ইউরোপে এসটিআই বৃদ্ধির প্রবণতা আর কোনো সংকীর্ণ ধারা নয়
প্রদত্ত উৎস পাঠ্যে উদ্ধৃত নতুন মহামারিবিদ্যাগত প্রতিবেদনের অনুযায়ী, ইউরোপে এক দশকেরও বেশি সময়ে ব্যাকটেরিয়াল যৌনবাহিত সংক্রমণের সর্বোচ্চ মাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে। সবচেয়ে তীব্র সতর্ক সংকেত হতে পারে জন্মগত সিফিলিস; ১৪টি দেশে, যারা তথ্য দিয়েছে, সেখানে ২০২৩ সালের ৭৮টি থেকে ২০২৪ সালে রিপোর্ট করা ঘটনা বেড়ে ১৪০ হয়েছে। এই প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি এমন এক পরিসংখ্যানকে, যা কেবল নজরদারির ফল বলে মনে হতে পারত, এখন প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আরও সরাসরি সূচকে পরিণত করে।
বিস্তৃত সংখ্যাগুলো সমস্যার পরিসর দেখায়। ২০২৪ সালে গনোরিয়ার ১,০৬,৩৩১টি ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, যা ২০১৫ সালের তুলনায় ৩০৩% বৃদ্ধি। একই সময়ে সিফিলিসের ঘটনা বেড়ে ৪৫,৫৭৭-এ পৌঁছেছে, অর্থাৎ এরও দ্বিগুণের বেশি। ক্লামিডিয়া ২,১৩,৪৪৩টি ঘটনার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি রিপোর্ট হওয়া এসটিআই ছিল, আর লিম্ফোগ্রানুলোমা ভেনেরিয়াম ৩,৪৯০টি সংক্রমণ নিয়ে চলতে থাকে। সব মিলিয়ে, এই তথ্যগুলো ইঙ্গিত করে যে এটি কোনো একক রোগজীবাণু বা একক উপগোষ্ঠীতে সীমাবদ্ধ স্বল্পমেয়াদি উল্লম্ফন নয়, বরং ধারাবাহিক সংক্রমণ।
জন্মগত সিফিলিস কেন আলাদা করে নজরে আসে
জন্মগত সিফিলিসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার একাধিক স্তরে ব্যর্থতাকে প্রতিফলিত করে। অনেক সংক্রমণের মতো শুধু উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর এটি ধরা পড়ে না; বরং প্রসবপূর্ব স্ক্রিনিং, ফলো-আপ পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এটি প্রতিরোধ করা যায়। উৎস পাঠ্য অনুযায়ী, ECDC-এর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে, পাশাপাশি পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবায় বিস্তৃত বাধাও উল্লেখ করা হয়েছে। যখন সংক্রমণ সরাসরি নবজাতকের কাছে পৌঁছে যায়, তখন জনস্বাস্থ্য সমস্যা শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সংক্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং নিয়মিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভাঙনও প্রকাশ পায়।
এর পরিণতি গুরুতর এবং আজীবন হতে পারে। উৎস উপাদানে বলা হয়েছে, চিকিৎসা না করা ব্যাকটেরিয়াল এসটিআই বন্ধ্যাত্ব, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, এবং সিফিলিসের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র বা স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে এমন গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে। নবজাতকদের জন্য এই বোঝা আরও উদ্বেগজনক, কারণ ক্ষতি জীবনের একেবারে শুরুতেই ঘটে। তাই জন্মগত ঘটনার বৃদ্ধি স্পষ্টতই দেখায় যে বর্তমান প্রতিক্রিয়া সংক্রমণের ধারা মেলাতে পারছে না।
বিভিন্ন গোষ্ঠী, বিভিন্ন ধারা
এই বৃদ্ধি সমানভাবে বণ্টিত নয়। উৎস পাঠ্য অনুযায়ী, পুরুষদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রাখা পুরুষরাই এখনো সবচেয়ে বেশি অসমভাবে আক্রান্ত গোষ্ঠী, এবং গনোরিয়া ও সিফিলিসে তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধিও সবচেয়ে বেশি। তবে তথ্যগুলো ভিন্নধর্মী জনগোষ্ঠীর মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখায়, বিশেষত প্রজননযোগ্য বয়সের নারীদের মধ্যে, যেখানে সিফিলিস বাড়ছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে ঝুঁকির চিত্র আরও বিস্তৃত হয়। একক কোনো সম্প্রদায়ে কেন্দ্রীভূত এসটিআই প্রবণতা লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপ দাবি করে; আর একাধিক জনগোষ্ঠীতে ছড়িয়ে পড়া প্রবণতার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক এবং মূলধারার, উভয় ধরনের প্রতিক্রিয়া দরকার।
এই কারণে বর্তমান প্রতিরোধ কৌশল যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে এই সংখ্যা প্রশ্ন তোলে। যদি সংক্রমণ বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বাড়ে এবং জন্মগত সংক্রমণও খারাপ হয়, তবে হয় প্রবেশাধিকার খুব সীমিত, জনসচেতনতা সঠিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, চিকিৎসার শৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে, অথবা তিনটিই একসঙ্গে ঘটছে।
এই সংখ্যা কী প্রমাণ করে, আর কী করে না
নজরদারি বৃদ্ধির অর্থ কখনও কখনও সংক্রমণ খারাপ হওয়ার বদলে পরীক্ষা বৃদ্ধি হওয়াও হতে পারে, কিন্তু প্রদত্ত উৎস পাঠ্যে একাধিক দেশে ধারাবাহিক সংক্রমণ এবং এক দশকজুড়ে নোটিফিকেশন বৃদ্ধির ধারা জোর দিয়ে বলা হয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। এগুলো কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তিহীন বিচ্ছিন্ন উল্লম্ফন নয়। বহু বছর ধরেই দিকটি ঊর্ধ্বমুখী, আর জন্মগত সিফিলিস বৃদ্ধি দেখায় যে জনস্বাস্থ্যের বোঝা বাস্তব, কেবল পরিসংখ্যানগত শব্দ নয়।
একই সঙ্গে, রিপোর্ট করা ঘটনা নির্ভর করে দেশগুলো কতটা আক্রমণাত্মকভাবে পরীক্ষা করে, কত দ্রুত রোগ নির্ণয় হয়, এবং কতটা নিয়মিতভাবে নথিভুক্ত করা হয় তার ওপর। ফলে মোট সংখ্যাকে প্রতিটি সংক্রমণের সম্পূর্ণ পরিমাপ না ধরে একটি গুরুতর প্রবণতার সূচক হিসেবে পড়তে হবে। তবুও, যখন রিপোর্ট করা বোঝা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়, তখন নিখুঁত পরিমাপের অপেক্ষা করার সুযোগ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার নেই।
প্রতিরোধের বার্তা মৌলিক, তবে বাস্তবায়ন কঠিন
উৎস পাঠ্যে ECDC-এর ব্রুনো সিয়ানচিওকে উদ্ধৃত করে সহজ সুরক্ষামূলক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে: নতুন বা একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে কনডম ব্যবহার করা এবং ব্যথা, স্রাব বা আলসারের মতো উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষা করানো। এই পরামর্শ এখনো মৌলিক, কারণ ব্যাকটেরিয়াল এসটিআই প্রায়ই শনাক্তযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য, এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রতিরোধের গুরুত্বও রয়ে গেছে। কিন্তু তথ্য বলছে, ঘাটতিটি এখন শুধু বার্তায় সীমিত নেই।
স্ক্রিনিংয়ের প্রাপ্যতা, কলঙ্ক, ফলো-আপ, গর্ভাবস্থায় পুনরায় পরীক্ষা, সঙ্গীকে জানানো, এবং দ্রুত চিকিৎসা, সবকিছুই নির্ধারণ করে যে জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা বাস্তবে সংক্রমণ কমাতে পারবে কি না। পরীক্ষা করানোর পরামর্শ তখনই কার্যকর হয়, যখন মানুষ সহজে তা করতে পারে, প্রক্রিয়াটির ওপর আস্থা রাখতে পারে, খরচ বহন করতে পারে, এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা পেতে পারে। জন্মগত সিফিলিসের বৃদ্ধি ইঙ্গিত করে যে এই শৃঙ্খলের কিছু অংশ বাস্তবে ব্যর্থ হচ্ছে।
স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা
এই সংখ্যাগুলোকে কেবল সংক্রমণ-সংক্রান্ত হালনাগাদ হিসেবে নয়, বরং একটি সিস্টেমিক সতর্কতা হিসেবে দেখা উচিত। এটি ইঙ্গিত করে যে ইউরোপজুড়ে সংক্রমণ সক্রিয় থাকা অবস্থায় যৌনস্বাস্থ্য অবকাঠামো চাপের মধ্যে থাকতে পারে। মানুষ যদি তাদের ঝুঁকি না বোঝে, রোগনির্ণয়ে দেরি হয়, বা চিকিৎসার পথ থেকে ছিটকে যায়, তাহলে ব্যাকটেরিয়াল এসটিআইগুলো নিয়ন্ত্রণের উপায় জানা থাকলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
নতুন তথ্যকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে এর ব্যাপ্তি ও পরিণতির সমন্বয়। গনোরিয়া, সিফিলিস, ক্লামিডিয়া ও LGV, সবই ছবির অংশ। বোঝা বিভিন্ন গোষ্ঠীতে ছড়িয়ে আছে। আর জন্মগত ঘটনা দেখাচ্ছে যে প্রভাব নবজাতকদের কাছেও পৌঁছাচ্ছে। তাই এই প্রতিবেদন এপিডেমিওলজির গণ্ডি ছাড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ: এটি এমন এক প্রতিরোধযোগ্য জনস্বাস্থ্য সমস্যাকে সামনে আনছে, যাকে এখন আর সহজে পটভূমির প্রবণতা বলে এড়িয়ে যাওয়া কঠিন।
প্রদত্ত উপাদান থেকে মূল শিক্ষা হলো, ইউরোপের এসটিআই নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জ্ঞান নেই তা নয়। বরং জানা হস্তক্ষেপগুলো এমন পরিসর বা ধারাবাহিকতায় প্রয়োগ করা হচ্ছে না যাতে প্রবণতাটি উল্টানো যায়। এক দশকের বৃদ্ধির পর রেকর্ড উচ্চতা দেখায় যে ধাপে ধাপে প্রতিক্রিয়া আর যথেষ্ট নয়।
এই নিবন্ধটি Medical Xpress-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধ পড়ুন.
Originally published on medicalxpress.com


