অ্যাগ্রিভোল্টাইকসের জন্য জাতীয় কাঠামো তৈরি করল দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদ দেশের প্রথম বিশেষ অ্যাগ্রিভোল্টাইকস আইন অনুমোদন করেছে, যা কৃষি উৎপাদন ও সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনকে একত্রিত করা প্রকল্পগুলোর জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি করে। ভূমি সীমিত এমন একটি দেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ, তবে এর সঙ্গে একটি সমান গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাও এসেছে: Solutions for Our Climate নামের অলাভজনক সংস্থার মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় অর্ধেক কৃষিজমি ঘিরে থাকা অঞ্চলগুলো এই আইনের বাইরে রাখা হয়েছে।

pv magazine-এ 13 মে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নতুন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক নাম Act on the Promotion and Support of Agrivoltaics। এর মূল উদ্দেশ্য হলো খাদ্য উৎপাদন ও সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কৃষিজমির দ্বৈত ব্যবহারকে সমর্থন করা। ভূমির স্বল্পতা যেখানে জ্বালানি নীতির বিকল্পগুলো নির্ধারণ করে, এমন একটি দেশে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় অ্যাগ্রিভোল্টাইকস কেন গুরুত্বপূর্ণ

দেওয়া উৎসপাঠ্য কাঠামোগত চ্যালেঞ্জটি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে। দক্ষিণ কোরিয়ার 60 শতাংশেরও বেশি ভূখণ্ড পাহাড়ি, আর কৃষিজমি মোট ভূমির মাত্র 19 শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে, প্রচলিত গ্রাউন্ড-মাউন্টেড সৌর সম্প্রসারণ দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক ভূমি-ব্যবহারের দাবির সঙ্গে সংঘর্ষে পড়তে পারে। অ্যাগ্রিভোল্টাইকস একই জমিতে সৌর উৎপাদন ও কৃষিকাজকে সহাবস্থান করতে দিয়ে এই সংঘাত কমানোর উপায় দেয়।

এই কারণেই আইনটি কেবল একটি সীমিত নিয়ন্ত্রক পরিবর্তনের চেয়ে বেশি কিছু। বড় আকারে অব্যবহৃত, সহজে উন্নয়নযোগ্য জমি আছে ধরে না নিয়ে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা এটি। ঘনবসতিপূর্ণ বা ভৌগোলিকভাবে সীমাবদ্ধ দেশে, এমন নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ এটি ব্যবহৃত হতে পারে এমন জ্বালানি-জায়গার সীমারেখা বদলে দেয়।

আইনটি প্রকল্পের ব্যাংকযোগ্যতা বাড়ানোর জন্যও তৈরি বলে মনে হয়। উৎস অনুযায়ী, এই আইন অ্যাগ্রিভোল্টাইকস প্রকল্পের জন্য ভূমি-ব্যবহারের অনুমতিকে আট বছর থেকে 23 বছরে বাড়ায়। এই দীর্ঘ সময়সীমা কৃষক ও ডেভেলপারদের জন্য বেশি আর্থিক নিশ্চয়তা দিতে পারে, ফলে প্রাথমিক খরচ সার্থক করতে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে হবে এমন সৌর অবকাঠামোতে বিনিয়োগ পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

প্রধান সীমাবদ্ধতা: কৃষিজমির অর্ধেক এখনও বাইরে

তবুও, আইনটি সব কৃষিজমিকে সমানভাবে খুলে দেয় না। দেওয়া উৎস বলছে, দেশের কৃষিজমির প্রায় অর্ধেক ঘিরে থাকা অঞ্চলগুলো এখনও এর বাইরে রয়ে গেছে। নীতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার এখন অ্যাগ্রিভোল্টাইকসের জন্য আনুষ্ঠানিক আইনি ভিত্তি আছে। অন্যদিকে, বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু জমি এখনও অনুপলব্ধ।

এই টানাপোড়েনই গল্পটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। আইনটি বাস্তব অগ্রগতি, তবে এটি সর্বজনীন অনুমোদন নয়। নীতিনির্ধারকেরা নীতিগতভাবে দ্বৈত-ব্যবহার সৌর কৃষিকে বৈধতা দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রেখেছেন। এর অর্থ, আইনের শেষ প্রভাব তার শিরোনামের অভিপ্রায়ের চেয়ে কম এবং বহিষ্কৃত অঞ্চলের পরে কতটা কার্যকর জমি অবশিষ্ট থাকে তার ওপর বেশি নির্ভর করতে পারে।

উৎসটি কৃষিজমি-সীমার মূল্যায়নকে সিউলভিত্তিক, জ্বালানি রূপান্তরকেন্দ্রিক অলাভজনক সংস্থা Solutions for Our Climate-এর সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি আইনের তাৎপর্যকে অস্বীকার করে না, তবে এটি ইঙ্গিত দেয় যে বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি কীভাবে এই নীতিকে কতটা রূপান্তরমূলক করে তুলবে, তাতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জ্বালানি রূপান্তর ও ভূমি সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য

এ ধরনের আইন তৈরির পেছনের রাজনীতি উৎসে বর্ণিত কাঠামো থেকেই সহজে অনুমেয়, অতিরিক্ত বিবরণ ছাড়াই। কৃষিজমির অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে। খাদ্য উৎপাদন, গ্রামীণ জীবিকা এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূমি-রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ভাবনা না করে কোনো সরকারই কৃষিজমিকে জ্বালানি ব্যবহারের জন্য পুনর্বর্গীকরণ করতে পারে না। অ্যাগ্রিভোল্টাইকস আকর্ষণীয় কারণ এটি কৃষি বনাম সৌর বিদ্যুৎ হিসেবে নির্বাচনটিকে এড়াতে চায়।

কিন্তু বহিষ্কৃত অংশগুলো দেখায়, সমঝোতারও সীমা আছে। দক্ষিণ কোরিয়া এই মডেলকে অনুমোদন করছে, তবে বড় বড় অঞ্চলকে এতে অংশ নিতে দিচ্ছে না। এটি কোথায় দ্বৈত-ব্যবহার উন্নয়ন হওয়া উচিত, কীভাবে কৃষি উৎপাদন রক্ষা করা হবে, বা গ্রামীণ ভূদৃশ্য কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সতর্কতা প্রতিফলিত করতে পারে। বহিষ্কৃত অঞ্চলের আইনি যুক্তি উৎস পাঠে স্পষ্ট করা হয়নি, তাই তার চেয়ে জোরালো সিদ্ধান্ত দেওয়া প্রাপ্ত প্রমাণের বাইরে চলে যাবে। যা বলা যায় তা হলো, আইনটি একদিকে নতুন নবায়নযোগ্য উন্নয়নের বিভাগ খুলছে, অন্যদিকে সেটিকে সীমিতও করছে।

দীর্ঘমেয়াদি অনুমতি কী বদলাতে পারে

অনুমতির মেয়াদ আট বছর থেকে 23 বছরে বাড়ানো সম্ভবত এই আইনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশগুলোর একটি হতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পগুলো প্রাথমিক খরচ পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীল আয় তৈরির জন্য দীর্ঘ পরিচালনকাল নির্ভর করে। ছোট ভূমি-ব্যবহারের সময়সীমা অর্থায়নকে দুর্বল করতে পারে বা অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করতে পারে। 23 বছরের কাঠামো সৌর সম্পদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালের সঙ্গে অনেক বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিস্তৃত অংশগ্রহণকারীর জন্য প্রকল্পগুলোকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলতে পারে।

কৃষকদের জন্য, এর অর্থ জমি ব্যবহার ও আয় পরিকল্পনায় আরও বেশি পূর্বানুমানযোগ্যতা। ডেভেলপারদের জন্য, এটি প্রকল্প অর্থনীতির একটি বড় অনিশ্চয়তা কমাতে পারে। ঋণদাতা বা বিনিয়োগকারীদের জন্য, এটি একটি ধারণা এবং অর্থায়নযোগ্য সম্পদের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। সেই অর্থে, আইনটি কেবল অ্যাগ্রিভোল্টাইকস অনুমোদন করে না; এটি যে বাণিজ্যিক পরিবেশে এটি বিস্তার লাভ করতে পারে, সেটিকেও নতুনভাবে গড়ে তোলে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাইরেও এই নীতিগত পরিবর্তন কেন গুরুত্বপূর্ণ

সীমিত উন্মুক্ত জমি থাকা দেশগুলো এখন একই প্রশ্নের মুখোমুখি: ভূমি-ব্যবহারের ওপর আরও গভীর সংঘাত সৃষ্টি না করে কীভাবে নবায়নযোগ্য সম্প্রসারণ বাড়ানো যায়? দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন আইন তার একটি উত্তর। এটি উত্তেজনা পুরোপুরি দূর করে না, তবে কৃষি ও সৌর উৎপাদনের মধ্যে জায়গা ভাগাভাগির একটি কাঠামো তৈরি করে।

এ কারণে এই পদক্ষেপ দক্ষিণ কোরিয়ার বাইরেও প্রাসঙ্গিক। এটি দেখায়, সরকারগুলো কীভাবে কেবল প্রচলিত স্থাননির্বাচনের ওপর নির্ভর না করে দ্বৈত-ব্যবহার মডেলকে আনুষ্ঠানিক করে আরও বেশি নবায়নযোগ্য সক্ষমতা খুলে দিতে পারে। একই সঙ্গে, কৃষিজমির বহিষ্কারগুলো মনে করিয়ে দেয় যে এই ধরনের নীতি খুব কমই সহজ। আইনি স্বীকৃতি কঠোর ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে, আর বাস্তবায়নের খুঁটিনাটিই ঠিক করে দেয় আশাব্যঞ্জক কাঠামোটি বড় পরিসরে নির্মাণে রূপ নেবে কি না।

দেওয়া উৎস থেকে সবচেয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হলো, দক্ষিণ কোরিয়া অ্যাগ্রিভোল্টাইকস নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু বড় সীমাবদ্ধতাগুলো এখনও বহাল আছে। আইনটি সৌর উন্নয়নের নীতিগত সরঞ্জাম বাড়িয়েছে, তবে তা এমন সীমানার মধ্যে করেছে যা এখনও দেশের কৃষিজ ভূদৃশ্যের বড় অংশকে জ্বালানি রূপান্তরে অংশ নিতে সীমিত করতে পারে।

এই নিবন্ধটি PV Magazine-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা। মূল নিবন্ধ পড়ুন.

Originally published on pv-magazine.com