অর্থনৈতিক ও মানবিক প্রভাব বহনকারী একটি মাইলফলক

Health Foundation-এর নতুন বিশ্লেষণ যুক্তরাজ্যের অবনতিশীল স্বাস্থ্যের একটি স্পষ্ট পরিমাপ সামনে এনেছে: সুস্থ জীবনপ্রত্যাশা এখন রাষ্ট্রীয় অবসরের বয়সের নিচে নেমে গেছে। এর মানে, ভালো স্বাস্থ্য ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও অনেক মানুষকে অবসরে বছর কাটাতে হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে.

প্রদত্ত উৎস-পাঠ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে সুস্থ জীবনপ্রত্যাশা 2012-2014 এবং 2022-2024 সময়ের মধ্যে পুরুষদের ক্ষেত্রে 62.9 বছর থেকে 61 বছরের একটু কমে এবং নারীদের ক্ষেত্রে 63.7 বছর থেকে 61 বছরের একটু কমে নেমে এসেছে। অবসরের বয়স 66 এবং 2026 সালের শেষের দিকে তা 67-এ উঠবে। Health Foundation এটিকে একটি watershed moment, অর্থাৎ মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে, এবং শব্দটি যথার্থ। এটি শুধু স্বাস্থ্য-ফলাফলের পরিবর্তন নয়, বরং সামাজিক নীতি, শ্রমবাজার, এবং বার্ধক্য আগামী দশকে কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে তারও ইঙ্গিত দেয়.

সুস্থ জীবনপ্রত্যাশা মোট জীবনপ্রত্যাশার সমান নয়। এটি মাপে, মানুষ কত বছর ভালো স্বাস্থ্যে বাঁচতে পারে, যা মৃত্যুহার এবং স্ব-প্রতিবেদিত স্বাস্থ্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘায়ুর শিরোনাম অনেক সময় আড়াল করে দেয় জীবনের পরের অংশ কতটা প্রতিবন্ধকতা, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, দুর্বলতা, বা কাজ করা ও অন্যদের দেখাশোনার কম সক্ষমতার মধ্যে কেটে যাচ্ছে। একটি দেশ মানুষকে বেশি দিন বাঁচিয়ে রাখতে পারে, তবুও সেই বাড়তি বছরগুলোর মান খারাপ হতে পারে.

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের অবস্থা এখন বিশেষভাবে দুর্বল দেখাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 21টি উচ্চ-আয়ের দেশের মধ্যে 2011 থেকে 2021-এর মধ্যে সুস্থ জীবনপ্রত্যাশা কমেছে এমন মাত্র পাঁচটি দেশের একটি ছিল যুক্তরাজ্য, এবং এটি দ্বিতীয় সর্বাধিক পতন রেকর্ড করেছে। গবেষণার সহলেখক Health Foundation-এর Andrew Mooney বলেছেন, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তুলনীয় দেশগুলোর মধ্যে এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সুস্থ জীবনপ্রত্যাশাই যুক্তরাজ্যের চেয়ে কম.

এই তুলনাটি স্বাস্থ্যনীতি-সীমার বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের সময় কমে যাওয়া কর্মশক্তিতে অংশগ্রহণ, সরকারি অর্থনীতি, হাসপাতালের চাহিদা, সামাজিক সেবার চাপ, এবং পেনশন-বয়স সংক্রান্ত ধারণার বাস্তবতা সবকিছুকে প্রভাবিত করে। মানুষকে বেশি দিন কাজ করতে বলা হলে, কিন্তু কম বছর স্বাস্থ্যে থাকতে হলে, নীতিগত টানাপড়েন অনিবার্য। সরকার আনুষ্ঠানিক অবসরের বয়স বাড়াতে পারে, কিন্তু কর্মক্ষম বয়সের প্রাপ্তবয়স্কদের অসুস্থতা আইন করে মুছে ফেলতে পারে না.

উৎস-পাঠে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই অবনতি সমানভাবে বণ্টিত নয়। ইংল্যান্ডে সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে কম বঞ্চিত এলাকার মধ্যে ব্যবধান পুরুষদের ক্ষেত্রে 19.4 বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে 20.3 বছরে পৌঁছেছে। এটি সামান্য বৈষম্য নয়। এটি কাঠামোগত বিভাজন, যেখানে কারা বার্ধক্যে গিয়েও সুস্থ থাকতে পারবে, আর কারা পারবে না.

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত স্থানভিত্তিক তুলনাটি চোখে পড়ার মতো। সমৃদ্ধ Richmond-এ পুরুষদের সুস্থ জীবনপ্রত্যাশা 69.3 বছর এবং নারীদের 70.3 বছর। Blackpool-এ পুরুষদের সুস্থ জীবনপ্রত্যাশা 50.9 বছর। এই সংখ্যাগুলো দেখায়, গড় মান কীভাবে অসম স্বাস্থ্যবাস্তবতাকে সমান করে ফেলতে পারে। কিছু সম্প্রদায়ে সুস্থ অবস্থায় অবসর নেওয়া স্বাভাবিক। অন্যত্র, অবসরের অনেক আগেই খারাপ স্বাস্থ্য এসে পড়ছে.

এই কারণেই প্রতিবেদনের সতর্কবার্তা নৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই শক্তিশালী। সুস্থ জীবনের সময় কমে যাওয়া মানে অসুস্থতার বেশি বছর, কর্মসংস্থানে বেশি বিঘ্ন, পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ, এবং সরকারি সেবার ওপর বেশি চাপ। এটিও বোঝায় যে জাতীয় উৎপাদনশীলতার সমস্যা জনগণের স্বাস্থ্য থেকে আলাদা নয়। কর্মক্ষম বয়সের স্বাস্থ্য অবনত হলে, হারানো শ্রম, কম উৎপাদন, এবং বেশি সহায়তা ব্যয়ের মাধ্যমে অর্থনীতি তা অনুভব করবে.

এই ফলাফলগুলো এটিকে কেবল বার্ধক্যের সমস্যা হিসেবে সংকুচিতভাবে দেখাকেও চ্যালেঞ্জ করে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে কর্মক্ষম বয়সের জনসংখ্যার মধ্যে স্বাস্থ্যহ্রাসের কথা বলা হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। শুধু জীবনের শেষ প্রান্তে অসুস্থতা থাকা সমাজের এক রকম সমস্যা থাকে। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের আগের দিক থেকেই অসুস্থতা ছড়িয়ে পড়লে সংকট অনেক বড় হয়, কারণ তা শিক্ষার, দেখাশোনার, আয়ের, এবং সরকারি ব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে একসঙ্গে প্রভাবিত করে.

Health Foundation বলছে, পরপর সরকারগুলো এই পতন মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রদত্ত উপকরণের ভিত্তিতে এই সমালোচনা মানবিক ও আর্থিক, দুই খরচের দিকেই কেন্দ্রীভূত। যুক্তিটিকে খণ্ডন করা কঠিন। খারাপ স্বাস্থ্য শুধু একটি চিকিৎসাগত ফল নয়; এটি একটি সিস্টেম-ফল। বাসস্থান, কাজের মান, প্রতিরোধ, আঞ্চলিক বৈষম্য, এবং চিকিৎসা-প্রবেশাধিকার সবই ঠিক করে মানুষ কতদিন সুস্থ থাকবে.

এই প্রতিবেদনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষাটি হলো, অবসরনীতি জনস্বাস্থ্যের থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। যদি সুস্থ জীবনপ্রত্যাশা কমতেই থাকে আর পেনশন বয়স বাড়তেই থাকে, তাহলে রাষ্ট্র মানুষকে যা করতে বলছে আর তাদের শরীর যা সহ্য করতে পারে তার মধ্যে ব্যবধানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ঝুঁকি নেবে। ফল হবে শুধু কম-সুস্থ সমাজ নয়। এটি হবে আরও কম সৎ এক সমাজ, যেখানে সরকারি মাইলফলকগুলো ক্রমেই বাস্তব জীবনের সঙ্গে মেলে না.

এই নিবন্ধটি Medical Xpress-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধটি পড়ুন.

Originally published on medicalxpress.com