কীভাবে তৈরি হয়, তা নতুন করে ভাবার চেষ্টা

রানিং শু উচ্চ-ক্ষমতার পণ্য, কিন্তু এগুলো রিসাইক্ল করাও অত্যন্ত কঠিন। জার্মানির ফ্রাউনহোফার দলের নতুন গবেষণা উদ্যোগটি একটি আপাতদৃষ্টিতে সহজ কিন্তু কঠিন প্রশ্ন তুলছে: একটি রানিং শু কি প্রায় পুরোপুরি একটিমাত্র উপাদানে তৈরি করা যায়?

ZiProMat প্রকল্পের মাধ্যমে এই কাজ এগোচ্ছে, যা অ্যাথলেটিক ফুটওয়্যারের জন্য “প্রোগ্রামেবল মনোম্যাটেরিয়াল” পদ্ধতির ওপর কেন্দ্রিত। লক্ষ্য শুধু জুতাশিল্পের প্রান্তিক অংশের বর্জ্য কমানো নয়। লক্ষ্য হলো শিল্পের সবচেয়ে জেদি সমস্যাগুলোর একটিকে আঘাত করা: আধুনিক রানিং শুগুলো অনেক ভিন্ন ভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি, যা একসঙ্গে ভালো কাজ করলেও, পণ্যের জীবনশেষে সেগুলো আলাদা করে পুনরায় ব্যবহার করা কঠিন।

বর্তমান ফুটওয়্যার রিসাইক্ল করা কেন কঠিন

উৎস সমস্যাটি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে। সাধারণ রানিং শুতে থাকে বোনা কাপড়ের আপার, নরম ফোম ও শক্ত রাবারের মিশ্রণে তৈরি সোল সিস্টেম, এবং অতিরিক্ত প্লাস্টিক অংশ। এই বহুস্তরীয় কাঠামো নির্মাতাদের কুশনিং, রিবাউন্ড, সাপোর্ট ও টেকসইত্ব সূক্ষ্মভাবে ঠিক করতে সাহায্য করে। কিন্তু এটিই রিসাইক্লিংয়ের জন্য সমস্যা তৈরি করে, কারণ প্রস্তুত পণ্যটি ভিন্ন ভিন্ন অংশ দিয়ে গঠিত, যেগুলোকে অন্য একটি নতুন জুতার কাঁচামাল হিসেবে ফেরত পাওয়া কঠিন।

ফলে বিদ্যমান রিসাইক্লিং পথগুলো প্রায়শই সত্যিকারের ক্লোজড-লুপ পর্যন্ত পৌঁছায় না। উৎসে বলা হয়েছে, কিছু ব্র্যান্ড পুরোনো জুতো সংগ্রহ করে সেগুলো গুঁড়ো করে কণায় পরিণত করে এবং সেগুলো প্লেগ্রাউন্ড বা রানিং ট্র্যাকের মতো পণ্যে ব্যবহার করে। এতে কিছু সময়ের জন্য উপাদান ল্যান্ডফিলে যায় না, কিন্তু এটি ডাউনসাইক্লিং, পূর্ণ রিসাইক্লিং নয়। মূল জুতাটি আবার নতুন জুতোতে ফিরে যায় না।

রানিং বাজার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। উৎস বলছে, গত ১৫ বছরে বৈশ্বিক ফুটওয়্যার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আরও বলা হয়েছে, একটি সাধারণ রানিং শুর আয়ু সর্বোচ্চ ৮০০ কিলোমিটার, অর্থাৎ নিয়মিত দৌড়বিদদের প্রতি চার থেকে ছয় মাসে একটি নতুন জোড়া বদলাতে হতে পারে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্বল্প প্রতিস্থাপনচক্র একত্রে এমন একটি বৃহৎ উপাদানপ্রবাহ তৈরি করে, যেটিকে বর্তমান পণ্য-নকশা সহজে পুনরুদ্ধারযোগ্য করে তুলতে পারেনি।

একই উপাদান, ভিন্ন ভিন্ন গঠন

ফ্রাউনহোফার-নেতৃত্বাধীন সমাধানটি হলো জুতার মূল উপাদান হিসেবে থার্মোপ্লাস্টিক কপোয়েস্টার ইলাস্টোমার ব্যবহার করা এবং ভিন্ন ভিন্ন পারফরম্যান্স বৈশিষ্ট্য অর্জন করা উপাদান বদলে নয়, বরং কাঠামো বদলে। অর্থাৎ, আলাদা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বহু উপাদান মিলিয়ে না নিয়ে, গবেষকেরা একই উপাদানকে একাধিক কাজে রূপ দিতে চান।

এটাই মনোম্যাটেরিয়াল ভাবনার কেন্দ্র। একটি রানিং শুর জ্যামিতিতে পরস্পরবিরোধী বৈশিষ্ট্য দরকার। উৎস ব্যাখ্যা করে যে হিল অংশটি নরম ও শক-অ্যাবজর্ভিং হওয়া উচিত, মিডসোলকে মসৃণ পদক্ষেপান্তরকে সহায়তা করতে হবে, আর ফোরফুট অংশটি ধাক্কা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট শক্ত হতে হবে। প্রচলিত ফুটওয়্যারে এই পার্থক্যগুলো প্রায়ই আলাদা উপাদান থেকে আসে। ZiProMat পদ্ধতিতে এগুলো আসবে একই উপাদানের ভিন্ন ভিন্ন কাঠামোগত বিন্যাস থেকে।

দেওয়া উদাহরণে আছে একটি নমুনা সোল, যা পুরোপুরি ইলাস্টোমারের শিট দিয়ে তৈরি এবং রিব ও রিজ আকারে সাজানো। এই তথ্যটি দেখায় যে নকশার কাজটি রসায়নের পাশাপাশি জ্যামিতির ওপরও সমানভাবে কেন্দ্রীভূত। সফল হলে, এই প্রকল্প দেখাবে যে উন্নত কাঠামোগত নকশা পারফরম্যান্স ফুটওয়্যারে সাধারণ হয়ে ওঠা বহু-উপাদান জটিলতার কিছু অংশের বিকল্প হতে পারে।

আসল পরীক্ষা হলো পারফরম্যান্স বনাম স্থায়িত্ব

ফুটওয়্যার শিল্প স্থায়িত্বকে উপেক্ষা করেনি, কিন্তু উৎস স্পষ্ট করে বলছে, পারফরম্যান্সই এখনো প্রধান অগ্রাধিকার। বড় ব্র্যান্ডগুলো হালকা, দ্রুত, এবং বেশি শক্তি-দক্ষ জুতো বানাতে প্রতিযোগিতা করে। সেই প্রতিযোগিতা অনুভূতি ও গতির জন্য অপ্টিমাইজ করা জটিল উপাদান-স্তর ব্যবহারে উৎসাহ দিয়েছে, জীবনশেষে পুনরুদ্ধারের জন্য নয়।

এই কারণেই ZiProMat ধারণাটি গবেষণা পর্যায়েই উল্লেখযোগ্য। এটি শুধু পুরোনো পণ্য-তর্কে একটি সবুজ উপাদান যোগ করার প্রস্তাব দেয় না। বরং এটি একটি ভিন্ন উৎপাদন দর্শন প্রস্তাব করে, যেখানে পণ্যটি বেশিরভাগই একটি উদ্ধারযোগ্য উপাদান-পরিবার দিয়ে তৈরি হওয়ায় রিসাইক্লেবিলিটি শুরু থেকেই নকশায় রাখা হয়।

তবে চ্যালেঞ্জটিও স্পষ্ট। রানিং শু কঠিন চাহিদাসম্পন্ন পণ্য। এগুলোর আরাম, স্থায়িত্ব, প্রতিক্রিয়াশীলতা, এবং বায়োমেকানিক্যাল সামঞ্জস্য দরকার। একটি রিসাইক্লেবল শু ধারণা তখনই অর্থবহ হবে, যখন এটি মনোম্যাটেরিয়াল নির্মাণের প্রতিশ্রুত সহজ পুনরুদ্ধার-পথ বজায় রেখেও গ্রহণযোগ্য অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্স দিতে পারবে।

এই প্রকল্প কেন গুরুত্বপূর্ণ

এই কাজের বৃহত্তর তাৎপর্য হলো টেকসই পণ্য নকশা সম্পর্কে এটি কী বলছে। অনেক শিল্প এখন একই সমস্যার মুখোমুখি: উচ্চ-ক্ষমতার পণ্য প্রায়শই কম্পোজিট ও বহু-উপাদান সমাবেশের ওপর নির্ভর করে, যেগুলো পরিষ্কারভাবে রিসাইক্ল করা কঠিন। রানিং শু এই টানাপড়েনের একটি সংক্ষিপ্ত কেস স্টাডি।

ফ্রাউনহোফারের গবেষণা এমন একটি পথের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে পারফরম্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্কুলার ডিজাইনকে পরস্পরবিরোধী ভাবার দরকার নেই। প্রকল্পটি এখনো প্রমাণ করেনি যে পুরোপুরি রিসাইক্লেবল পারফরম্যান্স ফুটওয়্যার ব্যাপক উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত। তবে এটি একটি গুরুতর প্রযুক্তিগত দিক নির্ধারণ করছে: উপাদানভিত্তিকে যতটা সম্ভব সরল রেখে কাঠামো দিয়ে কাজের ভিন্নতা সৃষ্টি করা।

এই দিকটি সফল হলে, এটি ফুটওয়্যার রিসাইক্লিংকে ডাউনসাইক্লিং থেকে সত্যিকারের লুপের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। দৌড়বিদ, নির্মাতা, এবং স্থায়িত্ব গবেষকদের জন্য এটি এমন উচ্চ-ক্ষমতার জুতোর বর্তমান মডেলের তুলনায় একটি অর্থবহ অগ্রগতি হবে, যেগুলোকে আবার উচ্চ-ক্ষমতার জুতোতে ফিরিয়ে আনা কঠিন।

এই নিবন্ধটি New Atlas-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on newatlas.com