সাধারণ রাসায়নিকের সংস্পর্শ মানব স্তন টিস্যুর বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে বলে Tufts University School of Medicine এবং Boston University-এর গবেষকদের এক গবেষণায় জানা গেছে। Proceedings of the National Academy of Sciences-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় স্তন টিস্যুর ত্রিমাত্রিক মডেল ব্যবহার করে এমন আণবিক প্রভাব পরীক্ষা করা হয়েছে, যা প্রচলিত গবেষণাগার ব্যবস্থায় শনাক্ত করা কঠিন।
রাসায়নিকের সংস্পর্শ স্তন ক্যানসার ঘটায়—এই গবেষণা তা প্রমাণ করে না। বরং, বিকাশমান মানব টিস্যুর মডেলে এমন আণবিক পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়েছে, যা গবেষকদের মতে পরবর্তী জীবনে স্তন রোগের প্রতি সংবেদনশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ফলাফল থেকে এখন পরীক্ষা করা যেতে পারে, এসব পরিবর্তন মানব টিস্যুতে টিকে থাকে কি না, পরবর্তী রোগে অবদান রাখে কি না, অথবা স্তন-ক্যানসারের ঝুঁকি মূল্যায়নে ব্যবহারযোগ্য বায়োমার্কার শনাক্ত করতে সহায়তা করে কি না।
সুস্থ মানব টিস্যু দিয়ে তৈরি মডেল
এন্ডোক্রাইন-ব্যাহতকারী রাসায়নিক নিয়ে বিদ্যমান প্রমাণের বড় অংশ এসেছে প্রাণী গবেষণা বা গবেষণাগারে উৎপাদিত কোষ থেকে। এসব পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রভাব প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু মানব স্তন টিস্যুর কোষীয় জটিলতা পুরোপুরি পুনরুৎপাদন করতে পারে না।
এই সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় গবেষণা দলটি ১৩ জন সুস্থ তরুণীর দান করা স্তন টিস্যু থেকে অর্গানয়েড তৈরি করে। অর্গানয়েড হলো ত্রিমাত্রিক গবেষণাগার মডেল, যাতে স্তনের একাধিক ধরনের কোষ থাকে। এই গবেষণায় এগুলো স্বাভাবিক মানব স্তন বিকাশের কিছু বৈশিষ্ট্য পুনরুৎপাদন করেছে এবং গবেষকদের প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে রাসায়নিকের সংস্পর্শে বিকাশমান টিস্যু কীভাবে সাড়া দেয় তা পরীক্ষা করার সুযোগ দিয়েছে।
এই বিকাশগত প্রেক্ষাপটই গবেষণার প্রশ্নের কেন্দ্রে। জন্মের পর, বিশেষ করে বয়ঃসন্ধি ও গর্ভাবস্থায়, স্তন টিস্যুতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, স্তনগ্রন্থির বিকাশের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোষগুলো পরিবেশগত সংকেতের প্রতি বিশেষভাবে সাড়া দিতে পারে।
মিশ্রণ কেন গুরুত্বপূর্ণ
গবেষণাটি সাধারণ রাসায়নিকের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল, বিশেষ করে একই সময়ে উপস্থিত একাধিক বিসফেনলের ওপর। বিসফেনল হলো এন্ডোক্রাইন ব্যাঘাত নিয়ে গবেষণায় প্রায়ই আলোচিত পদার্থগুলোর একটি; এন্ডোক্রাইন ব্যাঘাত বলতে এমন রাসায়নিককে বোঝায়, যা হরমোনের সংকেত ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।
গবেষকেরা দেখতে পান, কিছু রাসায়নিকের সংস্পর্শ অর্গানয়েডের আণবিক বিন্যাস পরিবর্তন করতে পারে। ফলাফল ইঙ্গিত দেয়, রাসায়নিকগুলোকে একবারে একটি করে মূল্যায়নের পরিবর্তে বিসফেনলের মিশ্রণ নিয়ে গবেষণা করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দৈনন্দিন পরিবেশে মানুষ একাধিক রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসতে পারে।

ফলাফলগুলোকে ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, ভিত্তি তৈরির কাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অর্গানয়েড ব্যবস্থায় দেখা আণবিক প্রভাব মানব টিস্যুতে টিকে থাকে কি না, রোগের ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত কি না এবং ঝুঁকি পরিমাপের কার্যকর উপায়ে রূপান্তর করা যায় কি না—এসবই পরবর্তী প্রশ্ন।
প্রতিরোধ গবেষণায় প্রভাব
গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক এবং Tufts University School of Medicine-এর অধ্যাপক Charlotte Kuperwasser বলেন, অতিরিক্ত গবেষণায় এই ফলাফল নিশ্চিত হলে বিজ্ঞানীরা ক্যানসার প্রতিরোধকে যেভাবে দেখেন, তা বদলে যেতে পারে। রোগ দেখা দেওয়ার আগেই জৈবিক পরিবর্তন শনাক্ত করার সম্ভাবনাই এর গুরুত্ব; অর্গানয়েডের ফলাফলকে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যগত ফলাফলের প্রমাণ হিসেবে দেখা নয়।
পরিবেশগত স্বাস্থ্য গবেষণায় অর্গানয়েডের মূল্যও এই গবেষণা তুলে ধরে। টিস্যু থেকে তৈরি ত্রিমাত্রিক মডেল ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এমন একটি ব্যবস্থায় বিকাশগত প্রক্রিয়া পরীক্ষা করতে পারেন, যা সাধারণ কোষ সংস্কৃতির তুলনায় মানব টিস্যুর কাছাকাছি, এবং একই সঙ্গে গবেষণাগারের পরীক্ষামূলক নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো একটি গবেষণা প্ল্যাটফর্ম এবং কিছু আণবিক পর্যবেক্ষণ। এন্ডোক্রাইন-ব্যাহতকারী রাসায়নিক স্তনের জীববিজ্ঞানকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, সে বিষয়ে গবেষণাটি নতুন প্রশ্ন যোগ করেছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সংস্পর্শ, রোগের ঝুঁকি বা প্রতিরোধ কৌশল নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
এরপর কী
ভবিষ্যৎ গবেষণায় পরীক্ষা করতে হবে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা পরিবর্তনগুলো পুনরায় ঘটানো যায় কি না, সেগুলো কত দিন স্থায়ী হয় এবং পরবর্তী জীবনে স্তন রোগের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক আছে কি না। এই মডেল থেকে পাওয়া আণবিক স্বাক্ষর নির্ভরযোগ্য বায়োমার্কার হতে পারে কি না, তাও গবেষকদের মূল্যায়ন করতে হবে।
গবেষণাগারের মডেল থেকে স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনায় পৌঁছানোর পথ দীর্ঘ। তবে এই গবেষণা তা অনুসন্ধানের আরও মানব-প্রাসঙ্গিক একটি উপায় দেখায়: সুস্থ দাতাদের কাছ থেকে নেওয়া স্তন অর্গানয়েড, যা পরিবেশগত রাসায়নিকের সংস্পর্শে বিকাশগত প্রতিক্রিয়ার মডেল তৈরি করতে পারে। মানব টিস্যুর জটিলতা যেখানে দীর্ঘদিনের বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এই সক্ষমতা প্রাথমিক রাসায়নিক ফলাফলের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এই নিবন্ধটি Medical Xpress-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি। মূল নিবন্ধ পড়ুন।
Originally published on medicalxpress.com




