এআই নিয়ে সন্দিহান একজন শীর্ষ অর্থনীতিবিদের মূল অবস্থান বদলায়নি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সিলিকন ভ্যালির সবচেয়ে আক্রমণাত্মক প্রতিশ্রুতিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশের দুই বছর পরেও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ দারন অ্যাসেমোগলু এখনো নিশ্চিত নন যে এআই শিগগিরই মানুষের কর্মসংস্থানে ব্যাপক ধস নামাবে। তিনি স্বীকার করেন, প্রযুক্তি এগিয়েছে, কিন্তু সরবরাহ করা প্রতিবেদনের মতে তথ্য এখনও মূলত তাঁর প্রাথমিক অবস্থানকেই সমর্থন করে: এআই কিছু কাজ উন্নত করতে পারে, কিন্তু অর্থনীতি-ব্যাপী শ্রমবাজারে যে বিপর্যয়ের কথা প্রায়ই বলা হয়, তার স্পষ্ট প্রমাণ এখনো মেলেনি।
এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জনপরিসরের আলোচনা বিপরীত দিকে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এআই-জনিত চাকরি-ধ্বংসের সতর্কবার্তা এখন রাজনীতি, ব্যবসা এবং দৈনন্দিন আলাপচারিতায় ছড়িয়ে আছে। সরবরাহ করা প্রতিবেদনের মতে, অ্যাসেমোগলুর মনোযোগ আরও নির্দিষ্ট এবং কাঠামোগত। তিনি তাৎক্ষণিক আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স বা পুরোপুরি চাকরি প্রতিস্থাপনের পূর্বাভাস দেওয়ার বদলে দেখছেন, কোম্পানিগুলো কীভাবে এআই সিস্টেম, বিশেষ করে এজেন্ট, ব্যবহার করছে এবং সেগুলোর চারপাশে কী ধরনের কর্মস্থল পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে।
অটোমেশন-সংক্রান্ত দাবিতে তিনি কেন সতর্ক
অ্যাসেমোগলুর আগের গবেষণাপত্রে যুক্তি ছিল, এআই যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশীলতায় কেবল সামান্য বৃদ্ধি আনবে এবং সব ক্ষেত্রে মানবশ্রমিকের প্রয়োজন মুছে দেবে না। ওই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি শিল্পের কিছু অংশকে ক্ষুব্ধ করেছিল, কারণ এটি এমন একটি জনপ্রিয় বয়ানের বিরুদ্ধে গিয়েছিল যে অফিসভিত্তিক কাজ পুরোপুরি অটোমেশনের দ্বারপ্রান্তে।
সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তী গবেষণাগুলোও এখনও দেখায় যে এআই এখনো কর্মসংস্থান হার বা ছাঁটাইকে নাটকীয়ভাবে চালিত করছে না। এটাই এই বিষয়ে অ্যাসেমোগলুর বিশ্বাসযোগ্যতার মূল ভিত্তি। তাঁর সন্দেহের বক্তব্য এভাবে নয় যে এআই টুল উন্নত হচ্ছে না। এর ভিত্তি হলো প্রযুক্তিগত উত্তেজনা ও প্রমাণিত শ্রমবাজার প্রভাবের মধ্যে ব্যবধান।
জনপরিসরের বিতর্কে এই পার্থক্য সহজেই হারিয়ে যায়। একটি ব্যবস্থা আরও সক্ষম হতে পারে, কিন্তু তা সঙ্গে সঙ্গে কাজের পুরো অর্থনীতি বদলে দেয় না। কোম্পানিগুলোকে এখনো টুল একীভূত করতে, প্রক্রিয়া নতুন করে সাজাতে, ঝুঁকি সামলাতে এবং অটোমেশন ও অগমেন্টেশনের কোন মিশ্রণ যুক্তিসঙ্গত তা ঠিক করতে হয়। অ্যাসেমোগলুর সতর্কতার মূল কথা হলো, এসব ঘর্ষণ গুরুত্বপূর্ণ, আর অনেক পূর্বাভাস সেগুলো উপেক্ষা করে।
এজেন্টিক এআই একটি বড় পরীক্ষাক্ষেত্র
তিনি যে একটি ক্ষেত্র খুব কাছ থেকে দেখছেন, তা হলো এজেন্টিক এআই: এমন ব্যবস্থা যেগুলো প্রচলিত চ্যাটবটের তুলনায় বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে বলে উপস্থাপিত হয়। এসব পণ্য প্রায়ই একজন কর্মীর বদলে বহুকাজ সম্পন্নকারী বিকল্প হিসেবে বাজারজাত করা হয়, যা একটি লক্ষ্য পেলে দীর্ঘমেয়াদি কাজ শেষ করতে সক্ষম।
অ্যাসেমোগলু এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। সরবরাহ করা লেখায় তিনি বলেন, এজেন্টদের চাকরির পুরো জটিলতার বিকল্প নয়, বরং কাজের কিছু অংশ বাড়িয়ে দেওয়া টুল হিসেবে দেখা ভালো। তাঁর যুক্তি কাজের বৈচিত্র্যের ওপর দাঁড়ানো। একটি পেশায় বহু আলাদা কার্যকলাপ, ফরম্যাট, ডেটাবেস এবং আন্তঃব্যক্তিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি এক্স-রে টেকনিশিয়ানের উদাহরণ দেন, যার কাজ শুধু ইমেজিং নয়, ইতিহাস, রেকর্ড এবং অপারেশনাল কাজও জড়িত।
এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ “একজন কর্মীকে একটি এজেন্ট দিয়ে বদলে দাও” ধারণাটি এমন এক স্তরের নমনীয়তা ও নির্ভরযোগ্যতা ধরে নেয়, যা অনেক বাস্তব কাজ সহজে আলাদা করে ফেলা যায় না। যদি প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা প্রোটোকল, ইন্টিগ্রেশন বা তদারকি স্তর লাগে, তাহলে প্রতিস্থাপনের অর্থনীতি বিক্রয়-প্রচারের মতো সোজা থাকে না।
আসল ঝুঁকি হতে পারে প্রয়োগের দিক
অ্যাসেমোগলুর উদ্বেগ এই নয় যে এআই-এর কোনো প্রভাব থাকবে না। তাঁর উদ্বেগ হলো, প্রভাব এমনভাবে গড়ে উঠতে পারে যা উৎপাদনশীলতায় হতাশাজনক হলেও চাকরির মানের ক্ষতি করতে পারে। যদিও দেওয়া অংশটি মূলত এজেন্টদের ওপর কেন্দ্রিত, লেখার ফ্রেমিং স্পষ্ট করে যে তিনি কেবল মডেল কতটা শক্তিশালী হচ্ছে তা নয়, ব্যবসাগুলো কীভাবে এআই মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেটাও নজরে রাখছেন।
এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন উপকারী। এআই নিয়ে আলোচনা প্রায়ই ইউটোপীয় সমৃদ্ধি আর ব্যাপক বেকারত্বের দ্বৈত মেরুতে আটকে যায়। অ্যাসেমোগলু এর বদলে প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকে ইঙ্গিত করেন: কোন কাজগুলো প্রতিষ্ঠান অটোমেট করছে, তারা কি এআইকে শ্রমিকদের সহায়তায় ব্যবহার করছে নাকি তাদের দক্ষতাহীন করছে, এবং বাস্তবেই মোতায়েন কি মাপযোগ্য মূল্য সৃষ্টি করছে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেক শিরোনাম-ধর্মী দাবির চেয়ে বেশি বাস্তবমুখী। এটি জিজ্ঞাসা করে, ল্যাব বা বেঞ্চমার্ক সেটিংয়ে এআই তাত্ত্বিকভাবে কী করতে পারে তা নয়, বরং সংস্থাগুলো বড় পরিসরে কী বাস্তবায়ন করতে পারে এবং সেই সিদ্ধান্ত উৎপাদনশীলতা ও শ্রমচাহিদাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে।
২০২৬ সালেও কেন এই বিতর্ক প্রাসঙ্গিক
সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু অর্থনীতিবিদ যারা একসময় সন্দিহান ছিলেন, তারা এখন বড় ধরনের বিঘ্নের সম্ভাবনা নিয়ে আরও উন্মুক্ত, আর রাজনীতিবিদরাও শ্রমিকদের রক্ষার লক্ষ্যে প্রস্তাব নিয়ে সেই সম্ভাবনার প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন। এতে অ্যাসেমোগলুর অবস্থান কম নয়, বরং আরও উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে। তিনি এআই-এর গুরুত্ব কমিয়ে দেখছেন না; তিনি বলছেন, গুরুত্বকে প্রমাণের ভিত্তিতে মাপতে হবে।
তাঁর অবস্থান প্রযুক্তি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের একটি বৃহত্তর টানাপোড়েনও দেখায়। পণ্যের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ে, আর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব অসমভাবে প্রকাশ পায়। ফলে এআই সিস্টেম দৃশ্যমানভাবে উন্নত হলেও শ্রমবাজারের পরিসংখ্যান জেদ ধরে সাধারণই থাকতে পারে। অ্যাসেমোগলুর যুক্তি হলো, পর্যবেক্ষকদের হাইপ, পাইলট প্রকল্প বা নির্বাহী বাগাড়ম্বরকে ব্যবস্থাগত রূপান্তরের প্রমাণ বলে ভুল করা উচিত নয়।
সম্ভাবনা থেকে প্রমাণের দিকে এগোচ্ছে বিতর্ক
অ্যাসেমোগলুর হস্তক্ষেপের মূল্য হলো, এটি এআই-শ্রমবাজার বিতর্ককে এমন কিছুর সঙ্গে বেঁধে রাখে যা বাস্তবেই দেখানো যায়। ভবিষ্যতের তথ্য যদি বড় ধরনের কর্মবিচ্যুতি দেখাতে শুরু করে, তাঁর কাঠামো তা সামাল দিতে পারবে। কিন্তু সরবরাহ করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, তিনি মনে করেন না যে এখনো সেই মামলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এতে শিল্পের সামনে আরও কঠিন প্রশ্ন আসে। যদি এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরির বিপর্যয় বা উৎপাদনশীলতার বিপ্লব না আনে, তাহলে নির্ধারক বিষয় হতে পারে প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করে। তখন দায়ভার বিমূর্ত প্রযুক্তিগত নিয়তি থেকে ফিরে আসে ব্যবস্থাপনা, নীতি এবং কর্মস্থল নকশায়।
- অ্যাসেমোগলু এখনও বলেন, বিদ্যমান প্রমাণ এআই-চালিত ব্যাপক শ্রমধসের দাবিকে সমর্থন করে না।
- তিনি এজেন্টিক এআই-এ নজর রাখছেন, তবে এটিকে পুরো চাকরি প্রতিস্থাপনের বদলে অগমেন্টেশন হিসেবে দেখেন।
- সরবরাহ করা প্রতিবেদনে উদ্ধৃত গবেষণাগুলো এখন পর্যন্ত এআই-এর সীমিত শ্রমবাজার প্রভাবই দেখছে।
- মূল প্রশ্ন হতে পারে, মডেল কতটা শক্তিশালী হচ্ছে তা নয়, কোম্পানিগুলো কীভাবে এআই মোতায়েন করছে।
এআই-সংক্রান্ত চরমপন্থী আলোচনার ভিড়ে এটি একটি সংযত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা। কাজের ভবিষ্যৎ হয়তো হঠাৎ যন্ত্র প্রতিস্থাপনের চেয়ে ধীর, বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই বেশি নির্ধারিত হবে, যেখানে অটোমেশন কীসের জন্য এবং কার উপকারে আসবে, সেটাই মূল প্রশ্ন।
এই নিবন্ধটি MIT Technology Review-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

