মস্তিষ্ক কীভাবে স্বপ্ন শুরু করার সময় নির্ধারণ করে, তা আরও কাছ থেকে দেখা
ঘুম-গবেষণা রাতের চক্রের অনেক বিস্তৃত বৈশিষ্ট্য মানচিত্রায়িত করেছে, কিন্তু এর একটি কেন্দ্রীয় পরিবর্তনকে যান্ত্রিকভাবে ব্যাখ্যা করা এখনও কঠিন: মস্তিষ্ক non-rapid-eye-movement ঘুম থেকে rapid-eye-movement ঘুমে কীভাবে যায়। REM সেই পর্যায়, যা জীবন্ত স্বপ্ন এবং মস্তিষ্ক ও শরীরের কার্যকলাপে বৈশিষ্ট্যময় পরিবর্তনের সঙ্গে সবচেয়ে দৃঢ়ভাবে সম্পর্কিত; তবু এর সূচনা কোন স্নায়বিক ঘটনায় ট্রিগার হয়, তা এখনও আংশিকভাবে বোঝা গেছে।
Medical Xpress-এ আলোচিত একটি নতুন গবেষণা ব্রেনস্টেমে একটি সম্ভাব্য উত্তর নির্দেশ করে। University of Pennsylvania এবং Champalimaud Foundation-এর গবেষকেরা ঘুমন্ত ইঁদুরের মস্তিষ্ক পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন যে REM ঘুমে পরিবর্তনের আগে ব্রেনস্টেম নিউরনের কার্যকলাপে স্বতন্ত্র, ধীর ওঠানামা দেখা যায়। Nature Neuroscience-এ প্রকাশিত এই কাজটি ইঙ্গিত দেয় যে এই অঞ্চলে সমন্বিত স্লো-ওয়েভ গতিবিদ্যা REM কখন শুরু হবে তা নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে।
এই আবিষ্কার ঘুমকে একক একটি সুইচে নামিয়ে আনে না। কিন্তু এটি স্নায়ুবিজ্ঞানের এক দীর্ঘদিনের প্রশ্ন নিয়ে ভাবার জন্য আরও নির্দিষ্ট কাঠামো দেয়: অত্যন্ত নিয়মিত অথচ জৈবিকভাবে এখনও রহস্যময় একটি মস্তিষ্ক-অবস্থার সময়কে কী সংগঠিত করে?
REM সময় কেন গুরুত্বপূর্ণ
ঘুম একরূপ কোনো অবস্থা নয়। রাত জুড়ে মস্তিষ্ক non-REM ঘুমের হালকা ও গভীর পর্যায়ের মধ্যে চক্রাকারে ঘোরে, তারপর নিয়মিতভাবে REM-এ প্রবেশ করে। এই পর্যায়গুলো ভিন্ন ভিন্ন শারীরবৃত্তীয় ও জ্ঞানীয় কার্যাবলির সঙ্গে যুক্ত। উৎস পাঠ অনুযায়ী, ঘুম শারীরিক পুনরুদ্ধার, স্মৃতি প্রক্রিয়াকরণ, এবং রোগপ্রতিরোধী কার্যাবলির নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। বিশেষত REM দীর্ঘদিন ধরে নজর কেড়েছে, কারণ এতে তীব্র মস্তিষ্কীয় কার্যকলাপের সঙ্গে এক স্বতন্ত্র আচরণগত প্রোফাইল থাকে, যার মধ্যে দ্রুত চোখের নড়াচড়া অন্তর্ভুক্ত।
বিজ্ঞানীরা আগে REM ঘুমকে ব্রেনস্টেমের গঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেছেন, এই দণ্ডাকার অঞ্চলটি মস্তিষ্ককে মেরুরজ্জুর সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং অপরিহার্য শারীরিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তবু REM-এর আগে কোন সুনির্দিষ্ট ধরণগুলো ঘটে এবং তাকে সম্ভব করে তোলে, তা শনাক্ত করা কঠিন ছিল। এর একটি কারণ, ঘুমের অবস্থাগুলো সময়ের সঙ্গে বিকশিত হয় এবং একটি on-off নির্দেশের বদলে বহু পারস্পরিক ক্রিয়াশীল কোষগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে।
নতুন গবেষণাটি একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যক নিউরন পর্যবেক্ষণ করে এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছে। উৎস পাঠে বর্ণিত রেকর্ডিং সেশনে গবেষকেরা প্রায় 185টি নিউরনের firing rate একসঙ্গে ট্র্যাক করেন এবং সেই সংকেতগুলিকে sleep-stage readout-এর সঙ্গে তুলনা করেন। এই ধরনের population-level দৃষ্টিভঙ্গি ধীর সমন্বয় শনাক্ত করা সহজ করে, যা অল্প কয়েকটি কোষ দেখলে বাদ পড়ে যেতে পারত।
গবেষকেরা ইঁদুরে যা দেখেছেন
উৎস উপাদান অনুযায়ী, দলটি দেখেছে যে NREM থেকে REM-এ পরিবর্তনের আগে ব্রেনস্টেম নিউরনের কার্যকলাপে মিনিট-স্তরের স্কেলে ধীর পরিবর্তন ঘটে। নথিভুক্ত নিউরনের বেশিরভাগ, তবে সব নয়, REM ঘুমের সময় সক্রিয় হয়েছিল, এবং তাদের কার্যকলাপ NREM-এর সময়ও ওঠানামা করছিল। এই ওঠানামা এলোমেলো পটভূমির শব্দ নয়। এর ইঙ্গিত হলো, REM পর্ব শুরু হওয়ার আগে ব্রেনস্টেম সংগঠিত প্রস্তুতিমূলক অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে পারে।
এটি REM-কে তুলনামূলকভাবে আকস্মিক একটি ঘটনা, যা একটি সংকীর্ণ ট্রিগার সার্কিট থেকে আসে, এমন পুরোনো ধারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমার্জন। যদি নতুন ব্যাখ্যাটি সঠিক হয়, তবে REM শুরু হওয়া বৃহত্তর নিউরোনীয় জনসংখ্যার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে, যাদের কার্যকলাপ ধীরে ধীরে বদলে যায়, যতক্ষণ না মস্তিষ্ক একটি নতুন অবস্থার প্রান্তসীমা অতিক্রম করে।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি গবেষকদের পরবর্তী প্রশ্নগুলো বদলে দেয়। REM-এর সময় সক্রিয় নিউরন খোঁজার বদলে, ক্ষেত্রটি এখন আগের মিনিটগুলোকে আরও সতর্কভাবে দেখতে পারে: কোন জনসংখ্যা বাড়ে, কোনগুলো শান্ত হয়, এবং সেই ধীর ধরণগুলো মস্তিষ্কের অন্যত্র থাকা সংকেতের সঙ্গে কীভাবে মিথস্ক্রিয়া করে।

ঘুমের ধাপ থেকে ঘুম নিয়ন্ত্রণ
গবেষণার মূল্য কেবল REM-কে আরও নির্ভুলভাবে বর্ণনা করায় নয়, বরং সম্ভাব্যভাবে কারণগত ব্যাখ্যার আরও কাছে নিয়ে যাওয়ায়। ঘুমবিজ্ঞানীদের কাছে electroencephalography এবং পেশীর কার্যকলাপের পরিমাপসহ শক্তিশালী বর্ণনামূলক সরঞ্জাম আছে, যেগুলো দিয়ে ধাপগুলো শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। কঠিন সমস্যা হলো নিয়ন্ত্রণ: নির্দিষ্ট সময়ে মস্তিষ্ক কেন এক অবস্থায় প্রবেশ করে, অন্যটিতে নয়, তা বোঝা।
উৎস পাঠ senior author Franz Weber-এর একটি উদ্ধৃতির মাধ্যমে এটি সরাসরি তুলে ধরেছে; তিনি প্রকল্পটিকে মস্তিষ্ক কখন REM ঘুমে প্রবেশ করবে তা কীভাবে ঠিক করে, সেই দীর্ঘদিনের প্রশ্নের জবাব খোঁজা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নতুন ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে উত্তরটি হয়তো ব্রেনস্টেমে ধীরে ধীরে বিকশিত হওয়া একটি সমষ্টিগত প্রক্রিয়ার মধ্যে নিহিত, কোনো একক আকস্মিক ঘটনার মধ্যে নয়।
এই ধারণা systems neuroscience-এর একটি বৃহত্তর প্রবণতার সঙ্গে মেলে, যেখানে মস্তিষ্কের কাজগুলোকে ক্রমশ সমন্বিত জনসংখ্যার emergent properties হিসেবে বোঝা হচ্ছে। সেই কাঠামোয়, সময়নির্ধারণ শুধু একটি master clock neuron-এর আউটপুট নয়। এটি বহু কোষের মিথস্ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত হতে পারে, যাদের সম্মিলিত গতিবিদ্যা একটি নতুন অবস্থায় স্থিতিশীল পরিবর্তন তৈরি করে।
এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে কেন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে
উৎস পাঠ তাৎক্ষণিক কোনো ক্লিনিক্যাল প্রয়োগ দাবি করে না, এবং সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ কাজটি ইঁদুরে করা হয়েছে। তবু REM নিয়ন্ত্রণের আরও ভালো যান্ত্রিক বোঝাপড়া শেষ পর্যন্ত এমন রোগগুলোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যেখানে ঘুমের গঠন ব্যাহত হয়। REM ঘুমের স্থিতিশীলতা, সময়নির্ধারণ, বা পরিমাণকে প্রভাবিত করে এমন অবস্থা স্নায়ুবিজ্ঞান, মনোরোগবিদ্যা, এবং ঘুমচিকিৎসা জুড়ে প্রাসঙ্গিক।
অনুবাদমূলক প্রভাব স্পষ্ট হওয়ার আগেই, এই ধরনের গবেষণা ভবিষ্যৎ হস্তক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় জৈবিক শব্দভাণ্ডার গড়ে তুলতে সাহায্য করে। যদি REM-এর সময়নির্ধারণ শনাক্তযোগ্য ব্রেনস্টেম গতিবিদ্যার ওপর নির্ভর করে, তবে গবেষকেরা পরীক্ষা করতে পারেন রোগ মডেল, বার্ধক্য, বা দীর্ঘমেয়াদি চাপের ক্ষেত্রে সেগুলো বদলায় কি না। তাঁরা এ-ও জানতে পারেন যে সেই ধরণে হস্তক্ষেপ করলে ঘুমের মান, স্মৃতি প্রক্রিয়াকরণ, বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ বদলায় কি না।
এগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্ন, কিন্তু সেগুলো এখানকার মতো ভিত্তিমূলক কাজের ওপর নির্ভরশীল। ঘুম-গবেষণা প্রায়ই প্রথমে নির্ভরযোগ্য চিহ্ন খুঁজে, তারপর সেগুলো কারণগত কি না নির্ধারণ করে, এবং তার পরেই চিকিৎসা বা নির্ণয়ের দিকে এগোয়।
ঘুমন্ত মস্তিষ্কের আরও গতিশীল ছবি
গবেষণার বৃহত্তর বার্তা হলো, ঘুমের ধাপগুলো পাঠ্যপুস্তকের চিত্রে যতটা আলাদা দেখায়, বাস্তবে ততটা নাও হতে পারে। বাইরে থেকে দেখলে, মস্তিষ্ক একটি লেবেলযুক্ত অবস্থা থেকে অন্যটিতে সুন্দরভাবে লাফিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। ভেতর থেকে, পরিবর্তনটি ধীরে বদলানো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রস্তুত হতে পারে, যা মানক পরিমাপের চোখে পড়ার আগেই পরবর্তী অবস্থাকে গঠন করে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি ঘুমন্ত মস্তিষ্ককে বিশ্রাম-মোডের সাধারণ পালাবদলের চেয়ে আরও সক্রিয় এবং আরও কম্পিউটেশনালি সংগঠিত হিসেবে দেখায়। এটি ব্রেনস্টেমের গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত করে, একটি অঞ্চল যা কখনও কখনও জনপরিসরের জ্ঞান-আলোচনায় cortex-এর তুলনায় আড়ালে থাকে, কিন্তু উচ্চস্তরের মস্তিষ্কীয় কার্যকলাপ যে পরিস্থিতিতে প্রকাশ পায় তা নিয়ন্ত্রণে অপরিহার্য।
নিউরোসায়েন্সের জন্য, এই গবেষণা একটি মৌলিক সমস্যার সম্ভাব্য নতুন হাতল দেয়। অন্য সবার জন্য, এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে মানুষের সবচেয়ে পরিচিত অভিজ্ঞতাগুলোর একটি এখনও মৌলিক অনুত্তরিত প্রশ্ন বহন করে। আমরা জানি REM ঘুম কেমন দেখায়। মস্তিষ্ক কীভাবে ঠিক করে যে এতে প্রবেশ করার সময় হয়েছে, তা আমরা এখনই বুঝতে শুরু করেছি।
এই নিবন্ধটি Medical Xpress-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধ পড়ুন.
Originally published on medicalxpress.com



