উপসর্গ থেকে ক্যানসার নির্ণয় পর্যন্ত পথ পরীক্ষা করেছে গবেষণা
University at Buffalo-র এক postdoctoral associate-এর নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী, ক্যানসার নির্ণয় হওয়া তরুণ প্রাপ্তবয়স্করা প্রথম উপসর্গ লক্ষ্য করার পর চিকিৎসা নিতে দেরির কথা বলেছেন। কিছু ক্ষেত্রে তাঁরা জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা তাঁদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি।
গবেষণাটি এমন একটি সময়পর্বের ওপর কেন্দ্রীভূত, যা প্রতিরোধ ও চিকিৎসার তুলনায় কম মনোযোগ পায়: সম্ভাব্য উদ্বেগজনক উপসর্গ শনাক্ত করা থেকে নির্ণয় পাওয়া পর্যন্ত সময়। বিশ ও ত্রিশের কোঠার মানুষের ক্ষেত্রে এই সময়কে প্রভাবিত করতে পারে গুরুতর অসুস্থতা হওয়ার সম্ভাবনা কম—এমন ধারণা, কাজ ও দৈনন্দিন জীবনের চাপ এবং চিকিৎসা নিতে গেলে পাওয়া প্রতিক্রিয়া।
University at Buffalo-তে community health and health behavior বিষয়ে ডক্টরেট করার সময় Natasha Allard এই কাজটি তৈরি করেন। গবেষণাটি ২২ আগস্ট Cancer Causes & Control জার্নালে প্রকাশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের School of Public Health and Health Professions-এর associate professor Heather Orom সহ-লেখক ছিলেন। Roswell Park Comprehensive Cancer Center, Hunter College এবং University at Buffalo-র সঙ্গে যুক্ত গবেষকেরাও এতে অংশ নেন।
উপসর্গকে প্রায়ই মানসিক চাপের ফল হিসেবে দেখা হয়েছিল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসর্গ লক্ষ্য করার পর বহু তরুণ মাস বা এমনকি বছর ধরে চিকিৎসকের কাছে যাননি। অংশগ্রহণকারীরা প্রায়ই শারীরিক পরিবর্তনকে মানসিক চাপ বা কম গুরুতর অন্য কারণের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন, ফলে চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট অপ্রয়োজনীয় বা সহজে পিছিয়ে দেওয়া যায় বলে মনে হয়েছিল।
তরুণদের জীবনে ক্যানসার গভীরভাবে বিঘ্ন ঘটাতে পারে—Allard-এর এই পর্যবেক্ষণ থেকেই গবেষণাটি শুরু হয়। ২৬ বছর বয়সে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর stage 4 testicular cancer ধরা পড়ার পর তাঁর আগ্রহ আরও বাড়ে। Roswell Park-এ marketing and communications-এ কাজ করার সময় তিনি জানতে পারেন, বয়স্ক গোষ্ঠীতে হার স্থির বা কমলেও তরুণদের মধ্যে ক্যানসার নির্ণয় বাড়ছে।
২০২৩ সালের গোড়ায় Allard ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ৩০ জনের সাক্ষাৎকার নেন। উপসর্গ গুরুতর কি না তাঁরা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেন এবং চিকিৎসা চাইলে চিকিৎসকেরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানান, তা বোঝাই ছিল গবেষণার লক্ষ্য।
বয়স চিকিৎসা-সাক্ষাৎকে প্রভাবিত করতে পারে
চিকিৎসকেরা শুরুতে তাঁদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি বলে মনে করা তরুণদের অভিজ্ঞতা নিবন্ধে বর্ণনা করা হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে রোগীর প্রথম যোগাযোগ উত্তর খোঁজার সিদ্ধান্তকে শক্তিশালী করতে পারে অথবা উপসর্গ অব্যাহত থাকলে দ্রুত ফিরে আসার সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে।
প্রতিটি বিলম্বিত নির্ণয়ের জন্য উপেক্ষাই দায়ী—এমন প্রমাণ গবেষণা দেয় না এবং উপসর্গ ব্যাখ্যার কোনো সার্বজনীন নিয়মও দেয় না। ক্যানসারের অনেক ধরন রয়েছে এবং সাধারণ উপসর্গের ক্যানসার-বহির্ভূত কারণও থাকতে পারে। তবে গবেষণাটি দেখায়, বয়স-সম্পর্কিত প্রত্যাশা চিকিৎসা-সাক্ষাতের উভয় পক্ষকে প্রভাবিত করতে পারে: রোগীরা নিজেদের ক্যানসারের জন্য খুব তরুণ মনে করে উপসর্গকে কম গুরুত্ব দিতে পারেন, আবার চিকিৎসকেরাও সাধারণ কারণ দিয়ে শুরু করতে পারেন।

তাই যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন বর্ণনা করতে, পরবর্তী প্রশ্ন করতে এবং সমস্যা না কমলে আবার যেতে স্বচ্ছন্দ বোধ করা দরকার। চিকিৎসকদেরও শুধু বয়সের কারণে আরও পরীক্ষা বন্ধ না করে রোগীর বক্তব্য বিবেচনা করা উচিত।
বর্ধমান জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ
American Cancer Society জানায়, ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মৃত্যুর পাঁচটি প্রধান কারণের একটি ক্যানসার। উৎস প্রতিবেদনের মতে, তরুণী নারীদের রোগ-সম্পর্কিত মৃত্যুর প্রধান কারণও এটি।
উপসর্গে দ্রুত মনোযোগ দেওয়া কেন Allard-এর কাজের লক্ষ্য, এই পরিসংখ্যান তা ব্যাখ্যা করে। ক্যানসার নিয়ে জনস্বাস্থ্য বার্তায় প্রায়ই প্রতিরোধ, screening এবং চিকিৎসার ওপর জোর দেওয়া হয়—যেগুলো সবই অপরিহার্য। নতুন গবেষণা পথের আরেকটি পর্যায়ে নজর দেয়: কিছু ভুল বুঝতে পারার পর, কিন্তু নির্ণয় পাওয়ার আগে মানুষ কী করে।
Allard বলেন, এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কাজ প্রতিটি উপসর্গ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার আহ্বান নয়। বরং তিনি মনে করেন, তরুণদের দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানসিক চাপের স্বাভাবিক ফল বা অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করা যায় এমন সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
রোগী ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের জন্য তাৎপর্য
রোগীকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নির্ণয়কে দেখার জন্য এই গবেষণার মূল্য রয়েছে। পরিমাণগত তথ্য বলতে পারে কখন নির্ণয় হয়, কিন্তু সাক্ষাৎকার প্রকাশ করতে পারে কেন কেউ অপেক্ষা করল, তার কাছে কী তথ্য ছিল, সে কী ভয় পেয়েছিল এবং আগের চিকিৎসা-সাক্ষাৎ পরের সিদ্ধান্তকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল।
স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য ফলাফল এমন যোগাযোগের দিকে ইঙ্গিত করে, যাতে তরুণ রোগীরা গুরুতর রোগ নিয়ে আলোচনায় স্বাগত বোধ করেন। চিকিৎসকদের জন্য এটি পরিবর্তনশীল বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ শোনা এবং follow-up পরিকল্পনা ব্যাখ্যার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে। রোগীদের জন্য এটি নিজের শরীরের দিকে খেয়াল রাখা এবং কিছু ঠিক না লাগলে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়ার বাস্তব ধারণাকে সমর্থন করে।
আগে মূল্যায়ন করলেই নির্দিষ্ট ফল নিশ্চিত হয় না এবং এই গবেষণা ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসার বিকল্প নয়। এর অবদান হলো দেখানো যে নির্ণয়ের পথ শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করে না। আত্মবিশ্বাস, প্রত্যাশা এবং তরুণরা মনে করেন তাঁদের কথা শোনা হবে কি না—এসবও তা গড়ে তোলে।
গবেষণা নতুন আলোচনার সূচনা করেছে
ক্যানসারকে প্রধানত বয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হলে যে সমস্যা আড়ালে থাকতে পারে, Allard-এর গবেষণা তা তুলে ধরে। ক্যানসার আরও বেশি তরুণকে প্রভাবিত করায়, নির্ণয়ের আগের বিলম্ব বোঝা শিক্ষা, চিকিৎসা-চর্চা ও ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মূল বার্তাটি সংযত হলেও তাৎপর্যপূর্ণ: বয়স যেন মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গকে গুরুত্ব দিতে বাধা না দেয় এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেও তরুণরা কথা বললে মনোযোগ দিয়ে শোনা থেকে বিরত না করে।
এই নিবন্ধটি Medical Xpress-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে তৈরি। মূল নিবন্ধ পড়ুন।
Originally published on medicalxpress.com






