একটি দ্বীপে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের সাফল্যকে জাতীয় নির্মূল কৌশলে রূপ দিতে চাইছে ইকুয়েটোরিয়াল গিনি। বায়োকো দ্বীপে ঘরের ভেতর কীটনাশক ছড়ানো, মশারি ব্যবহার, লার্ভা নিয়ন্ত্রণ এবং বিস্তারিত স্থানীয় তথ্যের ধারাবাহিক ব্যবহারে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ ও মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এখন দেশটি সেই পদ্ধতি অনেক বড় মূল ভূখণ্ডে সম্প্রসারণ করতে চায়, যেখানে একই রোগের চাপ আরও কঠিন কার্যক্রমের পরিবেশের সঙ্গে মিলেছে।
আফ্রিকায় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ যখন কঠিন সময় পার করছে, তখন এই উদ্যোগ শুরু হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ উপলব্ধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, 2024 সালে বিশ্বজুড়ে ম্যালেরিয়ায় প্রায় ৬১০,০০০ মানুষ মারা গেছে; আক্রান্ত ও মৃত্যুর ৯৫%ই আফ্রিকার দেশগুলোতে। শিশুদের টিকাসহ নতুন সরঞ্জাম জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়িয়েছে। তবু মহাদেশজুড়ে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান থমকে আছে, ফলে 2030 সালের নির্মূল লক্ষ্য অর্জন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা দ্বীপের কর্মসূচি
বায়োকো ইকুয়েটোরিয়াল গিনির মূল ভূখণ্ডের কাছে অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ, যার আয়তন মোটামুটি Rhode Island-এর অর্ধেক। এর অগ্রগতি কোনো একক প্রযুক্তিগত সাফল্যের ওপর নির্ভর করেনি। ঘরের ভেতর কীটনাশক ছড়ানো, মশারি বিতরণ ও ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণের মতো পরিচিত পদক্ষেপের ওপর কর্মসূচিটি নির্ভর করেছে। এসব পদক্ষেপ কত দীর্ঘ সময় এবং কত তীব্রতার সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়েছে, সেটিই ছিল বিশেষত্ব।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বীপটির অগ্রগতি দুই দশকের তথ্য সংগ্রহ, ধারাবাহিক অর্থায়ন এবং বাড়ি বাড়ি যেতে প্রস্তুত দলগুলোর ওপর নির্ভর করেছে। এই পরিচালনাগত বিষয়গুলো সহজে চোখ এড়িয়ে যায়, কিন্তু বাহক নিয়ন্ত্রণে এগুলোই কেন্দ্রীয়। মশারি বা কীটনাশক অভিযান তখনই কাজ করে যখন তা নিয়মিতভাবে বাড়িতে পৌঁছায়, বাসিন্দারা এর উদ্দেশ্য বোঝেন এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা শনাক্ত করতে পারেন কোথায় সংক্রমণ টিকে আছে।
বায়োকোর বৃহত্তম শহর Malabo-তে সম্প্রতি ভারী বৃষ্টির মধ্যে কর্মীরা কীটনাশক স্প্রে করার যন্ত্র নিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ নিচু ভবনের এলাকায় যান। তাদের কাজের মধ্যে স্প্রে করার পাশাপাশি যোগাযোগও ছিল: বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে বাড়ি ছাড়তে রাজি করানো এবং হস্তক্ষেপটি কেন জরুরি তা বোঝানো। কর্মসূচির সমন্বয়ক Cristina Ngui Otogo বলেন, কাজটির গুরুত্ব বোঝাতে বাসিন্দাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া দরকার।

সম্প্রসারণ কেন অনুকরণের চেয়ে কঠিন
বায়োকোর সাফল্য মূল ভূখণ্ডে সম্প্রসারণকে স্বয়ংক্রিয় করে না। দ্বীপের কর্মসূচি সীমিত ভূগোলের সুবিধা পেতে পারে। মূল ভূখণ্ডে কর্মকর্তাদের অনেক বড় এলাকা, উষ্ণমণ্ডলীয় বন, প্রবল বৃষ্টি এবং মশার বংশবিস্তারের সহায়ক স্থায়ী আর্দ্রতার মোকাবিলা করতে হবে। পাশাপাশি তাদের খোলা আন্তর্জাতিক সীমান্ত সামলাতে হবে, যা কোনো একটি এলাকায় সংক্রমণ দমনকে জটিল করে তুলতে পারে।
পরিসর বাড়লে প্রতিটি হস্তক্ষেপের রসদ ব্যবস্থাপনা বদলে যায়। স্প্রে অভিযানের জন্য সরবরাহ, প্রশিক্ষিত কর্মী, পরিবহন এবং বাড়িতে বারবার পৌঁছানোর ব্যবস্থা দরকার। নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও বেশি সম্প্রদায়ের আওতায় আনতে হবে। স্থানীয় পরিস্থিতি অঞ্চলভেদে দ্রুত বদলাতে পারে; তাই একটি জেলায় কার্যকর পদ্ধতি কোনো পরিবর্তন ছাড়া পুরো দেশে প্রয়োগ করা যায় না। মূল ভূখণ্ডের কৌশল পরীক্ষা করবে বায়োকোর মূল মডেল কতটা বিস্তৃত করা যায়, শুধু এর সরঞ্জাম কার্যকর কি না তা নয়।
বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও একই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বাড়ি বাড়ি কর্মসূচি পরিবারগুলোর সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে। ব্যবহারিক উদ্বেগ, আবহাওয়া, কাজের সময়সূচি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা সেই সহযোগিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। বায়োকোর অভিজ্ঞতা দেখায়, ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে জনগণের সম্পৃক্ততা অতিরিক্ত কোনো বিষয় নয়; এটি হস্তক্ষেপেরই অংশ।
জনস্বাস্থ্যের হাতিয়ার হিসেবে তথ্য
বিস্তারিত দীর্ঘমেয়াদি তথ্যের মূল্যও দেশটির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। ম্যালেরিয়া সংক্রমণ সর্বত্র একরকম নয়। বৃষ্টিপাত, মশার সংখ্যা, ঘরের অবস্থা, মানুষের চলাচল এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতার সঙ্গে এটি বদলাতে পারে। স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার করা কর্মসূচি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এলাকায় সম্পদ কেন্দ্রীভূত করতে এবং অগ্রগতি কখন ক্ষয় হতে শুরু করছে তা শনাক্ত করতে পারে।

নির্মূল লক্ষ্য হলে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্তের সংখ্যা কমলেই ঝুঁকি শেষ হয় না। স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সংক্রমণের অবশিষ্ট কেন্দ্র খুঁজে বের করতে এবং তা বিস্তৃত হওয়ার আগে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হতে হবে। ম্যালেরিয়া কম দৃশ্যমান হয়ে উঠলে ধারাবাহিক নজরদারি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়, কারণ সাফল্য যে কর্মসূচিগুলো তা তৈরি করেছে সেগুলো শিথিল করার চাপ তৈরি করতে পারে।
তাই বায়োকো মডেল মূল ভূখণ্ডে নেওয়ার ইকুয়েটোরিয়াল গিনির প্রচেষ্টা জনস্বাস্থ্য প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থায়িত্বেরও পরীক্ষা। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলো প্রতিষ্ঠিত। কঠিন প্রশ্ন হলো—সংক্রমণ থামানোর মতো দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় পর্যায়ে অর্থায়ন, কর্মী সক্ষমতা, তথ্যব্যবস্থা এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ বজায় রাখা যাবে কি না।
কঠিন পথ, পরিষ্কার শিক্ষা
সাব-সাহারান আফ্রিকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মাত্র দুটি দেশকে ম্যালেরিয়ামুক্ত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। দেশের অভিজ্ঞতা সীমান্তের বাইরেও নজর কাড়ার কারণ এটিই। কর্মসূচিটিকে সব ম্যালেরিয়া-প্রবণ দেশের জন্য সহজ সূত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি; দ্বীপের সাফল্য এমন পরিস্থিতি ও দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের ওপর দাঁড়িয়ে, যা পুনরাবৃত্তি করা কঠিন হতে পারে।
তবু বায়োকো একটি বাস্তব শিক্ষা দেয়। প্রতিষ্ঠিত হস্তক্ষেপকে বিস্তারিত পরিমাপ এবং ধারাবাহিক স্থানীয় বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত করলে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে অগ্রগতি সম্ভব। টিকা ও নতুন প্রযুক্তি এতে যোগ হতে পারে, কিন্তু বাড়িতে পৌঁছানো, মশার সংস্পর্শ কমানো এবং কোথায় ঝুঁকি রয়ে গেছে তা অনুসরণ করার দৈনন্দিন কাজগুলো তারা প্রতিস্থাপন করতে পারে না।
ইকুয়েটোরিয়াল গিনির জন্য মূল ভূখণ্ডে সম্প্রসারণ দেখাবে, দ্বীপের অভিযান থেকে জাতীয় কর্মসূচিতে রূপান্তরের পরও এই শিক্ষা টিকে থাকে কি না। বাধা যথেষ্ট, কিন্তু ঝুঁকিও স্পষ্ট: এমন একটি রোগে দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস আনা, যা বহু বাসিন্দার জীবনযাপন, কাজ এবং মৃত্যুর ধরনকে প্রভাবিত করেছে।
এই নিবন্ধটি Medical Xpress-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি। মূল নিবন্ধ পড়ুন।
Originally published on medicalxpress.com




