খাদ্য নিরাপত্তা এখন একটি প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে

ক্ষুধা এখনো শত শত মিলিয়ন মানুষকে প্রভাবিত করছে এবং বৈশ্বিক খাদ্যচাহিদা আরও বাড়তে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রকৌশল সংগঠনগুলো কৃষিকে শুধু চাষাবাদের সমস্যা হিসেবে নয়, বরং একটি সিস্টেম-সংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। IEEE-এর Smart AgriFood উদ্যোগ এর একটি উদাহরণ, যেখানে দেখানো হচ্ছে কীভাবে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি সমন্বয় করে ফসলের ফলন বাড়ানো এবং অপচয় কমানো যায়।

উৎস উপাদানে বলা হয়েছে, UN World Food Program-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী আজ প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার মুখে রয়েছে, এবং ২০৫০ সালে বৈশ্বিক খাদ্যচাহিদা ২০১০ সালের তুলনায় ৫০% বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সংখ্যাগুলো শুধু বেশি উৎপাদনের নয়, বরং আরও কঠোর পরিবেশগত ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে স্থিতিস্থাপক, তথ্যনির্ভর উৎপাদনের ওপরও চাপ তৈরি করছে।

কোন প্রযুক্তিগুলো এতে যুক্ত

উৎস অনুযায়ী, এই উদ্যোগ স্বয়ংক্রিয় উড়োজাহাজ, Internet of Things ব্যবস্থা এবং রিমোট সেন্সিং ব্যবহারের সমন্বয়ে সহায়তা করছে। এসব সরঞ্জামের প্রতিটি কৃষি শৃঙ্খলের ভিন্ন একটি অংশকে লক্ষ্য করে।

স্বয়ংক্রিয় উড়োজাহাজ দ্রুত এবং বারবার মাঠ পর্যবেক্ষণ করতে পারে, ফলে কৃষকেরা দৃশ্যমান বড় আকারের ফসলহানির অপেক্ষা না করেই চাপ, রোগ, সেচজনিত সমস্যা বা অসম বৃদ্ধি শনাক্ত করতে পারেন। IoT ব্যবস্থা সেন্সর, যন্ত্রপাতি এবং খামারের অবকাঠামোকে সংযুক্ত করতে পারে, ফলে মাঠ ও সংরক্ষণব্যবস্থা অন্ধস্থান না থেকে পর্যবেক্ষিত পরিবেশে পরিণত হয়। রিমোট সেন্সিং বৃহত্তর এলাকার একটি স্তর যোগ করে, যা অঞ্চলজুড়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাহায্য করে এবং পরিকল্পনা ও সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

এগুলোর এককভাবে কোনোটি ক্ষুধার সমাধান নয়। তবে একসঙ্গে এগুলো আরও নির্ভুল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে, যা কম অপচয় করে এবং পরিস্থিতি বদলালে দ্রুত সাড়া দেয়।

গ্যাজেটের চেয়ে সমন্বয় কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ

উদ্যোগটির সবচেয়ে কার্যকর দিকটি হতে পারে উৎসে বর্ণিত সমন্বয়-ভূমিকা। কৃষিক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই আলাদা আলাদা প্রযুক্তি, পাইলট টুল এবং স্টার্টআপের দাবির অভাব নেই। যা প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে, তা হলো ডেটা, হার্ডওয়্যার এবং সিদ্ধান্তগ্রহণের মধ্যে সংযোগ।

একটি বিচ্ছিন্ন সেন্সর নেটওয়ার্ক বা একক পর্যবেক্ষণ ড্রোন স্থানীয় দক্ষতা বাড়াতে পারে, কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তা নির্ভর করে বৃহত্তর সিস্টেম-প্রভাবের ওপর: ফলনের স্থিতিশীলতা, ফসল তোলার পর ক্ষতি কমানো, উন্নত পূর্বাভাস এবং কম সম্পদ-জট। স্মার্ট কৃষিকে একটি প্রকৌশল সমন্বয় সমস্যা হিসেবে দেখলে গুরুত্ব সঠিক জায়গায় পড়ে।

ফলনের বাইরে: অপচয় ও নির্ভরযোগ্যতা

উৎসে বিশেষভাবে শুধু ফসলের ফলন বাড়ানোর কথা নয়, অপচয় কমানোর কথাও বলা হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। খাদ্য নিরাপত্তা শুধু কতটা উৎপাদিত হলো, তা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। সংরক্ষণ, পরিবহন, সময়নির্ধারণ বা ভুলভাবে ব্যবহৃত উপকরণের কারণে কতটা নষ্ট হলো, সেটিও এর অংশ।

প্রকৌশলভিত্তিক হস্তক্ষেপ সমীকরণের দুই দিকেই প্রভাব ফেলতে পারে। আরও ভালো সেন্সিং অতিরিক্ত সেচ, অতিরিক্ত সার ব্যবহার এবং রোগের বিস্তার কমাতে পারে। লজিস্টিক ও সংরক্ষণের আরও ভালো পর্যবেক্ষণ পচন কমাতে পারে। আরও ভালো পূর্বাভাস খাদ্য কখন এবং কোথায় যাবে, তা উন্নত করতে পারে। জলবায়ু চাপ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতার এই বিশ্বে নির্ভরযোগ্যতা কাঁচা উৎপাদনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

  • IEEE-এর Smart AgriFood উদ্যোগ কৃষির জন্য প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত।
  • উল্লেখিত সরঞ্জামগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় উড়োজাহাজ, IoT এবং রিমোট সেন্সিং।
  • ঘোষিত লক্ষ্য হলো ফসলের ফলন বাড়ানো এবং অপচয় কমানো।

বৃহত্তর বক্তব্য হলো, খাদ্য নিরাপত্তা ক্রমেই প্রকৌশল সক্ষমতার সঙ্গে অচ্ছেদ্য হয়ে উঠছে। আরও অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে বৃহত্তর জনসংখ্যাকে খাদ্য জোগাতে শুধু শক্তিশালী বীজ বা বেশি জমি নয়, আরও ভালো তথ্যব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয়তা এবং অবকাঠামোগত বুদ্ধিমত্তাও দরকার হবে।

এতে ক্ষুধার সামাজিক, অর্থনৈতিক বা নীতিগত দিকগুলোর গুরুত্ব কমে না। তবে এটি স্পষ্ট করে যে খাদ্য উৎপাদন আরও দক্ষ ও স্থিতিস্থাপক হবে, নাকি এড়ানো যায় এমন ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকবে, সে ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা বড় ভূমিকা নেবে। স্মার্ট কৃষিকে প্রায়ই আধুনিকায়ন হিসেবে বাজারজাত করা হয়। বাস্তবে, এটি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মৌলিক সরঞ্জামগুলোর অংশ হয়ে উঠছে।

এই নিবন্ধটি IEEE Spectrum-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on spectrum.ieee.org