জলবিদ্যুতের চারপাশে গড়া বিদ্যুৎব্যবস্থাকে বৈচিত্র্যময় করতে জambia দ্রুত এগোচ্ছে

দীর্ঘ খরা তার বিদ্যুৎব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতা প্রকাশ করার পর জambia দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে এগোচ্ছে: জলবিদ্যুতের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল একটি গ্রিড বৃষ্টিপাত না হলে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সরবরাহকৃত উৎসপাঠ অনুযায়ী, পানির স্তর কমে যাওয়ায় উৎপাদন হ্রাস পেয়ে দেশটি গুরুতর ব্যাঘাতের মুখে পড়ে; সবচেয়ে খারাপ সময়ে লোডশেডিং দিনে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল।

এই অভিজ্ঞতা দেশের বিদ্যুৎকৌশলকে পুনর্গঠন করছে বলে মনে হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ত্যাগ না করে জambia সেটিকে বিস্তৃত করছে। সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য জাতীয় উৎপাদনক্ষমতা ৪.৫ গিগাওয়াট থেকে ১০ গিগাওয়াটে উন্নীত করা, যেখানে সৌরশক্তি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তন জলবায়ু-সম্পর্কিত অস্থিরতার প্রতি একটি বাস্তবসম্মত প্রতিক্রিয়া: দীর্ঘ শুষ্ক সময়ে যদি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকে স্থিতিশীল ধরে নেওয়া না যায়, তবে দ্রুত স্থাপনযোগ্য সৌর প্রকল্প নির্ভরযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি কম-কার্বন পথে অটল থাকার উপায় দেয়।

এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জambia-কে আগে এমন এক গ্রিডের উদাহরণ হিসেবে দেখা হত যা মূলত নবায়নযোগ্য শক্তি, বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ, দিয়ে চালিত। আবহাওয়ার ধরন বদলানো এবং দীর্ঘ খরার কারণে জলাধার-ভিত্তিক উৎপাদনের নির্ভরযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত সেই মডেল কাজ করেছে। বাস্তবে, দেশটি এখন এক বিস্তৃত সমস্যার মুখোমুখি, যা অন্যত্রও আরও সাধারণ হতে পারে: পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎব্যবস্থারও স্থিতিস্থাপকতা, অতিরিক্ত ব্যাকআপ এবং অধিকতর বিস্তৃত সম্পদের মিশ্রণ দরকার।

কেন সৌরশক্তি সবচেয়ে দ্রুত সমাধান

সরবরাহকৃত উৎসপাঠে সৌরশক্তিকে জambia-এর জন্য অর্থবহ নতুন ক্ষমতা যোগ করার সবচেয়ে দ্রুত পথ হিসেবে দেখানো হয়েছে। গত তিন বছরে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে দেশটি ৫০০ মেগাওয়াট নতুন ইউটিলিটি-স্কেল সৌরক্ষমতা বাস্তবায়ন করেছে। এটি জambia-এর মতো আকারের জাতীয় গ্রিডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, এবং এটি ইঙ্গিত করে যে দেশটি পাইলট-পর্যায় পেরিয়ে দ্রুত নির্মাণপর্বে প্রবেশ করেছে।

উল্লেখিত উদাহরণগুলোর একটি হলো চিসাম্বা সোলার প্ল্যান্ট, যা সূত্র অনুযায়ী সম্প্রতি ২০০ মেগাওয়াটে সম্প্রসারিত হয়েছে। এই প্রকল্পটি শুধু আকারের জন্য নয়, বাস্তবায়নের দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য। বিদ্যমান প্ল্যান্ট সম্প্রসারণ অনেক সময় সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্পের চেয়ে দ্রুত হয়, কারণ জমি, গ্রিড সংযোগ এবং প্রকল্পের কাঠামো আংশিকভাবে আগে থেকেই থাকে। জambia যদি এই ধরণটি পুনরাবৃত্তি করতে পারে, তবে ধাপে ধাপে সংযোজন প্রচলিত তাপবিদ্যুৎ বা নতুন বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি দ্রুত পূরণ করতে সাহায্য করতে পারে।

A section of the 200 MW Chisamba Solar Plant.
A section of the 200 MW Chisamba Solar Plant.

দেশের স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যও স্পষ্ট। সরবরাহকৃত পাঠ অনুযায়ী, জambia ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ১,০০০ মেগাওয়াট সৌর উৎপাদনক্ষমতায় পৌঁছাতে চায়। তা অর্জিত হলে অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় জ্বালানি মিশ্রণে সৌরশক্তির ভূমিকা দ্রুত বাড়বে। এতে এমন একটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা তৈরি হবে যেখানে জলবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, কিন্তু একক উৎসের ঝুঁকি আর ততটা থাকবে না।

জরুরি প্রতিক্রিয়া থেকে শিল্পনীতি

তাত্ক্ষণিক উদ্দেশ্য খুবই সরল: জambia চায় লোডশেডিং অতীত হয়ে যাক। কিন্তু এই নির্মাণকে কেবল অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। উৎসপাঠে বলা হয়েছে, সরকার নতুন উৎপাদনক্ষমতাকে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নেও সহায়ক করতে চায়। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যুৎ সংকট শুধু পরিবারকে বিঘ্নিত করে না; এটি কারখানা, খনি, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনাকেও সীমাবদ্ধ করে।

শিল্প উৎপাদন বাড়াতে চাওয়া একটি দেশের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা পরিচালন ব্যয় বাড়ায়, উৎপাদন সূচি জটিল করে, এবং ব্যাকআপ উৎপাদনকে প্রবৃদ্ধির ওপর এক ধরনের গোপন কর বানিয়ে ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে, ইউটিলিটি-স্কেল সৌরবিদ্যুৎ শুধু জ্বালানির গল্প নয়। এটি অবকাঠামো ও প্রতিযোগিতার গল্পও।

প্রবন্ধটির কাঠামো ইঙ্গিত দেয় যে জলবায়ুজনিত ধাক্কা যখন একটি কৌশলগত শক্তিকে দুর্বলতায় পরিণত করেছিল, সেই সময়ের পর গ্রিডকে আরও মজবুত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশই জambia-এর সৌর উদ্যোগ। জলবিদ্যুৎ-প্রধান ব্যবস্থা কম-নিঃসরণ বিদ্যুৎ দিতে পারে, কিন্তু খরা-সংবেদনশীল ব্যবস্থা ভঙ্গুরও হয়ে উঠতে পারে। জলাধারের স্তরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয় এমন একটি উৎপাদন উৎস যোগ করে সৌরশক্তি সেই ভঙ্গুরতা কমায়।

এতে সব ধরনের সিস্টেম-সংকট দূর হয়ে যায় না। সৌর উৎপাদন দিনের সময় ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে বদলায়, এবং বড় পরিসরে এর প্রবেশ ঘনত্ব বাড়লে সাধারণত সংরক্ষণ, সঞ্চালন, ভারসাম্য ও ডিসপ্যাচ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু এসব সতর্কতা চাপের মধ্যে থাকা একটি ব্যবস্থায় দ্রুত দিনের বেলার উৎপাদন যোগ করার বাস্তব মূল্য কমায় না। তীব্র ঘাটতিতে থাকা দেশে যোগ হওয়া প্রতিটি বড় ক্ষমতাব্লকের প্রভাব অসামঞ্জস্যভাবে বড় হতে পারে।

সাধারণ ও বেসরকারি মূলধন দুটোই সম্প্রসারণকে আকার দিচ্ছে

এই নির্মাণের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো অংশীদারিত্বের ভূমিকা। সূত্রপাঠ অনুযায়ী, জambia-এর সাম্প্রতিক সৌর সংযোজন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে, এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও স্বীকার করা হয়েছে। জ্বালানি রূপান্তরে এই মিশ্রণ প্রায়ই নির্ধারক হয়ে ওঠে, বিশেষ করে এমন বাজারে যেখানে শুধু রাষ্ট্রের সক্ষমতা দিয়ে প্রয়োজনীয় গতিতে প্রকল্প অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

A section of the 200 MW Chisamba Solar Plant.
A section of the 200 MW Chisamba Solar Plant.

বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নানা ভাবে সাহায্য করতে পারে: মূলধন জোগাড় করা, বাস্তবায়নের সময়সীমা কমানো, প্রকৌশল ও সংগ্রহ-দক্ষতা আনা, এবং প্রকল্পের সম্ভাব্য পাইপলাইন বিস্তৃত করা। আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ যন্ত্রপাতি, প্রকল্প অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানে প্রবেশাধিকারও বাড়াতে পারে। জambia-এর জন্য, এই সমন্বয় কেবল নীতিঘোষণা নয়, বাস্তব সক্ষমতা বৃদ্ধিই দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

গতি গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি পরিকল্পনা প্রায়শই উচ্চাভিলাষী দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচার করা হয়, কিন্তু জambia-এর সাম্প্রতিক অগ্রগতি বাস্তবায়িত মেগাওয়াট হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক দেশ নবায়নযোগ্য লক্ষ্য ঘোষণা করে, যা কার্যকর সম্পদে পরিণত হতে বছরের পর বছর লাগে। এখানে সরবরাহকৃত পাঠ গত তিন বছরে ইতিমধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষমতা এবং ২০২৬ সালের শেষের একটি নির্দিষ্ট সৌর লক্ষ্যের দিকে ইঙ্গিত করছে।

জambia-এর উদ্যোগ তার সীমানার বাইরে কী ইঙ্গিত দিতে পারে

জambia-এর প্রতিক্রিয়া তার নিজস্ব বিদ্যুৎবাজারের বাইরেও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। দেশের অভিজ্ঞতা দেখায়, একটি নবায়নযোগ্য-নির্ভর গ্রিড স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থিতিস্থাপক হয় না যদি তা একটিমাত্র সম্পদশ্রেণির ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয়। জলবায়ুর ধরন যতই অস্থির হচ্ছে, বিশেষ করে জলসমৃদ্ধ ব্যবস্থাগুলোকে আগের চেয়ে দ্রুত বৈচিত্র্য আনতে চাপের মুখে পড়তে পারে।

এই অর্থে, জambia পরিচ্ছন্ন জ্বালানি থেকে সরে যাচ্ছে না। বরং তার মধ্যেই মানিয়ে নিচ্ছে। পাঠ হলো, জ্বালানি রূপান্তর পরিকল্পনায় শুধু কার্বন তীব্রতা নয়, জলবায়ু ঝুঁকি, স্থাপনগত গতি, এবং ব্যবস্থার নমনীয়তাও বিবেচনায় নিতে হবে।

  • জambia-এর গ্রিড ব্যাপকভাবে জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
  • দীর্ঘ খরা পানির স্তর ও উৎপাদনক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
  • দেশটি তিন বছরে ৫০০ মেগাওয়াট ইউটিলিটি-স্কেল সৌর যোগ করেছে।
  • তার লক্ষ্য ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ১,০০০ মেগাওয়াট সৌরক্ষমতা।
  • দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মোট উৎপাদনক্ষমতা ৪.৫ গিগাওয়াট থেকে ১০ গিগাওয়াটে তোলা।

এখনের জন্য কেন্দ্রীয় অগ্রগতি পরিষ্কার: জambia চাপের মধ্যে থাকা গ্রিডকে স্থিতিশীল করতে এবং ভবিষ্যৎ বৃদ্ধিকে সমর্থন দিতে দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ বাড়াচ্ছে। যদি এই গতি বজায় থাকে, তবে জলবায়ু-সংবেদনশীল বিদ্যুৎব্যবস্থা কীভাবে জীবাশ্মনির্ভর সম্প্রসারণে ফিরে না গিয়ে আরও দ্রুত এবং বৈচিত্র্যময় নবায়নযোগ্য স্থাপনার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে দেশটি।

এই নিবন্ধটি CleanTechnica-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে লেখা। মূল নিবন্ধ পড়ুন.

Originally published on cleantechnica.com