দৃশ্যমান প্রভাবসহ একটি লুকানো শব্দ

ইনফ্রাসাউন্ড সাধারণ মানব শ্রবণের নিম্নসীমার নিচে, অর্থাৎ ২০ হার্টজেরও কম ফ্রিকোয়েন্সিতে থাকে। মানুষ সাধারণত এটি সচেতনভাবে শুনতে পায় না, তবে ঝড়, যানবাহন, বায়ু চলাচল ব্যবস্থা এবং শিল্পযন্ত্রের মতো দৈনন্দিন পরিবেশে এটি সাধারণ। Frontiers in Behavioral Neuroscience-এ আলোচিত নতুন গবেষণা বলছে, শব্দপরিবেশের এই প্রায় অদৃশ্য অংশটিও শরীর ও মেজাজকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই গবেষণা একটি সহজ কিন্তু অস্বস্তিকর ধারণা সামনে আনে: মানুষ বুঝতেই না পেরে ইনফ্রাসাউন্ডে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে যে পরিবর্তনের কারণ কী। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অজানা অস্বস্তি, অস্থিরতা বা বিরক্তির অনুভূতি প্রায়ই প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ভবনকে যদি আগেই ভৌতিক বা ভুতুড়ে বলে মনে করা হয়, তাহলে একটি বাস্তব শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়াকে অতিপ্রাকৃত বলে ভুল ব্যাখ্যা করা হতে পারে।

গবেষকেরা কী পরীক্ষা করেছেন

পরীক্ষাটিতে ৩৬ জন অংশগ্রহণকারী একটি ঘরে একা বসে শান্ত বা অস্বস্তিকর সঙ্গীত শুনছিলেন। তাদের অর্ধেকের ক্ষেত্রে, লুকানো সাবউফার ১৮ হার্টজে ইনফ্রাসাউন্ডও বাজিয়েছিল। পরে অংশগ্রহণকারীরা তাদের অনুভূতি জানায়, সঙ্গীতের আবেগগত স্বর মূল্যায়ন করে, এবং ইনফ্রাসাউন্ড ছিল কি না তারা বিশ্বাস করেছিল কি না তা বলে। গবেষকেরা সেশন শুরুর আগে ও পরে লালার নমুনাও সংগ্রহ করেন।

এই নকশার উদ্দেশ্য ছিল সচেতন উপলব্ধি ও শারীরিক প্রতিক্রিয়াকে আলাদা করা। যদি অংশগ্রহণকারীরা শব্দটি শনাক্ত করতে পারত, তবে মেজাজে প্রভাবের কিছু অংশ প্রত্যাশার প্রতিফলন হতে পারত। যদি তারা তা না পারত, কিন্তু তাদের শরীর তবু প্রতিক্রিয়া দেখাত, তাহলে বোঝা যেত যে প্রতিক্রিয়াটি সচেতনতার নিচের স্তরে ঘটছে।