জাতিগত পরিচয়ের চেয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকির কারণ

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ প্রচলিত স্ট্রোকের ঝুঁকির কারণগুলোর পার্থক্য স্ট্রোকে জাতিগত বৈষম্য বোঝার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বলে King’s College London-এর গবেষকদের নেতৃত্বে করা একটি গবেষণায় জানানো হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ লন্ডনের ডেটাসেটে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় এশীয় ও কৃষ্ণাঙ্গদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু এসব রোগ হওয়ার পর গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা একই ছিল।

স্ট্রোক হওয়ার আগে cardiometabolic রোগ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনার দিকে এই ফলাফল মনোযোগ সরায়। স্বাস্থ্যফলে জাতিগত পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক—এ কথা বলা হচ্ছে না। বরং দুটি প্রশ্নকে আলাদা করা হচ্ছে: মানুষের মধ্যে প্রধান স্ট্রোক-ঝুঁকি কারণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কি না, এবং সেসব রোগ হওয়ার পর স্ট্রোকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা ভিন্ন কি না।

৬৫০,০০০-এর বেশি প্রাথমিক-চিকিৎসা রেকর্ড

BMC Public Health-এ প্রকাশিত গবেষণাটি দক্ষিণ লন্ডনের ৬৫০,০০০-এর বেশি মানুষের ইলেকট্রনিক প্রাথমিক-চিকিৎসা রেকর্ড বিশ্লেষণ করেছে। রেকর্ডগুলো Lambeth-এর ৪১টি general practice থেকে নেওয়া এবং ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

গবেষকেরা এশীয়, কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তাঁরা স্ট্রোকের সঙ্গে যুক্ত তিনটি প্রধান cardiometabolic ঝুঁকির কারণ পরীক্ষা করেন: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং hypercholesterolemia বা উচ্চ কোলেস্টেরল।

আগের গবেষণায় ধারাবাহিকভাবে দেখা গেছে যে কিছু জাতিগত গোষ্ঠীতে স্ট্রোকের হার বেশি এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে স্ট্রোকের ঝুঁকিতে জাতিগত পরিচয়ের নির্দিষ্ট ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। King’s College London-এর দল ঝুঁকির কারণ তৈরি হওয়া এবং পরে সেগুলো থেকে স্ট্রোকে অগ্রসর হওয়ার ধাপ আলাদাভাবে দেখে বিষয়টি আরও বিশদে পরীক্ষা করেছে।

সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন অনুসরণ

এ জন্য গবেষকেরা multistate analysis ব্যবহার করেন। সময়ের সঙ্গে মানুষ কীভাবে এক স্বাস্থ্য-অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যায়, তা অনুসরণ করার জন্য তৈরি একটি modelling পদ্ধতি এটি। এই গবেষণায় অবস্থাগুলো ছিল কোনো শনাক্ত ঝুঁকির কারণ না থাকা থেকে শুরু করে প্রধান ঝুঁকির কারণগুলোর একটি তৈরি হওয়া এবং এরপর স্ট্রোক হওয়া পর্যন্ত।

এই কাঠামো গবেষকদের এক ধাপ থেকে পরের ধাপে যাওয়ার সম্ভাবনা হিসাব করতে দেয়। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামগ্রিক স্ট্রোকের হার একবার তুলনা করলে ওই ফলাফলে পৌঁছানোর বিভিন্ন পথ আড়াল হয়ে যেতে পারে। কোনো গোষ্ঠীর ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে, কিন্তু সেই রোগ হওয়ার পর স্ট্রোকের ঝুঁকি একইভাবে ভিন্ন নাও হতে পারে।

গবেষকেরা তিনটি ঝুঁকির কারণই তৈরি হওয়ার সম্ভাবনায় জাতিগত পার্থক্য পেয়েছেন, বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে। সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্বেতাঙ্গ রোগীদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় রোগীদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকির কারণের উপস্থিতি বেশি ছিল। তবু এসব রোগ হওয়ার পর স্ট্রোকের সম্ভাবনা গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একই ছিল।

প্রতিরোধের জন্য প্রভাব

স্ট্রোক প্রতিরোধ সাধারণত পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকির কারণ শনাক্ত ও মোকাবিলায় মনোযোগ দেয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল দ্রুত শনাক্ত এবং নিয়ন্ত্রণের ওপর ঘনিষ্ঠ নজর দেওয়াকে গবেষণার ফল সমর্থন করে, বিশেষ করে যেখানে এসব রোগ বেশি দেখা যায়।

গবেষণাটি জটিল স্বাস্থ্য বৈষম্যকে একটি মাত্র কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করে না। এটি লন্ডনের একটি অংশের রেকর্ডে পরিমাপ করা ক্লিনিক্যাল পথের ওপর কেন্দ্রীভূত। ডেটাসেটে Lambeth-এর ৪১টি practice-এর রোগীরা ছিলেন এবং এশীয়, কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ জাতিগত গোষ্ঠী পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব তথ্য গবেষণার ফলাফলের পরিধি নির্ধারণ করে।

তবু বিশ্লেষণে দেখানো পার্থক্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রতিরোধের প্রচেষ্টা আরও নির্দিষ্টভাবে সাজাতে সাহায্য করতে পারে। যদি স্ট্রোকের ফলাফলের পার্থক্য cardiometabolic ঝুঁকির কারণ তৈরির পার্থক্যের সঙ্গে জোরালোভাবে যুক্ত হয়, তাহলে স্ট্রোক হওয়ার আগেই পদক্ষেপ নেওয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস দ্রুত শনাক্ত করা, এসব রোগ হওয়া ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ করা এবং যেখানে এসব রোগ বেশি দেখা যায় সেখানে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা পৌঁছানো নিশ্চিত করা রয়েছে। গবেষণায় hypercholesterolemia-ও অন্তর্ভুক্ত, যা দেখায় স্ট্রোক প্রতিরোধ কোনো একক রোগ নয়, বরং সম্পর্কিত একাধিক cardiovascular ঝুঁকির কারণের সঙ্গে যুক্ত।

গবেষণার অবদান

গবেষণাটির উল্লেখযোগ্য অবদান পদ্ধতিগত ও ক্লিনিক্যাল—দুই দিকেই। ঝুঁকির কারণ তৈরি হওয়াকে স্ট্রোকে রূপান্তরের ধাপ থেকে আলাদা করে গবেষকেরা প্রাথমিক-চিকিৎসার ডেটায় দেখা পথে বৈষম্য কোথায় তৈরি হয়েছে তা পরীক্ষা করতে পেরেছেন।

ফলাফল ইঙ্গিত করে, স্ট্রোকের আগে থাকা cardiometabolic ঝুঁকি কমানো ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই প্রতিরোধের সবচেয়ে মূল্যবান সুযোগ থাকতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল থাকার পর কী হবে তা শুধু জাতিগত পরিচয় নির্ধারণ করে—এই সরল ব্যাখ্যাকেও তারা চ্যালেঞ্জ করে।

রোগী ও চিকিৎসকদের জন্য বার্তা হলো না যে ঝুঁকির কারণ অনিবার্য, কিংবা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের ভিত্তিতে স্ট্রোকের ফলাফল সাধারণীকরণ করা যায়। বার্তা হলো, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো রোগ প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও পর্যবেক্ষণযোগ্য লক্ষ্য। এসব রোগ মোকাবিলা করা স্ট্রোকের ঝুঁকিতে বৈষম্য কমানোর জন্য জরুরি—গবেষণাটি এর পক্ষে আরও প্রমাণ যোগ করে।

এই নিবন্ধটি Medical Xpress-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে লেখা। মূল নিবন্ধ পড়ুন।

Originally published on medicalxpress.com